---

শরীয়তের দৃষ্টিতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা [মাওলানা সাদ সম্পর্কিত একটি ইস্তিফতার জবাবে দারুল উলুম দেওবন্দের ফতওয়া]

শরীয়তের দৃষ্টিতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা

[মাওলানা সাদ সম্পর্কিত একটি ইস্তিফতার জবাবে দারুল উলুম দেওবন্দের ফতওয়া]

জুন ২০২৩ খ্রি./যিলকদ ১৪৪৪ হি.

 

অনুবাদ: আবদুল্লাহ আল-ফারুক

        অনুবাদক: বিশিষ্ট অনুবাদক, লেখক ও গবেষক

 

প্রশ্ন: ১১৩৬০/বা

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

শ্রদ্ধেয় হযরত মাওলানা মুফতি আবুল কাসিম নুমানী দামাত বারাকাতুহুম ও দারুল উলুম দেওবন্দের মুফতিয়ানে ইযাম!

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ

আপনাদের সকাশে নিবেদন হচ্ছে, তাবলীগ জামায়াতের একজন পরিচিত ও উঁচু পদের জিম্মাদারের পক্ষ থেকে অজ্ঞতাপূর্ণ কথা দিনদিন বেড়েই চলেছে। আমরা রমজানের পূর্বে ভূপাল ইজতিমা ২০২২ আলেমদের মজলিসের বয়ান আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম। যা পড়ে আপনারা মৌখিকভাবে আফসোস ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত উত্তর পাইনি। সম্প্রতি ২০২৩ সালের এপ্রিলের নতুন বয়ান সামনে এসেছে। সেই বয়ানে তিনি ওলামায়ে কেরাম ও মাদরাসার পরিচালকদেরকে দ্বিধায় ফেলে দিয়েছেন। আমরা হতভম্ব যে, একজন লোক গোটা দুনিয়ার সকল আলেম ও বুজুর্গদেরকে ধিক্কার দিয়ে বলছেন যে, ব্যবসা করাটা আলেমদের জন্য জনসাধারণ অপেক্ষা অধিক জরুরি। দীনের খাদেমদের দায়িত্ব হলো, নিজের ভরণ-পোষণের বন্দোবস্ত নিজেই করা। এর অন্যথা হলে দীনের জন্য তাদের সকল চেষ্টা-সাধনা ত্রুটিপূর্ণ। জনগণ ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করবে, এটি ভুল ধারণা। তিনি পরিষ্কার শব্দে একথা বলেছেন,

‘রসুল (সা.) নিজেকে এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশেদীনকে এভাবে অভ্যস্ত করেছিলেন যে, তোমাদের কাছে কোনো সম্পদ এলে প্রত্যাখ্যান করবে। তোমাদের দীনী খেদমতের কারণে তোমাদের কাছে কোনো সম্পদ পেশ করা হলে তা গ্রহণ করবে না। সাহাবায়ে কেরাম জানতেন না যে, পারিশ্রমিক সওয়াব কীভাবে একত্র হতে পারে! অথচ যুগের লোকেরা বলে যে, সওয়াবও পাবে, আবার পারিশ্রমিকও পাবে। অথচ সাহাবায়ে কেরাম জানতেন না যে, দীনের কোনো খেদমতের জন্য পারিশ্রমিক নিলে আমাদের সওয়াব বাকি থাকবে। সাহাবায়ে কেরাম তা জানতেন না। পরবর্তী যুগের লোকেরা তাবিল (অপব্যাখ্যা) করে নিজেরা অভাবমুক্ত হওয়া সত্ত্বেও দীনের খেদমতের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করার অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে। অভাবমুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কাজ করছে। অথচ সাহাবায়ে কেরাম অভাবী হওয়া সত্ত্বেও দীনী খেদমতের ওপর বিনিময় গ্রহণ করতেন না। অথচ যুগের লোকেরা এটাকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে। আমি মনে করি, একজন শিক্ষক মাদরাসায় পড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসা করবেন। যারা মাদরাসায় পড়ান না, তাদের ব্যবসা করার তুলনায় মাদরাসা শিক্ষকদের ব্যবসা করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ জরুরি। প্রত্যেক শিক্ষক, মুহাদ্দিস, আমীর মুবাল্লিগ নিজেদের দীনী খেদমতের পাশাপাশি ব্যবসা করবেন। যেসব সাধারণ অজ্ঞ মানুষ কোনো সম্মিলিত কাজের দায়িত্ব পালন করছেন না, তাদের ব্যবসা করার তুলনায় আলেমদের ব্যবসা করা অধিক জরুরি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ জনগণের জন্য ব্যবসা করাটা ততটা জরুরি নয়। বুজুর্গানে দীন, ওলামা মুবাল্লিগগণ দুনিয়াবি কাজে লিপ্ত হলে দীনের মাঝে ব্যঘাত সৃষ্টি হবেজানি না, কোত্থেকে এ মানসিকতা গড়ে উঠেছে! কোত্থেকে এ বিষয় সৃষ্টি হয়েছে! অথচ আমি মনে করি, এর ফলে তাদের মেহনতের সহায়ক হবে। আজ তারা কিতাব থেকে ব্যবসা সংক্রান্ত অধ্যায় পড়াচ্ছেন। অথচ তার থেকে উত্তম হলো, তারা নিজেরাই বাজারে বসে উম্মতকে প্র্যাক্টিক্যাল ব্যবসা শেখাবেন। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, এ যুগে কাফেরদের মতো মুসলমানরাও আলেম বুজুর্গদের ব্যবসা করাকে দোষের মনে করে। যেভাবে কাফেররা নবীদের কোনো পার্থিব কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়াকে অপরাধ মনে করতো, এ যুগের মুসলমানরাও তদ্রূপ আলেম বুজুর্গদেরকে কোনো বাণিজ্যিক বা কোনো পার্থিব কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়াকে দোষ মনে করে। আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছি। একজন মাদরাসা শিক্ষকের ব্যবসা করা একজন নন-আলেম ব্যক্তির ব্যবসা করা থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ জরুরি। কারণ দুটি। যেন তারা সৃষ্টিজীব থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে দীনের খেদমত করতে পারেন। দ্বিতীয় যে কারণটি বলছি, তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো আবু বকর (রযি.)-এর আমল। (তিনি বলেছিলেন,) ‘খিলাফতের দায়িত্ব আমাকে ব্যবসা থেকে বাঁধা দিতে পারবে না। আপনি ভেবে দেখুন। সকল মুসলমানের সমস্ত জিম্মাদারি তাঁর ওপর। যত দূর ইসলাম ছড়িয়েছে, সেখানকার সকল মুসলমানের তিনি আমীর। তাহলে তার জিম্মাদারিতে কত বেশি কাজ হতে পারে! এত বেশি ব্যস্ততা সত্ত্বেও তিনি ব্যবসা করাকে খিলাফতের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক মনে করছেন না। এটাকে দোষ মনে করছেন না। হযরত ওমর (রযি.) আপত্তি তুলে বলেছিলেন যে, আপনার ব্যবসা খিলাফতের দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন হবে। তিনি উত্তরে বলেন, ‘কীভাবে বিঘ্ন হবে? আমি এ দায়িত্বও পালন করবো, ব্যবসাও করবো।’ আলেমদের ব্যবসা করার আরেক কারণ হলো, তারা যেন বাজারঘাটে যান, আইন-আদালতে যান। ব্যাংকিংসহ পৃথিবীর সকল শাখায় প্রবেশ করেন, যেন পার্থিব সকল শাখায় মুসলমানগণ তাদের সাথে প্র্যাক্টিক্যাল যোগাযোগ করে। এখন যে স্রেফ কিতাবি সম্পর্ক আছে, আমি তাকে দীনের জন্য যথেষ্ট মনে করি না। কিতাবি শিক্ষা কখনই প্র্যাক্টিক্যাল শিক্ষা নয়। আপনারা ননপ্র্যাক্টিক্যাল শিক্ষাকেই একমাত্র শিক্ষা মনে করে বসে আছেন। কথাগুলো বুঝতে পারছেন? কিতাবি শিক্ষার মতো ননপ্র্যাক্টিক্যাল শিক্ষাকেই একমাত্র শিক্ষা মনে করে বসে আছেন। শিক্ষাকে অব্যবহারিক করে রেখেছেন। হযরত ওমর (রযি.)-এর শাসনামলে কারও জন্য অনুমতি ছিল না যে, ব্যবসার বিষয়াদি তৎসংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের পরীক্ষা না দিয়ে কেউ মদীনাতে দোকান খুলবে। আমরা তো মুসলমানদেরকে নামাজ-রোজা শেখাতে চাই। আমরা তাদেরকে ইসলামি ব্যবসা দেখাতে চাই। মদীনায় এসে ব্যবসার ইসলামি পদ্ধতি দেখে যাও। এজন্য আমি নিবেদন করছি যে, ছাত্র বা শিক্ষক-প্রত্যেকের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব অন্য কেউ নেবেএটা ভুল ভাবনা। আমি মনে করি, এর ফলে ছাত্র শিক্ষক, উভয়ের মুজাহাদা ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায়। শিক্ষকের মুজাহাদাও ত্রুটিপূর্ণ। ছাত্রের মুজাহাদাও ত্রুটিপূর্ণ। তারা তো খুশি যে, সমাজের ধনী ব্যক্তিরা আমাদের সকল প্রয়োজন পূরণের জিম্মাদারি পালন করছেন। কাজেই আমাদের কিছু করার কী প্রয়োজন! শিক্ষাকও খুশি, ছাত্রও খুশি। শরীয়তের মূল উত্তম বিধান (আযীমত) যখন খতম হয়ে যায় তখন রুখসত (জায়েজ ছাড় বিধান)-ই প্রত্যেকের অভ্যাসে পরিণত হয়। এখন কেউ আজিমতের বয়ান দিলে মানুষ মনে করে, সে বুঝি রুখসতের বিধানকে অস্বীকার করছে। এজন্য তারা বরদাশত করতে পারে না। তারা মনে করে, আমাদের খণ্ডন করা হচ্ছে। আসলে এটি আপনাদের খণ্ডন নয়; বরং মূল বিধানের দিকে আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ জরুরি। আমার বক্তব্য হলো, শিক্ষাদান শিক্ষাগ্রহণের পাশাপাশি নিজের সকল প্রয়োজন পূরণের নিজেই জিম্মাদার হওয়া সাহাবায়ে কেরামের, খুলাফায়ে রাশেদীনের, সকল নবী-রসুলের বৈশিষ্ট্য। এটি শুধু জরুরতই নয়; সিফাত (বৈশিষ্ট্য)। জরুরত তো যেনতেনভাবে পূরণ হয়ে যাবে। আমি বলি, এটি হলো সিফাত যে, নবীগণ ব্যবসা করতেন। প্রত্যেক নবীর কোনো না কোনো পেশা ছিল। কেউ লৌহকার ছিলেন। কেউ কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। যুগের মুসলমানরা যেসব কাজকে দোষ মনে করে, নবীগণ সেসব কাজ করেছেন। অথচ সেগুলোকে যুগে দোষ মনে করা হয়। আপনারা আজ এমন স্থানে পৌঁছে গেছেন যে, শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি কোনো ভালো ব্যবসা করাকেও আপনারা দোষ মনে করছেন![1]

হে শীর্ষস্থানীয় ওলামা হযরাত!

তার এ বয়ান মারাত্মক গুমরাহি সৃষ্টিকারী মনে হচ্ছে। এর মাধ্যমে বয়ানকারী ব্যক্তি জনগণকে পরিষ্কার এ অনুভূতি দিচ্ছেন যে, সমগ্র পৃথিবীতে তিনি একাই আযীমত (শরীয়তের মূল উত্তম বিধান)-এর দিকে আহ্বান করছেন। এজন্য আলেমগণ তার বিরোধিতা করছেন। আপনারা নিন্দুকের নিন্দার ভয় এড়িয়ে পূর্বেও একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। একটি সর্বসম্মত ফতওয়া জারি করেছিলেন। পরবর্তীতে আরেকটি লেখায় লিখেছিলেন যে, তিনি একটি নতুন দল বানাচ্ছেন। কিন্তু দারুল উলুম দেওবন্দের শত্রু, কতিপয় অদূরদর্শী লোক দারুল উলুম দেওবন্দ ও আমাদের আকাবিরের ওপর বেহুদা অপবাদ আরোপের মিশন শুরু করে দিয়েছিল। পর্ব আকারে প্রবন্ধ লিখেছে। আমরা দেওবন্দের আকাবিরদের ওপর পূর্ণ আস্থা লালন করি যে, তারা হকের ব্যাপারে কখনই কারও দ্বারা প্রভাবিত হন না।

আমরা আপনাদের কাছে ইতোপূর্বে আরও অনেকগুলো বয়ান পেশ করেছি। যার কোনোটায় আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের শানে বেয়াদবি হয়েছে। কিছু বয়ানে এ দাবি তোলা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ের শিক্ষাদান ও দীনের দাওয়াতের পদ্ধতি সুন্নতপরিপন্থী। সেগুলো নিরীক্ষণ করার পর আপনাদের কাছে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রত্যাশা করছি,

  1. বয়ানকারীর উক্ত বয়ানগুলো কি শরীয়তের আলোকে সঠিক? এমন ব্যক্তির বিভ্রান্তিকর কথা কি অন্যদের কাছে পৌঁছানো ও প্রচার করা জায়েয?
  2. যারা এমন ব্যক্তির পক্ষে কথা বলে এবং ভুল দলিল সরবরাহ করে, তাদের ব্যাপারে শরীয়ত কী বলে?
  3. কিছুলোক জনগণকে বোঝাচ্ছে যে, দারুল উলুম দেওবন্দের লোকজন সবসময় তাবলীগের বিরোধী ছিল। দারুল উলুম দেওবন্দ কি বাস্তবেই তাবলীগের বিরোধী?

আমরা এ প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট শব্দে উত্তর চাই। আমরা আপনাদেরকে এ তথ্য জানাতে চাই যে, দারুল উলুম দেওবন্দের দ্ব্যর্থহীন অবস্থান সামনে না আসার কারণে ওলামায়ে কেরাম দীনী পথপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে নানাবিধ জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেক ইমামের ইমামতি চলে যাচ্ছে। সব জায়গায় অস্পষ্ট ও পরস্পরবিরোধী কথাবার্তা ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ বলছে, ‘তিনি রুজু করেছেন। এজন্য আমরা নিরুপায়। অতএব আবারও দারুল উলুম দেওবন্দের শরণাপন্ন হোন। এ মাদরাসাই আমাদের জন্য হককে হক হিসেবে চেনা ও বাতিলকে বাতিল হিসেবে জানার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র।’ এজন্য আমরা পরিষ্কার শব্দে উল্লেখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই। আমাদের অনুভূতি ভুল হলে যেন সেই ভুলগুলো চিহ্নিত করে দেওয়া হয়।

ওয়াস সালাম

ফতওয়া জিজ্ঞাসাকারী

  1. আবদুর শীদ, উসতায, মাদরাসায়ে যিয়াউল উলুম, মধ্যপ্রদেশ,
  2. মুহাম্মদ খালেদ, উসতায, মাদরাসা আরাবিয়া, এমপি,
  3. রফিক আহমদ, উসতায, দারুল উলুম মুহাম্মদিয়া, এমপি,
  4. মাওলানা মুফতি যিয়াউল্লাহ খান, শায়খুল হাদীস, জামিয়া ইসলামিয়া, ভুপাল,
  5. যুবাইর আহমদ কাসেমী, উসতায, দারুল উলুম বাংলাওয়ালি,
  6. জুনাইদ আহমদ কাসেমী, উসতায, দারুল উলুম সাগার, এমপি,
  7. মুফতি ইনসাফ, উসতায, আনওয়ারুল উলুম ভুপাল,
  8. মৌলভী যুবাইর, উসতায, আনওয়ারুল উলুম ভুপাল,
  9. মুহাম্মদ ইরফান আলম কাসেমী, উসতায, ইরফানুল হুদা, ভুপাল,
  10. মুহাম্মদ আবরার, উসতায, যিয়াউল উলুম, এমপি,
  11. মুহাম্মদ মাহবুব কাসেমী, মুফতি, রাহাতগড়, সাগার, এমপি,
  12. মুহাম্মদ যুহাইর, কাজী, মধ্যপ্রদেশ ও
  13. মুহাম্মদ রিযওয়ান কাসেমী, উসতায, দারুল ইফতা, জামেয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া মসজিদে তরজমাওয়ালী, ভুপাল।

দারুল উলুম দেওবন্দ, ভারত

দারুল ইফতা

জবাব: ৮০৫/বা/১৪৪৪ হি.

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

الْـجَوَابُ، وَبِاللهِ التَّوْفِيْقُ.

দারুল উলুম দেওবন্দ সর্বশেষ লেখায় (৩১ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে প্রচারিত) আলোচিত ব্যক্তির চিন্তা-চেতনা ও মতাদর্শ সম্পর্কে লিখেছিল যে,

دار العلوم کے موقف میں اصلًا جس فکری بے راہ روی پر تشویش کا اظہار کیا گیا تھا، اس سے صرف نظر نہیں کیا جاسکتا؛ اس لیے کہ کئی بار رجوع کے بعد بھی وقتًا فوقتًا ان کے ایسے نئے بیانات موصول ہو رہے ہیں جن میں وہی مجتہدانہ انداز ، غلط استدلالات اور دعوت سے متعلق اپنی ایک مخصوص فکر پر نصوص شرعیہ کا غلط انطباق نمایاں ہے، جس کی وجہ سے خدام دار العلوم ہی نہیں ؛ بلکہ دیگر علمائے حق کو بھی ان کی مجموعی فکر سے سخت قسم کی بے اطمینانی ہے، ہمارا یہ ماننا ہے کہ اکا بر رحمہم اللہ کی فکر سے معمولی انحراف بھی شدید نقصاندہ ہے ،  ان کو اپنے بیانات میں محتاط انداز اختیار کرنا چاہیے اور اسلاف کے طریق پر گامزن رہتے ہوئے نصوص شرعیہ سے ذاتی اجتہادات کا سلسلہ بندہ کرنا چاہیے؛ کیونکہ موصوف کے ان دور از کار اجتہادات سے ایسا لگتا ہے کہ خدانخواستہ وہ کسی ایسی جدید جماعت کی تشکیل کے درپئے ہیں جو اہل السنۃ والجماعۃ اور خاص طور پر اپنے اکابر کے مسلک سے مختلف ہوگی۔

‘দারুল উলুম দেওবন্দ নিজ অবস্থান ব্যক্ত করার সময় আলোচিত ব্যক্তির যেই মতাদর্শিক স্খলনের ওপর আফসোস প্রকাশ করেছিল, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কারণ একাধিকবার তিনি রুজু করার পরেও নানা সময় তার থেকে এমন নিত্যনতুন বয়ান আমাদের কাছে পৌঁছেছে, যার মাঝে পূর্বের সেই মুজতাহিদসুলভ আন্দাজ, ত্রুটিপূর্ণ দলিল উপস্থাপন এবং দাওয়াত সম্পর্কে তার একান্ত নিজস্ব চিন্তাধারার ওপর শরীয়তের কথামালার ভুল প্রয়োগ প্রকাশ পেয়েছে। যার কারণে শুধুমাত্র দারুল উলুম দেওবন্দের উসতাযগণই নন; অন্যান্য হকপন্থি আলেমগণও তার সামগ্রিক চিন্তাধারার ওপর মারাত্মক আস্থাহীন। আমরা মনে করি, আমাদের আকাবির রহিমাহুল্লাহর চিন্তাধারা থেকে সামান্যতম বিচ্যুতিও মারাত্মক ক্ষতিকর। তাকে অবশ্যই নিজ বয়ানের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। পূর্বসূরিদের পদ্ধতি অনুসরণ করে শরীয়তের কথামালা থেকে ব্যক্তিগত ইজতিহাদের এ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। কেননা তার এসব অদূরদর্শী ইজতিহাদ ও উদ্ভাবন দেখে মনে হচ্ছে―আল্লাহ না করুন―তিনি এমন একটি নতুন দল গঠন করতে উঠেপড়ে লেগেছেন, যারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত, বিশেষ করে নিজ পূর্বসূরিদের মতাদর্শ থেকে ভিন্ন।’

এ লেখা প্রকাশ করার পর থেকে অদ্যাবধি দারুল উলুম দেওবন্দের উসতাযদের কাছে সময়ে-অসময়ে এমন সব বয়ান পৌঁছেছে, যা পড়ে নির্দ্বিধায় একথা লেখা যায় যে, তিনি নিজেকে সংশোধন তো করেননি; উলটো ভুল ইজতিহাদ, দীন ও শরীয়তের বিকৃতি এবং মনগড়া দৃষ্টিভঙ্গির ওপর অবিচল থাকার প্রবণতার দিকে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। ভুপালের আলেমদের পক্ষ থেকে নিকট অতীতের যেসব তাজা বয়ান আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে (যার মাঝে ১৩ মে ২০২৩ বাদ ফজরের বয়ানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।) সেখানে দারুল উলুম দেওবন্দের উল্লেখিত বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান সত্য প্রমাণিত হয়েছে যে, বিষয়টি ব্যক্তির কোনো আংশিক বিচ্যুত বয়ান নয়; বরং তিনি চৈন্তিক বক্রতা, ইলমের স্বল্পতা ও যোগ্যতাশূন্য হওয়া সত্ত্বেও ইজতিহাদ ও আবিষ্কার করার দুঃসাহস দেখিয়ে চলেছেন। যার ফলে তার মাধ্যমে দীনবিকৃতির এটি স্বতন্ত্র ধারা চালু হয়েছে। এরচেয়েও অধিক বিপদজনক বিষয় হলো, তার অনুসারীরা সেই বিভ্রান্ত মতাদর্শের পক্ষে ভিত্তিহীন দলিল-প্রমাণ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেদারছে প্রচার করে বেড়াচ্ছে। দারুল উলুম দেওবন্দ ও সেখানকার আসাতিযায়ে কেরামের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা দাবি ও অজ্ঞতাপ্রসূত কথাবার্তা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার মিশন চালিয়ে যাচ্ছে। এতদিন আমরা এসব কার্যকলাপ উপেক্ষা করেছি। কিন্তু যখন দেখা গেল যে, জমহূর তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ উম্মাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও অজ্ঞতাপ্রসূত কথাবার্তা জনগণের মাঝে ব্যাপকাকারে ছড়ানো হচ্ছে; জনগণের সামনে আমাদের আকাবির রহিমাহুল্লাহর মতাদর্শের সুস্পষ্ট ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে; ‘সিরাতে সাহাবা’ শিরোনাম দিয়ে সোনালি যুগের ভুল ও মনগড়া চিত্র উম্মতের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং সেসব বিভ্রান্তিকর কথাগুলো মসজিদে মসজিদে প্রচার-প্রসার করা হচ্ছে, তখন উম্মতকে গুমরাহি থেকে বাঁচানোর জন্য বিশুদ্ধ এবং সুস্পষ্ট ভাষায় অবস্থান ব্যক্ত করা নিঃসন্দেহে একটি অনিবার্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশ্নের মাঝে ২৯ এপ্রিল ২০২৩ তারিখের যে বয়ান নকল করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষণের পূর্বে একথা সুস্পষ্ট করা জরুরি যে, দীনের খেদমতে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে সেই বয়ানকারী (মাওলানা সাদ সাহেব) নিজস্ব যে খেয়াল প্রকাশ করেছেন, এটা তার কোনো নতুন বা প্রথম দীনবিকৃতি নয়; দারুল উলুম দেওবন্দ ও অন্যান্য হকপন্থি ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পূর্বেও সতর্ক করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি জনসাধারণের মজলিসে নিজের সেই গুমরাহ চিন্তাধারা কোনো না কোনো শিরোনামের অধীনে ধারাবাহিকভাবে চর্বিতচর্বণ করে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্নে উল্লেখিত বয়ান তার পূর্বের সকল বয়ানের তুলনায় অধিক বিপদজনক। কারণ তিনি এখানে ওলামা, মুহাদ্দিসীনে কেরাম, বুজুর্গানে দীন ও দীনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জনগণ কর্তৃক ভরণ-পোষণের প্রচলিত পদ্ধতিকে সুস্পষ্ট শব্দে অপদস্থ করার চেষ্টা করেছেন।

একথা স্পষ্ট যে, বয়ানকারী দীনের খেদমতে শতভাগ নিয়োজিত ব্যক্তিদেরকে যেসব ভিত্তিতে (সাহাবায়ে কেরামের সিরাতের অনুসরণ, জনগণ থেকে অমুখাপেক্ষী থাকা, পরিপূর্ণ মুজাহাদা করা, জনগণকে প্র্যাক্টিক্যাল ব্যবসা শেখানো এবং দীনী কাজকর্মে সহায়তা অর্জন করা) ব্যবসা ও জীবিকা উপার্জন করার ওপর উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং জনগণের সামনে এ অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন যে, ছাত্র-শিক্ষক ও দীনের সেবকদের জীবিকার সংস্থান ও ব্যয়ভার নির্বাহের প্রচলিত পদ্ধতি সাহাবায়ে কেরামের সিরাতের পরিপন্থী; তার এসব ভিত্তি ও অনুভূতি শতভাগ ভুল। ভিত্তি যেমন ভুল, তেমনি সীরাতের বাহানা দেওয়াটাও অজ্ঞতাপ্রসূত কথা। সঠিক তথ্য হলো, যেসকল সাহাবী সাধারণ মুসলমানদের দীনী প্রয়োজন পূরণের খেদমতে জড়িত ছিলেন, তাদের জীবিকার দায়িত্ব তখনকার জনগণ পালন করতেন। এটিই ছিল সেই যুগের প্রচলিত পদ্ধতি। বায়তুল মাল থেকে তাদের বেতন-ভাতা নির্ধারিত ছিল। দীনের সেই সেবকগণ নিজেদের জীবিকার সংস্থানের জন্য বায়তুল মালের ভাতা গ্রহণ করতেন। আল্লামা আইনী (রহ.)-এর ভাষ্য অনুসারে, সাহাবায়ে কেরামের যুগে এমন ব্যক্তিবর্গের জন্য ভাতা চালু করা ইজমা তথা সর্বসম্মত বিধান ছিল। তারা অন্যদের মতো ব্যবসা-বাণিজ্য না করে জনগণের ভরণ-পোষণ মঞ্জুর করেছিলেন এ কারণে যে, এসব ব্যক্তিবর্গ ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত হয়ে পড়লে দীনের খেদমত যথাযথভাবে পালন করতে ব্যঘাত ঘটবে। এ সম্পর্কে শত শত মুহাদ্দিস, ফকীহ ও জীবনীকারদের সুস্পষ্ট লেখা এত প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান রয়েছে যে, সবগুলো এখানে তুলে ধরা দুরুহ। আমরা নমুনা হিসেবে কয়েকটি উদ্ধৃতি পেশ করছি।

সবার আগে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রযি.)-এর সেই পূর্ণ ঘটনা যার ওপর ভিত্তি করে বয়ানকারী তার ভুল আবিষ্কার (ইজতিহাদ) হাজির করেছেন সে সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের ব্যাখ্যা দেখুন। হায়াতুস সাহাবার মাঝে সেই ঘটনার বিবরণ হচ্ছে,

رَدُّ أَبِيْ بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ h الْـمَالَ: قِصَّةُ رَدِّهِ h وَظِيْفَتَهُ مِنْ بَيْتِ الْـمَالِ، أَخْرَجَ الْبَيْهَقِيُّ: عَنِ الْـحَسَنِ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيْقَ h خَطَبَ النَّاسَ فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَىٰ عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ أَكْيَسَ الْكَيْسِ التَّقْوَىٰ»- فَذَكَرَ الْـحَدِيْثَ، وَفِيْهِ: فَلَمَّا أَصْبَحَ غَدَا إِلَى السُّوْقِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ h: «أَيْنَ تُرِيْدُ؟» قَالَ: السُّوْقَ، قَالَ: «قَدْ جَاءَكَ مَا يَشْغَلُكَ عَنِ السُّوْقِ»، قَالَ: سُبْحَانَ اللهِ يَشْغَلُنِيْ عَنْ عِيَالِيْ، قَالَ: تُعْرِضُ بِالْـمَعْرُوْفِ، قَالَ: «وَيْحَ عُمَرَ إِنِّيْ أَخَافُ أَنْ لَا يَسَعُنِيْ أَنْ آكُلَ مِنْ هَذَا الْـمَالِ شَيْئًا»، قَالَ: فَأَنْفِقْ فِيْ سَنَتَيْنِ وَبَعْضِ أُخْرَىٰ ثَمَانِيَةَ آلَافِ دِرْهَمٍ، فَلَمَّا حَضَرَهُ الْـمَوْتُ قَالَ: قَدْ كُنْتُ قُلْتُ لِعُمَرَ: إِنِّيْ أَخَافُ أَنْ لَا يَسَعَنِيْ أَنْ آكُلَ مِنْ هَذَا الْـمَالِ شَيْئًا، فَغَلَبَنِيْ فَإِذَا أَنَا مِتُّ فَخُذُوْا مِنْ مَالِيْ ثَمَانِيَةَ آلَافِ دِرْهَمٍ وَرُدُّوهَا فِي بَيْتِ الْـمَالِ، قَالَ: فَلَمَّا أُتِيَ بِهَا عُمَرُ h قَالَ: «رَحِمَ اللهُ أَبَا بَكْرٍ، لَقَدْ أَتْعَبَ مَنْ بَعْدَهُ تَعَبًا شَدِيْدًا».[2]

এ ঘটনা হাদীস ও সিরাতের বিভিন্ন কিতাবে শাব্দিক তারতম্য সহকারে বিবৃত রয়েছে। যার সারাংশ হলো, হযরত আবু বকর (রযি.) খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর সাহাবায়ে কেরাম (রযি.) সর্বসম্মতিক্রমে বায়তুল মাল থেকে তাঁর বেতন নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি সেই বেতন গ্রহণও করেছিলেন। বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা আবদুল হাই কাত্তানী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ نِظَامُ الْـحُكُوْمَةِ النَّبَوِيَّةِ/التَّرَاتِيْبُ الْإِدَارِيَّةِ-এর মাঝে রীতিমতো একটি অধ্যায় দাঁড় করিয়েছেন যে, الْفَصْلُ الْأَوَّلُ: فِيْ أَنَّ لِكُلِّ مَنْ شَغَلَ بِشَيْءٍ مِنْ أَعْمَالِ الْـمُسْلِمِيْنَ أَخَذَ الرِّزْقَ عَلَىٰ شُغُلِهِ ذَلِكَ ও الْفَصْلُ الرَّابِعُ: فِيْ أَرْزَاقِ الْـخُلَفَاءِ بَعْدَهُ ﷺ وَرَضِيَ عَنْهُمْ। যার অধীনে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রযি.)-এর সেই আলোচিত ঘটনার মাধ্যমে দলিল পেশ করে তিনি লিখেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি মুসলমানদের সম্মিলিত দীনী খেদমতে জড়িত থাকেন তাহলে তিনি বায়তুল মাল থেকে বেতনের হকদার বিবেচিত হবেন। যদি বয়ানকারী ব্যক্তি হায়াতুস সাহাবার মাঝে আলোচিত ঘটনার মূল উৎসগ্রন্থ সুনানে বায়হাকী পড়তেন তাহলে দেখতে পেতেন যে, বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ ইমাম বায়হাকী (রহ.) তাঁর সুনানে হযরত আবু বকর (রযি.)-এর উপর্যুক্ত ঘটনার ওপর এ অধ্যায় দাঁড় করিয়েছেন, ‌‌بَابُ مَا ‌يُكْرَهُ ‌لِلْقَاضِيْ ‌مِنَ ‌الشِّرَاءِ وَالْبَيْعِ وَالنَّظَرِ فِي النَّفَقَةِ عَلَىٰ أَهْلِهِ وَفِيْ ضَيْعَتِهِ لِئَلَّا يَشْغَلَ فَهْمَهُ। যার অর্থ হলো, একজন বিচারপতির জন্য ব্যবসা পেশায় আত্মনিয়োগ করা মকরুহ, যেন তার মানসিক মনোযোগে ব্যঘাত না হয়। আল্লামা আইনী (রহ.)সহ একাধিক মুহাদ্দিস উক্ত ঘটনাকে দলিল হিসেবে পেশ করে লিখেছেন যে, ‘সাধারণ মুসলমানদের দীনী সেবায় নিয়োজিত সকল সদস্য বায়তুল মাল থেকে বেতন গ্রহণ করবেন। তাদের আর্থিক ভরণ-পোষণের দায়িত্ব জনগণকে বহন করতে হবে।’[3] এমনকি আল্লামা নাবলুসী (রহ.) شَرْحُ الطَّرِيْقَةِ الْـمُحَمَّدِيَّةِ গ্রন্থে কাজী খান (রহ.) ও আল্লামা ইবনে নুজাইম (রহ.) থেকে নকল করেছেন যে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি নিজেকে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা এবং মুসলমানদের জাতীয় দীনী খেদমতের জন্য নিয়োজিত করেন, তা হলে তিনি পূর্ব থেকে যত বড় ধনীই হোন না কেন, অবশ্যই বায়তুল মালের বেতনের হকদার বিবেচিত হবেন।’[4] আমাদের অন্যতম আকাবির হযরত থানভী (রহ.) লিখেছেন,

ہمارے فقہاء ( کو اللہ جزائے خیر دے) نے لکھا ہے کہ اگر قاضی امیر کبیر ہو تو اس کو بھی تنخواہ لینا چاہئے ، اور وجہ اس کی یہ ہے کہ اگر کوئی قاضی تنخواہ نہ لے اور دس برس تک وہ قاضی رہا اس کے بعد کوئی غریب قاضی ہو کر آیا تو اب تنخواہ کا اجراء مشکل ہوگا۔ سبحان اللہ فقہاء کا کیا فہم ہے، یہ حضرات حقائق شناس تھے۔

‘আমাদের ফকীহগণ লিখেছেন যে, বিচারক যদি অনেক বড় ধনীও হন, তবু তার বেতন নেওয়া উচিত। কারণ হলো, যদি কোনো বিচারক বিনাবেতনে দশ বছর দায়িত্ব পালন করে, এরপর তার স্থানে কোনো দরিদ্র বিচারক নিযুক্ত হন তখন তার জন্য পুনরায় বেতন চালু করা মুশকিল হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! ফকীহদেরকে আল্লাহ কী পরিমাণ উপলব্ধি ক্ষমতা দিয়েছেন! তারাই তো বাস্তবতার সম্যক জ্ঞানী ছিলেন।’[5]

শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া (রহ.) তাঁর ফাযায়েলে তিজারাত গ্রন্থে আলোচিত ঘটনা নকল করার পর বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থের উদ্ধৃতিতে লিখেছেন,

ہروہ شخص جو مصالح مسلمین میں مشغول ہو، مثلًا: قاضی مفتی ، مدرس ان کا بھی یہی معاملہ ہونا چاہیے۔

‘যেসকল ব্যক্তি মুসলমানদের জনকল্যাণে নিয়োজিত। যথা- কাজী, মুফতি, মুদাররিস, তাদের ক্ষেত্রেও একই বিধান।’[6]

লক্ষ করুন, আল্লামা আইনী (রহ.), আল্লামা কাত্তানী (রহ.) ও শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া (রহ.)সহ অপরাপর হাদীস ব্যাখ্যাকারগণ এ ঘটনার আলোকে সাধারণ মুসলমানদের দীনী খেদমতে নিয়োজিত সকল ব্যক্তির জন্য বায়তুল মাল থেকে বেতন গ্রহণ এবং জনগণের ভরণ-পোষণ গ্রহণ করার পক্ষে লিখেছেন। ইমাম বায়হাকী (রহ.) কাজীগিরি তথা বিচারকার্যের মতো দীনী খেদমতে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য ব্যবসা পেশ গ্রহণ করাকে মানসিক একাগ্রতা বিঘ্নকারী সাব্যস্ত করে মকরুহ বলেছেন। অথচ সেই একই ঘটনার আলোকে এ বয়ানকারী ব্যক্তি দীনের সেবকদের জন্য ব্যবসা জরুরি মনে করছেন এবং ব্যবসা না করে দীনী কাজে জড়িত হওয়াকে ত্রুটিপূর্ণ মুজাহাদা সাব্যস্ত করছেন। এটাকে ইস্যু বানিয়ে তিনি দীনের খাদেমদেরকে সাহাবায়ে কেরামের আদর্শের বিরুদ্ধাচরণকারী অপবাদে অভিযুক্ত করছেন এবং নিজের মনগড়া সিরাতকে আযীমত তথা (শরীয়তের মূল উত্তম বিধান)-এর আহ্বান দাবি করছেন। লক্ষ করুন, এতটুকু পার্থক্যের কারণে পথ কোত্থেকে কোথায় চলে গেছে!

হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী (রহ.) হায়াতুস সাহাবায় যেই অধ্যায় দাঁড় করিয়েছেন, তার দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল, সাহাবায়ে কেরামের দুনিয়ার প্রতি অনাগ্রহ ও দুনিয়াবিমুখতা ব্যক্ত করা। তিনি বলতে চেয়েছেন যে, হযরত আবু বকর (রযি.) যে ব্যবসার মাধ্যমে অনায়াসে নিজ জীবিকা নির্বাহ করতেন, খিলাফতের দায়িত্বভারের কারণে তিনি তা ত্যাগ করে বায়তুল মালের যৎসামান্য বেতনের ওপর তুষ্ট হয়ে যান। শুধু তাই নয়; শেষজীবনে তিনি বায়তুল মাল থেকে গ্রহণকৃত বেতনও ফেরত দেওয়ার অসিয়ত করেছিলেন। এটি ছিল তাঁর সুমহান দুনিয়াবিমুখতা ও খোদাভীরুতার স্বাক্ষর। শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া (রহ.)ফাযায়িলে আমলে এ ঘটনা সাহাবায়ে কেরামের দুনিয়াবিমুখতার অধীনে নকল করেছেন।[7]

মাসআলাটি স্পষ্ট করার জন্য এতটুকু বিবরণই যথেষ্ট ছিল। তারপরও আমরা সংগত মনে করছি যে, সবাইকে আশ্বস্ত করার স্বার্থে ইসলামের সোনালি যুগের আরও কিছু উদ্ধৃতি পেশ করবো, যেখানে দীনের খেদমতে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের জনগণের ভরণ-পোষণ গ্রহণ ও জীবিকা নির্বাহ প্রসঙ্গে একাধিক মুহাদ্দিস ও ফকীহদের আরও কিছু ভাষ্য উপস্থাপন করবো।

বুখারী শরীফে এসেছে, হযরত আবু বকর ও ওমর (রযি.) বায়তুল মাল থেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কাজী শুরাইহ (রহ.)ও বেতন নিতেন।[8] হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সাদী (রযি.) হযরত ওমর (রযি.)-এর কাছে এলে তিনি তাকে তাকে বলেন, ‘আমি সংবাদ পেয়েছি যে, আপনি হুকুমতের কাজ করেন; কিন্তু আপনাকে যে বেতন দেওয়া হয় তা গ্রহণ করেন না।’ বললেন, ‘সঠিক।’ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেন?’ তিনি বললেন, ‘আমি নিজেই নিজের জীবিকা নির্বাহ করি। আমার ঘোড়া ও গোলাম আছে। এর বাইরে আমার আরও সম্পদ আছে। এজন্য আমি চেয়েছি যে, আমার সেবা মুসলমানদের ওপর ব্যয় হোক।’ তখন ওমর (রযি.) বললেন, ‘এমনটি করবেন না। আমিও অনুরূপ নিয়ত করেছিলাম; কিন্তু রসুল (সা.) আমাকে বারণ করেছিলেন।’[9]

ইমাম বুখারী (রহ.) ‌‌بَابُ ‌نَفَقَةِ ‌الْقَيِّمِ ‌لِلْوَقْفِ শিরোনামের অধীনে এ হাদীস উল্লেখ করেছেন যে, রসুল (সা.) বলেন, ‘আমার উত্তরাধিকারীরা কোনো স্বর্ণ বা রৌপ্যমুদ্রা বণ্টন করবে না। আমি যা রেখে যাচ্ছি, তা আমার স্ত্রীদের ব্যয়ভারের পরে এবং আমার আমিলদের বেতনের পরে সাদকা।’[10] এ হাদীসের অধীনে মোল্লা আলী আল-কারী (রহ.) মিরকাত গ্রন্থে এবং শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া (রহ.) লামিউদ দারারী গ্রন্থের টীকায় নকল করেছেন যে, ‘এর দ্বারা উদ্দেশ্য বনি নযীরের জমি, যা আল্লাহ তাআলা নবীজিকে ‘ফাই’ হিসেবে দান করেছিলেন। তদ্রূপ খায়বারের জমিও উদ্দেশ্য, যা তিনি গনিমতের অংশ হিসেবে পেয়েছিলেন। অনুরূপভাবে ফাদাকের অর্ধভূমি উদ্দেশ্য, যা খায়বার বিজয়ের পর নবীজি খায়বারবাসীদের কাছ থেকে সন্ধির মাধ্যমে অর্জন করেছিলেন। এ জমিগুলো রসুল (সা.)-এর সাথে খাস বা বিশেষায়িত ছিল।[11] হাদীসে উল্লেখিত «مُؤْنَةِ عَامِلِيْ» দ্বারা উদ্দেশ্য খলীফাতুল মুসলিমীন।[12] বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনে বাত্তাল (রহ.) এ হাদীসে উল্লেখিত «مُؤْنَةِ عَامِلِيْ» শব্দের ব্যাখ্যায় লিখেছেন যে, রসুল (সা.) আমিলদেরকে নিজ পরিত্যাক্ত সম্পত্তির অন্যতম ব্যয়খাত ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ খলীফাতুল মুসলিমীনদেরকে, যারা মুসলমানদের জাতীয় সেবায় নিয়োজিত।’[13] কাজেই কোনো ব্যক্তি যদি মুসলমানদের সামষ্টিক কল্যাণের কোনো ক্ষেত্রে নিয়োজিত থাকেন, যেমন- আলেম, কাজী, মুয়াজ্জিন প্রমুখ, তারাও খলীফাতুল মুসলিমীনের অনুরূপ বায়তুল মাল থেকে প্রদত্ত বেতনের হকদার হবেন।[14]

ইবনুল আসীর (রহ.) তাঁর ইতিহাসগ্রন্থে লিখেছেন যে,

وَقَالَ عُمَرُ لِلْمُسْلِمِيْنَ: إِنِّيْ كُنْتُ امْرَأً تَاجِرًا يُغْنِي اللهُ عِيَالِيْ بِتِجَارَتِيْ، وَقَدْ شَغَلْتُمُوْنِيْ بِأَمْرِكُمْ هَذَا، فَمَا تَرَوْنَ أَنَّهُ يَحِلُّ لِيْ فِيْ هَذَا الْـمَالِ؟ وَعَلِيٌّ سَاكِتٌ، فَأَكْثَرَ الْقَوْمُ، فَقَالَ: مَا تَقُوْلُ يَا عَلِيُّ؟ فَقَالَ: مَا أَصْلَحَكَ وَعِيَالَكَ بِالْـمَعْرُوْفِ لَيْسَ لَكَ غَيْرُهُ، فَقَالَ الْقَوْمُ: الْقَوْلُ مَا قَالَ عَلِيٌّ، فَأَخَذَ قُوَّتَهُ.

‘সাইয়েদুনা ওমর (রযি.) মুসলমানদেরকে সম্বোধন করে বলেন, তোমরা নিশ্চয়ই অবগত যে, আমি একজন বণিক ছিলাম। ব্যবসার মাধ্যমে আমার পরিবার-পরিজনের জীবিকার সংস্থান হতো। কিন্তু এখন আমি তোমাদের সেবামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। সেহেতু বায়তুল মাল থেকে আমার বেতন গ্রহণের ব্যাপারে তোমাদের কী অভিমত?’ উত্তরে সাইয়েদুনা আলী (রযি.) বলেন, ‘হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি নিজের জন্য ও আপনার পরিবার-পরিজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার গ্রহণ করুন।’ সকল মুসলমান তার সঙ্গে একমত হন। তখন সাইয়েদুনা ওমর (রযি.) বায়তুল মাল থেকে বেতন গ্রহণ শুরু করেন।’[15]

ইমাম তাবারী (রহ.)-এর উদ্ধৃতিতে হাফিয ইবনে হাজার (রহ.) লিখেছেন যে, ‘এ হাদীস থেকে সুস্পষ্ট জানা যাচ্ছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি মুসলমানদের জাতীয় কাজে নিয়োজিত থাকেন তাহলে তিনি বায়তুল মাল থেকে বেতনের হকদার হবেন।’[16]

হযরত মাওলানা ফখরুল হাসান গঙ্গুহী (রহ.) আবু দাউদ শরীফের টীকায় লিখেছেন যে, ‘এ হাদীস থেকে বুঝে আসে যে, মুসলিম উম্মাহ সংশ্লিষ্ট দীনের সর্বপ্রকার জাতীয় সেবার জন্য বায়তুল মাল থেকে বেতন গ্রহণ করা জায়েয। যেমন- দীন শিক্ষা দেওয়া, বিচারকার্য পরিচালনা করা ইত্যাদি। ইমামের দায়িত্ব হচ্ছে, তিনি বায়তুল মাল থেকে এ ধরনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের জীবিকা নির্বাহের বন্দোবস্ত করে দেবেন।’[17]

আল্লামা বারকুয়ী হানাফী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ الطَّرِيْقَةُ الْـمُحَمَّدِيَّةُ -এর মাঝে এ বিষয়বস্তুর ওপর রীতিমত একটি শিরোনাম দাঁড় করিয়েছেন, الْفَصْلُ الثَّانِيْ فِي التَّوَرُّعِ وَالتَّوَقِّيْ مِنْ طَعَامِ أَهْلِ الْوَظَائِفِ مِنْ الْأَوْقَافِ أَوْ بَيْتِ الْـمَالِ مَعَ اخْتِلَاطِ الْـجَهَلَةِ وَالْعَوَامِّ وَأَكْلِ طَعَامِهِمْ। এ শিরোনামের অধীনে তিনি লিখেছেন যে, সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বায়তুল মাল থেকে বেতন গ্রহণ না করাটা মূর্খতা। এরপর তিনি খুলাফায়ে রাশেদীন কর্তৃক বায়তুল মালের বেতন গ্রহণের কথা উল্লেখ করে সর্বশেষে লিখেছেন,

لَا فَرْقَ بَيْنَ الْوَقْفِ وَبَيْتِ الْـمَالِ وَبَيْنَ غَيْرِهِمَا مِنْ الْـمَكَاسِبِ فِي الْـحِلِّ وَالطِّيْبِ، إذَا رُوْعِيَتْ شَرَائِطُ الشَّرْعِ، وَفِي الْـحُرْمَةِ وَالْـخُبْثِ إذَا لَـمْ تُرَاعَ، بَلْ الْأَوَّلَانِ أَشْبَهُ وَأَمْثَلُ فِيْ زَمَانِنَا.

‘বায়তুল মাল ও ওয়াকফ সম্পত্তির আয় এবং অন্য কোনো মাধ্যমে জীবিকা উপার্জনের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। বরং বায়তুল মাল ইত্যাদির আয় অধিক পবিত্র।’[18]

হাফিয ইবনে আবদুল বার্‌র (রহ.) আল-ইসতিয়াব গ্রন্থে সূত্র সহকারে নকল করেছেন যে, শামদেশের গভর্নরির জন্য হযরত মুআবিয়া (রযি.)-কে সাইয়েদুনা ওমর (রযি.) বার্ষিক ১০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা বেতন দিতেন।[19] ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) কিতাবুল খারাজে ‌‌فَصَلٌ ‌فِيْ أَرْزَاقِ الْقُضَاةِ وَالْعُمَّالِ শিরোনামের অধীনে লিখেছেন যে, কোনো ব্যক্তি মুসলমানদের জাতীয় কাজে নিয়োজিত থাকলে বায়তুল মাল থেকে বেতনের হকদার হবেন। এজন্য যুগে যুগে সকল খলীফার রীতি ছিল যে, তারা বায়তুল মাল থেকে সবসময় কাজীদের বেতন দিতেন।[20] আল্লামা যায়লায়ী (রহ.) নাসবুর রায়াহ গ্রন্থে হযরত ওমর (রযি.) থেকে নকল করেছেন যে, তিনি দীনী তালিমে নিয়োজিত শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করেছিলেন।[21] বাস্তবতা হলো, যেমনটি ইমাম যায়লায়ী (রহ.) তাবয়ীনুল হাকায়িক গ্রন্থে লিখেছেন যে, ‘বিচারপতিকে বায়তুল মাল থেকে এজন্য বেতন দেওয়া হয় যে, তিনি মুসলমানদের জাতীয় দীনী সেবায় আটকে আছেন। এভাবে আটকে থাকাটাই ভরণ-পোষণের কারণ। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীদের যুগে বায়তুল মাল থেকে বেতন গ্রহণের প্রচলন ছিল। খোদ সাইয়েদুনা আবু বকর (রযি.) ও পরবর্তী সকল খলীফা প্রয়োজনমতো বেতন গ্রহণ করতেন। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, এটি ইজমা’ তথা উম্মাহর ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বীকৃত মাসআলা।’[22] হাফিয যাখাভী (রহ.) লিখেছেন যে, ‘অতীত যুগের কিছু পূর্বসূরি স্রেফ এ কারণে ব্যবসা করতেন যেন নিজ আয় ওই সকল আলেম ও মুহাদ্দিসদের ওপর ব্যয় করতে পারেন, যারা ইলমে দীনের প্রচার-প্রসারের কাজে নিজেদের জীবন নিয়োজিত করে রেখেছেন, যাদের পক্ষে জীবিকা নির্বাহের কোনো অবলম্বন গ্রহণের সুযোগ নেই। সাইয়েদুনা ফুযাইল ইবনে আয়ায (রহ.) থেকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, ‘যদি তুমি ও তোমার সাথি অর্থাৎ হযরত সুফিয়ান সওরী (রহ.) ও হযরত সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা (রহ.) প্রমুখ না হতেন, তা হলে আমি ব্যবসা করতাম না।’[23] ইবনে আসাকির (৫৭১ হি.) তারিখু দিমাশক গ্রন্থে সূত্রসহকারে বয়ান করেছেন যে, মদীনা মুনাওয়ারায় তিনজন শিক্ষক শিশুদের পড়াতেন। ওমর (রযি.) তাঁদের প্রত্যেককে ভরণ-পোষণ হিসেবে মাসিক পনেরো দিরহাম প্রদান করতেন।[24] আবু ওবাইদ কাসিম ইবনে সালাম (রহ.) কিতাবুল আমওয়ালে ‌‌بَابُ ‌الْفَرْضِ ‌عَلَىٰ ‌تَعَلُّمِ ‌الْقُرْآنِ وَالْعِلْمِ، وَعَلَىٰ سَابِقَةِ الْآبَاءِ-এ লিখেছেন যে, হযরত ওমর (রযি.) কয়েকজন গভর্নরকে ফরমান লিখেছেন, ‘তোমরা লোকদেরকে কুরআন শেখানোর জন্য বেতন দেবে।’[25]

ইসলামি ইতিহাসবিদ কাজী আতহার মুবারকপুরী (রহ.) লিখেছেন,

عہد رسالت میں مقامی اور بیرونی دونوں قسم کے طلبہ کے قیام و طعام کا باقاعدہ انتظام تھا، مقامی طلبہ یعنی اضیاف الاسلام اصحاب صفہ اور دیگر فقراء ومساکین مسجد نبوی میں قیام کرتے تھے، رسول اللہ ﷺ اور با حیثیت صحابہ ان کو اپنے گھروں پر بلا کر کھلاتے تھے مسجد نبوی میں صحابہ ان کے لیے کھجور اور پانی رکھتے تھے، حضرت ابو ہریرہ  اور حضرت معاذ بن جبلؓ اس کے منتظم تھے اور بیرونی طلبہ یعنی اطراف وجوانب سے آنے والے افراد اور وفود عام طور سے دار رملۃ بنت حارث میں ٹھہرائے جاتے تھے جو دار الضیافۃ کے نام سے مشہور تھا اور اس میں چھ سات سو آدمیوں کے قیام کی گنجائش تھی ، ان کے قیام و طعام کا انتظام حضرت بلال  کے ذمہ ہوتا تھا ، بعض افراد اور وفود دوسری جگہوں میں بھی ٹھہرائے جاتے تھے۔

‘রসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার-দাবার ও বসবাসের আনুষ্ঠানিক বন্দোবস্ত ছিল। স্থানীয় শিক্ষার্থী, অর্থাৎ সুফফার সদস্যগণ ও অন্যান্য দরিদ্র-অসহায় মানুষ মসজিদে নববিতে অবস্থান করতেন। রসুলুল্লাহ (সা.) ও অবস্থাসম্পন্ন সাহাবীগণ তাঁদেরকে নিজেদের ঘরে আমন্ত্রণ জানিয়ে আহার করাতেন। সাহাবায়ে কেরাম তাঁদের জন্য মসজিদে নববিতে পর্যাপ্ত খেজুরের ছড়া ও পানি রেখে দিতেন। আবু হুরায়রা ও মুআয ইবনে জাবাল (রযি.) ছিলেন সেই কাজের ব্যবস্থাপক। আর বহিরাগত শিক্ষার্থী, অর্থাৎ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত সদস্য ও প্রতিনিধিদলের সদস্যগণকে সাধারণত হযরত রমলা বিনতে হারিস (রযি.)-এর বাড়িতে রাখা হতো। তাঁর সেই বাড়ি ‘দারুয যিয়াফা’ নামে প্রসিদ্ধ ছিল। সেখানে একসঙ্গে ছয়-সাতশ মানুষের থাকার বন্দোবস্ত ছিল। তাঁদের খাবার ও বাসস্থানের বন্দোবস্ত করার দায়িত্ব ছিল হযরত বিলাল (রযি.)-এর জিম্মায়। কিছু সদস্য ও প্রতিনিধিকে অবশ্য অন্যান্য স্থানেও রাখা হতো।’[26]

তিনি অন্যত্র লিখেছেন,

جب مکاتب کا عام رواج ہو گیا تو شہروں ، دیہاتوں، صحراؤں اور قبیلوں میں شخصی وانفرادی مکتب کھل گئے اور ہر طبقہ نے اپنے ذوق و ضرورت کے مطابق بچوں کی تعلیم اور معلموں اور مؤدبوں کے رزق و اجرت کا انتظام کیا ۔

‘পরবর্তী যুগে যখন ব্যাপক হারে মকতব প্রতিষ্ঠার রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে তখন প্রতিটি শহর, গ্রাম, মরুগ্রাম ও গোত্রের মাঝে স্বতন্ত্র মকতব গড়ে ওঠে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণি নিজ নিজ অভিরুচি ও প্রয়োজন অনুসারে শিশুদের শিক্ষা এবং মকতবের শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের বেতন ও খাবারের বন্দোবস্ত করতো।’[27]

[চলবে]

[1] সা’দ কান্ধলভী, হায়াতুস সাহাবার তালীম, ২৯ এপ্রিল ২০২৩

[2] (ক) মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী, হায়াতুস সাহাবা, মুআস্সাসাতুর রিসালা লিত-তাবাআ ওয়ান নাশর ওয়াত-তাওযী’, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪২০ হি. = ১৯৯৯ খ্রি.), খ. ২, পৃ. ৫১৬; (খ) আল-বায়হাকী, আস-সুনানুল কুবরা, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বয়রুত, লেবনান (দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৪২৪ হি. = ২০০৩ খ্রি.), খ. ৬, পৃ. ৫৭৪-৫৭৫, হাদীস: ১৩০০৯

[3] বদরুদ্দীন আল-আইনী, উমদাতুল কারী শরহু সহীহিল বুখারী, দারু ইয়াহইয়ায়িত তুরাস আল-আরবি, বয়রুত, লেবনান, ক. ১১, পৃ. ১৮৬, তিনি বলেন,

وَكُلُّ مَنْ يَتَوَلَّىٰ عَمَلًا مِنْ أَعْمَالِ الْـمُسْلِمِيْنَ يُعْطِيَ لَهُ شَيْءٌ مِنْ بَيْتِ الْـمَالِ، لِأَنَّهُ يُحْتَاجُ إِلَىٰ كِفَايَتِهِ وَكِفَايَةِ عِيَالِهِ، لِأَنَّهُ إِن لَـمْ يُعْطَ لَهُ شَيْءٌ لَا يَرْضَىٰ أَنْ يَعْمِلَ شَيْئًا، فَتَضِيْعُ أَحْوَالُ الْـمُسْلِمِيْنَ، وَعَن ذَلِكَ قَالَ أَصْحَابُنَا: وَلَا بَأْسَ بِرِزْقِ الْقَاضِيْ، وَكَانَ شُرَيْحٌ رَضِيَ اللهُ تَعَالَىٰ عَنْهُ يَأْخُذُ عَلَى الْقَضَاءِ.

[4] আবদুল গনী আন-নাবলুসী, আল-হাদীকাতুন নদীয়া শারহুত তরীকাতিল মুহাম্মাদিয়া ওয়াস সিরাতিল আহমাদিয়া, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪৩২ হি. = ২০১১ খ্রি.), খ. ৫, পৃ. ৪৭৮, তিনি বলেন,

ذَكَرَ قَاضِيْ خَانْ فِيْ «فَتَاوَاهُ» مِنْ بَابِ الْـحَظْرِ وَالْإِبَاحَةِ: أَنَّهُ سُئِلَ الرَّازِيُّ عَنْ بَيْتِ الْـمَالِ هَلْ لِلْأَغْنِيَاءِ فِيْهِ نَصِيْبٌ؟ قَال: لَا، إلَّا أَنْ يَكُوْنَ عَامِلًا أَوْ قَاضِيًا أَوْ فَقِيْهًا لِتَعْلِيْمِ النَّاسِ الْفِقْهَ أَوْ الْقُرْآنَ.

وَقَالَ الْعَلَّامَةُ زَيْنُ الدِّيْنِ بْنُ نُجَيْمٍ: وَلَيْسَ مُرَادُ الرَّازِيِّ الْاقْتِصَارَ عَلَى الْعَامِلِ وَالْقَاضِيْ، بَلْ أَشَارَ بِهِمَا إِلَىٰ كُلُّ مَنْ فَرَّغَ نَفْسَهُ لِلْمُسْلِمِيْنَ، فَيَدْخُلُ الْـجُنْدِيُّ وَالْـمُفْتِيْ.

দেখুন: কাযী খান, ফতওয়া কাযী খান আলা মাযহাবিল ইমাম আল-আ’যম আবী হানীফা আন-নু’মান, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪৩০ হি. = ২০০৯ খ্রি.), খ. ৩, পৃ. ৩০৩ ও ইবনে নুজাইম, আল-বাহরুর রায়িক শরহু কানযিদ দাকায়িক, দারুল কিতাব আল-ইসলামী, বয়রুত, লেবনান, খ. 5, পৃ. 127

[5] (ক) আশরফ আলী থানভী, আল-ইলমু ওয়াল উলামা, ইরাদায়ে ইফাদাতে আশরাফিয়া দোবগ্গা, লখনউ, ইউপি, ভারত (নবম সংস্করণ: ১৪৩৮ হি. = ২০১৬ খ্রি.), পৃ. ১৬৯; (খ) আশরফ আলী থানভী, দাওয়াতে আবদিয়ত, মাকতাবায়ে থানভী ও কুতুবখানায়ে আশরাফিয়া, করাচি, পাকিস্তান, খ. ৩, পৃ. ৩১

[6] যাকারিয়া কান্ধলভী, ফাযায়িলে তিজারত, মাকতাবাতুশ শায়খ বাহাদুরাবাদ, করাচি, পাকিস্তান, পৃ. ৬৭, বক্তব্যটি মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে যিকরী (রহ.)-এর হাশিয়া আলাল জামি আস-সহীহ থেকে উদ্ধৃত।

[7] দেখুন: যাকারিয়া কান্ধলভী, ফাযায়িলে আ’মাল, মাকতাবাতুয যিকরা, ইসলামাবাদ, পাকিস্তান (প্রথম সংস্করণ: ১৪৩৬ হি. = ২০১৫ খ্রি.), পৃ. ৭১ [হেকায়াতে সাহাবা, তৃতীয় অধ্যায়: সাহাবায়ে কেরামের দুনিয়াবিমুখতা ও দারিদ্রের আলোচনা প্রসঙ্গে, (৪) হযরত আবু বকর (রযি.)-এর বায়তুল মাল থেকে বেতন গ্রহণ।]

[8] আল-বুখারী, আস-সহীহ, দারু তওকিন নাজাত লিত-তাবাআ ওয়ান নাশর ওয়াত তাওযী’, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪২২ হি. = ২০০১ খ্রি.), খ. ৯, পৃ. ৬৭, তিনি বলেন,

وَكَانَ شُرَيْحٌ الْقَاضِيْ يَأْخُذُ عَلَى الْقَضَاءِ أَجْرًا، وَقَالَتْ عَائِشَةُ: يَأْكُلُ الْوَصِيُّ بِقَدْرِ عُمَالَتِهِ، وَأَكَلَ أَبُوْ بَكْرٍ وَعُمَرُ.

[9] আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ৯, পৃ. ৬৮, হাদীস: ৭১৭৩, তিনি বর্ণনা করেন,

عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيْدَ، ابْنُ أُخْتِ نَمِرٍ: أَنَّ حُوَيْطِبَ بْنَ عَبْدِ الْعُزَّىٰ أَخْبَرَهُ: أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ السَّعْدِيِّ أَخْبَرَهُ: «أَنَّهُ قَدِمَ عَلَىٰ عُمَرَ فِيْ خِلَافَتِهِ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: أَلَـمْ أُحَدَّثْ أَنَّكَ تَلِيْ مِنْ أَعْمَالِ النَّاسِ أَعْمَالًا، فَإِذَا أُعْطِيْتَ الْعُمَالَةَ كَرِهْتَهَا؟ فَقُلْتُ: بَلَىٰ، فَقَالَ عُمَرُ: فَمَا تُرِيْدُ إِلَىٰ ذَلِكَ؟ قُلْتُ: إِنَّ لِيْ أَفْرَاسًا وَأَعْبُدًا، وَأَنَا بِخَيْرٍ، وَأُرِيْدُ أَنْ تَكُوْنَ عُمَالَتِيْ صَدَقَةً عَلَى الْـمُسْلِمِيْنَ، قَالَ عُمَرُ: لَا تَفْعَلْ، فَإِنِّيْ كُنْتُ أَرَدْتُ الَّذِيْ أَرَدْتَ، فَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُعْطِيْنِي الْعَطَاءَ.

[10] আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ৪, পৃ. ১২, হাদীস: ২৭৭৬, তিনি বর্ণনা করেন,

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ h: أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ: «لَا يَقْتَسِمُ وَرَثَتِيْ دِيْنَارًا مَا تَرَكْتُ بَعْدَ نَفَقَةِ نِسَائِيْ وَمَئُوْنَةِ عَامِلِيْ فَهُوَ صَدَقَةٌ».

[11] মোল্লা আলী আল-কারী, মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাসাবীহ, দারুল ফিকর লিত-তাবাআ ওয়ান নাশর ওয়াত তাওযী’, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪২২ হি. = ২০০২ খ্রি.), খ. ৯, পৃ. ৩৮৫৯, তিনি বলেন,

قَالَ الْعَلَّامَةُ الْكِرْمَانِيُّ فِيْ شَرْحِ الْبُخَارِيِّ: هِيَ نِصْفُ أَرْضِ فَدَكٍ، وَثُلُثُ أَرْضِ وَادِي الْقُرَىٰ، وَسَهْمُهُ مِنْ خُمْسِ خَيْبَرَ، وَحِصَّةٌ مِنْ أَرْضِ بَنِي النَّضِيْرِ.

দেখুন: আল-কারমানী, আল-কাওয়াকিবুদ দারারী শরহুল বুখারী, দারু ইশাআতিত তুরাস আল-আরাবী, বয়রুত, লেবনান (দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৪০১ হি. = ১৯৮১ খ্রি.), খ. ২১, পৃ. ৩

[12] মোল্লা আলী আল-কারী, মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাসাবীহ, খ. ৯, পৃ. ৩৮৬০, তিনি বলেন,

وَقَوْلُهُ: «وَمُؤْنَةِ عَامِلِيْ» أَرَادَ بِالْعَامِلِ الْـخَلِيْفَةَ بَعْدَهُ، وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَأْخُذُ نَفَقَةَ أَهْلِهِ مِنَ الصَّفَايَا الَّتِيْ كَانَتْ لَهُ مِنْ أَمْوَالِ بَنِي النَّضِيْرِ وَفَدَكٍ، وَيَصْرِفُ الْبَاقِيْ فِيْ مَصَالِحِ الْـمُسْلِمِيْنَ، ثُمَّ وَلِيَهَا أَبُوْ بَكْرٍ ثُمَّ عُمَرُ كَذَلِكَ.

[13] ইবনে বাত্তাল, শরহু সহীহ আল-বুখারী, মাকতাবাতুর রাশীদ, রিয়াদ, সৌদি আরব (দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৪২৩ হি. = ২০০৩ খ্রি.), খ. ৮, পৃ. ২০১, তিনি বলেন,

أَرَادَ البُخَارِيُّ بِتَبْوِيْبِهِ أَنْ يُبَيِّنَ أَنَّ الْـمُرَادَ بِقَوْلِهِ: «مَئُوْنَةِ عَامِلِيْ » أَنَّهُ عَامِلُ أَرْضِهِ الَّتِيْ أَفَاءَهَا اللهُ عَلَيْهِ مِنْ بَنِي النَّضِيْرِ، وَفَدَكٍ وَسَهْمِهِ مِنْ خَيْبَرَ.

দেখুন: যাকারিয়া কান্ধলভী (টীকাকার), লামিউদ দারারী আলা জামিয়িল বুখারী মিন আমালিল ফকীহ আল-মুহাদ্দিস আশ-শায়খ আবী মাসঊদ রশীদ আহমদ আল-গঙ্গুহী, আল-মাকতাবাতুল ইমদাদিয়া, মক্কা মুকাররমা, সৌদি আরব (প্রথম সংস্করণ: ১৩৯৫ হি. = ১৯৭৫ খ্রি.), খ. ৭, পৃ. ১৯৯

[14] আবদুল গনী আন-নাবলুসী, আল-হাদীকাতুন নদীয়া শারহুত তরীকাতিল মুহাম্মাদিয়া ওয়াস সিরাতিল আহমাদিয়া, খ. ৫, পৃ. ৪৭৭-৪৭৮, তিনি বলেন,

وَأَمَّا مَصَارِفُ بَيْتِ الْـمَالِ فَهُمُ الْـمُقَاتَلَةُ مِنْ الْعَسَاكِرِ وَأُمَرَاؤُهُ وَالْوُلَاةُ وَالْقُضَاةُ وَالْـمُحْتَسِبُوْنَ وَالْـمُفْتِيُوْنَ وَالْـمُعَلِّمُوْنَ وَالْـمُتَعَلِّمُوْنَ وَقَرَأَ الْقُرْآنُ وَالْـمُؤَذِّنُوْنَ، وَكُلُّ مِنْ قَلَّدَ شَيْئًا مِنْ مَصَالِحِ أُمُوْرِ الْـمُسْلِمِيْنَ.

[15] ইবনুল আসীর, আল-কামিল ফিত তারীখ, দারুল কিতাব আল-আরবী, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪১৭ হি. = ১৯৯৭ খ্রি.), খ. ২, পৃ. ৩৩৩

[16] ইবনে হাজর আল-আসকলানী, ফতহুল বারী শরহু সহীহ আল-বুখারী, দারুল মা’রিফা লিত-তাবাআ ওয়ান নাশর, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৩৭৯ হি. = ১৯৫৯ খ্রি.), খ. ১৩, পৃ. ১৫৪, তিনি বলেন,

قَالَ الطَّبَرِيُّ فِيْ حَدِيْثِ عُمَرَ الدَّلِيْلُ الْوَاضِحُ عَلَىٰ أَنَّ لـِمَنْ شُغِلَ بِشَيْءٍ مِنْ أَعْمَالِ الْـمُسْلِمِيْنَ أَخْذَ الرِّزْقِ عَلَىٰ عَمَلِهِ ذَلِكَ كَالْوُلَاةِ وَالْقُضَاةِ وَجُبَاةِ الْفَيْءِ وَعُمَّالِ الصَّدَقَةِ وَشَبَهِهِمْ لِإِعْطَاءِ رَسُوْلُ اللهِ صلى ﷺ عُمَرَ الْعُمَالَةَ عَلَىٰ عَمَلِهِ.

[17] আবদুল হাই আল-কাত্তানী, আত-তারাতীবুল ইদারিয়া = নিযামুল হুকুমাতিন নাবাবিয়া, দারুল আরকাম, বয়রুত, লেবনান, খ. ১, পৃ. ২২৭, তিনি বলেন,

قال (فخر الحسن) الگنگوهي في «التعليق المحمود علىٰ سنن أبي داود»: عليه فيه جواز أخذ العوض من بيت المال على العمل العام، كالتدريس والقضاء وغيرهما، بل يجب على الإمام كفاية هؤلاء ومن في معناهم من بيت المال.

[18] আল-বারকূভী, আত-তরীকাতুল মুহাম্মাদিয়া ওয়াস সিরাতিল আহমাদিয়া, দারুল কলম, দামেস্ক, সিরিয়া (প্রথম সংস্করণ: ১৪৩২ হি. = ২০১১ খ্রি.), পৃ. ৫৫৬

[19] ইবনে আবদুল বার্‌র, আল-ইসতিআব ফী মা’রিফাতিল আসহাব, দারুল জীল, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪১২ হি. = ১৯৯২ খ্রি.), খ. ৩, পৃ. ১৪২২, ক্রমিক: ২৪৩৫, তিনি বর্ণনা করেন,

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوْسَىٰ، عَنْ أَبِيْهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْـخَطَّابِ رَزَقَ مُعَاوِيَةَ عَلَىٰ عَمَلِهِ الشَّامَ عَشْرَةَ آلافِ دِيْنَارٍ كُلَّ سَنَةٍ.

[20] কাযী আবু ইউসুফ, আল-খিরাজ, আল-মাকতাবাতুল আযহারিয়া লিত-তুরাস, কায়রো (প্রথম সংস্করণ: ১৪২০ হি. = ১৯৯৯ খ্রি.), মিসর, পৃ. ২০৪, হাদীস: ১৯৫, তিনি বলেন,

‌‌فَصَلٌ فِيْ أَرْزَاقِ الْقُضَاةِ وَالْعُمَّالِ: وَسَأَلْتَ مِنْ أَيْ وَجْهٍ تُجْرِيْ عَلَى الْقُضَاةِ وَالْعُمَّالِ الأَرْزَاقَ؟ فَاجْعَلْ -أَعَزَّ اللهُ أَمِيْرَ الْـمُؤْمِنِيْنَ بِطَاعَتِهِ- مَا يَجْرِيْ عَلَى الْقُضَاةِ وَالْوُلاةِ مِنْ بَيْتِ مَالِ الْـمُسْلِمِيْنَ: مِنْ جِبَايَةِ الْأَرْضِ أَوْ مِنْ خَرَاجِ الْأَرْضِ وَالْـجِزْيَةِ؛ لأَنَّهُمْ فِيْ عَمَلِ الْـمُسْلِمِيْنَ فَيَجْرِيْ عَلَيْهِمْ مِنْ بَيْتِ مَالِـهِمْ وَيَجْرِيْ عَلَىٰ كُلِّ وَالِيْ مَدِينَةٍ وَقَاضِيْهَا بِقَدْرِ مَا يَحْتَمِلُ، … وَكُلُّ رَجُلٍ تُصَيِّرُهُ فِيْ عَمَلِ الْـمُسْلِمِيْنَ فَأَجْرِ عَلَيْهِ مِنْ بَيْتِ مَالِـهِمْ، وَلا تُجْرِ عَلَى الْوُلاةِ وَالْقُضَاةِ مِنْ مَالِ الصَّدَقَةِ شَيْئًا إِلَّا وَالِي الصَّدَقَةِ؛ فَإِنَّهُ يَجْرِيْ عَلَيْهَا مِنْهَا كَمَا قَالَ اللهُ f [وَالْعٰمِلِيْنَ عَلَيْهَا ؕ ۰۰۶۰] {التَّوْبَة: 60}، … وَلَـمْ تَزَلِ الْـخُلَفَاءُ تُجْرِي لِلْقُضَاةِ الْأَرْزَاقَ مِنْ بَيْتِ مَالِ الْـمُسْلِمِيْنَ.

[21] আয-যায়লায়ী, নাসবুর রায়া লি আহাদীসিল হিদায়া, দারুর রাইয়ান, বয়রুত, লেবনান ও দারুল কিবলা লিস-সাকাফাতিল ইসলামিয়া, জিদ্দা, সৌদি আরব (প্রথম সংস্করণ: ১৪১৮ হি. = ১৯৯৭ খ্রি.), খ. ৪, পৃ. ১৩৭, তিনি বর্ণনা করেন,

وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْـخَطَّابِ، أَنَّهُ كَانَ يَرْزُقُ الْـمُعَلِّمِيْنَ، ثُمَّ أَسْنَدَ عَنْ إبْرَاهِيْمَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيْهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْـخَطَّابِ كَتَبَ إلَىٰ بَعْضِ عُمَّالِهِ: أَنْ أَعْطِ النَّاسَ عَلَىٰ تَعْلِيْمِ الْقُرْآنِ.

[22] ফখরুদ্দীন আয-যায়লায়ী, তাবয়ীনুল হাকায়িক শরহু কনযিদ দাকায়িক, আল-মতবাআতুল কুবরা আল-আমীরিয়া বুলাক, কায়রো, মিসর (প্রথম সংস্করণ: ১৩১৪ হি. = ১৮৯৬ খ্রি.), খ. ৬, পৃ. ৩৩, তিনি বলেন,

قَالَ r: «وَرِزْقُ الْقَاضِيْ» أَيْ حَلَّ رِزْقُ الْقَاضِيْ مِنْ بَيْتِ الْـمَالِ؛ لِأَنَّ بَيْتَ الْـمَالِ أُعِدَّ لِـمَصَالِحِ الْـمُسْلِمِيْنَ وَالْقَاضِيْ مَحْبُوْسٌ لِـمَصَالِـحِهِمْ وَالْـحَبْسُ مِنْ أَسْبَابِ النَّفَقَةِ، فَكَانَ رِزْقُهُ فِيْهِ كَرِزْقِ الْـمُقَاتِلَةِ وَالزَّوْجَةِ يُعْطَىٰ مِنْهُ مَا يَكْفِيْهِ، وَأَهْلَهُ عَلَىٰ هَذَا كَانَتْ الصَّحَابَةُ وَالتَّابِعُوْنَ، وَبَعَثَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَتَّابَ بْنَ أَسِيْدٍ إلَىٰ مَكَّةَ، وَفَرَضَ لَهُ وَبَعَثَ عَلِيًّا، وَمُعَاذًا إلَى الْيَمَنِ، وَفَرَضَ لَـهُمَا، وَكَانَ أَبُوْ بَكْرٍ وَالْـخُلَفَاءُ مِنْ بَعْدِهِ يَأْخُذُوْنَ كِفَايَتَهُمْ فَكَانَ إجْمَاعًا.

[23] আবদুল হাই আল-কাত্তানী, আত-তারাতীবুল ইদারিয়া = নিযামুল হুকুমাতিন নাবাবিয়া, খ. ১, পৃ. ৩১৪, তিনি বলেন,

وقال الحافظ السخاوي: من السلف الصالح من كان يتجر يقصد القيام بمؤونة من قصر نفسه علىٰ بث العلم والحديث، ولـم يتفرغ من أجل ذلك للتكسب لعياله؛ فعن ابن المبارك أنه كان يقول للفضيل بن عياض: لولا أنت وأصحابك وعنىٰ بهم السفيانين وابن علية وابن السماك ما اتجرت اهـ.

[24] ইবনে আসাকির, তারীখু দিমাশক, দারুল ফিকর লিত-তাবাআ ওয়ান নাশর ওয়াত তাওযী’, দামেস্ক, সিরিয়া (প্রথম সংস্করণ: ১৪১৫ হি. = ১৯৯৫ খ্রি.), খ. ২৪, পৃ. ৩৫, ক্রমিক: ২৮৬৯, তিনি বর্ণনা করেন,

عَنْ الْوَضِينِ بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ: ثَلَاثَةٌ مُعَلِّمِيْنَ كَانُوْا بِالْـمَدِيْنَةِ يُعَلِّمُوْنَ الصِّبْيَانَ، وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْـخَطَّابِ h يَرْزُقُ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ خَمْسَةَ عَشَرَ دِرْهَمًا كُلَّ شَهْرٍ.

[25] কাসিম ইবনে সাল্লাম, কিতাবুল আমওয়াল, দারুল ফিকর লিত-তাবাআ ওয়ান নাশর ওয়াত তাওযী’, বয়রুত, লেবনান, পৃ. ৩৩৩, হাদীস: ৬৪৩, তিনি বর্ণনা করেন,

عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيْمَ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْـخَطَّابِ كَتَبَ إِلَىٰ بَعْضِ عُمَّالِهِ: أَنْ أَعْطِ النَّاسَ عَلَىٰ تَعَلُّمِ الْقُرْآنِ.

[26] কাজী আতহার মোবারকপুরী, খয়রুল কুরূন কী দরসগাহীঁ আউর উনকা নিযামে তা’লীম ওয়া তরবিয়ত, দারুল ইশাআত, লাহোর-করাচি, পাকিস্তান (প্রথম সংস্করণ: ১৪২১ হি. = ২০০০ খ্রি.), পৃ. ১৪২

[27] কাজী আতহার মোবারকপুরী, খয়রুল কুরূন কী দরসগাহীঁ আউর উনকা নিযামে তা’লীম ওয়া তরবিয়ত, পৃ. ৩৫৬-৩৫৭

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ