জামেয়া ওয়েবসাইট

রবিবার-৪ঠা রমজান, ১৪৪৪ হিজরি-২৬শে মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ-১২ই চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বুখারী শরীফের শেষ হাদীসের দরস

(হযরতুল উস্তাদ আল্লামা আবদুল হালীম বুখারী (রহ.) মৃত্যুর কয়েক মাস পূর্বে ৭ শাবান ১৪৪৩ মোতাবেক ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে ঢাকা মিরপুর কাফরুলস্থ দারুল উলুম মাদরাসায় সহীহ আল-বুখারীর আখেরি হাদীসের প্রাণবন্ত দরস প্রদান করেন। চলতি শিক্ষাবর্ষের শেষ সময়ে এসে সে দরসের গুরুত্ব অনুভব হয়। গুরুত্ব ও সার্বিক বিবেচনায় দরসটি প্রতিটি আলেম ও তালিবুল এর জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই মাসিক আত-তাওহীদের পাঠকের জন্য মুসাজ্জিলা থেকে অনুলিখন করেন মাওলানা সুহাইল বিন রাশিদ এবং তার পূর্ণাঙ্গ সম্পাদনা ও প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজনসহ পেশ করা হল।—মাওলানা যুবাইর হানীফ)

বুখারী শরীফের শেষ হাদীসের দরস

 আল্লামা মুফতী আবদুল হালীম বুখারী (রহ.)

      লেখক: সাবেক প্রধান পরিচালক, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম

وبالسند المتصل من الشيخ العلامة، حكيم الإسلام، عبد الحليم البخاري r إلى الإمام الـهمام الحافظ، الحجة، أمير المؤمنين في الحديث، أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري r، قال: حَدَّثَنِيْ أَحْمَدُ بْنُ إِشْكَابَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِيْ زُرْعَةَ، عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ h، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «كَلِمَتَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمٰنِ، خَفِيْفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ، ثَقِيلَتَانِ فِي الْـمِيْزَانِ: سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ». {صحيح البخاري: 9/١٦٢، رقم: ٧٥٦٣}

نحمده ونصلي علىٰ رسوله الكريم، أما بعد! فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم، بسم الله الرحمٰن الرحيم، [وَمَاۤ اٰتٰىكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ١ۗ وَمَا نَهٰىكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا١ۚ وَاتَّقُوا اللّٰهَ١ؕ اِنَّ اللّٰهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِۘ۰۰۷] {سورة الحشر: ٧}

উপস্থিত এই মাদরাসার সম্মানিত পরিচালক, মুহতামিম সাহেব দামাত বারাকাতুহুম, হযরাতে আসাতিযায়ে কেরাম, অন্যান্য ওলামা ও মাশায়েখে এজাম, উপস্থিত সম্মানিত সুধীমণ্ডলী, সম্মানিত বেরাদারানে ইসলাম, আযীয তালাবা! আল্লাহ পাকের মেহেরবানি, আল্লাহ পাক আমাদেরকে দস্তারবন্দির মাহফিল, সহীহ আল-বুখারী শরীফের শেষ হাদীস পাঠ করার, তাকে কেন্দ্র করে মাহফিলে বসার জন্য তওফিক দান করেছেন আল-হামদু লিল্লাহ। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ পাক সুযোগ করে দিয়েছেন। আখেরি হাদীস পর্যন্ত পৌঁছার জন্য আল্লাহ পাক সুযোগ করে দিয়েছেন। আপনারা যারা ছাত্র আছেন, আপনাদের উস্তাদদের থেকে বুখারী শরীফ সম্পর্কে বিস্তারিত অবশ্যই জেনেছেন। কিছু অতিথি আজকের মাহফিলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের খাতিরে কিছু কথা আরজ করছি,

বুখারী শরীফের পুরো নাম

বুখারী শরীফ এটি কোনো মূল কিতাবের নাম নয়। লেখকের নামও নয়। কিতাবের নাম হল: الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله ﷺ وسننه وأيامه। নামটা একটু লম্বা, সেজন্য সংক্ষেপে সহীহুল বুখারী বলা হয়। আরও সংক্ষেপে মানুষ বুখারী শরীফ বলে থাকে। মূলত এটি তার আসল নাম নয়।

সহীহুল বুখারী কেন বলা হয়?

এই কিতাবের লেখক আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদীস হযরত আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল (রহ.) (মৃত্যু: ২৫৬ হি.)। তিনি রাশিয়ার ‘বুখারা’ নামক প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন। এই কিতাব রচনা করেছেন। যেহেতু তিনি বুখারার বাসিন্দা ছিলেন, তাই তাঁকে ‘বুখারী’ বলা হয়। তাঁর কিতাবটি সহীহ হাদীসের কিতাব হওয়ায় সহীহুল বুখারী বলা হয়।

এ কিতাবের মূল্যায়ন

সারাবিশ্বের ওলামায়ে কেরাম একমত যে,

أصح الكتب بعد كتاب الله تعالىٰ صحيح البخاري.

‘পবিত্র কুরআনের পরে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম কিতাব হল, বুখারী শরীফ।’[1]

ইমাম বুখারী (রহ.) তাঁর কিতাবে কোনো কোনো হাদীস একাধিকবার এনেছেন। বারংবার উল্লেখ করে নতুন নতুন মাসআলা বের করেছেন। যাকে তাকরার বলা হয়, তথা পুনরুল্লেখ। পুরো কিতাবে তাকরার বাদ দিলে ৪ হাজার হাদীস হবে। তাকরার যদি হিসাব করা হয়, ছোটো-খাটো কিছু হাদীস শিরোনামে এসেছে, সেগুলোসহ হিসাব করলে সর্বমোট ৯ হাজার ৮২টি হাদীস আছে।

যেভাবে সহীহ আল-বুখারী রচনা করেছেন

এই কিতাবটি রচনা করতে ১৬ বছর সময় লেগেছে। ইমাম বুখারী (রহ.) ১৬ বছরে এই কিতাব রচনা করেছেন। ইমাম যাহাবী (রহ.) লিখেন,

وَقَالَ:… سَمِعْتُ الْبُخَارِيَّ يَقُوْلُ: صنّفْتُ «الصَّحِيْحَ» فِيْ سِتَّ عَشْرَةَ سَنَةً، وَجَعَلتُهُ حُجَّةً فِيْمَا بَيْنِي وَبَيْنَ الله تَعَالَىٰ.

‘তিনি বলেন, আমি প্রত্যেকটি হাদীস লেখার পূর্বে গোসল করেছি, গোসল করার পর দুই রকআত নফল নামাজ পড়ে ইস্তেখারা করে লিখেছি।’[2]

হাফিয যাহাবী (রহ.) লিখেন,

سَمِعْتُ الْفِرَبْرِيَّ، يَقُوْلُ: قَالَ لِيْ مُحَمَّدُ بنُ إِسْمَاعِيْلَ: مَا وَضَعْتُ فِيْ كِتَابِيْ «الصَّحِيْحِ» حَدِيْثًا إِلَاّ اغْتَسَلْتُ قَبْلَ ذَلِكَ، وَصَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ. [3]

আমরা একটু আগে বলে এসেছি, তাকরারসহ হাদীস ৯ হাজার। তাহলে তিনি ৯ হাজারবার গোসল করেছেন, ১৮ হাজার রকআত নফল নামাজ পড়েছেন। এরপর ইস্তেখারা করে হাদীসটি লিপিবদ্ধ করেছেন। যার কারণে এ কিতাব আল্লাহ পাকের দরবারে এমন গ্রহণযোগ্য হয়েছে; সারাবিশ্বের ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, পবিত্র কুরআনের পরে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম কিতাব হল বুখারী শরীফ[4]

এই কিতাব খতম করে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়

যখন কোনো মানুষ বিপদগ্রস্ত হয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন হয়, তখন আলেমদের মাধ্যমে বুখারী শরীফ খতম করায়। পবিত্র কুরআন যেমন ৩০ পারা, বুখারী শরীফও ৩০ পারা। পবিত্র কুরআন ৩০ পারা খতম করার সাথে সাথে বুখারী শরীফের ৩০ পারাও আলেমদের দিয়ে খতম করানো হয়। অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায়, এভাবে খতম করানোর দ্বারা উদ্দেশ্য পূরণ হয়। আল্লাহ তাআলা দোয়া কবুল করেন।

সৌদি আরবের এক শায়খ আমাদের পটিয়া মাদরাসার সাথে সম্পর্ক রাখত, তার ছেলের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। সে আমাদের কাছে টেলিফোন করে তার সন্তানের সুস্থতার জন্য বুখারী শরীফ খতম করতে বললে, আমরা ৩০জন মিলে ৩০ পারা খতম করি। খতম করার পর তার জন্য দোয়া করি, সাথে কিছু পানিতে ফুঁ দিয়ে তা তার ওখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। কয়েকদিন পর সে শায়খ টেলিফোন করে জানাল, ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেছেন, এখন তার শরীরে ক্যান্সারের কোনো আলামত নেই। সুবহানাল্লাহ! এটা মূলত সেই বুখারী শরীফ খতমের পর দোয়ার বরকত।

বুখারী শরীফের এত বরকত!

আমাদের চট্টগ্রামে যে কেউ বড় ধরনের কোনো সমস্যায় পড়লে বুখারী শরীফ খতম করায়। রোগাক্রান্ত হলে, এমনকি ভোটে দাঁড়ালেও বুখারী শরীফ খতম করায়। এর বরকতে সবক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা সফলতা দান করেন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এরকম বরকতময় একটি কিতাব পড়ানোর ও পড়ার জন্য তওফিক দান করেছেন, আল-হামদু লিল্লাহ।

শেষ হাদীসের সনদ ও হাদীসের ইজাযত

ইবারত পড়ার সময় যে হাদীসটি পড়া হয়েছে, তা বুখারী শরীফের শেষ হাদীস। এই শেষ হাদীসটি আমরা পড়েছি, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ায় ১৯৬৪ সালে। আমাদের উস্তাদ ছিলেন হযরত আল্লামা আহমদ (রহ.) (মৃত্যু: ১৪২৬ হি.), আরেকজন উস্তাদ ছিলেন হযরত আল্লামা ফজলুর রহমান (রহ.), দুজনই আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) (মৃত্যু: ১৩৫২ হি.)-এর শাগরিদ ছিলেন। আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) এই হাদীসটি পড়েছেন তাঁর উস্তাদ শায়খুল হিন্দ আল্লামা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী (রহ.) (মৃত্যু: ১৩৩৯ হি.)-এর কাছে। তাঁর উস্তাদ ছিলেন হুজ্জাতুল ইসলাম আল্লামা কাসেম নানুতুবী (রহ.) (মৃত্যু: ১২৯৭ হি.), তাঁর উস্তাদ ছিলেন শাহ আবদুল গনী মুজাদ্দেদী (রহ.) (মৃত্যু: ১২৯৬ হি.), তাঁর উস্তাদ শাহ ইসহাক দেহলভী (রহ.) (মৃত্যু: ১২৬২ হি.), তাঁর উস্তাদ শাহ আবদুল আযীয দেহলভী (রহ.) (মৃত্যু: ১২৩৯ হি.), তাঁর উস্তাদ শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) (মৃত্যু: ১১৭৬ হি.), তাঁর উস্তাদ শায়খ আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম মাদানী (রহ.) (মৃত্যু: ১১৪৫ হি.), তাঁর উস্তাদ শায়খ ইবরাহীম কুরদী (রহ.) (মৃত্যু: ১১০১ হি.), তাঁর উস্তাদ শায়খ আহমদ কুশাশী (রহ.) (মৃত্যু: ১০৭১ হি.), তাঁর উস্তাদ শায়খ আহমদ শিন্নাবী (রহ.) (মৃত্যু: ১০২৮ হি.), তাঁর উস্তাদ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ রমালী (রহ.) (মৃত্যু: ১০০৪ হি.), তাঁর উস্তাদ যাইনুদ্দীন যাকারিয়া আনসারী (রহ.) (মৃত্যু: ৯২৬ হি.), তাঁর উস্তাদ শিহাবুদ্দীন ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) (মৃত্যু: ৮৫২হি.), তাঁর উস্তাদ ইবরাহীম তান্নুখী (রহ.) (মৃত্যু: ৮০০ হি.), তাঁর উস্তাদ আহমদ ইবনে আবু তালেব হাজ্জার (রহ.) (মৃত্যু: ৭৩০ হি.), তাঁর উস্তাদ সিরাজুদ্দীন হোসাইন ইবনুয যাবিদী (রহ.) (মৃত্যু: ৬৩১ হি.), তাঁর উস্তাদ আবদুল আউয়াল সিজযী হারাবী (রহ.) (মৃত্যু: ৫৫৩ হি.), তাঁর উস্তাদ আবদুর রহমান দাউদী (রহ.) (মৃত্যু: ৪৬৭ হি.), তাঁর উস্তাদ আবদুল্লাহ সারাখসী (রহ.) (মৃত্যু: ৩৮১ হি.), তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাত্বর ফেরাবরী (রহ.) (মৃত্যু: ৩২৩ হি.), তাঁর উস্তাদ আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদীস মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী (রহ.) (মৃত্যু: ২৫৬ হি.), তাঁর উস্তাদ আহমদ ইবনে ইশকাব (মৃত্যু: ২১৭/১৮ হি.), তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল (রহ.) (মৃত্যু: ১৯৫ হি.), তাঁর উস্তাদ ওমারাহ ইবনে কা’আকা’ (রহ.) (মৃত্যু: মাজহুলুল ওফাত), তাঁর উস্তাদ আবু যুরআ ইবনে আমর (রহ.) (মৃত্যু: ৯১ হি.), তাঁর উস্তাদ আবু হুরাইরা (রাযি.) (মৃত্যু: ৫৯ হি.), তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ রসুলুল্লাহ (সা.) (মৃত্যু: ১১ হি.)।

এর নাম হল, হাদীসের সনদ। এটি ইসলামের বৈশিষ্ট্য। এভাবে রসুলের প্রতিটি হাদীস সনদের মাধ্যমে সংরক্ষিত আছে। কোনো জাল হাদীস প্রবেশের সুযোগ নেই। মুহাদ্দিসীনে কেরাম কঠোর হস্তে তা দমন করেছেন।

সনদের গুরুত্ব

কোনো ইহুদি যদি বলে, قال موسىٰ: كذا وكذا অর্থাৎ হযরত মুসা (আ.) এই এই বলেছেন। তাকে যদি বলা হয়, আপনি কার কাছ থেকে শুনেছেন, তিনি কার কাছ থেকে শুনেছেন, এভাবে হযরত মুসা পর্যন্ত সনদ বলেন? বলতে পারবে না। কোনো খ্রিস্টান যদি বলে, হযরত ঈসা (আ.) এই বলেছেন, তাকে যদি বলা হয়, হযরত ঈসা (আ.) পর্যন্ত সনদটা বল? সে বলতে পারবে না। সনদ সংরক্ষণ, এটি একমাত্র ইসলামের বৈশিষ্ট্য। এই সনদের জন্য হাজার হাজার কিতাব রচনা করা হয়েছে। এগুলোকে হাদীস শাস্ত্রে আসমাউর রিজালের কিতাব বলা হয়। আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.) কতইনা চমৎকার বলেছেন,

وَلَوْلَا الْإِسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ.

‘এই সনদের ব্যবস্থা যদি না হতো, যার যা ইচ্ছা তা বলে বেড়াতো।’[5]

কেউ একটা আরবি ইবারত লিখে বলত যে, এটা হাদীস, মনগড়া সব চলতে থাকত। কিন্তু সনদের কারণে তা করা সম্ভব নয়। কোনো আরবি ইবারত দিয়ে যদি কেউ বলে, এটা হাদীস। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, সনদ বল। সনদ বলতে না পারলে উপেক্ষা করা হবে। তা গ্রহণ করা হবে না। বুখারী শরীফের প্রত্যেক হাদীসের শুরুতে উপরে উল্লিখিত এরকম লম্বা সনদ রয়েছে। সনদ যেহেতু লম্বা, আর এত লম্বা সনদ প্রত্যেক হাদীসের শুরুতে পড়া সম্ভব নয়। সেজন্য ওলামায়ে কেরাম একটা কোড নম্বর তৈরি করেছেন। কোড নম্বর হলো ‌وَبِهِ। হাদীসের শুরুতে এত লম্বা সনদ না পড়ে সংক্ষেপে ‌وَبِهِ ‌قَالَ: حَدَّثَنَا পড়া হয়। এর অর্থ হলো, وبالسند المتصل منا إلى الإمام البخاري رحمه الله تعالىٰ আর ‌وَبِهِ হলো এর সংক্ষেপকরণ।

রসুল (সা.)-এর আনুগত্য

রসুলে আকরম (সা.) যে কথাগুলো হাদীসে বলেছেন, আল্লাহ তাআলা তার ব্যাপারে ইরশাদ করেন,

وَمَاۤ اٰتٰىكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ١ۗ وَمَا نَهٰىكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا١ۚ وَاتَّقُوا اللّٰهَ١ؕ اِنَّ اللّٰهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِۘ۰۰۷

‘রসুল (সা.) যা এনেছেন, যা দিয়েছেন, তা গ্রহণ করো। আর যেসব বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন, তা বর্জন করো।’[6]

সহীহ আল-বুখারী শরীফে যত হাদীস আছে সব হাদীসই وَمَاۤ اٰتٰىكُمُ الرَّسُوْلُۗ ۰۰۷-এর অর্ন্তভুক্ত।

সর্বাবস্থায় যিকর করা

বুখারী শরীফের শুরু হলো, ‌بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ দিয়ে। সর্বশেষ হাদীস: سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ। এখানে শেষে الْعَظِيْمِ আছে।بِسْمِ اللهِ -এর শেষে আছে الرَّحِيْمِ। بِسْمِ اللهِও যিকর, سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ এটিও যিকর। যিকর দিয়ে শুরু করেছেন। যিকর দিয়ে শেষ করেছেন। ইমাম বুখারী (রহ.) যেহেতু পাঠকের হিদায়েতের উদ্দেশ্যে কিতাব রচনা করেছেন তাই তিনি কিতাবের শুরুতে ও শেষে ‘যিকর’ এনে এদিকে ইশারা করছেন যে, তোমাদের যেকোনো কাজ যিকর দিয়ে শুরু করবে এবং যিকর দিয়ে শেষ করবে। খাবার শুরু করছি তো بِسْمِ اللهِ দিয়ে শুরু করবো।

খাবার শেষ করছি তো,

الْـحَمْدُ لله الَّذِيْ أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِيْنَ. [7]

যিকর দিয়ে শেষ করবো। বাথরুমে যাচ্ছি তো,

اللّٰهُمَّ! إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْـخُبْثِ وَالْـخَبَائِثِ. [8]

দোয়া পড়ে যাব। বাথরুম থেকে বের হয়ে পড়বো,

الْـحَمْدُ لله الَّذِيْ أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَىٰ وَعَافَانِيْ. [9]

রসুল (সা.) সর্বাবস্থায় যিকর করতেন। হাদীসে এসেছে, হযরত আয়িশা (রাযি.) বলেন,

كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَذْكُرُ اللهَ عَلَىٰ كُلِّ أَحْيَانِهِ.

‘নবী করীম (সা.) যেকোনো কাজ যিকর দিয়ে শুরু করতেন, যিকর দিয়ে শেষ করতেন।’[10]

ইমাম বুখারী (রহ.) ‌بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ লেখার পর, بَابُ بَدْءِ الْوَحْيِ (অহীর অধ্যায়) এনেছেন। অহী অর্থ, আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে নবীর যেকোনো বার্তা। অহীর অধ্যায় দিয়ে কিতাব শুরু করেছেন, তাওহীদের অধ্যায় দিয়ে শেষ করেছেন। যেহেতু অহীর একটা উদ্দেশ্য আছে। আর অহীর উদ্দেশ্য হলো, ‘তাওহীদ’। আল্লাহ পাক নবীদের ওপর যে অহী নাযিল করেছেন, তার টার্গেট কী? টার্গেট হল ‘একত্ববাদ’। সেজন্য তাওহীদের অধ্যায় দিয়ে কিতাব শেষ করেছেন। যে হাদীসটি তোমরা পাঠ করেছ তা কিতাবুত তাওহীদের অধীনে।

নিয়তের কারণে ফলাফল বহুগুণে বৃদ্ধি পায়

بَدْءُ الْوَحْيِ অধ্যায়ের পর সর্বপ্রথম যে হাদীসটি তিনি নিয়ে এসেছেন তা হচ্ছে,

«إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ».

‘প্রত্যেক ব্যক্তির কর্মের ফলাফল তার নিয়তের ওপরই নির্ভর হয়ে থাকে। সুতরাং বান্দার আমলের সূচনা হয় নিয়তের মাধ্যমে।’[11]

النية مصدر العمل (নিয়ত হল আমলের প্রথম ধাপ) যার প্রতি প্রথম হাদীসে ইশারা হয়েছে, আর আখেরি হাদীসে ইশারা হয়েছে, مثمر العمل (আমলের ফলাফল)-এর প্রতি। যদি নিয়ত ঠিক রেখে কাজ করা হয়, তাহলে আমলের ফলাফল বহুগুণে বেড়ে যায়। তার প্রমাণ হল, হাদীসে এসেছে, কেউ ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌وَبِحَمْدِهِ، ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌الْعَظِيْمِ বললে, মিযান পরিপূর্ণ হয়ে যায়।[12] সুবহানাল্লাহ! কোন মিযান? এখানে মিযান অর্থ: পাল্লা। অনেকের নাম আছে মিযান, সে মিযান নয়। এ ‘মিযান’ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, ‘যদি সাত আসমান ও সাত জমিন, একটাকে অপরটার সাথে লাগিয়ে দেওয়া হয়, যত বড় হবে, একটা পাল্লা তার থেকে অনেক বড় হবে।’[13] সুবহানাল্লাহ!

আমরা এখান থেকে বুঝতে পারি জিকিরের মূল্য কত বেশি। একবার ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ -এর যিকর সে এত বড় মিযানকে পূর্ণ করে করে দেয়।

রসুল (সা.) উক্ত হাদীসে ইরশাদ করেন, كَلِمَتَانِ (দুটি বাক্য), এখানে কালিমা অর্থ নাহুর কালিমা নয়। নাহুর শাস্ত্রীয় রূপ প্রকাশ পেয়েছে এই হাদীসের ২০০ বছর পর। এটি নাহু আবিষ্কার হওয়ার আগের কালিমা। এখানে কালিমা অর্থ, কালাম বা বাক্য। দুই বাক্যের একটি হল, ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌وَبِحَمْدِهِ, আপরটি হল, ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌الْعَظِيْمِ। এই দুই বাক্যের রয়েছে তিনটি গুণ। এক. حَبِيبَتَانِ (প্রিয়), দুই. خَفِيْفَتَانِ (উচ্চারণে সহজ), তিন. ثَقِيْلَتَانِ (নেকির পাল্লায় ভারি)। প্রথম গুণ হলো, حَبِيْبَتَانِ إِلَى الرَّحْمٰنِ (আল্লাহ পাকের কাছে বেশি পছন্দনীয়)। এই দুই বাক্য কেন পছন্দনীয়?

আল্লাহ তাআলার মৌলিক গুণাবলি

আল্লাহ পাকের হাজার হাজার সিফাত (গুণ) আছে। আল্লাহ পাকের যত গুণাবলি আছে, তার মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হল চারটি। এ গুণগুলোকে, مقامات ألوهية বলা হয়।

এক নম্বর মাকাম হল, مقام تنزيه (আল্লাহ তাআলা সমস্ত পাপ ও দোষ থেকে পাক-পবিত্র ও মুক্ত) যা ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌وَبِحَمْدِهِ শব্দের মধ্যে ‌سُبْحَانَ শব্দ দিয়ে সাব্যস্ত হয়েছে। আল্লাহ পাক সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র।

দুই নম্বর মাকাম হল, مقام تحميد (সমস্ত ভালো গুণের অধিকারী, সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহরই)। مقام تحميد এটি سُبْحَانَ ‌اللهِ-এর পরে ‌وَبِحَمْدِهِ শব্দ দ্বারা সাবিত হয়েছে।

তিন নম্বর মাকাম হল, مقام تمجيد (আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বড়)। ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌الْعَظِيْمِ-এর মধ্যে ‌الْعَظِيْمِ শব্দ দ্বারা مقام تمجيد সাবিত হয়েছে। এখন مقام تمجيد, مقام تحميد ও مقام تنزيه।

এই তিনোটাকে একত্রিত করলে, مقام توحيد (একাত্মবাদ) সাবিত হয়। অর্থাৎ সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র, সমস্ত ভালো গুণ যার আছে, সকল প্রশংসা একমাত্র যার, সবচেয়ে বড় যিনি, এসব গুণের সত্তা মাত্র একজনই। তিনিই আল্লাহ তাআলা। এই তিনটিকে একত্রিত করলে তার যে ফলাফল বের হয় (চার নম্বর মকাম) তাকেই মকামে তাওহীদ বলা হয়। সেজন্য রসুল (সা.) বলেছেন,

«حَبِيْبَتَانِ إِلَى الرَّحْمٰنِ، خَفِيْفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ».

‘এই দুই বাক্য উচ্চারণে সহজ, জবানে হালকা।’[14]

এই দুই বাক্যের এত ফযীলত কিন্তু উচ্চারণে সহজ ও হালকা। এমনিতে আরবি ভাষা হালকা, সহজ। ইবরানি (হিব্রু) ভাষা কঠিন। ইবরানি ভাষা সহজ করে আরবি বানানো হয়েছে। আরবি আগে ইবরানি ছিল, ইবরানি ভাষা সহজ করে আল্লাহ পাক আরবি বানিয়ে দিয়েছেন। ইবরানি ভাষা কঠিন, আরবি ভাষা সহজ। তাওরাতের ভাষা ইবরানি।

نابي بخربخا ماخوخا يا خيم رخا ياخوها جش مخم.

তাওরাত থেকে তেলাওয়াত করলাম। এর আরবি হলো,

نبي من قربك من إخوانك يخيم لك الألوهية فتسمعون.

এটি হল আরবি, কিন্তু ইবরানিতে গিয়ে এটা কঠিন হয়ে গেছে। সে হিসেবে এক নাম্বারে আরবি ভাষা নিজেই সহজ, ‌خَفِيْفَتَانِ ‌عَلَى ‌اللِّسَانِ। সহজের মধ্যেও কোনো কোনো সময় দুই একটা শব্দ কঠিন থাকে। যেমন- وَلَا الضَّآلِّيْنَؒ۰۰۷ এটা একটু কঠিন না? সে রকম শব্দ এখানে নেই। নাহুবিদের কাছে মুনসারিফ ও গায়রে মুনসারিফ এই দুইয়ের মধ্যে মুনসারিফ সহজ, গায়রে মুনসারিফ কঠিন। এই দুই বাক্যে গায়রে মুনসারিফ কোনো শব্দ নেই, সব মুনসারিফ। সেদিক দিয়েও সহজ। আবার নাহুবিদের নিকট জুমলায়ে ইসমিয়া আর জুমলায়ে ফে’লিয়ার মধ্যে জুমলায়ে ইসমিয়া সহজ। জুমলায়ে ফে’লিয়া কঠিন। এখানে জুমলায়ে ফে’লিয়া নেই, সব জুমলায়ে ইসমিয়া। সেদিক দিয়েও সহজ, ‌خَفِيْفَتَانِ ‌عَلَى ‌اللِّسَانِ।

জবানে এত হালকা হওয়ার কারণে মানুষ মনে করতে পারে তাহলে তো এটা মিযানেও হালকা হবে! সেজন্য রসুল (সা.) বলছেন, ثَقِيْلَتَانِ فِي الْمِيْزَانِ, জবানে হালকা হলেও এটা মিযানে হালকা হবে না। বরং মিযানের পাল্লায় ভারি হবে। কেমন ভারি? অ্যাটম বোমের মত। অ্যাটম বোম কবুতরের ডিমের সমান, হাতে ধরলে হালকা। কিন্তু একটা অ্যাটম বোম নাকি ইন্ডিয়া থেকে মারলে তিন মিনিটের মধ্যে পুরা পাকিস্তান ধ্বংস হয়ে যাবে। অথচ সাইজে কবুতরের ডিমের সমান।

کمیت میں کم ہے کیفیت میں زیادہ ہے۔

কোয়ান্টিটি কম, কিন্তু কোয়ালিটি অনেক বেশি। সেজন্য এই দুই বাক্যের কোয়ান্টিটি কম, জবানে সহজ। কিন্তু কোয়ালিটি অনেক বেশি। মিযানে (পাল্লায়) গিয়ে মিযানকে ভরপুর করে ফেলবে, ثَقِيْلَتَانِ فِي الْمِيْزَانِ।

ইমাম মুসলিম (রহ.) তাঁর কিতাবে একটা লম্বা হাদীসের শেষে ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌وَبِحَمْدِهِ-এর ব্যাপারে বলেন,

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ: «… مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ فِيْ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ، وَلَوْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ».

‘যে ব্যক্তি ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌وَبِحَمْدِهِ একশবার পড়বে, তার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।’[15] সুবহানাল্লাহ! এই কালিমার কী গুণ! কী পাওয়ার! আর কী শক্তি!

ইমাম তবরানী (রহ.) তাঁর হাদীসের কিতাব আল-মুজামুল কবীরে বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত,

«مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللهِ، وَبِحَمْدِهِ كُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ أَلْفِ حَسَنَةٍ، وَأَرْبَعَةٌ وَعِشْرُوْنَ أَلْفَ حَسَنَةٍ».

‘যদি কোনো ব্যক্তি ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌وَبِحَمْدِهِ একবার পড়ে ১ লক্ষ ২৪ হাজার নেকি তার আমল নামায় লেখা হয়।’[16] সুবহানাল্লাহ!

سُبْحَانَ اللهِ দিয়ে কিতাব কেন শেষ করলেন?

যিকর তো অনেক আছে, ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ -এর যিকর দিয়ে ইমাম বুখারী (রহ.) কিতাব শেষ করেছেন। তার কারণ হলো,

  1. যখন কোনো মজলিস হয়, সে মজলিসে ভুল-ত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক। তাই ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ পড়ে মসলিস শেষ করলে তা ভুল-ত্রুটির কাফ্ফারা হয়ে যায়। ইমাম বুখারী (রহ.) মনে করছেন আমার পুরো কিতাব যেন একটি হাদীসের মজলিস। সে মজলিসের ভুল-ত্রুটি যেন আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেন, তাই ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌وَبِحَمْدِهِ، ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌الْعَظِيْمِ দিয়ে শেষ করছি।
  2. রসুলে করীম (সা.) ইরশাদ করেন, হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত,

«مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْـمَلَائِكَةِ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ».

‘যার কথা ফেরেশতার কথার সাথে মিলে যায়, তার অতীতের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।’[17]

আর ফেরেশতাদের যিকর হলো, ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ । কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهٖ وَالْمَلٰٓىِٕكَةُ مِنْ خِيْفَتِهٖۚ ۰۰۱۳[18]

ফেরেশতারা ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ পড়ে, আমরাও যদি ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ পড়ি, আমাদের কথা ফেরেশতাদের কথার সাথে যদি মিলে যায়, আমাদের অতীতের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। (সুবহানাল্লাহ)

আরেকটা কথা আছে, রসুলে আকরম (সা.)-এর ইন্তেকালের অল্প কিছুদিন পূর্বে সূরা নাসর পূর্ণ নাযিল হয়,

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

اِذَا جَآءَ نَصْرُ اللّٰهِ وَ الْفَتْحُۙ۰۰۱ وَ رَاَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُوْنَ فِيْ دِيْنِ اللّٰهِ اَفْوَاجًاۙ۰۰۲ فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَ اسْتَغْفِرْهُ١ؔؕ اِنَّهٗ كَانَ تَوَّابًاؒ۰۰۳[19]

হুযুরের কাছে এর পর পরিপূর্ণ আর কোনো সূরা নাযিল হয়নি। এ সূরাতে আল্লাহ তাআলা রসুল (সা.)-কে নির্দেশ দেন,

فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَ اسْتَغْفِرْهُ١ؔؕ اِنَّهٗ كَانَ تَوَّابًاؒ۰۰۳[20]

আপনি বেশি বেশি ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ পাঠ করুন। তাফসীরের কিতাবে আছে, এই সূরা নাযিল হওয়ার পর রসুল (সা.) উঠতে, বসতে, চলতে, সর্বাবস্থায় ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ বলতেন।

মুফাসসিরীনে কেরাম এও লিখেন, এই সূরায় ইশারা হলো, রসুল (সা.) দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। রসুলের দুনিয়ার হায়াত শেষ। সে দিকে ইশারা।

ইমাম বুখারী (রহ.)ও‌ سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌وَبِحَمْدِهِ، ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌الْعَظِيْمِ হাদীসটি শেষে এনে ইশারা করছেন, আমার কিতাবও শেষ। ওদিকে রসুল (সা.)-এর হায়াতও শেষ, এদিকে আমার কিতাবও শেষ। জান্নাতীরা কিয়ামতের দিন ময়দানে মাহশার থেকে বেহেশতে গিয়ে অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়বে। সেখানে যখন নাস্তা খাওয়ার ইচ্ছে হবে, তখন বলবে ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ । আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ফেরেশতাদেরকে পূর্ব থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া আছে, আমার বান্দা ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ বললে তাকে কী পরিবেশন করা হবে। জান্নাতীরা ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ বলার সাথে সাথে বড় বড় বিশাল আকারের নাস্তার প্লেট নিয়ে উপস্থিত হবে। আমাকে নাস্তা দাও বলতে হবে না। জান্নাতীদের ভাষা হবে আলাদা। শুধু ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ বলবে, নাস্তা চলে আসবে। নাস্তাও কোনো সাধারণ নাস্তা নয়। একটা বরই হবে একটা মটকার সমান। আমাকে একজন বলছে, হুযুর এত বড় বরই কীভাবে খাবে? আমি বলি, আপনি বরই খাওয়ার হিসেব করছেন জান্নাতের, অথচ গাল হিসেব করছেন দুনিয়ার! সেখানে (বেহেশতে) মানুষ ষাট গজ লম্বা হবে। সাত গজ চওড়া হবে। তার গাল হবে মটকার সমান বড় এবং বরইও হবে মটকার সমান। সেজন্য যত বড় গাল, তত বড় বরই। খানার টাইমে ‘আল-হামদু লিল্লাহ’ বললে, সাথে সাথে যত রকমের খাদ্য মন কামনা করবে, আল্লাহ পাক বান্দার জন্য হাজির করে দেবেন।

وَلَكُمْ فِيْهَا مَا تَشْتَهِيْۤ اَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيْهَا مَا تَدَّعُوْنَؕ۰۰۳۱[21]

অনেক খুঁটিনাটি বিষয়কে সামনে রেখে, ইমাম বুখারী (রহ.) سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌وَبِحَمْدِهِ، ‌سُبْحَانَ ‌اللهِ ‌الْعَظِيْمِ দিয়ে কিতাব শেষ করেছেন। আপনারা যেহেতু আমার নিকট একটা সবক পড়েছেন, আমি যে সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছি, আপনাদেরকে সে সনদে ইজাযত দিচ্ছি। পড়ানোর জন্য, রেওয়াত করার জন্য ও প্রচারের ইজাযত।

روایت کرنے کی اجازت، درایت کرنے کی اجازت، اس حدیث کے نفس اشاعت کی اجازت،  اس حدیث کے متعلق لکھنے کی اجازت۔

হাদীসের ইজাযত কেন প্রয়োজন হয়?

অনেকে বলে, হুযুর! এগুলোর ইজাযত কী দরকার? হাদীস তো কিতাবে আছে, মাঝখানে ইজাযত কী আবার? যারা তাবিজ লেখে, তাবিজ-কবজের জন্য তারাও একজনের থেকে অনুমতি নেয়। ইজাযত নিলে তার তাবিজ-কবজে ফায়দা বেশি হয়। ইজাযত ছাড়া দিলে ফায়দা কম হয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর প্রধান শাগরিদ ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)। নাম হলো, ইয়াকুব। কুনিয়ত (উপনাম) আবু ইউসুফ। তিনি মজলিসুল আমালী নামে একটি মজলিস কায়েম করেন। সেখানে দরস দেওয়া আরম্ভ করেন। দরসে হাদীস লেখাতেন, শত শত আলেম-ওলামা, ছাত্র তাঁর মজলিসে উপস্থিত থাকত। এ অবস্থায় একজন গিয়ে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-কে বলে, হুযুর, আপনার শাগরিদ তো পড়াচ্ছে। শত শত আলেম ও ছাত্রদেরকে তার মজলিসে দেখা যায়। আপনার থেকে কি সে ইজাযত নিয়েছে? আবু হানিফা (রহ.) উত্তরে বললেন, না। আমার থেকে তো ইজাযত নেয়নি। সংবাদটা শুনার সাথে সাথে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মুখটা কালো হয়ে যায়। বোঝাই যাচ্ছিল তিনি মনক্ষুন্ণ হয়েছেন। যে ছেলেটা সাংসারিক কাজে ছিল, সেখান থেকে ধরে এনে আমি নিজ খরচে তার ও ফ্যামেলির খরচ দিয়ে তাকে পড়ালাম। এত বড় আলেম বানালাম। সে মজলিস কায়েম করেছে অথচ আমার থেকে অনুমতির প্রয়োজন মনে করল না। অন্তত দোয়া তো চাইতে পারতো। তিনি একটু বেশিই কষ্ট পেয়েছেন।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এক লোককে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) নিকট এ বলে পাঠালেন যে, তার মসলিসে গিয়ে তাকে এ এ মাসআলা জিজ্ঞাসা করবে, সে যে উত্তরই দেবে, তুমি বলবে, ভুল বলছেন। পরের দিন ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) হাদীস পড়াতে এসেছেন, লোকটি এসে বলল, হুযুর! আমি একটি মাসআলা জানতে এসেছি। কী মাসআলা? বলল, এক লোক ধোয়ার জন্য ধোপার কাছে দুই দিন পর দেবে এই শর্তে কাপড় দিয়েছে,। মালিক দুই দিন পর যখন কাপড় আনতে গেলে ধোপা বলে, আপনি আমাকে কোনো কাপড় দেননি। অস্বীকার করে বলছে, আপনি আমাকে কাপড় দিয়েছেন, তার কোনো প্রমাণ বা সাক্ষী আছে? মালিক বলল, এখানে তো কোনো সাক্ষী নেই। ধোপার কাছে কাপড় দেওয়ার সময় কেউ কি সাক্ষী রাখে? ধোপা বলে, আপনি আমাকে কাপড় দেননি। লোকটি ফেরত আসছে। একদিন পরে ধোপার মন ভালো হয়ে গেছে। ধোপা লোকটি মুসলমান ছিল। কাপড়টা ভালো করে ধুয়ে ইস্ত্রি করে নিয়ে এসে বলছে, হুযুর, আমাকে সেদিন শয়তান পেয়েছিল। এই যে আপনার কাপড় নেন। এখন আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, সেই ধোপা কাপড় ধোয়ার পয়সা পাবে কিনা? ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) বললেন, পাবে। লোকটি বলল, হুযুর, আপনি ভুল বলছেন। এরপর আবু ইউসুফ (রহ.) বললেন, পাবে না। লোকটি বলল, হুযুর, আপনি ভুল বলছেন। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) কিছুক্ষণ চুপ থেকে মসলিস থেকে সিধে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর দরবারে দৌড়ে যান, নিশ্চয় আমার উস্তাদের মন আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে আছে। মজলিসে আমালী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তাকে দূর থেকে দেখেই বলে উঠলেন,

ما جاء بك الا مسألة القصار.

ধোপার মাসআলার উত্তর দিতে না পেরেই তো এসেছ, তা না হলে আসতে না! তখন আবু ইউসুফ (রহ.) বললেন, হুযুর আমাকে মাফ করে দেন, আমাকে ইজাযত দিলে পড়াবো, না দিলে আর কখনো পড়াবো না। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বললেন, আমি তোমাকে মাফ করে দিলাম। তোমাকে দরসে হাদীস বর্ণনার ইজাযত দিলাম। এরপর বললেন, আমাকে ধোপীর মাসলার উত্তর বলে দিন, ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বললেন, দেখতে হবে কাপড়টি অস্বীকার করার আগে ধুয়েছে, না পরে। যদি অস্বীকার করার আগে ধুয়ে থাকে, তাহলে মালিককে দেওয়ার নিয়তে ধুয়েছে তাই সে পয়সা পাবে। আর যদি অস্বীকার করার পরে ধুয়ে থাকে তাহলে অন্য কোথাও বিক্রি করার জন্য ধুয়েছে, এক্ষেত্রে সে পয়সা পাবে না।[22]

ইজাযত দেওয়ার পর ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর এমন উন্নতি হয়েছে যে, ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) পরবর্তীতে চিফ জাস্টিস তথা প্রধান বিচারপতিতে পরিণত হন। তো বলছিলাম, সেই ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) তাঁর উস্তাদের দোয়ার কারণে এত উন্নতি করেছেন যে, পরবর্তীতে তিনি চিফ জাস্টিস হয়েছেন।

ছাত্রদের প্রতি উপদেশ

আজ আপনারা যারা হাদীস পড়ে ফারেগ হচ্ছেন, সবসময় আসাতিযায়ে কেরামের সাথে সম্পর্ক রাখবেন। যেকোনো দীনী কাজ করার পূর্বে অবশ্যই উস্তাদদের পরামর্শ নিবেন। বাড়িতে থাকলে মোবাইলের মাধ্যমে পরামর্শ করবেন। এখন তো মোবাইল আছে, আগে তো পরামর্শ নিতে উস্তাদের কাছে আসতে হত, অনেক কষ্ট করে দূর দূরান্ত থেকে সফর করে আসতে হত। এখন তো মিনিটের মধ্যে উস্তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব। বাতিলের ছড়াছড়ি চলছে। দীনী কাজে লেগে থাকবেন। আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) সহীহ আল-বুখারীর আখেরি হাদীস পড়ানোর সময় ছাত্রদের উপদেশ হিসেবে বলতেন,

بھائیوں! گھر کے قریب اگر روٹی کا سہارا ہو جائے تو دینی تعلیم کے لئے بیٹھ جاؤ۔

প্রিয় ছাত্র ভাইয়েরা! মাদরাসা থেকে ফারাগাতের পর বাড়ির নিকটে যদি কোনো রকম রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়ে যায়, তাহলে অন্য সব কাজ বাদ দিয়ে দীনী তালীমের জন্য বসে যাবে। নিজেকে তালীমের জন্য ওয়াফক করে দেবে।

وآخر دعوانا عن الحمد لله رب العالمين.


[1] আন-নাওয়াওয়ী, আল-মিনহাজ শরহু সহীহহি মুসলিম ইবনিল হাজ্জাজ, দারু ইয়াহইয়ায়িত তুরাস আল-আরাবী, বয়রুত, লেবনান (দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৩৯২ হি. = ১৯৭২ খ্রি.), খ. ১, পৃ. ১৪

[2] আয-যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, মুআস্সাসাতুর রিসালা লিত-তাবাআ ওয়ান নাশর ওয়াত-তাওযী’, বয়রুত, লেবনান (তৃতীয় সংস্করণ: ১৪০৫ হি. = ১৯৮৫ খ্রি.), খ. ১2, পৃ. ৪০৫, ক্র. ১৭১

[3] আয-যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, খ. ১2, পৃ. ৪০2, ক্র. ১৭১

[4] আন-নাওয়াওয়ী, আল-মিনহাজ শরহু সহীহহি মুসলিম ইবনিল হাজ্জাজ, খ. ১, পৃ. ১৪

[5] মুসলিম, আস-সহীহ, দারু ইয়াহইয়ায়িত তুরাস আল-আরবী, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৩৭৪ হি. = ১৯৫৫ খ্রি.), খ. ১, পৃ. ১৫

[6] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আল-হাশর, ৫৯:৭

[7] আহমদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনাদ, মুআস্সিসাতুর রিসালা লিত-তাবাআ ওয়ান নাশর ওয়াত-তাওযী’, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪২১ হি. = ২০০১ খ্রি.), খ. ১৭, পৃ. ৩৭৫, হাদীস: ১১২৭৬, হযরত আবু সাইদ আল-খুদরী (রাযি.) থেকে বর্ণিত

[8] মুসলিম, আস-সহীহ, খ. ১, পৃ. ২৮৩, হাদীস: ৩৭৫, হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযি.) থেকে বর্ণিত

[9] আত-তাবারানী, আদ-দুআ, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪১৩ হি. = ১৯৯২ খ্রি.), পৃ. ১৩৬, হাদীস: ৩৭২, হযরত আবু যর আল-গিফারী (রাযি.) থেকে বর্ণিত

[10] মুসলিম, আস-সহীহ, খ. ১, পৃ. ২৮২, হাদীস: ৩৭৩

[11] আল-বুখারী, আস-সহীহ, দারু তওকিন নাজাত লিত-তাবাআ ওয়ান নাশর ওয়াত তাওযী’, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪২২ হি. = ২০০১ খ্রি.), খ. ১, পৃ. ৩, হাদীস: ১, হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) থেকে বর্ণিত

[12] আহমদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনাদ, খ. ১2, পৃ. 86, হাদীস: 7167, হযরত আবু হুরাইরা (রাযি.) থেকে বর্ণিত

[13] আল-হাকিম, আল-মুসতাদরাক আলাস সহীহায়ন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪১১ হি. = ১৯৯০ খ্রি.), খ. ৪, পৃ. ৬২৯, হাদীস: ৮৭৩৯, হযরত সালমান আল-ফারসী (রাযি.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন যে,

«يُوْضَعُ الْـمِيْزَانُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلَوْ وُزِنَ فِيْهِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ لَوَسِعَتْ».

[14] আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ৯, পৃ. ১৬২, হাদীস: ৭৫৬৩, হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত

[15] মুসলিম, আস-সহীহ, খ. 8, পৃ. 69, হাদীস: 2691

[16] আত-তাবারানী, আল-মু’জামুল কবীর, মাকতাবাতু ইবনে তায়মিয়া, কায়রো, মিসর (দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৪০৪ হি. = ১৯৮৩ খ্রি.), খ. ১২, পৃ. ৪৩৭, হাদীস: ১৩৫৯৭, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত

[17] আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ১, পৃ. ১৫৬, হাদীস: ৭৮২, হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত

[18] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আর-রা’দ, ১৩:১৩

[19] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আন-নাসর, ১১০:১-৩

[20] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আন-নাসর, ১১০:১-৩

[21] আল-কুরআনুল করীম, সূরা ফুসসিলাত, ৪১:৩১-৩২

[22] আস-সায়মারী, আখবারু আবী হানীফা ওয়া আসহাবিহী, মাতবাআতুল মাআরিফ আশ-শারকিয়া হায়দরাবাদ, দাক্ষিণাত্য, ভারত (প্রথম সংস্করণ: ১৩৯৪ হি. = ১৯৭৪ খ্রি.), পৃ. ২৯

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ