বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা
যুবসমাজ ও মুসলিম উম্মাহর অবক্ষয়!
মাহমুদুল হাসান
সম্প্রতি আরম্ভ হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬। বিশ্বকাপ ঘিরে আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে উঠেছে পুরো বিশ্ব। একে ঘিরে নানা আয়োজন। মদ, জুয়া, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা থেকে শুরু করে পাপের নানা আয়োজন। এর পেছনে ব্যয় করছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। একটি জরিপে উঠে এসেছে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ব্যয় হয়েছে ২২০ বিলিয়ন ডলার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আয়োজন। অথচ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেছেন, মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রতি বছর হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের ক্ষুধা নির্মূল করা সম্ভব। অর্থাৎ একটি বিশ্বকাপের অর্থ দিয়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে পুরো পৃথিবীর ক্ষুধা মেটানো যেত। বুঝলেন ব্যাপারটা?
সাথে রয়েছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় ক্ষতি—রাত জেগে খেলা দেখার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অনুপস্থিত থাকে এবং মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। গবেষণায় উঠে এসেছে, বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে খিটখিটে মেজাজ, উদ্বেগ এবং একাডেমিক দক্ষতার অবনতি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বাংলাদেশের কথাই ধরুন, ২০১০ বিশ্বকাপে বুয়েট প্রায় এক মাস বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছিল এবং পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অথচ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দেশের কোনোটিতেই এমন ঘটনা ঘটেনি। যে খেলায় আমরা নেই, সেই খেলার জন্য পড়াশোনা বন্ধ রাখছি। ভাবা যায়?
ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে যদি দেখি, ফুটবল বিশ্বকাপ মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বড় ঈমানী পরীক্ষা। এই সময়টায় নিজেকে নিজে পরীক্ষা করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আমার মনের কোণে, হৃদয়ের গহীনে এমন কারো জন্য ভালোবাসা রয়েছে কিনা, যে আমার রবের স্বীকৃতি দেয় না, আমার নবীকে নবী বলে স্বীকার করে না। যদি এমনটা হয়, তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে আপনি সঠিক পথে নেই, পথ হারিয়ে ঈমান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছেন। বিশেষত যুবসমাজ নিজেদেরকে এই ব্যাপারে সতর্ক রাখুন। যুবসমাজ এই উম্মাহর ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা, শক্তি, সময় এগুলো আল্লাহর আমানত। কিন্তু শত্রু জানে, এই যুবশক্তিকে যদি অর্থহীন উন্মাদনায় ডুবিয়ে রাখা যায়, তাহলে উম্মাহর ভবিষ্যৎকেই ধ্বংস করা সম্ভব। আর তাই বৈশ্বিক ক্রীড়া উন্মাদনা আজ নিছক কোনো খেলা নয়, এটি মগজ ধোলাই ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের একটি পরিকল্পিত হাতিয়ার।
আজ ফিলিস্তিনের গাযা রক্তে ভাসছে, ভারতে মুসলিম নিপীড়িত, বিভিন্ন দেশে মুসলিম ভূমি দখল হচ্ছে, পবিত্র স্থানগুলো অপবিত্র করা হচ্ছে। অথচ যুবসমাজ ক্যাফে ও ক্লাবে বসে ফুটবল নিয়ে মেতে আছে, নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছে এবং মূল্যবান সময় ও অর্থ ঢেলে দিচ্ছে। এটি কি স্বতঃস্ফূর্ত? নাকি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনেরই একটি ছক? এটা নিয়ে ভাবনার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে সকল ফিতনা থেকে বেঁচে থেকে তার দিকে প্রত্যাবর্তনের তাওফীক দান করুন। আমিন।
লেখক : ছাত্র, তাকমীল ফিল হাদীস
জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।