---

সমস্যা-সমাধান-ফতওয়া বিভাগ-আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া

সমস্যা ও সমাধান ফতওয়া বিভাগ আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম

 

আকীদা-বিশ্বাস

সমস্যা: কতিপয় লোককে আল্লাহর কর্মের ব্যাপারে কিছু বলতে দেখা যায়। যেমন গত রামাযানে ধারাবাহিক বৃষ্টি হলে আমার এলাকার এক নারী বলল, আল্লাহর কেন এত বৃষ্টি দিতে হচ্ছে? আবার যখন গরম বেশি পড়ল, তখন এক পুরুষ বলল, আল্লাহ আমাদেরকে সিদ্ধ করে ফেলবে মনে হয়। আবার কোনো নারী স্বামীর কথায় ও কাজে অতিষ্ঠ হয়ে বলে, ‘আল্লাহ কেন আমাকে এখানে ফেলেছে?’ এখন প্রশ্ন হল, এধরনের কথা বলার কারণে উক্ত নারীর ঈমান ও নিকাহর কোনো ক্ষতি হবে কি না? যদি হয়, তাহলে আবার নেকাহ করার সময় মোহরানা দিতে হবে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

মুহাম্মদ আরিফুল্লাহ

রামু, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: প্রশ্নে উল্লিখিত কথাগুলো আল্লাহ তাআলার শানে বেয়াদবিমূলক ব্যবহার এবং অবৈধ আচার-আচরণের অন্তর্ভুক্ত। তা থেকে বিরত থাকা মুসলমান নারী-পুরুষের জন্য একান্ত জরুরি এবং তা থেকে আল্লাহ তাআলার নিকট কান্না-কাটি করে ও লজ্জিত হয়ে তাওবা করতে হবে। অবশ্য তার দ্বারা ঈমান ও আকদে নিকাহর ওপর কোন প্রভাব পড়বে না। কেননা উক্ত কথাগুলো আল্লাহ তাআলার শানে বেয়াদবিমূলক ব্যবহার। কুফরী কালাম নয়। তাই তা দ্বারা কুফরীর ফতওয়া দেওয়া যাবে না। অবশ্য লজ্জিত হয়ে ভবিষ্যতের জন্য খাঁটি তাওবা করা একান্ত জরুরি। ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া: ৭/২৯১, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ২/২৫৯, কিফায়াতুল মুফতী: ১/৭১, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২/২০৯

 

তাহারাত-পবিত্রতা

সমস্যা: ইসতিনজা করতে বসে কোন কিছু খাওয়া বা পান করার হুকুম কি? এ ক্ষেত্রে ইসতিনজা করা অবস্থায় পান চিবানো বা চকলেট চুষা বৈধ আছে কি?

আহমদ কাওসার

ইদগাহ, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: ইসতিনজা করতে বসে কোন কিছু খাওয়া বা পান করা মাকরুহ। তাই পান চিবানো বা চকলেট চুষাও মাকরুহ হবে। উপরোল্লিখিত বিষয় সম্পর্কে যদিও বা নবী (সা.) থেকে স্পষ্ট কোন বাণী পাওয়া যায়নি এবং ফোকাহায়ে কেরামেরও স্পষ্ট কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নবী করীম (সা.) এ অবস্থায় যেসব কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন এর মধ্যে এমন কত গুলি কাজ রয়েছে যে গুলি একথার দিকে ইঙ্গিত করে যে, এ অবস্থায় এমন কোন কাজ করা যাবে না যা দ্বারা সম্মানী বস্তুর সম্মান ক্ষুণ্ন হয়। যেমন- আল্লাহর নাম লিখা আছে অথবা নবী করীম (সা.)-এর নাম লিখা আছে অথবা অন্য কোন সম্মানী জিনিসের নাম লেখা আছে, এমন কোন জিনিস সাথে না রাখা। তেমনিভাবে সালাম, আযান, হাঁচিঁ ইত্যাদির জবাব না দেওয়া। কেননা এতে সম্মানী বস্তুর সম্মান বাকী থাকে না। সুতরাং খাওয়া, দাওয়া এগুলি আল্লাহর বড় নিয়ামত সেজন্যে এগুলির সম্মান রক্ষার্থে এ অবস্থায় খাওয়া বা পান করা মাকরুহ বলা হবে। ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১/৫০, বাহরুর রায়িক: ১/২৪৩, আদ-দুররুল মুখতার: ১/৫৬, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৮/১০৪

সমস্যা: গোসলখানায় যেখানে অন্য কেউ দেখার সম্ভাবনা নেই, সেখানে পরিপূর্ণ উলঙ্গ হয়ে গোসল করা জায়েয আছে কি?

আবু হুরাইরা

গহিরা, রাউজান

শরয়ী সমাধান: গোসল খানায় যেখানে অন্য কেউ দেখার সম্ভাবনা নেই, সেখানে পরিপূর্ণ উলঙ্গ হয়ে গোসল করা জায়েয আছে, তবে উত্তম হল সতর ঢেকে গোসল করা। কিন্তু কোন কোন ওলামায়ে কেরাম এ অবস্থায়ও উলঙ্গ হয়ে গোসল করাকে মাকরুহ বলেছেন। বুখারী শরীফ: ১/৪২, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১/১৪, মারাকিউল ফালাহ: ১০৬, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম: ১/১৬০

সমস্যা: বর্তমান বাসা-বাড়িতে যে সকল হাই কমোড ব্যবহার করা হয় সেখানে অধিকাংশ সময় কমোডের নাপাকি পড়ার স্থান থেকে কিছু পানির ছিটা নিতম্বের আশপাশ এবং রানের কিছু অংশে লেগে যায়। এমতাবস্তায় হাই কমোড ব্যবহার করে নামায আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে কী?

আনওয়ার সাদেক

পেকুয়া, চকরিয়া

শরয়ী সমাধান: হাই কমোড সম্প্রতিক সময়ের আবিস্কার। সুতরাং ফিকহের কিতাবাদিতে এ ব্যাপারে সরাসরি উল্লেখ পাওয়া না গেলেও নাপাকি সম্পর্কে যেসব ব্যাপক দলীল রয়েছে এর ভিত্তিতে বলা যায়, হাই কমোডের ব্যবহার করতে গিয়ে শরীরে নিম্নাংশে পানির যে ছিটা ছিটকে আসে তা অবশ্যই নাজাসাতে গালীযা তথা অকাট্য নাপাক। আর তা যে কোন অবস্থাতেই ধুয়ে নামায পড়তে হবে। তবে যদি কেউ হাই কমোড ব্যবহার করে অযু করে নামায পড়ে ফেলে এবং শরীরে লাগা নাপাকির ছিটা পাক না করে, তাহলে যদি তা এক দিরহামের আয়তন পরিমাণ বা তার চেয়ে কম হয় তখন নামায হয়ে যাবে আর যদি সে পরিমাণ থেকে বেশি হয় তখন নামায হবে না। তবে অধিকাংশ সময় নাপাক পানির ছিটা এক দেরহাম থেকে বেশি হয়ে থাকে। তাই একান্ত প্রয়োজন ছাড়া হাই কমোড ব্যবহার না করাই উত্তম। প্রযোজনে ব্যবহার করা হলে সতর্কতার সাথে নাপাকি লাগার সম্ভাব্য স্থানগুলো ধুয়ে নিতে হবে। সুরা আল-মুদ্দাসসির: ৪-৫, মাবসুতে সারাখসী: ১/৪৯০, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া: ১/৪৩৮, আল-মুহীতুল বুরহানী: ১/২১৪, ফাতহুল কাদীর: ১/১৮৪

সমস্যা: রি-সাইকেলড ওয়াটার বা শোধনকৃত পানির হুকুম কী? অর্থাৎ বর্তমান যুগে প্রযুক্তির মাধ্যমে নাপাক ও ময়লা আবর্জনাযুক্ত পানিকেও শোধনের মাধ্যমে স্বচ্ছ পরিস্কার করা যায়। যেমন- প্লেনে দীর্ঘ যাত্রার সময় অযু ইসতিনজায় এক বার ব্যবহৃত পানি শোধন করে দ্বিতীয় বার ব্যবহারের উপযোগী করা হয় এবং বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে শহরের ময়লা পানিকেও শোধন করে ওয়াশার ওয়াটার হিসেবে সাপ্লাই করা হয়। এখন এই রিসাইকলড ওয়াটার বা শোধন কৃত পানি দ্বারা অযু-গোসল বৈধ হবে কি?

আবদুল্লাহ

উত্তরা, ঢাকা

শরয়ী সমাধান: ওয়াটার রি-সাইকেল প্রথমত দু’ধরনের হয়ে থাকে। এক ময়লা আবর্জনা ও নাপাকি যুক্ত পানি রিফাইন করে যে স্বচ্ছ ও পবিত্র পানি বের করা হয়। যেমন- ব্যবহৃত পানি ও শহরের নদীগুলোর ময়লা পানি। দ্বিতীয়ত নিখুঁত নাপাক বস্ত্র রিফাইন করে যে পানি তৈরি করা হয়। যেমন- প্রশ্রাব ইত্যাদি। প্রথম প্রকার অর্থাৎ ময়লা-আবর্জনা ও নাপাকি যুক্ত পানি যদি শোধন করা হয় এবং তাতে নাপাকির কোনো চিহ্ন বাকি না থাকে, অর্থাৎ পানির তিন (أوصاف ثلاثة) ময়লার রঙ, স্বাদ ও গ্রাণ যদি পুরোপুরিভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়, সেই সাথে রিসাইকেল পানি ও অব্যবহৃত পানির মাঝে কোনোরকম পার্থক্য না থাকে, তখন তা ব্যবহার করা যাবে। যেমন- বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ওয়াসা কর্তৃক যে পানি সাপ্লাই দেওয়া হয়, অনুরূপভাবে ওয়াসা যদি এমন পানি সাপ্লাই দেয়, যাতে ময়লা-আবর্জনার কিছুটা রেশ বাকি থাকে, র্অথাৎ এই পানির রঙ, ঘ্রাণ ও স্বাদ যদি স্বাভাবিক পানির মতো না হয়, কিন্তু এ পানি ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো স্বচ্ছ পানির ব্যবস্থা না থাকে, তখনো এই স্বল্প ময়লাযুক্ত পানি ব্যবহার করা যাবে। পক্ষান্তরে যেসব নিখুঁত আবর্জনা শোধন করা হয়, অর্থাৎ প্রস্রাব ইত্যাদি। এগুলো কোনো অবস্থাতেই পাক ও পবিত্র হয় না। সুতরাং আকাশ পথে যাত্রার সময় বিমানে সেসব রিসাইকেল ওয়াটার বা শোধনকৃত পানি দেওয়া হয়, এগুলো ব্যবহার করা যাবে না। কারণ গভীর অনুসন্ধান করে জানা গেছে যে, এই রি সাইকেল ওয়াটারের নব্বই শতাংশই প্রশ্রাব ইত্যাদি নাপাক বস্তু হয়ে থাকে। ফাতাওয়ায়ে শামী: ১/৫১৯, কবীরী: ১৮৬, জাদীদ ফেকহী তাহকীকাত: ১০/২২৭, আল-ফিকহুল ইসলামী: ১/১০০

সালাত-নামায

সমস্যা: আযানের পর পুনরায় মাইকে বা ঘরে ঘরে গিয়ে নামাযের জন্য ডাকাডাকি করা যাবে কি না? এ সর্ম্পকে শরীয়াতের বিধান কী? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাও. আবদুর রশিদ

সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: নামাযের আযানের পর জামায়াতের জন্য পুনরায় ডাকাডাকি করা জায়েয ও বৈধতা আছে। কেননা তা দ্বারা শরীয়তের কোনো হুকুম লঙ্ঘন হয় না। বরং জামায়াতের মধ্যে মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আর না করলেও কোনো অসুবিধা নেই। কেননা, রাসুল (সা.) ও খুলাফায়ে রাশিদীনের সোনালি যুগে এটা ছিল না। নামাযের জন্য আযানই যথেষ্ট ছিল। পুনরায় ডাকাডাকি করার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমান সময় যেহেতু অলসতার যুগ এবং মানুষজন দীনী কাজে অধিক অবহেলা করে, তাই আযানের পর পুনরায় মানুষদেরকে সর্তক করতে আস-সালাত আস-সালাত বা অন্য কোনো বাক্যের মাধ্যমে ডাকাডাকি করা বৈধ হবে। এর দ্বারা দ্বীনের কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না। আদ-দুররুল মুখতার: ২/৫৬, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৫৬, আল-বিনায়া: ২/৯৯, ফাতাওয়ায়ে কাযীখান: ১/৭৯

সমস্যা: কোন সরকার বা কোন কর্তৃপক্ষ যদি মসজিদে আযান দিতে নিষেধ করে এবং আযানের আওয়াজ কে শব্দদূষণ বলে বিরোধিতা করে তখন তাদের হুকুম কি হবে?

 আহমদুল্লাহ

 বরইতলী, চকরিয়া

শরয়ী সমাধান: যদি কোন সরকার বা কর্তৃপক্ষ আযানের আওয়াজকে হেয় করে শব্দদূষণ বলে, বা আযান নিষিদ্ধ করে, তাতে তদের ঈমান চলে যাবে। তখন সকল মুসলমানের ওপর সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদ করা ওয়াজিব হয়ে যাবে চাই ক্ষমতা মুসলমানের হোক বা না হোক। মিশকাত শরীফ: ২/৪৩৮, মিরকাত: ২/১৪৯, মাবসুতে সারাখসী: ১/১০৭, ফাতহুল কাদীর: ১/২০৯

সমস্যা: আমাদের দেশে বর্তমান যুবকেরা ফ্যাশন করতে গিয়ে প্যান্টকে নাভির নিচে পরে থাকে। অপর দিকে গেঞ্জি বা শার্ট এত ছোট পরিধান করে থাকে তারা যখন সিজদাতে যায়, তখন তাদের পিছনে নিতম্বের অগ্রভাগ পর্যন্ত খুলে যায়। এ অবস্থায় তাদের নামায শুদ্ধ হবে কি?

রমযান আলী

ইদগাহ, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: নারী পুরুষের যে সকল অঙ্গ সতরের অন্তর্ভুক্ত তা হতে যে কোন এক অংশের চতুর্থাংশ অথবা তার চেয়ে বেশি অঙ্গ নামাযে এক রুকন আদায় করা বা তিন তাসবীহ পরিমান যদি খোলা থাকে। তাহলে নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর যদি এমন না হয় তাহলে ভঙ্গ হবে না। আল্লামা ইবনে আবিদীন আশশামী (রহ.) পুরুষের সতরকে আট অঙ্গে ভাগ করেছেন। তন্মধ্যে হতে নাভী থেকে লজ্জাস্থান পর্যন্ত সামনে পিছনে সবমিলে পুরোটা এক অঙ্গ হিসেবে গণ্য করেছেন।

সুতরাং উল্লিখিত ক্ষেত্রে সেসব মুসল্লির নামায ফাসেদ হয়ে যাবে। কেননা নিতম্বের অগ্রভাগ পর্যন্ত খোলা অংশ এক চতুর্থাংশ থেকে বেশি এবং এ অবস্থায় এক রুকন অর্থাৎ রুকু বা সিজদা আদায় করা হয়। হ্যাঁ, তবে কখনো খোলা অংশ এক চতুর্থাংশ থেকে কম হলে নামায ফাসেদ হবে না। ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১/৫৫৮, ফাতাওয়ায়ে শামী: ২/৭২, বাদায়িউস সনায়ি’: ১/৩৭৮, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া: ২/২১

সমস্যা: মাসবুক ব্যক্তি যদি ভুল বসত ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেলে তাহলে তার করণীয় কী?

এরশাদুল হক

ভারুয়াখালী, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: ফুকাহায়ে কেরাম মাসবুক ব্যক্তি ভুলবশত ইমামের সাথে সালাম ফিরানোর কয়েকটি পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন।

  1. যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাম ফেরায় তাহলে তার নামায ফাসেদ হয়ে যাবে। অর্থাৎ সে যে মাসবুক তা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও ইমামের সাথে সালাম ফিরালে নামায ফাসেদ হয়ে যাবে।
  2. সে ভুলবশত তার শেষ রাকাআত মনে করে ইমামের আগে সালাম ফেরালে নামায ফাসেদ হবে না এবং সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে না।
  3. ভুলবশত ইমামের সাথে সাথে সালাম ফেরালে কোন কোন ফুকহায়ে কেরাম বলেছেন সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে না। অনেকে বলেছেন এ অবস্থায়ও সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। কারণ ইমামের সাথে সাথে সালাম ফেরানো অধিকাংশ সময় সম্ভব হয় না। বরং সামান্য আগ পিছ হয়ে যায়।
  4. ভুলবশত ইমামের পরে সালাম ফেরালে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। কারণ ইমামের সালামের পর সে একাকী নামাযে ভুল করছে তাই তাকে সিজদা সাহু দিতে হবে। বাদায়িউস সনায়ি’: ১/১৭৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ১/১৭৪, ফাতাওয়ায়ে কাযীখান: ১/১০১, ফাতাওয়ায়ে শামী: ২২/৩৫০

সমস্যা: মহিলারা নামায পড়াকালীন অনেক সময় ছোট বাচ্চারা মায়ের ওড়না টেনে খুলে ফেলে যার কারণে মাথা, চুল এবং হাতের কিছু অংশ পর্দাহীন হয়ে যায় এ অবস্থায় উভয় হাত ব্যবহার করে যদি ওড়না পরিধান করে তখন নামাযের হুকুম কী হবে?

মাসুম নাজির

বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

শরয়ী সমাধান: যেসব অঙ্গ নামাযে ঢেকে রাখা আবশ্যক, (মহিলাদের মাথা, চুল ও হাতের কবজি থেকে উপরিভাগ এসব তার অন্তর্ভুক্ত) তার মধ্যে কয়েকটি যদি একসাথে উন্মোচিত হয়, তখন তার দ্বারা নামায ভঙ্গ হওয়ার জন্য দুটি শর্ত:

  1. সব অঙ্গের উন্মোচিত অংশগুলো এর মধ্যে ক্ষুদ্রটির এক চতুর্থাংশের সমান বা বেশি হওয়া।
  2. উন্মোচিত অবস্থা তিন তাসবীহ পরিমাণ স্থায়ী হওয়া।

শর্ত দুটি পাওয়া গেলে নামায ভঙ্গ হবে, অন্যথায় হবে না। আর দু’হাত দ্বারা ক্যাপ পরিধান করা যদিও আমলে কসীর হয়। কিন্তু তা যদি নামাযকে বিশুদ্ধ রাখতে সহায়তা করে তখন তার দ্বারা নামায বিনষ্ট হবে না। সুতরাং উল্লিখিত ক্ষেত্রে সাথে সাথে ওড়না দিয়ে সতর ঢেকে ফেললে নামায ভঙ্গ হবে না।

উল্লেখ্য, মেয়েদের জন্য নামাযে এমন কাপড় পরিধান করা উচিৎ, যা টান পড়লে খুলে যাওয়ার আশংকা কম থাকে। যেমন আরবীয় হিজাব প্রভৃতি। আল-ইখতিয়ার লিতা’লীলিল মুখতার: ১/৪৬, কবীরী: ২/৪০৪, ফাতাওয়ায়ে শামী: ২/৮৩, বাহরুর রায়িক: ১/৫৯৭

জানাযা-দাফন

সমস্যা: মৃত ব্যক্তির কাফনের কাপড় নিজের সন্তানদের সামর্থ্য থাকা অবস্থায় যেকোন ব্যক্তি/আত্মীয় দিতে পারবে কি না? অনুরূপ ইহরামের কাপড় দিতে পারবে কিনা?

মাওলানা ইউসুফ

দোহাজারী, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: উলিখিত বিষয়ে মৃত ব্যক্তির সন্তানদের সামর্থ থাকা সত্ত্বেও তার কোন আত্মীয় যদি মৃত ব্যক্তির কাফন বা কোন হাজির ইহরামের কাপড় দিতে চায় এবং সন্তানরা রাজি ও সম্মত হয়, তখন কোন অসুবিধা নেই, বরং এটি জায়েয ও বৈধ হবে। ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১/১৬২, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া: ৩/৩২, হিদায়া: ৩/৬৯০, আল-মুহীতুল বুরহানী: ২/৩০২

 

যাকাত-সদাকা

সমস্যা: জনাব আতিক সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি দেশের বাইর থেকে পণ্য আমদানি করেন এবং দেশের ব্যবসায়ীরা তার থেকে পণ্য ক্রয় করে। যারা তার থেকে পণ্য ক্রয় করেন, তারা অধিকাংশ সময় বাকিতে পণ্য নিয়ে যান। পণ্য নেওয়ার পর মূল্য পরিশোধের সময়টা এতো দীর্ঘ হয় যে, এ সময়ের মধ্যে তিনি আবার পণ্য আমদানি করে ফেলেন। এভাবে যারা তার থেকে পণ্য ক্রয় করেন তারা প্রথম আমদানিকৃত পণ্যের টাকা জনাব আতিক সাহেবের ৭০/৮০ লক্ষ টাকা ব্যবসায়ীদের কাছেই রয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হল, উক্ত ৭০/৮০ লক্ষ টাকার ওপর জনাব আতিক সাহেবের যাকাত আসবে কি?

আমিনুর রশিদ

খাদেম, ফিনলে স্কয়ার সমজিদ

সমাধান শরয়ী: আতিক সাহেবের বিক্রিত পণ্যের যে মূল্য ক্রেতাগণের নিকট বাকি রয়ে গেছে এবং উসুল হয়নি সেসব বাকি মূল্যের টাকা যদি নেসাব পরিমাণ বা তার অধিক হয়, তখন তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে এবং জনাব আতিক সাহেবকে ওই বাকি টাকাগুলোর যাকাত হিসেবে ধরে আদায় করে দিতে হবে। কেননা ওই বাকি টাকাগুলো বিক্রেতা আতিক সাহেবের সম্পদ হিসাব গণ্য হয়েছে। সুতরাং তার যাকাত তাকে আদায় করতে হবে। কেননা এটা ফিকাহ শাস্ত্রের পরিভাষায় দাইনে কওয়ী (دين القوي) হিসেবে গণ্য হয়েছে। যার ওপর যাকাত ওয়াজিব হয়। অবশ্য যে কর্জের টাকাগুলো উসুল হওয়ার সম্ভাবনা কম, তার যাকাত উসুল হওয়ার পর হিসাব করে আদায় করতে হবে। উসুল হওয়ার আগে আদায় করতে হবে না। মুসান্নাফে ইবনে আবু শায়বা: ৩/৫৩, আদ-দুররুল মুখতার: ২/২০৫, বাদায়িউস সানায়ি’: ২/৯০, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৭৫

 

হজ

সমস্যা: একজন ধনী সম্পদশালী ব্যক্তি মারা গেছে। যার ওপর জীবিত অবস্থায় হজ ফরয ছিলো, অথচ সে হজ আদায় করেনি এবং কাউকে অসিয়তও করে যায়নি। অতএব এখন আমার জানার বিষয় হলো, উক্ত ধনী ব্যক্তির পক্ষ হয়ে ওয়ারিসদের ওপর হজ করা ফরয কিনা? আর যদি ফরয না হয় এবং ওয়ারিসগণ তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করে তাহলে তার ওপর যে হজ ফরয ছিলো তা আদায় হয়ে যাবে কি না? শরীয়তের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাও. শিহাব উদ্দিন

সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: উল্লিখিত যে ধনী ব্যক্তি মারা গেছে এবং জীবিত অবস্থায় তার ফরয হজ আদায় করা ওয়ারিসদের ওপর ওয়াজিব নয়। অবশ্য ওয়ারিসদের মাঝে যদি কোন নাবালেগ না থাকে এবং তারা তাদের সম্মতিক্রমে পিতার সম্পদ থেকে পিতার বদলি হজ করাতে চায় বা কোন ওয়ারিস তার ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে যদি তার পিতার বদলি হজ করাতে চায়, তখন পিতার বদলি হজ করাতে পারবে এবং আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা করে তার পিতার অনাদায়কৃত ফরয হজ আদায় হবে বলে আশা করা যেতে পারে। সুনানে তিরমিযী: ১/১৮৬, তাতারখানিয়া: ৩/৬৬৮, আল-মুহীতুল বুরহানী: ৩/৯৫, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১/২৫৯

 

কুরবানী

সমস্যা: আমাদের দেশে প্রচলিত আছে যে, যারা কুরবানী করেন তাদের অনেকে গরু বা মহিষ কিংবা ছাগল অথবা গরু বা মহিষের সাত ভাগের কয়েক ভাগ আল্লাহর নামে রাসুল (সা.)-এর জন্য বা সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে কারো জন্য কিংবা কোন পীর-মুরীদ ও অলিদের জন্য অথবা কোন শিক্ষা-গুরুর জন্য মোট কথা মুরব্বিদের জন্য কুরবানী করে থাকেন, এভাবে কুরবানী করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন? এবং উক্ত কুরবানীর সওয়াব পাবেন কারা? কুরবানীর মতো ইবাদত আল্লাহর নামে উল্লিখিত হযরতের জন্য করা যাবে কিনা? যেমন- হুযুর (সা.)-এর জন্য এক খতম কুরআন পাক তেলওয়াত করা বা দুই রাকাত নামায পড়া কিংবা অন্যান্য তাসবীহ তাহলীল ও ইবাদত করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন?

আশরাফ আলী

উখিয়া, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: প্রকাশ থাকে যে গরু মহিষ ইত্যাদি কুরবানী করার সময় সাত ভাগের এক ভাগ বা কয়েক ভাগ আল্লাহর নামে রাসুল (সা.)-এর জন্য কিংবা মৃত যে কোন ব্যক্তির জন্য কুরবানী করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয ও বৈধ এবং সাওয়াব যে ব্যক্তির জন্য কুরবানী করা হয়েছে তিনিই পাবেন। এভাবে রাসুল সা. এর জন্য বা অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন শরীফ খতম বা নামায ইত্যাদি ইবাদত করে উক্ত ব্যক্তির নামে ঈছালে সাওয়াব করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয ও বৈধ। তবে শর্ত হলো ঈসালে সওয়াবের জন্য নির্দিষ্ট কোন দিন বা তারিখ ঠিক করা যাবে না এবং ঈসালে সাওয়াবের জন্য পড়ে কোন ধরনের পারিশ্রমিক বা টাকা নেওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয। মুসলিম শরীফ: ২/৪১, ফাতাওয়ায়ে শামী: ৫/৩২৬, কিফায়তুল মুফতি: ৮/২১০, দারুল উলুম: ১/২১

নিকাহ-তালাক

সমস্যা: আমার এক বন্ধু বিয়ে করেছে এবং বিয়েতে যা মহর নির্ধারণ করেছিল তার মধ্যে ১০ হাজার টাকা নগদ আকদের সময় বুঝিয়ে দিয়েছে এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ছিল। সে একটা চেক লিখে বাসর রাতে তার স্ত্রীকে দেয়। স্ত্রী আবার চেক তাকে দিয়ে দেয় এবং বলে আমি তোমাকে দিয়ে দিলাম আমি এ টাকা কি করব? এখন আমার প্রশ্ন এ চেক দেওয়ার দ্বারা মহর আদায় হয়েছে কি? এবং স্ত্রী তাকে ফেরৎ দেওয়া সহীহ হয়েছে কিনা? সঠিক সমাধান জানিয়ে উপকৃত করবেন।

জিয়াদ

ইদগাহ, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: শরীয়তের নযরে মোহরেরর কর্জ অন্য কর্জের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কাজেই অন্যান্য কর্জ চোখ লজ্জায় বা চাপে পড়ে মাফ করে দিলে আল্লাহর কাছে মাফ হয় না। তেমন মোহর আল্লাহর কাছে মাফ হবে না। আমাদের দেশে ধূর্ত লোভীরা মোহর মাফ করানোর অপকৌশল হিসেবে বাসর রাতকেই বেছে নেয়। কেননা সে রাতে স্ত্রী লোক লজ্জার কারণে মোহর মাফ করে দিয়ে থাকে। তার যদি মোহর দেওয়ার ইচ্ছা থাকতো তাহলে সেই চেক তো বাসর রাতের আগেই দিতে পারতো। এতে বুঝা গেল বাসর রাতে চেক দেওয়াটা একটা প্রতারণা মাত্র। সারকথা এতে বিচারালয়ে (قضاء) মাফ হলেও আল্লাহর দরবারে (ديانة) মোহর মাফ হবে না। বাদায়িউস সানায়ি’: ২/৩৩১, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ২/৩২৫, রদ্দুল মুহতার: ৩/৭১০

মুআমালা-লেনদেন

সমস্যা: একজন ব্যক্তির মালিকানায় কয়েকটি দোকান আছে। তিনি প্রত্যেকটি দোকান ভাড়া দিয়েছেন এই কন্ডিশনে যে, ভাড়াটিয়া তাকে দশলক্ষ টাকা অগ্রিম জমা দেবে। যা তিনি নিজের মতো করে খরচ করার অনুমতি নিয়েছেন। মাসিক ভাড়া ত্রিশ হাজার টাকা। পনের হাজার টাকা প্রতি মাসে নগদ পরিশোধ করবেন, বাকি পনের হাজার অগ্রিম জমা টাকা থেকে কাটা হবে। আর উক্ত চুক্তির মেয়াদ তিন বছর। তবে যদি ভাড়াটিয়া কোনো কারণে দোকান ছেড়ে দিতে চান, তখন মালিককে কয়েক মাস আগে জানাবেন। মালিক কিছু দিন সময় নিয়ে মাস প্রতি নির্ধারিত ভাড়ার অর্ধেক কেটে রেখে ভাড়াটিয়ার বাকি টাকা তাকে বুঝিয়ে দেবেন। অতএব, জানার বিষয় হলো, উল্লিখিত সুরত কতটুকু শরীয়তসিদ্ধ? এবং মালিকের জন্য উক্ত দশলক্ষ টাকার ওপরে যাকাত ওয়াজিব হবে কি না। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জানালে উপকৃত হব।

আমিনুর রশিদ

২নং গেইট, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: উল্লিখিত ঘটনায় দোকানের মালিক অগ্রিম ভাড়া হিসেবে প্রত্যেক দোকানের ভাড়াটিয়া থেকে যে দশলক্ষ টাকা অগ্রিম ভাড়া বাবদ উসুল করে নিয়েছে তা শরীয়ত মতে জায়েয ও বৈধ হয়েছে এবং প্রতি মাসে অগ্রিম ভাড়া থেকে যে পনের হাজার টাকা অর্থাৎ অর্ধেক ভাড়া কর্তন করে দেওয়া হয় তাও শরীয়াসম্মত ও জায়েয। কেননা শরীয়তে কোনো দোকান ইত্যাদির অগ্রিম ভাড়া নিয়ে তার থেকে প্রতি মাসে কিছু কিছু কর্তন করা দোকানের মালিক ও ভাড়াটিয়ার সম্মতিক্রমে জায়েয ও বৈধ। তাতে কোনো শরীয়তবিরোধী কাজ নেই এবং দোকানের মালিক অগ্রিম ভাড়া বাবদ প্রতিটি দোকানের পক্ষ থেকে যে অগ্রিম ভাড়া উসুল করে নিয়েছে এগুলোর ভোগ-দখলে চলে গেছে তাই ওগুলোর যাকাত দোকানের মালিককে আদায় করতে হবে। যা দোকানের মালিকিের কাছে অবশিষ্ট থাকে। সুরা আন-নিসা: ২৯, ইলাউস সুনান: ৯/৩, ফতওয়ায়ে আলমগীরী: ৪/৪১৩, আল-মুহীতুল বুরহানী: ৯/৯০

বিবিধ প্রসঙ্গ

সমস্যা: দীনী আলোচনা অর্থাৎ ওয়াজের মাহফিলে বসে অন্য কোন আমল করা জায়েয হবে কি? যেমন- কোন তাসবীহ আদায় করা কিংবা এক পার্শ্বে কেউ নফল নামায পড়া বিশেষ করে একজন আলেম বলেছেন, থানবী (রহ.) তা নাজায়েয বলেছেন। তিনি وَاِذَا قُرِئَ الْقُرْاٰنُ فَاسْتَمِعُوْا لَهٗ وَاَنْصِتُوْا ۰۰۲۰۴ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। সুতরাং এ ব্যাপারে শরয়ী সমাধান কী?

রফিকুল ইসলাম

রামু, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: দীনী মাহফিলে বসে অন্য আমল করা যেমন- কোন তাসবীহ আদায় করা কিংবা এক পাশে নফল নামায আদায় করা এ ব্যাপারে ওমর ইবনে আবদুল আযীয (রহ.)-এর উক্তি এবং আল্লামা আশরাফ আলী থানবী (রহ.) আদ-দুররুল মানসুর নামক কিতাব থেকে নকল করেছেন যে, ওয়ায মাহফিল এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু আশরাফ আলী থানবী (রহ.) এই কথা নকল করার পর বলেছেন, এটা আমি মানতে পারি না। তাহলে বোঝা গেল উক্ত মাওলানা সাহেব আশরাফ আলী থানবী (রহ.)-এর দিকে যে কথার ইঙ্গিত করেছেন তা ঠিক নয়। তাছাড়া কোন মুফাচ্ছিরিনে কেরাম ওয়াজ মাহফিলকে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত করেননি। তাই তা নাজায়েয হবে না। তবে তা অবশ্যই মজলিসের আদবের খেলাফ হবে। বিশেষ করে যেহেতু এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের ইখতিলাফ রয়েছে তাই অন্য আমল থেকে বিরত থাকা উত্তম হবে। সুরা আল-আরাফ: ২০৪, বয়ানুল কুরআন: ২/৭৪, আহকামুল কুরআন: ৩/৫২, ফাতহুল কাদীর: ২/২৮০

সমস্যা: সরকারি মাদরাসায় চাকরি করা জায়েয আছে কি নেই? কুরআন-হাদীসের আলোকে সমাধানে বাধিত করবেন।

শাহ জালাল

জিয়ানগর, ফিরেজপুর

শরয়ী সমাধান: বালেগা মহিলা বা বালিগা হওয়ার নিকটবর্তী মহিলা যারা চোখে পড়ার মত তাদের শরীয়তের পরিপূর্ণ মেনে চলতে হবে। সুতরাং আলীয়া হোক বা কওমি যে সকল মহিলা মাদরাসায় শরয়ী পর্দার ব্যবস্থা আছে, অর্থাৎ ছাত্রীরা মাদরাসায় এসে বোরকা না খুলে এবং শিক্ষক ও ছাত্রীদের মধ্যে বোরকা ব্যতীত পৃথক পর্দার ব্যবস্থা থাকে। তাহলে সেসব মাদরাসায় চাকরি করা জায়েয। যদি শিক্ষক ও ছাত্রীদের মধ্যে কোন পর্দা না থাকে, তাহলে জায়েয হবে না। প্রশ্নপত্র দ্বারা বোঝা যায়, উক্ত মহিলা মাদরাসায় পর্দার ব্যবস্থা আছে। তা যদি সত্য হয়, উক্ত মাদরাসায় চাকরি করতে কোন অসুবিধা নেই। সে রকম চাকরিজীবী আলেমের ইমামতিও জায়েয। তাতে কোন অসুবিধা নেই। সুরা আন-নূর: ৩০, বুখারী শরীফ: ১/২০, ফাতাওয়ায়ে শামী: ১/৪০৬, আদ-দুররুল মুখতার: /৫৫৯

সমস্যা: চুলে কলপ দেওয়া জায়েয কিনা? স্ত্রীর যদি ঘোর আপত্তি থাকে তাহলে কি কলপ দেওয়া জায়েয? কোন কোন ক্ষেত্রে কলপ দেওয়া জায়েয বিস্তারিত জানিয়ে কৃতার্থ করবেন। কোন ইমাম যদি কলপ দেয় তাহলে মুক্তাদির নামায হবে কিনা?

মুখলেছ

বিমান বাহিনী, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: প্রকাশ থাকে যে পুরুষদের চুল ও দাড়িতে কালো খেজাব ব্যতীত অন্য মেহেদি ইত্যাদি খেজাব লাগানো জায়েয তাতে কোন অসুবিধা নেই্‌ এবং কালো খেজাব লাগানোর ব্যপারে নবী করিম সা. হাদীস শরীফে নিষেধ করেছেন। অবশ্য কারো স্ত্রী যদি ¯^vgxi সাদা দাড়িও চুল অপছন্দ করেন তাহলে কোন কোন আলেমের নিকট জায়েয আছে। এরকমভাবে জিহাদে অমুসলিমদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধের সময় মুসলমান মুজাহিদদের কালো খেজাব লাগানো জায়েয ও বৈধ। যাতে অমুসলিম শত্রু মুসলমানদের সাদা দাড়ি দেখে দুর্বল মনে না করে এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধি না পায়। আর যদি কোন ইমাম সাহেব উপর্যুক্ত বৈধ কারণে খেজাব লাগিয়ে থাকে তাহলে তার ইমামতি কোন অসুবিধা নেই। আর যদি বৈধ কারণ ব্যতীত নিজ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য লাগিয়ে থাকে। সে সম্পর্কে আমাদের ফিকহবিদগণের মাঝে কিছুটা মতবিরোধ আছে। কিন্তু বিশ্বস্ত মত অনুযায়ী বৈধ কোন কারণ ব্যতীত খেজাব লাগানো মাকরুহ তাহরিমী। সুতরাং উক্ত ইমামকে সতর্ক করে দেওয়া দরকার তার পরও যদি সে বিরত না থাকে তাহলে তার ইমামতি করা মাকরুহ তাহরীমী ও নাজায়েয হবে। তার পরিবর্তে অন্য কোন ভালো দীনদার পরহেজগার আলেমে দীনকে ইমাম নিয়োগ করা মসজিদের মুতাওয়াল্লী বা কমিটির ওপর দীনী দায়িত্ব। আবু দাউদ: ২/৫৭৮, আদ-দুররুল মুখতার: ৯/৬০৫, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ৫/৩৫৯, কিফায়তুল মুফতি: ৯/১৫৯

সমস্যা: যখন বিভিন্ন দেশে খেলা হয় তখন কোন এক দেশের পক্ষ হয়ে দাওয়াত পড়া এবং দোয়া করা জায়েয আছে কিনা? এবং যদি দাওয়াত পড়িয়ে ফেলে ও দুআ করিয়ে ফেলে তখন তার সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন যেমন হাজার লোক বিগত ফুটবল খেলার সময় ব্রাজিলের জন্যে দোয়া করেছে।

রাশেদুল ইসলাম

পটিয়া, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: এরকম অন্যায় ও শরীয়তের পরিপন্থি কাজের জন্য দুআ করা মারাত্মক অপরাধ ও গোনাহ। বরং এটা ধর্ম নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা অন্তর্ভুক্ত। যা শরীয়তের দৃষ্টিতে কুফরী কাজ। যারা এরকম জঘন্য অপরাধ করেছে। তাদেরকে আল্লাহ তাআলার নিকট তাদের কৃতকর্মের ওপর লজ্জিত হয়ে এবং ভবিষ্যতে এ রকম অপরাধ না করার কঠোর অঙ্গীকার করে সকাতরে খাঁটি তওবা করা অতি প্রয়োজন। তিরমিযী শরীফ: ১/২৯৩, ফাতাওয়ায়ে শামী: ৬/৩৯৫, মারিফুল কুরআন: ৭/২২

বিভাগীয় নোটিশ

দৈনন্দিন জীবনের যেকোনো সমস্যার শরয়ী সমাধান জানতে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার ফতওয়া বিভাগে প্রশ্ন পাঠাতে পারেন। এজন্য সরাসরি যোগাযোগ বা বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট ফোনে যোগাযোগ করুন। প্রশ্ন পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইল বা ফেসবুক ফ্যান-পেইজেও।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ