---

যোহরের শেষ সময় ও আসরের প্রথম সময় (মিসল ও মিসলাইনের আলোচনা)

মূল: শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী (রহ.)

তাসহীল ও তারতীব

শায়খুল হাদীস মুফতি সাইদ আহমদ পালনপুরী (রহ.)

মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আমীন পালনপুরী 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী

অনুবাদক: লেখক, গবেষক ও পীর সাহেব বায়তুশ শরফ, চট্টগ্রাম

যোহরের প্রথম ওয়াক্ত সর্বসম্মতিভাবে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে শুরু হয়। সূর্য মধ্যাকাশে স্থির হওয়ার সময় প্রতিটি জিনিসের যে ছায়া হয় তাকে সূর্য ঢলে পড়ার ছায়া (প্রকৃত ছায়া) বলে। এটি চেনার পদ্ধতি হচ্ছে, সমতল ভূমিতে একটি সোজা কাঠ বা কীলক গেড়ে দিতে হবে। সূর্য ঢলে পড়ার আগে কাঠটির যে ছায়া হবে তা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। অতঃপর হয়তো ছায়াটি একেবারেই শেষ হয়ে যাবে কিংবা সামান্য বাকি থাকবে।[1] আর (এ ক্ষয়িষ্ণুতা) এক সময় বন্ধ হয়ে যাবে, এই অবশিষ্ট ছায়াটুকু সূর্য ঢলে পড়ার ছায়া (প্রকৃত ছায়া)। এরপর সেই ছায়া বিপরীত দিকে বাড়তে শুরু করবে। যখনই বাড়তে শুরু হবে বুঝে নিতে হবে যে, সূর্য ঢলে পড়েছে এবং যোহরের সময় শুরু হয়ে গেছে।

যোহরের ওয়াক্ত কতক্ষণ স্থায়ী থাকবে আর আসরের ওয়াক্ত কখন শুরু হয় এ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তিন ইমাম অর্থাৎ ইমাম মালিক w, ইমাম শাফিয়ী w ও ইমাম আহমদ (ইবনে হাম্বল) w এবং সাহেবাইন অর্থাৎ ইমাম আবু ইউসুফ w ও ইমাম মুহাম্মদ w-এর নিকট যোহরের ওয়াক্ত তখনই শেষ হয়ে যায় যখন প্রতিটি জিনিসের প্রকৃত ছায়াকে বিয়োগ করার পর সেই জিনিসের সমান হয়ে যায়। পরিভাষায় এটিকে এক মিসিল (মতো) বলা হয়। আর এর পরই আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়। উভয় ওয়াক্তের মাঝে প্রসিদ্ধ বক্তব্য মোতাবেক না কোনো মধ্যবর্তী সময় আছে, আর না কোন যৌথ সময় আছে।

ইমাম আযম w থেকে এ বিষয়ে চারটি মত বর্ণিত আছে,

  1. যাহেরে রেওয়ায়েত[2] অনুযায়ী যোহরের ওয়াক্ত দুই মিসিলের পর শেষ হয়ে যায় এবং এর পরই আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়। এটিই প্রাধান্যপ্রাপ্ত ফতওয়া বক্তব্য। আল্লামা কাসানী w বাদায়িউস সানায়িয়ে লিখেছেন যে, ‘এ মতটি যাহেরে রেওয়ায়েতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।’[3] ইমাম মুহাম্মদ w স্রেফ এটুকু লিখেছেন যে, ইমাম আবু হানিফা w-এর মতে আসরের ওয়াক্ত দুই মিসিল শেষে (অর্থাৎ তৃতীয় মিসিল থেকে) শুরু হয়।[4] যোহরের ওয়াক্ত কখন শেষ হয় ইমাম মুহাম্মদ w সেটি স্পষ্ট করেননি।’[5]
  2. ইমাম আযম (w)-এর দ্বিতীয় অভিমত সেটিই যা তিন ইমাম ও সাহেবাইনের। ইমাম তাহাভী wও এটিই গ্রহণ করেছেন। আদ-দুররুল মুখতার প্রণেতা বলেন, আজকাল মানুষের আমলও এই মতের ওপর এবং এর ওপরই ফতওয়া দেওয়া হয়। সাইয়েদ আহমদ দুহলান শাফিয়ী w খিযনাতুল মুফতিয়ীনফতওয়ায়ে যাহীরিয়া থেকে ইমাম সাহেব এ মতের প্রতি প্রত্যাবর্তন করেছেন বলে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমাদের কোনো কিতাবে এ প্রত্যাবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। বরং এ বক্তব্যকে হাসান ইবনে যিয়াদ লুলুয়ীর বর্ণনা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সারাখসী মাবসূতে এটি ইমাম মুহাম্মদ w-এর বরাতে উল্লেখ করেন। আর আদ-দুররুল মুখতার প্রণেতা যে এ মতকে প্রাধান্যপ্রাপ্ত ফতওয়া বলেছেন সেটা আল্লামা শামী w প্রত্যাখ্যান করেছেন।[6]
  3. ইমাম আযম w-এর তৃতীয় রেওয়ায়েত হচ্ছে, দ্বিতীয় মিসিল হচ্ছে অবসরের সময়। অর্থাৎ যোহরের ওয়াক্ত এক মিসিলেই শেষ হয়ে যায় এবং আসরের ওয়াক্ত দুই মিসিলের পর শুরু হয়। সুতরাং দ্বিতীয় মিসিলের সময় না যোহরের ওয়াক্ত, না আসরের। এটি ইমাম আযম w থেকে আসাদ ইবনে আমরের রেওয়ায়েত।[7]
  4. চতুর্থ অভিমত হচ্ছে, উমদাতুল কারী শরহে বুখারীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যোহরের ওয়াক্ত দুই মিসিলের কিছু আগে শেষ হয়ে যায় এবং আসরের ওয়াক্ত দুই মিসিলের পর শুরু হয়। ইমাম কারখী w এ অভিমতের যথার্থ বলে আখ্যায়িত করেছেন।[8]

রেওয়ায়েতসমূহ

যোহরের শেষ সময় ও আসরের প্রথম সময় বিষয়ে বিভিন্ন রেওয়ায়েত বর্ণিত আছে। নিম্নে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হল:

  1. প্রথম রেওয়ায়েত: (হযরত) জিবরাইল (n)-এর ইমামতি সংবলিত হাদীস, যেখানে হযরত জিবরাইল n প্রথম দিন যোহরের নামাজ (সূর্য) ঢলে পড়ামাত্র পড়িয়েছিলেন এবং আর আসরের নামাজ এক মিসিলে পড়িয়েছিলেন। আর দ্বিতীয় দিন যোহরের নামাজ এক মিসিলে পড়িয়েছিলেন অর্থাৎ ঠিক সেই সময় যে সময় প্রথম দিন আসরের নামাজ পড়িয়েছিলেন (لِوَقْتِ الْعَصْرِ بِالْأَمْسِ)। আর আসরের নামাজ দুই মিসিলে পড়িয়েছিলেন।[9]

রেওয়ায়েতের ফায়েদা: এ রেওয়ায়েত থেকে জানা যায় যে, এক মিসিল পর্যন্ত যোহরের সময় এবং দ্বিতীয় মিসিল থেকে আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর দুই ওয়াক্তের মাঝে কোনো না কোনো অবসর সময় আছে, নেই কোনো যৌথ সময়। এ রেওয়ায়েতকে তিনি ইমাম ও সাহেবাইন গ্রহণ করেছেন। অবশ্য ইমাম মালিক w প্রথম মিসিলের শেষে মুকিমের জন্য চার রকআত পরিমাণ ও মুসাফিরের জন্য দুই রকআত পরিমাণ সময় যৌথ আছে বলে মনে করেন। অর্থাৎ এতে যোহরের নামাজও পড়া যায় এবং আবার আসরের নামাজও। কেননা হযরত জিবরাইল n প্রথম দিন যেসময় আসরের নামাজ পড়িয়েছিলেন, ঠিক সেই সময়ে দ্বিতীয় যোহরের নামাজ পড়িয়েছিলেন। আল্লামা দারদীর (w)-এর আশ-শারহুস সগীরে আছে,

وَاشْتَرَكَتْ الظُّهْرُ وَالْعَصْرُ فِيْ آخِرِ الْقَامَةِ بِقَدْرِ أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ، فَيَكُوْنُ آخِرَ وَقْتِ الظُّهْرِ وَأَوَّلَ وَقْتِ الْعَصْرِ.

‘প্রথম মিসিলের শেষে চার রকআত পরিমাণ (সাভীর ব্যাখ্যায় এসেছে যে, এটি মুকিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আর সফরের অবস্থায় দুই রকআত পরিমাণ)[10] যোহর ও আসর যৌথ সময়। সুতরাং প্রথম মিসিলের শেষে যোহরের আখেরি ওয়াক্ত এবং আসরের প্রথম (প্রারম্ভ) ওয়াক্ত।’[11]

কিন্তু ইবনে হাবীব মালিকী (w) যৌথ সময়ের প্রবক্তা নন। আর ইবনুল আরাবী মালিকী (w) বলেছেন যে,

تَاللهِ مَا بَيْنَهُمَا اشْتِرَاكٌ، وَلَقَدْ زَلَّتْ فِيْهِ أَقْدَامُ الْعُلَمَاءِ.

‘খোদার কসম! এ উভয়ের মাঝে কোনো যৌথ সময় নেই। বস্তুত এ মাসআলায় (মালিকী) আলেমদের পদ পিছলে গেছে।’[12]

আর জুমহুর لِوَقْتِ الْعَصْرِ بِالْأَمْسِ (গতকালের আসরের সময়)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, কথাটি বর্ণনাকারী কাছাকাছি সময়ের কারণে বলেছেন। নতুবা প্রকৃতপক্ষে প্রথম দিন যে সময় আসরের নামাজ শুরু করেছিলেন দ্বিতীয় দিন তার থেকে একটু আগে যোহরের নামাজ সম্পন্ন করেছিলেন। দুই দিন দুই নামাজ একই সময়ে পড়েননি। কেননা আয়াতের ভাষ্য: اِنَّ الصَّلٰوةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ كِتٰبًا مَّوْقُوْتًا۰۰۱۰۳ (নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে মুসলমানদের ওপর নামাজ ফরজ।)[13] থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, প্রতিটি নামাজের সময় পৃথক পৃথক, যৌথ নয়।

  1. দ্বিতীয় রেওয়ায়েত: এক ব্যক্তি হুযুর আকরম D-এর নিকট নামাজের সময় জানতে চাইল। তিনি ওই ব্যক্তিকে নিজের কাছে অবস্থান করান এবং দুই দিন নামাজ পড়িয়ে আমলিভাবে নামাজের ওয়াক্তের তালিম দেনন। এই রেওয়ায়েতে এসেছে যে, প্রথম দিন হুযুর আকরম D সূর্য ঢলতেই যোহরের নামাজ পড়িয়েছিলেন এবং আসরের নামাজ পড়িয়েছিলেন সেই সময় যখন সূর্য সাদা ও উপরে ছিল। আর দ্বিতীয় দিন তিনি যোহরের নামাজ তাপদাহ বেশ ঠাণ্ডা হলে পড়িয়েছিলেন এবং আসরের নামাজ সেই সময় পড়িয়েছিলেন যখন সূর্য অন্তিম সময়ে পৌঁছেছিল।[14]

এ রেওয়ায়েতটি মুসলিম শরীফে হযরত বুরায়দা h থেকে বর্ণিত আছে। মুসলিম শরীফে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস k থেকেও এ রেওয়ায়েতটি বর্ণিত আছে, যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য ঢলে যায় এবং মানুষের ছায়া তার বরাবর হয়ে যায়। অতঃপর যোহরের ওয়াক্ত বাকি থাকে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত এবং আসরের ওয়াক্ত নাকি থাকে সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত।[15]

রেওয়ায়েতের ফায়েদা: এই রেওয়ায়েত দ্বারা নামাজের সময়ের কোনো স্পষ্ট সীমা নির্ধারিত হচ্ছে না। অবশ্য এতে এ বাক্যটিও আছে যে, হুযুর আকরম D দ্বিতীয় দিনের যোহরের নামাজ (তাপমাত্রা) বেশ ঠাণ্ডা হওয়ার পর পড়িয়েছিলেন। এর দ্বারা কিছুটা এমনটিই বোঝা যায় যে, সম্ভবত দ্বিতীয় মিসিলেই পড়িয়েছিলেন। কেননা পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, প্রথম মিসিল শেষ হওয়ার আগে আবহাওয়া ঠাণ্ডা হয় না। তাছাড়া এ হাদীসের যে ভাষ্য হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর h থেকে বর্ণিত তা হচ্ছে, ‘যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য ঢলে পড়ে এবং মানুষের ছায়া তার বরাবর হয়ে যায়।’ এর থেকে তো একথা পরিষ্কার বুঝে আসে যে, দ্বিতীয় মিসিলের সময়ও যোহরের নামাজের সময়।

  1. তৃতীয় রেওয়ায়েত: হযরত ওমর h-এর শাহি ফরমান যা তিনি তাঁর গভর্নরদের নামে জারি করেছিলেন। তাতে তিনি লিখেছিলেন যে, যখন ছায়া এক হাত হয়ে যায় তখন যোহরের নামাজ পড়বে। এমন কি সেই ছায়া এক মিসিল হয়ে যায়। আর আসর পড়বে যে সময় সূর্য উপরে, চমকদার ও পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং আসরে পর সূর্যাস্তের আগে অশ্বারোহন করে দুই বা তিন ক্রোশ[16] ভ্রমণ করা যায়।[17]

রেওয়ায়েতের ফায়েদা: এ রেওয়ায়েতটিও এ বিষয়ে স্পষ্ট নয় যে, যোহরের ওয়াক্ত এক মিসিলে শেষ হয়ে যায়। বাহ্যিকভাবে রেওয়ায়েত থেকে এটিই বোঝা যায় যে, এটি মুস্তাহাব ওয়াক্তের বিবরণ। কেননা হযরত ওমর h যোহরের নামাজ পড়ার হুকুম দিয়েছেন যখন ছায়া একহাত পরিমাণ হয়ে যায়। অথচ সূর্য ঢলার সাথে সাথেই যোহরের ওয়াক্ত আরম্ভ হয়ে যায়। এ দিকে যে সময় আসরের নামাজ পড়ার হুকুম দিয়েছেন তা একথার পরিষ্কার দলিল যে, হযরত ওমর h নিজের আদেশে মানুষকে মুস্তাহাব ওয়াক্তের শিক্ষা দিয়েছেন, প্রকৃত ওয়াক্ত নয়।

  1. চতুর্থ রেওয়ায়েত: হযরত আবু হুরায়রা h-এর কাছে এক ব্যক্তি নামাজের ওয়াক্ত জিজ্ঞাসা করেন, তখন হযরত আবু হুরায়রা h বলেন,

أَنَا أُخْبِرُكَ، صَلِّ الظُّهْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَكَ، وَالْعَصْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَيْكَ.

‘শোন, আমি তোমাকে বলছি, তোমার ছায়া তোমার বরাবর হলে যোহরের নামাজ পড়বে আর আসরের নামাজ পড়বে যখন তোমার ছায়া তোমার দ্বিগুণ হয়ে যাবে।’[18]

রেওয়ায়েতের ফায়েদা: এ রেওয়ায়েতে স্পষ্ট যে, যোহরের ওয়াক্ত এক মিসিলের পরও বাকি থাকে। কেননা যখন যোহরকে এক মিসিলের সময় পড়ার হুকুম দিয়েছেন এবং আসরকে দুই মিসিলে। কাজেই দ্বিতীয় মিসিল আসরের ওয়াক্ত তো হতেই পারে না, অনিবার্যভাবে তা যোহরের ওয়াক্তই হবে। এটি যদিও কথাটি হযরত আবু হুরায়রা h-এর বক্তব্য, তবে যেহেতু পরিসীমা বোধগম্য নয় সেহেতু এটিকে অনিবার্যভাবে মারফু বলে মেনে নিতে হবে।

  1. পঞ্চম রেওয়ায়েত: হযরত আবু যর গিফারী h-এর রেওয়ায়েত, যা সহীহ বুখারীমুসলিমে এসেছে। তিনি বলেছেন যে, কোনো এক সফরে আমরা হযুর আকরম D-এর সঙ্গে ছিলাম। যখন যোহরের ওয়াক্ত হলে মুয়াযযিন আযান দেওয়ার প্রস্তুতি নেন নবীজী বলেন, এখনি নয়! সময়টা ঠাণ্ডা হোক। কিছুক্ষণ পর আবার মুয়াযযিন আযান দিতে চাইলে হযুর D ইরশাদ করেন, ‘এখন সময়কে আরও ঠাণ্ডা হতে দাও।’ কিছুক্ষণ পর মুয়াযযিন আবারও আযান দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। তখন হুযুর D পুনরায় ইরশাদ করেন, ‘এখন সময়কে আরও ঠাণ্ডা হতে দাও।’ حَتَّىٰ رَأَيْنَا فَيْءَ التُّلُوْلِ (এমনকি আমরা টিলার ছায়া দেখছিলাম)। পরে হুযুর আকরম D ইরশাদ করলেন যে, গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের অংশ। সুতরাং গরম তীব্র হলে যোহরের নামাজ (আবহাওয়া) ঠাণ্ডা হলে পড়বে।[19]

এ হাদীসটি ইমাম বুখারী w আযান অধ্যায়েও উল্লেখ করেছেন। সেখানের ভাষ্যে এসেছে যে, حَتَّىٰ سَاوَى الظِّلُّ التُّلُولَ (এমনকি ছায়া লম্বায় টিলা বরাবর হয়েছিল)।[20]

রেওয়ায়েতের ফায়েদা: উপর্যুক্ত রেওয়ায়েত থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, হুযুর আকরম D এ সফরে যোহরের নামাজ নিশ্চিতভাবে দ্বিতীয় মিসিলে, বরং দ্বিতীয় মিসিলেরও শেষে পড়েছেন। কেননা টিলার ছায়ার দীর্ঘতায় টিলার বরাবর হওয়া প্রথম মিসিলে সম্ভবই নয়। কারও সন্দেহ হলে পর্যবেক্ষণ করে নিজের সন্দেহ দূর করতে পারে।

  1. যষ্ঠ রেওয়ায়েত: বুখারী শরীফের রেওয়ায়েত, যা মিশকাত শরীফের সর্বশেষ অধ্যায় بَابُ ثَوَابِ هَذِهِ الْأُمَّةِ -এর একদম শুরুতে এসেছে। যেখানে হুযুর আকরম D নিজের উম্মতের বয়সসীমা ও ইহুদি-নাসারার বয়সসীমার উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন যে,

‘এক ব্যক্তি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এক কীরাত নির্ধারণ করে এক মজদুর রাখে এবং দুপুরে তাকে তার পারিশ্রমিক দিয়ে বিদায় দেয়। অতঃপর দুপুর থেকে আসর পর্যন্তের জন্য এক কীরাত নির্ধারণ করে দ্বিতীয় মজদুর রাখে। আসরের সময় তাকেও তার প্রাপ্য দিয়ে বিদায় করে দেয়। এরপর আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্তের জন্য আরেকজন মজদুর রাখে এবং তার মজুরি দুই দুই কীরাত নির্ধারণ করে। যখন সে তার কাজ শেষ করে তখন তাকে তার দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এ উপমা বর্ণনা করে হুযুর আকরম D বললেন, ‘তোমরা হলে সেই মজদুর যারা আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত কাজ করেছ। সুতরাং তোমরা দ্বিগুণ মজুরি পাবে। এতে ইহুদি-নাসারারা নারাজ হয়ে যায়। তারা বলল যে, কাজ আমরা বেশি করেছি আর মজুরি আমরাই কম পেলাম! আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, আমি কি তোমাদের অধিকার ক্ষুন্ন করেছি? তারা জবাব দিল, না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তাহলে আমি আমার মেহেরবানি যাকে ইচ্ছে করবো।”[21]

রেওয়ায়েতের ফায়েদা: উপর্যুক্ত রেওয়ায়েতের ইশারা থেকেও একথা বুঝে আসে যে, যোহরের ওয়াক্ত দুই মিসিল পর্যন্ত থাকে। কেননা এ রেওয়ায়েতের সারর্ম হচ্ছে, উম্মতে মুহাম্মদী (আলা সাহিবিহাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর আমলের সময়কাল অল্প আর ইহুদি-খ্রিস্টানদের আমলের সময়কাল ছিল বেশি। ইহুদিদের আমলের সময়কাল বেশি হওয়া তো স্পষ্ট। কেননা তারা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। একইভাবে খ্রিস্টানদের আমলের সময়কাল উম্মতে মুহাম্মদীর আমলের সময়ের চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি সেই সময়ই হতে পারে, যখন আসরের ওয়াক্ত তৃতীয় মিসিল থেকে শুরু হবে এবং যোহরের ওয়াক্ত দ্বিতীয় মিসিল পর্যন্ত বাকি থাকবে। যদি যোহরের ওয়াক্ত প্রথম মিসিলেই শেষ মেনে নেওয়া হয় তবে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের আমলের সময়কালের মধ্যে কোনো ব্যবধান থাকে না। এই কথাটি এক উদাহরণ থেকে বুঝে নিন, সাহারনপুর শহরের পহেলা আগস্টের সময় নিম্নরূপ:

মধ্যাহ্ন দ্বিতীয় মিসিলের শুরু তৃতীয় মিসিলের শুরু সূর্যাস্ত
ঘণ্টা মিনিট ঘণ্টা মিনিট ঘণ্টা মিনিট ঘণ্টা মিনিট
১২ ২৫ ১২ ১২

উল্লিখিত সময়ের হিসাবে সূর্য ঢলে পড়া থেকে প্রথম মিসিলের শেষ পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা ৩৭ মিনিটের সময় এবং দ্বিতীয় মিসিলের প্রারম্ভ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিটের সময়। উভয়ের মাঝে মাত্র ৩৭ মিটিটের ব্যবধান। আর এটা কোনো বড় ব্যবধান নয়। এই ব্যবধান বর্তমান ঘড়ির যুগে অনুভব করা যায়, কিন্তু প্রাচীন যুগে সাধারণ মানুষের জন্য এর অনুধাবন কঠিন ছিল।

আর সূর্য ঢলে পড়া থেকে দ্বিতীয় মিসিলের শেষ পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা ৪ মিনিটের সময় এবং তৃতয়ি মিসিলের প্রারম্ভ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত শুধু দুই ঘণ্টার সময়। অতএব ২ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের ব্যবধান। আর এটি এমন স্পষ্ট ব্যবধান যে তা যে কোনো ব্যক্তি বেশ ভালোভাবে বুঝতে পারে। এ অবস্থায় নববী উপমা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারা যায়। বস্তুত এ রেওয়াযেত যদি সরল জ্ঞান থাকে তাহলে একথার পরিষ্কার দলিল যে, যোহরের ওয়াক্ত দ্বিতীয় মিসিলের শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

ইমাম আযমের একাধিক অভিমত

প্রসঙ্গে হানাফীদের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

আলোচনার শুরুতে ইমাম আযম w-এর চারটি রেওয়ায়েত উল্লেখ করা হয়েছে।

  1. যোহরের ওয়াক্ত দ্বিতীয় মিসিলের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে এবং আসরের ওয়াক্ত তৃতীয় মিসিল থেকে শুরু। এটি জাহেরি রেওয়ায়েত।
  2. যোহরের ওয়াক্ত প্রথম মিসিলের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে এবং আসরের ওয়াক্ত দ্বিতীয় মিসিল থেকে শুরু হয়। এটি জুমহুরের মাযহাব।
  3. দ্বিতীয় মিসিল পুরোটাই অবসর সময়।
  4. দ্বিতীয় মিসিলের শেষে অল্প সময় অবসর সময়।

ইমাম আযম w-এর এসব বিভিন্ন অভিমত প্রসঙ্গে হানাফীদের তিনটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

  1. প্রথম দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, এসব রেওয়ায়েত পরস্পর বিরোধী। সুতরাং চিন্তা-ভাবনা করে শেষ রেওয়ায়েতটি নির্দিষ্ট করতে হবে এবং পূর্ববর্তী রেওয়ায়েতসমূহকে রহিত বলে ধরে নিতে হবে। খিযানাতুল মুফতিয়ীনফতওয়ায়ে যাহীরিয়া প্রণেতাগণ এ কর্মপন্থাই অবলম্বন করেছেন। অতএব তাঁরা দ্বিতীয় মতের দিকে ইমাম সাহেবের প্রত্যাবর্তনের করার কথা বর্ণনা করেছেন এবং সেটিকেই তাঁর সর্বশেষ মত বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু মাযহাবের গ্রন্থসমূহে এ প্রত্যাবর্তনের কথা প্রসিদ্ধ নয়। এজন্য সাধারণভাবে এ দৃষ্টিভঙ্গি স্বীকার করে নেওয়া হয় না।
  2. দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, জুমহুরের অবস্থান কিংবা দলিলের বলিষ্ঠতা বিবেচনায় কোনো একটি মতকে প্রাধান্য দেওয়া। সুতরাং ইমাম তাহাভী w ও আদ-দুররুল মুখতার প্রণেতা জুমহুরের অবস্থানকে সামনে রেখে দ্বিতীয় মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন আর বলেছেন যে, ‘এর ওপরই লোকদের আমল এবং এটিই ফতওয়াসম্মত মত।’[22] মুনিয়ার ব্যাখ্যাতা আল্লামা ইবরাহীম হালবী w, আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী w ও দারুল উলুম দেওবন্দের মুফতীয়নে কেরাম দলিলের শক্তিশালিতা বিবেচনায় প্রথম মতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, যেটি জাহেরি রেওয়ায়েতও বটে। আল্লামা শামী w আদ-দুররুল মুখতার প্রণেতার খণ্ডন করে লিখেছেন যে,

আদ-দুররুল মুখতার প্রণেতা ইমাম আযমের দ্বিতীয় রেওয়ায়েত অধিক স্পষ্ট মর্মে যা বলেছেন তা হাদীসে জিবরাইলের কারণে। আর হাদীসে জিবরাইল এই মাসআলায় নস (প্রধান দলিল)—একথা সহীহ নয়। কেননা ইমাম আযম w-এর কথার যথেষ্ট দলিল আছে এবং ইমাম আযম w-এর দলিলের দুর্বলতা স্পষ্ট নয়, বরং ইমাম সাহেবের দলিলই শক্তিশালী। যেমন মুতাওয়াল গ্রন্থসমূহ ও শারহুল মুনিয়া অধ্যয়নে তা প্রতীয়মান হয়। আল্লামা ইবনে নুজায়ম মিসরী আল-বাহরুর রায়িকে এ নিয়মটি বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম সাহেবের বক্তব্য ছেড়ে সাহেবাইনের মত কিংবা তাঁদের মধ্যে থেকে যেকারও বক্তব্য প্রয়োজনবশত গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন ইমাম সাহেবের দলিল দুর্বল হলে কিংবা প্রচলিত আমল ইমাম সাহেবের বক্তব্যের বিপরীত হলে। উদাহরণত কৃষিকাজের মাসআলা। শুধু মাশায়েখের একথা বলা দেওয়া যে, ফতওয়া সাহেবাইনের কথার ওপর—এটুকুতে ইমাম সাহেবের বক্তব্য বর্জন করা যায় না।’[23]

  1. তৃতীয় দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, ইমাম সাহেবের বক্তব্যসমূহে সামঞ্জস্য বিধান করা। আর একথা বলা যায় যে, যোহরের ওয়াক্ত নিশ্চিতভাবে এক মিসিল পর্যন্ত বহাল থাকে। তবে দ্বিতীয় মিসিল পর্যন্ত থাকারও সম্ভাবনা আছে। আর আসরের ওয়াক্ত তৃতীয় মিসিল থেকে নিশ্চিতভাবে শুরু হয়, কিন্তু দ্বিতীয় মিসিল থেকে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং সতর্কতা এতেই যে, এক মিসিল শেষ হওয়ার আগেই যোহরের নামাজ পড়ে ফেলবে এবং আসরের নামাজ দ্বিতীয় মিসিল শেষ হওয়ার পরই পড়ে নেবে। যদি কোনো কারণে যোহরের নামাজ প্রথম মিসিলে পড়তে না পারে তাহলে দ্বিতীয় মিছিলে পড়ে নেবে, এর থেকে দেরি করবে না। আর তাকে আদায় বলা হবে, কাযা বলা হবে না। যেভাবে কেউ বাধ্য হয়। যেমন হারামাইন শরীফাইনে হাজীরা এমন বাধ্যবাধকতার শিকার হন, কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয় মিসিলে আসরের নামাজ পড়ে ফেলে তাকেও শুদ্ধ বলা হবে অর্থাৎ সে জিমাদারি থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। তবে যোহর ও আসর উভয়কে দ্বিতীয় মিসিলে পড়া শরীয়তের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। শরীয়তের উদ্দেশ্য হচ্ছে উভয় নামাজের মাঝে কিছুটা বিরতি হওয়া চায়। আর এ বিরতি সাধারণ অবস্থায় কমপক্ষে এক মিসিল পরিমাণ হওয়া চায় এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়ে কমও হতে পারে। অবসর সময় দ্বারা ইমাম সাহেবের উদ্দেশ্য এ কার্যকরী বিরতি অর্থাৎ দুই নামাজের মধ্যবর্তী বিরতি।

হযরত (শায়খুল হিন্দ) u-এর দৃষ্টিভঙ্গিও অনেকটা এটিই। কাজেই ঈযাহুল আদিল্লায় হযরত ইরশাদ করেছেন যে,

وقت ما بین المِثلَیْن (یعنی مثلِ ثانی) کو بوجہ تعارضِ روایات نہ بالیقین وقتِ ظہر میں داخل کر سکتے ہیں، نہ وقتِ عصر میں—یا یوں کہئے کہ ایک وجہ سے ظہر میں داخل ہے، تو دوسرے طور سے عصر میں، تو اب بوجہ احتیاط حضرت اماؔم صاحبؒ نے ظاہر الروایت میں وقت مذکور (مثل ثانی) وقت ظہر میں شامل کر دیا، تاکہ کوئی صلوٰۃ عصر وقتِ مذکور (مثل ثانی) میں ادا کرکے ادائے صلوٰۃ قبل الوقت کے احتمال میں نہ پڑجائے، اور وقتِ یقینی کو ترک کرکے وقتِ مُحْتَمَل میں صلوٰۃِ عصر کو ادا نہ کرے۔

رہی صلوٰۃِ ظہر، اُس کا وقتِ یقینی گو ایک مثل تک ہے، لیکن اگر کسی ضرورت یا غفلت کی وجہ سے کسی کو صلوٰۃِ مذکور (ظہر کی نماز) وقتِ یقینی میں ادا کرنے کا اتفاق نہ ہوا، تو اب یہی چاہیے کہ ما بین المِثْلَیْن (مثل ثانی) ہی میں اُس کو ادا کر لے، کیونکہ یہ وقت گو وقتِ محتمل ہے، تا ہم اور اوقات سے تو عمدہ ہے، یہاں احتمالِ ادا تو ہے، اور اوقات میں تو یہ بھی نہیں، بلکہ بالیقین قضاءِ محض ہے۔

بالجملہ مطلب ظاہر الروایت یہ ہے کہ وقت ما بین المِثْلَیْن کا بوجہ معروضہ (مذکورہ وجہ کی بناء پر) وقتِ ظہر میں شمار کرنا مناسب ہے، کیونکہ وقتِ عصر میں داخل کرنے سے اداءِ صلوٰۃ قبل الوقت کا احتمال باقی ہے—یہ مطلب نہیں کہ وقتِ مذکور (مثلِ ثانی) بالیقین وقتِ ظہر میں داخل ہے، اور جیسا بقاء ظہر مِثل تلک یقینی ہے بعینہ ایساہی مثلین تلک وقتِ ظہر باقی رہتا ہے، بلکہ وقتِ ظہر یقینی تو مثل تلک ہے، اور ابتداءِ عصر بالیقین مثلین سے ہوتا ہے، اور درمیان کا وقت بوجہ روایاتِ مختلفہ دونوں امر کا محتمل ہے۔

‘দুই মিসিলের (অর্থাৎ দ্বিতীয় মিসিলের) মধ্যবর্তী সময় স্ববিরোধী রেওয়ায়েতের কারণে না নিশ্চিতভাবে যোহরের ওয়াক্তের মধ্যে শামিল করা যায়, না আসরের মধ্যে। অথবা একথা বলা যেতে পারে যে, এক কারণে যোহরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত তো আরেক কারণে আসরের মধ্যে। তাই সতর্কতাবশত জাহেরি রেওয়ায়েতে হযরত ইমাম সাহেব উপর্যুক্ত (দ্বিতীয় মিসিলের) সময় যোহরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন, যাতে কেউ উপর্যুক্ত (দ্বিতীয় মিসিলের) সময় আসরের নামাজ আদায় করত সময়ের আগে নামাজ পড়ে ফেলার দ্বিধায় না পড়ে এবং নিশ্চিত ওয়াক্ত ছেড়ে সন্দেহপূর্ণ ওয়াক্তে নামাজ আদায় না করে।

থাকল যোহরের নামাজ। এর নিশ্চিত ওয়াক্ত এক মিসিল পর্যন্ত। কিন্তু যদি কোনো প্রয়োজন বা অলসতার কারণে কেউে উপর্যুক্ত নামাজ (যোহরের নামাজ) নিশ্চিত ওয়াক্তে আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে সে দুই মিসিলের (দ্বিতীয় মিসিলের) মধ্যবর্তী সময়েই তা আদায় করে নেবে। কেননা এ ওয়াক্ত সন্দেহপূর্ণ ওয়াক্ত হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য ওয়াক্ত থেকে তো উত্তম। এখানে আদায়ের সম্ভাবনা তো আছে, অন্য সময়ে তো সেটাও নেই। বরং নিশ্চিত কাযা হয়ে যাবে।

বস্তুত জাহেরি রেওয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, দুই মিসিলের মধ্যবর্তী সময় পারস্পরিক বিরোধের কারণে (উপর্যুক্ত কারণ বিবেচনায়) যোহরের ওয়াক্তের মধ্যে গণ্য করাই সমীচীন। কেননা আসরের ওয়াক্তের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করলে ওয়াক্তের আগেই নামাজ আদায়ের সম্ভাবনা থাকে। এই উদ্দেশ্য এই নয় যে, উপর্যুক্ত ওয়াক্তে (দ্বিতীয় মিসিল) নিশ্চিতভাবে যোহরের ওয়াক্তের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। যেমন উপর্যুক্ত মিসিল পর্যন্ত যোহরের নিশ্চিত ওয়াক্ত। ঠিক একইভাবে উপর্যুক্ত দ্বিতীয় মিসিল পর্যন্ত যোহরের সময় বহাল থাকে। বরং যোহরের নিশ্চিত ওয়াক্ত তো উপর্যুক্ত মিসিল পর্যন্ত। আর আসরের নিশ্চিত (ওয়াক্ত) শুরু হয় দ্বিতীয় মিসিল থেকে এবং মধ্যবর্তী সময় বিরোধপূর্ণ রেওয়ায়েতের কারণে উভয়ের জন্য সম্ভাবনাপূর্ণ।’[24]

হযরত (শায়খুল হিন্দ) u এই দৃষ্টিভঙ্গি দুই কারণে গ্রহণ করেছেন। প্রথমত এ কারণে যে, দ্বিতীয় মিসিল পর্যন্ত যোহরের ওয়াক্ত বাকি থাকার কোনো স্পষ্ট রেওয়ায়েত নেই। অতএব সম্ভব যে, দ্বিতীয় মিসিলই আসরের ওয়াক্ত। দ্বিতীয়ত ইমামতে জিবরাইলের হাদীসের তারিখ জানা আছে। এটি তখনকার রেওয়ায়েত যখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়েছিল। অর্থাৎ ইসলামের একদম প্রাথমিক যুগের রেওয়ায়েত এটি।

আর অন্যান্য সকল রেওয়ায়েতই পরবর্তী সময়ের। সুতরাং সম্ভব যে, এক মিসিল ও দুই মিসিলের ব্যাপারটিতে বিলুপ্তি হয়েছে হয়তো। অর্থাৎ আসরের ওয়াক্ত কমিয়ে দ্বিতীয় মিসিল থেকে করা হয়েছে এবং যোহরের ওয়াক্ত বাড়িয়ে দ্বিতীয় মিসিল পর্যন্ত করে দেওয়া হযেছে। সুতরাং দ্বিতীয় মিসিল নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে যে, তা আসরের ওয়াক্ত হিসেবে বহাল আছে কি নেই? এ কারণে সতর্কতার দাবি এই যে, আসরের নামাজ দ্বিতীয় মিসিলের পর পড়বে, যাতে নিশ্চয়তা সাথে নিজের দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। যদি দ্বিতীয় মিসিলে আসরের নামাজ পড়া হয় তাহলে শেষ তিন রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে খটকা থেকে যাবে যে, সম্ভবত সময়ের আগেই নামাজ পড়া হয়েছে হয়তো এবং দায়িত্ব অনাদায়ি থেকে গেছে।

রইল যোহরের বিষয়। যদি তা প্রথম মিসিলে পড়া হয় তবে তা নিশ্চিতভাবে আদায় হবে। আর যদি দ্বিতীয় মিসিলে পড়া হয় তখনও দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। কেননা ইমামতে জিবরাইলের হাদীসের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যদি যোহরের নামাজ আদায় না হয় তাহলে তা কায হয়ে যাবে। আর কাযা থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়।

বস্তুত জুমহুর যে অবস্থান নিয়েছেন প্রথমত তার ভিত্তি সতর্কতার ওপর নয়। দ্বিতীয়ত তাঁদের মাযহাব অনুযায়ী শেষ তিন রেওয়ায়েতকে পরিহার করা আবশ্যক হয়ে যায়। আর ইমাম আযম w এমন এক পথ অবলম্বন করেছেন যাতে সতর্কতাও বজায় থাকে এবং সকল রেওয়ায়েতের ওপর আমলও হয়ে যায়। فَجَزَاهُ اللهُ تَعَالَىٰ خَيْرًا وَّأثَابَهُ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ (আল্লাহ তাআলা তাঁকে উত্তম বিনিময় দান করুন এবং তাঁকে তাঁর যথোপযুক্ত সওয়াব দান করুন।) আমীন।

জুমহুরের কাছেও অকাট্য কোনো দলিল নেই

জুমহুরের দলিল অর্থাৎ ইমামতে জিবরাইলের হাদীস অকাট্য কোনো দলিল নয়। কেননা এটি রহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই সম্ভাবনা ভিত্তিহীন নয়, বরং শেষ তিন রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে এ সম্ভাবনা তৈরি হয়। অকাট্য হওয়ার জন্য জরুরি হচ্ছে এমন কোনো নস (বক্তব্য) পেশ করা যা দ্বারা একথা সাব্যস্ত হয় যে, হুযুর আকরম D-এর সবসময় দ্বিতীয় মিসিলে আসরের নামাজ পড়েছেন। অন্তত এতটুকু স্পষ্ট প্রমাণ পেশ করতে হবে যে, হুযুর আকরম D-এর শেষ আমল ছিল দ্বিতীয় মিসিলে আসর পড়তেন। এমন স্পষ্ট দলিল জুমহুরের কাছে নেই। এবার হযরত (শায়খুল হিন্দ) u-এর বক্তব্য পড়ুন:

[متن ادلۂ کاملہ]

دفعۂ سادس: ظہر کے وقت میں اور عصر کے وقت میں صؔاحِبَیْن کا تو وُہی مذہب ہے، جو اور اماموں کا ہے، اور اماؔم اعظمؒ سے بھی ایک روایت یہی ہے، اور اسی پر حَرَمَیْن شَرِیْفَیْن زَادَہُمَا اللہُ شرفًا وغیرہ میں عمل ہے—مگر ظاہر الروایت میں اماؔم صاحب سے یہ روایت ہے کہ ظہر مِثْلَین پر ختم ہوتا ہے، اور عصر مَثْلَین سے شروع ہوتا ہے، خَیْرہم کو بوجہ بے تَعَصُّبی کسی بات پر اَڑ[25])) نہیں، مگر جب آپ بے وجہ لڑنے کو تیَّار ہیں تو بے جواب دیئے رہا بھی نہیں جاتا۔

سنئے! مُوَطَّا امام مالؔکؒ میں بروایت امام مؔحمدؒ اور بروایت یحییٰ اؔبن یحییٰؒ حضرت ابؔو ہریرۃ  سے ایک روایت ہے جس میں لفظ: «‌صَلِّ الظُّهْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَكَ، وَالْعَصْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثلَيْكَ» موجود ہے—یہ روایت ہر چند موقوف ہے، لیکن بات ایسی ہے جس میں رائے صحابی کو مُدَاخَلَتْ ممکن نہیں، اس لئے خواہ مخواہ[26])) بالمعنیٰ[27])) مرفوع کہنا پڑےگا۔

اور چونکہ[28])) اس باب میں جہاں مِثل اور مِثلَیْن آتا ہے، وہاں علاوہ فَیْء الزوال مِثل اور مِثلَیْن لیا جاتا ہے، تو یہاں بھی یہی کرنا پڑے گا ورنہ سخت نا انصافی ہے—اس صورت[29])) میں آپ ہی فرمائیں کہ ظُہر کی نماز حسبِ ارشادِ حدیث، بعد مثل واقع ہوگی، یا قبلِ مِثل؟

مگر جب وقتِ ظہر بعد المثل باقی ہے، تو لا جَرَمْ[30])) شروع عصر بعد المَثْلَیْن ہوگا، کیا عَجَبْ ہے کہ اوقات میں آخرکار تَغَیُّر وتَبَدُّل واقع ہوا ہو، ظہر کا وقت مثل سے منسوخ ہو کر مَثْلَیْن تک پہنچ گیا ہو، اور یہ زیادتی عصر میں باعثِ نقصان[31])) ہوئی ہو، اس لئے مُقْتَضَائے احتیاط (و) تقویٰ تو یہ ہے کہ تا مقدور[32])) ظہر مثل سے پہلے پہلے پڑھ لی جاوے، اور اگر اتفاقًا بشریت سے قبلِ مثل اتفاق نہ ہوا ہو[33]))، تو پھر مِثْلَیْن ہی سے پہلے پڑھ لے، اور عصر ہمیشہ بعد مَثْلَیْن پڑھا کرے،—اور بظاہر مَنْشَأ ظاہر الروایت یہی ہے۔

اور غور کیجئے تو یہ بات دور اَزْ عقل نہیں، کیونکہ احادیث اوقات مُحْکَمْ نہیں، جس میں احتمالِ نسخ نہ ہو، پھر اس پر روایت مُشَارٌ اِلَیْہا[34])) موجود، جو نسخ کی جانب مُشِیْر ہے، تعارض ہوتا تو ہم اُنہیں احادیث کو ترجیح دیتے جن سے مثل کو حدِّ فاضل بین الوَقْتَیْن بنایا[35])) ہے۔

مگر جب[36])) تک اختلافِ وقت ممکن ہو تو دعوئے تعارض کیونکر ثابت ہو سکتا ہے؟ اس لئے یہ عرض ہے کہ جب ترجیحِ احادیث مُشَارٌ الیہ[37])) کی کوئی صورت نہیں، تو پھر اِن احادیث پر عمل کرنے سے کیا انکار ہے؟ کیا آپ کی رائے سے بھی یہ حدیثیں گئی گذریں (ہیں)؟ اتباعِ سنت واحتیاط دونوں حاصل، اُن کو یک لخت[38])) چھوڑ دیجئے، تو پھر عدمِ ادائے فرائض کا کھٹکا سر پر۔

ہاں اگر آپ کے پاس کوئی ایسی حدیث صحیح ہو، جو دربارۂ دوامِ اداءِ صلوٰۃِ عصر قبل المِثْلَیْن نَصِّ صریح ہو، یا فقط آخری وقت ہی میں اداءِ صلوٰۃِ عصر قبل المِثْلَیْن پر نَصِّ صریح ہو، اور پھر صحت میں مُتَّفَقٌ عَلَیْہ بھی ہو، تو لایئے اور دس نہیں بیس لے جائیے، پَرْ اتنا یاد رکھئے کہ نَصْ وغیر نَصْ کا سمجھنا ہر کسی کا کام نہیں، سوچ سمجھ کر کام کیجئے گا، ورنہ ایسا نہ ہو:

؏ میں الزام اُن کو دیتا تھا قصور اپنا نکل آیا

ষষ্ঠ দফা: যোহরের ওয়াক্ত ও আসরের ওয়াক্ত বিষয়ে সাহেবাইনের মাযহাব সেটিই যা অন্যান্য ইমামদের। ইমাম আযম w থেকেও একটি রেওয়ায়েত এমনই। আর এর ওপরই হারামাইন শরীফাইন (আল্লাহ এর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন) ইত্যাদির আমল। কিন্তু জাহেরি রেওয়ায়েতে ইমাম সাহেব থেকে এ রেওয়ায়েত এসেছে যে, যোহর দ্বিতীয় মিসিলে শেষ হয়ে যায় এবং আসর দ্বিতীয় মিসিল থেকে শুরু হয়ে যায়। ভালো, আমরা উগ্রতাবশত কোনো বিষয়ের ওপর জিদ নেই। কিন্তু আপনারা যখন অহেতুক লড়াইয়ের জন্য তৈরি, তখন জবাব না দিয়েও উপায় থাকে না।

শুনুন! মুয়াত্তা মালিকে ইমাম মুহাম্মদ w ও ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া w-এর রেওয়ায়েতে হযরত আবু হুরায়রা h থেকে একটি রেওয়ায়েত আছে, যেখানে এসব শব্দ বিদ্যমান:

«صَلِّ الظُّهْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثْلَكَ، وَالْعَصْرَ إِذَا كَانَ ظِلُّكَ مِثلَيْكَ».

‘তোমরা ছায়ার সমপরিমাণ ছায়া হলে যোহর আর দ্বিগুণ হলে আসর পড়।’[39]

এ রেওয়ায়েতটি যদিও মওকূফ, কিন্তু বিষয়টি এমন যেখানে কোনো সাহাবীর পক্ষে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়। এ কারণে যেভাবে হোক এটিকে অর্থগত দিক থেকে মারফু (হুযুর D-এর বক্তব্য) বলতে হবে।

আর যেহেতু এ অধ্যায়ের যেখানে مِثِلٌ (এক মিসিল) অথবা مِثْلَيْنِ (দুই মিসিল) শব্দ এসেছে, সেখানে فَيْءُ الزَّوَالِ (ছায়া ঢলে পড়া) ব্যতিরেকে এক মিসিল বা দুই মিসিল উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। সুতরাং এখানেও তাই করতে হবে, নতুবা কঠিন বেইনসাফি হবে। এ অবস্থায় আপনারাই বলুন, যোহরের নামাজ হাদীসের ভাষ্য মোতাবেক মিসিলের পরে সংঘটিত হবে, না আগে?

কিন্তু যখন যোহরের ওয়াক্ত এক মিসিলের পর বাকি থাকে, তা হলে নিশ্চিতভাবে আসরের শুরু হবে দুই মিসিলের পর। কি আশ্চর্য সময়সমূহে শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ঘটেছে; যোহরের ওয়াক্ত এক মিসিল থেকে বিলুপ্ত হয়ে দুই মিসিল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আর এ বিবর্ধন আসারে ক্ষতির কারণ হয়েছে। এজন্য সতর্কতা ও তাকওয়ার দাবি হচ্ছে তো এই যে, যথাসম্ভব যোহর এক মিসিলের আগে পড়ে নেবে। যদি মানবিক ঘটনাক্রমে এক মিসিলের আগে সম্ভব না হয়, তা হলে দুই মিসিলের আগেই পড়ে নেবে। আর আসর সবসময় দুই মিসিলের পরই পড়বে। স্পষ্টতই জাহেরি রেওয়ায়েতের উদ্দেশ্য এটিই।

চিন্তা করেন, তা হলে একথা বিবেচনাবোধ থেকে দূরে নয়। কেননা সময়ের সাথে সম্পর্কিত হাদীসসমূহ সুদৃঢ় নয় যে, যাতে রহিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আর এর ওপর ইঙ্গিতবহ (উপর্যুক্ত) রেওয়ায়েত বিদ্যমান, যা রহিত হওয়ার স্বপক্ষে ইঙ্গিত করে। যদি পারস্পরিক সাংঘর্ষিক হতো তবে আমরা সেসব হাদীসকেই প্রাধান্য দিতাম যা দ্বারা মিসিলকে উভয় ওয়াক্তের মধ্যে সীমারেখা বানানো যায়।

কিন্তু যতক্ষণ সময়ের বিভিন্নতা সম্ভব তবে পারস্পরিক সাংঘর্ষিকতার দাবি কিভাবে সাব্যস্ত হতে পারে? এ কারণে আবেদন হচ্ছে, যখন ইঙ্গিতবাহী (উপর্যুক্ত) হাদীসসমূহের প্রাধান্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কাজেই এসব হাদীসের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে আপত্তি কেন? আপনাদের বিবেচনায় কি এসব হাদীসও উপেক্ষিত হবে? (যা দ্বারা) সুন্নাহর অনুসরণ ও সতর্কতা দুটোই অর্জিত হয় তাকে একদমই উপেক্ষা করলে ফরজ অনাদায়ের দায় মাথায় আসবে।

হ্যাঁ, যদি আপনাদের কাছে এমন কোনো সহীহ হাদীস থাকে, যাতে দুই মিসিলের আগে আসরের নামাজ সর্বদা আদায়ের বিষয়ে সরীহ বক্তব্য রয়েছে অথবা শেষ সময়ে দুই মিসিলের আগে আসরের নামাজ আদায়ের বিষয়ে কোনো সরীহ বক্তব্য আছে। আর তা বিশুদ্ধতায় মুত্তাফাক আলায়হিও। তা হলে নিয়ে আসুন এবং ১০ নয়, ২০ নিয়ে যান। তবে এটুকু মনে রাখবেন, (কোনটি) নস আর (কোনটি) নস নয় তা বোঝা যে কারও কাজ নয়। বুঝেশুনে কাজ করবেন। নতুবা এমন যেন না হয় যে, চরণ: আমি তাকে দোষারোপ করছিলাম, অথচ অপরাধ নিজেরই প্রমাণিত হল।’[40]

[1] (সূর্যের) স্থির রেখা থেকে নৈকট্য ও দূরত্বের কারণে সূর্য ঢলে পড়ার ছায়া বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

[2] ফিকহে হানাফীর একটি পরিভাষা, এর দ্বারা ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী w-এর ছয়টি কিতাব (১. আল-মাবসূত, ২. আল-জামিউস সগীর, ৩. আল-জামিউল কবীর, ৪. আয-যিয়াদাত, ৫. আস-সিয়ারুস সগীর, ৬. আস-সিয়ারুল কবীর) উদ্দেশ্য।—স. চৌ.

[3] আল-কাসানী, বাদায়িউস সানায়ি ফী তারতীবিশ শারায়ি, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া (দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৪০৬ হি. = ১৯৮৬ খ্রি.), বয়রুত, লেবনান, খ. ১, পৃ. ১২২

[4] (ক) আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, দারুল মা’রিফা লিত-তাবাআ ওয়ান নাশর, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪১৪ হি. = ১৯৯৩ খ্রি.), খ. ১, পৃ. ১৪২; (খ) মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী, মুয়াত্তা আল-ইমাম মালিক, পৃ. ৩২, হাদীস: ১

وَأَمَّا أَبُوْ حَنِيْفَةَ، فَإِنَّهُ قَالَ: لَا يَدْخُلُ وَقْتُ الْعَصْرِ حَتَّىٰ يَصِيْرَ الظِّلُّ مِثلَيْهِ.

[5] আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী, ফয়যুল বারী আলা সহীহ আল-বুখারী, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪২৬ হি. = ২০০৫ খ্রি.), খ. ২, পৃ. ১২৮

[6] আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী, ফয়যুল বারী আলা সহীহ আল-বুখারী, খ. ২, পৃ. ১২৮

[7] আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী, ফয়যুল বারী আলা সহীহ আল-বুখারী, খ. ২, পৃ. ১২৮

[8] (ক) আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী, ফয়যুল বারী আলা সহীহ আল-বুখারী, খ. ২, পৃ. ১২৮; (খ) বদরুদ্দীন আল-আইনী, উমদাতুল কারী শরহু সহীহিল বুখারী, ক. ৫, পৃ. ৩৫

[9] এ রেওয়াযেতটি অনেক সাহাবায়ে কেরাম j থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ (আস-সুনান, খ. ১, পৃ. ১০৭, হাদীস: ৩৯৩) ও তিরমিযী (আস-সুনান, খ. ১, পৃ. ২৭৯, হাদীস: ১৪৯)-এ হযরত (আবদুল্লাহ) ইবনে আব্বাস (k) থেকে যে রেওয়ায়েতটি বর্ণিত আছে তাতে «لِوَقْتِ الْعَصْرِ بِالْأَمْسِ» শব্দসমূহ বিদ্যমান। এ বর্ণনাটি তিরমিযী (আস-সুনান, খ. ১, পৃ. ২৮১, হাদীস: ১৫০) ও নাসায়ী (আল-মুজতাবা মিনাস সুনান, খ. ১, পৃ. ২৬৩, হাদীস: ৫২৬)-এ হযরত জাবির (ইবনে আবদুল্লাহ) h থেকে বর্ণিত আছে। (ইসহাক) ইবনে রাহাওয়াই (w) তাঁর মুসনদে হযরত আবু মাসউদ h থেকে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে এ বর্ণনাটি সহীহ আল-বুখারী (খ. ৪, পৃ. ১১৩, হাদীস: ৩২২১) ও সহীহ মুসলিম (খ. ১, পৃ. ৪২৫, হাদীস: ৬১০)ও এসেছে, তবে সংক্ষিপ্তভাবে। অর্থাৎ নামাজের সময়সমূহের বিস্তারিত বিররণ এতে নেই। একইভাবে এ বর্ণনাটি আবু বকর বাযযার wও তাঁর মুসনদে (খ. ১৫, পৃ. ২৮৩, হাদীস: ৮৩৩৩) হযরত আবু হুরায়রা h থেকে এবং আবদুর রাযযাক (h) তাঁর মুসান্নাফে (খ. ১, পৃ. ৫৩৪-৫৩৫, হাদীস: ২০৩২) হযরত আমর ইবনে হাযম থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: আয-যায়লায়ী, নাসবুর রায়া লি আহাদীসিল হিদায়া, খ. ১, পৃ. ২২১-২২৬, তিনি বর্ণনা করেছেন যে,

رُوِيَ فِيْ حَدِيْثِ إمَامَةِ جَبْرَائِيْلَ n، أَنَّهُ أَمَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فِي الْيَوْمِ الْأَوَّلِ حِيْنَ طَلَعَ الْفَجْرُ، وَفِي الْيَوْمِ الثَّانِيْ حِيْنَ أَسْفَرَ جِدًّا، وَكَادَتْ الشَّمْسُ تَطْلُعُ، ثُمَّ قَالَ فِيْ آخَرِ الْـحَدِيْثِ: «مَا بَيْنَ هَذَيْنِ وَقْتٌ لَك وَلِأُمَّتِكَ».

[10] আস-সাভী, হাশিয়াতুস সাওয়ী আলাশ শারহিস সাগীর, দারুল মাআরিফ, বয়রুত, লেবনান, খ. ১, পৃ. ২২২

[11] আদ-দারদীর, আশ-শারহুস সাগীর, খ. ১, পৃ. ২২২

[12] (ক) আদ-দারদীর, আশ-শারহুস সাগীর, খ. ১, পৃ. ২২২; (খ) ইবনুল আরাবী, আল-মাসালিকু ফী শরহি মুয়াত্তা মালিক, দারুল গারব আল-ইসলামী, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪২৮ হি. = ২০০৭ খ্রি.), খ. ১, পৃ. ৩৬৭

[13] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আন-নিসা, ৪:১০৩

[14] মুসলিম, আস-সহীহ, খ. ১, পৃ. ৪২৮, হাদীস: ৬১৩, তিনি বর্ণনা করেন,

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيْهِ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ ﷺ، فَسَأَلَهُ عَنْ مَوَاقِيْتِ الصَّلَاةِ؟ فَقَالَ: «اشْهَدْ مَعَنَا الصَّلَاةَ»، فَأَمَرَ بِلَالًا فَأَذَّنَ بِغَلَسٍ، فَصَلَّى الصُّبْحَ حِيْنَ طَلَعَ الْفَجْرُ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالظُّهْرِ حِيْنَ زَالَتِ الشَّمْسُ عَنْ بَطْنِ السَّمَاءِ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالْعَصْرِ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالْـمَغْرِبِ حِيْنَ وَجَبَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالْعِشَاءِ حِيْنَ وَقَعَ الشَّفَقُ، ثُمَّ أَمَرَهُ الْغَدَ، فَنَوَّرَ بِالصُّبْحِ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالظُّهْرِ فَأَبْرَدَ، ثُمَّ أَمَرَهُ بِالْعَصْرِ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ لَـمْ تُخَالِطْهَا صُفْرَةٌ.

[15] মুসলিম, আস-সহীহ, খ. ১, পৃ. ৪২৭, হাদীস: ৬১২, তিনি বর্ণনা করেন,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو، أَنَّهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَ: «وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ، وَكَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ كَطُوْلِهِ مَا لَـمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ، وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَـمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ».

[16] ফারসাখ (আরবি: فَرْسَخَ): ক্রোশ, পৌনে চার মাইলের মতো দূরত্ব, তিন কিলোমিটার প্রায়।—স. চৌ.

[17] মালিক ইবনে আনাস, আল-মুয়াত্তা, খ. ২, পৃ. ৯-১০, হাদীস: ৯, তিনি বর্ণনা করেন,

عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَىٰ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ ‌‌عُمَرَ بْنَ الْـخَطَّابِ كَتَبَ إِلَىٰ عُمَّالِهِ: إِنَّ أَهَمَّ أَمْرِكُمْ عِنْدِي الصَّلَاةُ، مَنْ حَفِظَهَا وَحَافَظَ عَلَيْهَا، حَفِظَ دِيْنَهُ، وَمَنْ ضَيَّعَهَا، فَهُوَ لِـمَا سِوَاهَا أَضْيَعُ، ثُمَّ كَتَبَ: أَنْ صَلُّوا الظُّهْرَ إِذَا كَانَ الْفَيْءُ ذِرَاعاً إِلَىٰ أَنْ يَكُوْنَ ظِلُّ أَحَدِكُمْ مِثْلَهُ، وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ، قَدْرَ مَا يَسِيْرُ الرَّاكِبُ فَرْسَخَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةً قَبْلَ غُرُوْبِ الشَّمْسِ.

[18] (ক) মালিক ইবনে আনাস, আল-মুয়াত্তা, খ. ২, পৃ. ১১, হাদীস: ১২; (খ) মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী, মুয়াত্তা আল-ইমাম মালিক, পৃ. ৩১, হাদীস: ১

এ কিতাবদুটো মূলত একই। ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া (আল-লায়সী) আল-মাসমূদীর বর্ণনা মুয়াত্তা মালিক নামে প্রসিদ্ধ এবং ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানীর বর্ণনা মুয়াত্তা মুহাম্মদ নামে প্রসিদ্ধ।

[19] (ক) আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ১, পৃ. ১১৩, হাদীস: ৫৩৫ ও ৫৩৯; (খ) মুসলিম, আস-সহীহ, খ. ১, পৃ. ৪৩১, হাদীস: ৬১৬, ইমাম বুখারী w বর্ণনা করেছেন,

عَنْ أَبِيْ ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِيْ سَفَرٍ، فَأَرَادَ الْـمُؤَذِّنُ أَنْ يُؤَذِّنَ لِلظُّهْرِ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «أَبْرِدْ»، ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُؤَذِّنَ، فَقَالَ لَهُ: «أَبْرِدْ»، حَتَّىٰ رَأَيْنَا فَيْءَ التُّلُوْلِ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «إِنَّ شِدَّةَ الْـحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ، فَإِذَا اشْتَدَّ الْـحَرِّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلَاةِ».

[20] আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ১, পৃ. ১২৮, হাদীস: ৬২৯

[21] (ক) আত-তাবরীযী, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ. 3, পৃ. 1769, হাদীস: 6283; (খ) আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ১, পৃ. ১১৩, হাদীস: ৫৩৫, তিনি বর্ণনা করেন,

عَنِ ابْنِ عُمَرَ k، عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ، قَالَ: «إِنَّمَا أَجَلُكُمْ فِيْ أَجَلِ مَنْ خَلَا مِنَ الْأُمَمِ مَا بَيْنَ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَىٰ مَغْرِبِ الشَّمْسِ وَإِنَّمَا مَثَلُكُمْ وَمَثَلُ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَىٰ كَرَجُلٍ اسْتَعْمَلَ عُمَّالًا، فَقَالَ: مَنْ يَعْمَلُ لِيْ إِلَىٰ نِصْفِ النَّهَارِ عَلَىٰ قِيْرَاطٍ قِيْرَاطٍ، فَعَمِلَتِ الْيَهُوْدُ إِلَىٰ نِصْفِ النَّهَارِ عَلَىٰ قِيْرَاطٍ قِيْرَاطٍ، ثُمَّ قَالَ: مَنْ يَعْمَلُ لِيْ مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ إِلَىٰ صَلَاةِ الْعَصْرِ عَلَىٰ قِيْرَاطٍ قِيْرَاطٍ، فَعَمِلَتِ النَّصَارَىٰ مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ إِلَىٰ صَلَاةِ الْعَصْرِ عَلَىٰ قِيْرَاطٍ قِيْرَاطٍ، ثُمَّ قَالَ: مَنْ يَعْمَلُ لِيْ مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَىٰ مَغْرِبِ الشَّمْسِ عَلَىٰ قِيْرَاطَيْنِ قِيْرَاطَيْنِ، أَلَا فَأَنْتُمُ الَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَىٰ مَغْرِبِ الشَّمْسِ عَلَىٰ قِيْرَاطَيْنِ قِيْرَاطَيْنِ، أَلَا لَكُمُ الْأَجْرُ مَرَّتَيْنِ، فَغَضِبَتِ الْيَهُوْدُ وَالنَّصَارَىٰ، فَقَالُوْا: نَحْنُ أَكْثَرُ عَمَلًا وَأَقَلُّ عَطَاءً، قَالَ اللهُ: هَلْ ظَلَمْتُكُمْ مِنْ حَقِّكُمْ شَيْئًا؟ قَالُوْا: لَا، قَالَ: فَإِنَّهُ فَضْلِيْ أُعْطِيْهِ مَنْ شِئْتُ».

[22] আল-হাসকফী, আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৩৫, তিনি বলেছেন,

وَفِي «الْفَيْضِ»: وَعَلَيْهِ عَمَلُ النَّاسِ الْيَوْمَ وَبِهِ يُفْتَىٰ.

[23] (ক) আল-হাসকফী, আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৩৫; (খ) ইবনে আবিদীন, রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার, খ. ১, পৃ. ৩৫৯; (গ) ইবনে নুজাইম, আল-বাহরুর রায়িক শরহু কানযিদ দাকায়িক, দারুল কিতাব আল-ইসলামী, বয়রুত, লেবনান, খ. ১, পৃ. ২৫৯, আল্লামা ইবনে আবেদীন আশ-শামী w বলেছেন,

(قَوْلُهُ: وَهُوَ نَصٌّ فِي الْبَابِ): فِيْهِ أَنَّ الْأَدِلَّةَ تَكَافَأَتْ وَلَـمْ يَظْهَرْ ضَعْفُ دَلِيْلِ الْإِمَامِ، بَلْ أَدِلَّتُهُ قَوِيَّةٌ أَيْضًا كَمَا يُعْلَمُ مِنْ مُرَاجَعَةِ الْـمُطَوَّلَاتِ وَشَرْحِ الْـمُنْيَةِ. وَقَدْ قَالَ فِي «الْبَحْرِ»: «لَا يُعْدَلُ عَنْ قَوْلِ الْإِمَامِ إلَىٰ قَوْلِـهِمَا أَوْ قَوْلِ أَحَدِهِمَا إلَّا لِضَرُورَةٍ مِنْ ضَعْفِ دَلِيْلٍ أَوْ تَعَامُلٍ، بِخِلَافِهِ كَالْـمُزَارَعَةِ، وَإِنْ صَرَّحَ الْـمَشَايِخُ بِأَنَّ الْفَتْوَىٰ عَلَىٰ قَوْلِـهِمَا كَمَا هُنَا».

[24] মাহমুদ হাসান দেওবন্দী, ঈযাহুল আদিল্লা, মাতবায়ে কাসেমি দেওবন্দ, ইউপি, ব্রিটিশ ভারত (প্রথম সংস্করণ: ১৩৩০ হি. = ১৯১২ খ্রি.), পৃ. ১৫৫-১৫৬

[25] اَڑ: জিদ, একগুঁয়েমি।

[26] خواہ مخواہ: করতেই হবে, চান বা না চান।

[27] بالمعنیٰ: অর্থাৎ কার্যকরীভাবে।

[28] এটি একটা অপব্যাখ্যার জবাব। হযরত আবু হুরায়রা h তাঁর বক্তব্যে فَيْءُ الزَّوَالِ (ছায়া ঢলে পড়া)-এর কথা অনুল্লেখ করেননি। এ কারণে তাঁর বক্তব্যের এই উদ্দেশ্য হবে যে, যখন প্রত্যেকটি জিনিসের ছায়া ঢলে পড়ার সাথে এক মিসিল হয়ে যাবে তখন যোহরের নামাজ পড়। অতএব যোহর এক মিসিল থেকে পড়া সাব্যস্ত হয় এবং হানাফীদের দলিল বাতিল হয়। হযরত (শায়খুল হিন্দ) u এ অপব্যাখ্যার জবাব এই দিয়েছেন যে, যেহেতু এ অধ্যায়ের সকল রেওয়ায়েতে যেখানে مِثِلٌمِثْلَيْنِ শব্দসমূহ এসেছে সেখানে فَيْءُ الزَّوَالِ (ছায়া ঢলে পড়া) ব্যতিরেকে এক মিসিল বা দুই মিসিল উদ্দেশ্য। সেই কারণে হযরত আবু হুরায়রা h-এর বক্তব্য থেকেও এটিই উদ্দেশ্য নিতে হবে। এর বিপরীত উদ্দেশ্য নেওয়া কঠিন অন্যায় হবে।

[29] হযরত আবু হুরায়রা h-এর বক্তব্য অনুযায়ী যখন এক মিসিল হয়ে যাওয়ার পর যোহরের নামা পড়া হবে তখন…।

[30] لا جَرَمْ: নিশ্চিতভাবে।

[31] অর্থাৎ যোহরের ওয়াক্ত দুই মিসিল পর্যন্ত বাড়ানোর কারণে আসরের ওয়াক্ত কমে গেছে।

[32] تا مقدور: যথাসম্ভব।

[33] اتفاق نہ ہوا ہو অর্থাৎ পড়া সম্ভব না হয়।

[34] روایت مشارٌ الیہا অর্থাৎ হযরত আবু হুরায়রা h-এর উপর্যুক্ত রেওয়ায়েত।

[35] অর্থাৎ ইমামতে জিবরাইলবিষয়ক হাদীসকে নেওয়া হতো।

[36] অর্থাৎ যখন রেওয়াযেতসমূহ বিভিন্ন সময়ের ওপর প্রযোজ্য হতে পারে। কেননা আমাদের তারিখ জানা আছে যে, ইমামতে জিবরাইলের হাদীস প্রাথমিক যুগের এবং অন্যান্য রেওয়ায়েতসমূহ পরবর্তী কালের। কাজেই পারস্পরিক সাংর্ঘষিকতার প্রশ্নই ওঠে না। কেননা সাংর্ঘষিকতার জন্য সমসাময়িকতারও শর্ত রয়েছে।

[37] অর্থাৎ যখন ইমামতে জিবরাইলের হাদীসকে প্রাধান্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কেননা সেটি পূর্ববর্তী সময়ের। কাজেই সেই সব হাদীস অর্থাৎ ৪, ৫ ও ৬ নম্বর হাদীসের ওপর আমল করতে অস্বীকৃতি কেন?

[38] یک لخت: একদম অর্থাৎ কোনোভাবেই সেটি বিবেচনা না (সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা)।

[39] (ক) মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী, মুয়াত্তা আল-ইমাম মালিক, পৃ. ৩১, হাদীস: ১; (খ) মালিক ইবনে আনাস, আল-মুয়াত্তা, খ. ২, পৃ. ১১, হাদীস: ১২

[40] মুমিন খান মুমিন, কুল্লিয়াতে মুমিন, মজলিসে তরক্কীয়ে আদব, লাহোর, পাকিস্তান (প্রথম সংস্করণ: ১৩৮৪ হি. = ১৯৬৪ খ্রি.), খ. ১, পৃ. ২৭

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ