---

আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস

আল্লামা মুফতী আজিজুল হক রহ. ও আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস

মাওলানা আহমদ বাকের আজিজী

বাংলার ইলমি আকাশে যে ক’জন দেদীপ্যমান নক্ষত্র নিজেদের মেধা, ইখলাস ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে এদেশের কওমি মাদরাসা ব্যবস্থার ভিত মজবুত করে গেছেন, ফকীহুন নফস কুতবে জমান আল্লামা মুফতী আজিজুল হক (রহ.) অন্যতম। তিনি কেবল পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া (তৎকালীন জমিরিয়া কাসিমুল উলূম)-এর প্রতিষ্ঠাতাই ছিলেন না, বরং বাংলার দ্বীনি শিক্ষার ধারাকে একটি সুশৃঙ্খল ও সুসংহত রূপ দেওয়ার অন্যতম রূপকারও ছিলেন। উম্মাহর ফিকির এবং মাদরাসাগুলোর পারস্পরিক ঐক্য ও শিক্ষার মানোন্নয়নের এক ব্যাকুলতা থেকেই তাঁর হাতে জন্ম নিয়েছিল ‘আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ’। আজ আমরা এই ঐতিহ্যবাহী বোর্ডের প্রতিষ্ঠা, প্রেক্ষাপট ও এর পেছনের এক টুকরো সোনালী ইতিহাস নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব।

তৎকালীন সমাজচিত্র আজ কল্পনা করলেও শিউরে উঠতে হয়। চারদিকে তখন অজ্ঞতা ও অশিক্ষার ঘোর অন্ধকার। মুসলিম সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছিল নানা রকমের শিরক, বিদআত আর কুসংস্কার। দীনের সহীহ বুঝ না থাকায় মানুষ দলে দলে মনগড়া ইবাদত আর লৌকিকতার পেছনে ছুটছিল। ঠিক এমন একটি নাজুক সময়ে আল্লাহ তাআলা এই জনপদে পথহারা মানুষকে আলোর দিশা দেখাতে পাঠালেন এক দরদী রাহবারকে। জামিয়া পটিয়ার প্রতিষ্ঠাতা হযরত মুফতী আজিজুল হক (রহ.)-এর ইলমি মাকাম, আধ্যাত্মিক

ফয়েজ এবং হেদায়াতের বাণী তৎকালীন সময়ে চারদিকের আঁধার কাটাতে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছিল।

হযরতের হৃদয়গ্রাহী ওয়াজ-নসিহত আর পরশপাথরের মতো ছোঁয়ায় চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর সীমানা পেরিয়ে সুদূর আরাকানের আকিয়াব (মিয়ানমার) অঞ্চল পর্যন্ত এক অভূতপূর্ব দ্বীনি জাগরণ তৈরি হয়। মানুষ দলে দলে এসে হযরতের হাত মোবারকে বায়‘আত হতে লাগলেন। এই আধ্যাত্মিক ফয়েজ এতটাই গভীর ছিল যে, একে একে বিভিন্ন অঞ্চলের মাদরাসার জিম্মাদার ও ওলামায়ে কেরাম এক বুক ভরসা নিয়ে হযরতকে নিজেদের মাদরাসার একমাত্র অভিভাবক ও ‘সরপরস্ত’ মনোনীত করতে শুরু করলেন।

সেই যুগে আজকের মতো সীমান্তের কড়াকড়ি বা কাঁটাতারের বিভেদ না থাকলেও, যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল চরম দুর্গম ও কষ্টসাধ্য। পাহাড়, নদী আর অরণ্যঘেরা পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে সুদূর আকিয়াবে যাতায়াত করা ছিল এক প্রকার জীবনযুদ্ধের মতো। কিন্তু দ্বীনি তৃষ্ণা আর হযরতের প্রতি গভীর মহব্বতের কাছে এই দীর্ঘ পথ ও ভাঙাচোরা যোগাযোগ ব্যবস্থা কোনো বাধাই হতে পারেনি।

বিশেষ করে আকিয়াবের ওলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মুসলমানরা শিরক ও বিদআতের প্রবল সয়লাবের মুখে নিজেদের ঈমান-আকীদা রক্ষা করতে চরম উদগ্রীব ছিলেন। তারা অনুভব করেছিলেন, আল্লামা মুফতী আজিজুল হক (রহ.)-এর মতো একজন খাঁটি

আল্লাহর অলির নেক নজর ও অভিভাবকত্ব ছাড়া এই দূর জনপদে দীনের আলো জ্বালিয়ে রাখা অসম্ভব। তাই শত কষ্ট স্বীকার করে আকিয়াবের দূর-দূরান্ত থেকে দ্বীনদার কাফেলা পটিয়ায় ছুটে আসত, আবার পটিয়া থেকেও উম্মাহর ফিকিরে হযরত ও তাঁর প্রতিনিধিরা সেই দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে আকিয়াবের জমিনে তা’লীম ও ইসলাহের আলো ছড়াতেন।

বোর্ডহীন জমানায় ভক্তি ও পরামর্শের আদি রূপ

আজকের দিনে আমরা যেভাবে সুশৃঙ্খল শিক্ষা বোর্ড, সুনির্দিষ্ট সিলেবাস কিংবা পরীক্ষার নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো দেখি, তখনকার দিনে এর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। কোনো কেন্দ্রীয় বোর্ড বা প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠন না থাকায় মাদরাসাগুলো যার যার মতো করে চলত। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক কোনো ছাদ না থাকলেও হযরতের প্রতি ভক্তি আর ইখলাসের বন্ধনটি ছিল যেকোনো বোর্ডের চেয়েও শক্তিশালী।

বিভিন্ন দূরবর্তী মাদরাসার মুহতামিমগণ কেবল দীনের খাতিরে এবং মাদরাসার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে পায়ে হেঁটে, নৌকায় চড়ে হযরতের খেদমতে এসে হাজির হতেন। মাদরাসার খুঁটিনাটি সব বিষয়ে হযরতের পরামর্শ নিতেন। হযরত পরম স্নেহে যে ফায়সালা দিতেন, তারা সেটাকেই শিরোধার্য মনে করে খুশিমনে আমল করতেন। এছাড়া হযরত নিজে কষ্টকর যাতায়াত উপেক্ষা করে এসব মাদরাসার বার্ষিক জলসায় উপস্থিত হতেন এবং শিক্ষা ও শৃঙ্খলার যেখানে যতটুকু সংশোধন প্রয়োজন, তা অত্যন্ত মমতায় সুধরে দিতেন। না হযরতের কাছে এমন কোনো খাতা ছিল যেখানে এসব মাদরাসার নাম লেখা আছে, আর না ছিল কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যালয়। সম্পূর্ণ বিষয়টি চলত পারস্পরিক বিশ্বাস আর আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর ভর করে।

এই সুন্দর ও মুখলেস ধারাটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার পেছনে একটি চমৎকার ঘটনা রয়েছে। একবার পটিয়া মাদরাসার শূরা মজলিস সিদ্ধান্ত নিল যে, মাদরাসার নিয়ম-নীতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সার্বিক অবস্থা নিয়ে একটি বিস্তারিত ‘রোয়েদাদ’ বা বার্ষিক রিপোর্ট তৈরি করা হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি অর্পণ করা হলো মাদরাসার প্রধান মুফতী আল্লামা মুফতী ইবরাহিম সাহেব (রহ.) এর ওপর।

রিপোর্টটি লিখতে গিয়ে একটি অধ্যায়ে পটিয়া মাদরাসার শাখা বা অধিভুক্ত মাদরাসাগুলোর বিবরণ দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিল। মুফতী ইবরাহিম সাহেব (রহ.) এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য হযরত মুফতী আজিজুল হক (রহ.)-এর কাছে আরজ করলেন, “হযরত, আপনি আসলে কোন কোন মাদরাসার অভিভাবক বা সরপরস্ত হিসেবে আছেন?”

হযরত মুফতী সাহেব (রহ.) সরল মনে জবাব দিলেন, “বিস্তারিত তো আমারও জানা নেই, তবে এ ধরনের মাদরাসা অনেক আছে। তুমি যদি নিখুঁত তথ্য জানতে চাও, তবে মাদরাসাগুলোতে একটি চিঠি পাঠিয়ে জেনে নিতে পারো।”

হযরতের নির্দেশ পেয়ে মুফতী ইবরাহিম সাহেব (রহ.) বিভিন্ন মাদরাসায় একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে কেবল অভিভাবকত্বের সত্যতা যাচাই-ই করা হয়নি, বরং পটিয়া মাদরাসার সাথে অন্যান্য মাদরাসাগুলোর সম্পর্কের গভীরতা ও ধরন কেমন হবে, তা বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছিল। সম্পর্কের ধরন নির্ধারণের জন্য চিঠিতে ১১টি ধারা উল্লেখ করা হয়েছিল, যা মূলত একটি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মূল ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল। ইতিহাসের আমানত হিসেবে চিঠির মূল পাঠ ও সম্পর্কের ধারাগুলো

নিচে পেশ করা হলো।

مکرمی جناب مہتمم صاحب دامت مکارمکم! – السلام علیکم ورحمۃ اللہ وبرکاتہ! فی الحال مدرسہ ضمیریہ قاسم العلوم پٹیہ کی سالانہ روئداد مرتب ہو رہی ہے اس میں شاخہائے مدرسہ کے تذکرہ پر آپ کے مدرسہ کا بھی ذکر ہو گا اور ہمیں معلوم ہے کہ آپ نے اپنے مدرسہ کا سرپرست حضرت العلامہ مولانا مفتی عزیز الحق صاحب دامت فیوضہم بانی مدرسہ ضمیریہ قاسم العلوم کو بنایا ہے، بنابریں حضرت والا کے حکم سے دریافت کی جاتی ہے کہ مرقومہ زیریں اقسامِ تعلق سے آپ ہمارے مدرسہ کے ساتھ ہر قسم کا تعلق رکھنا چاہتے ہیں یا کسی خاص قسم کا۔ بر تقدیر اول آپ ہر خانہ میں صرف لفظ ہاں لکھدیں اور بر تقدیر ثانی جو تعلق رکھنا چاہتے ہیں اسی خانہ میں ہاں لکھدیں اور جو تعلق آپ رکھنا نہیں چاہتے اس خانہ میں نہیں لکھدیں اور آپ کے مدرسہ کا نام اور پورا پتہ اور کس جماعت تک تعلیم ہوتی ہے یہ باتیں صاف صاف تحریر فرما کے جہاں تک ممکن ہو فوری جواب سے ممنون فرمائیں اور اگر آنحضرت کی سرپرستی کے متعلق ہمارے یہ علم غلط ہو تو جواب لکھنے کی ضرورت نہیں! “اقسام تعلقات” ۱: آپ کے مدرسہ کا اراکین شوریٰ کا انتخاب اور مدرسین کے تقرر و عزل مدرسہ پٹیہ کے زیر ہدایت رہنا! ۲: مشورہ دینا مع الطلب ۳: بلا طلب بھی مشورہ دینا اور ضروری ہدایات پیش کرنا! ۴: آپ کے مدرسہ کے جلسات کا طرز و طریقہ پٹیہ مدرسہ کے زیر ہدایت رہنا اور ان میں حضرت مفتی صاحب دامت برکاتہم یا انکے قائم مقام کا خصوصیت سے شریک ہونا! ۵: آپ کے مدرسہ اور پٹیہ مدرسہ کے مابین تعاون و تناصر کا تعلق ہونا اور ایک کی مصیبت میں دوسرے کا شریک ہونا! ۶: آپ کے مدرسہ کا نصاب تعلیم پٹیہ مدرسہ کے نصاب کا متفق ہونا! ۷: آپ کے مدرسہ کے امتحانات بالخصوص امتحان سالانہ پٹیہ مدرسہ کے زیر ہدایت رہنا! ۸: پٹیہ مدرسہ کی طرف سے کبھی کبھی آپ کے مدرسہ کے تعلیم و تربیت کی نگرانی ہوتی رہنا اور حسب

ضرورت آپ کے مدرسہ کے مدرسین کی خدمت میں ضرور ہدایات پیش کرنا! ۹: بشرط قبول تعلق رقم 8,7,6 پٹیہ مدرسہ کے داخلہ میں آپ کے مدرسہ کے امتحان سالانہ کا اعتبار ہونا! ۱۰: آپ کے مدرسہ کے مالیات کا محاسبہ یعنی بغیر تعیین وقت کبھی کبھی آپ کے مدرسہ کے حسابات کا کلیتاً یا بعضاً معائنہ کرنا اور ضروری ہدایات پیش کرنا! ۱۱: بشرط تعلق کلیتاً آپ کے مدرسہ کے داخلہ پٹیہ مدرسہ میں ہوتے وقت خصوصی رعایت کا لحاظ ہونا! (دستور و روداد انجمن اتحاد المدارس: صفحہ ۱۲)

(চিঠির অনুলিপি) সম্মানিত জনাব মুহতামিম সাহেব, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত রাখুন।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বর্তমানে পটিয়া জমিরিয়া কাসিমুল উলূম মাদরাসার বার্ষিক রিপোর্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে মাদরাসার শাখাসমূহের আলোচনায় আপনার মাদরাসার নামও উল্লেখ করা হবে। আমাদের জানা মতে, আপনি আপনার মাদরাসার অভিভাবক হিসেবে হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী আজিজুল হক (দা.)—প্রতিষ্ঠাতা, জমিরিয়া কাসিমুল উলূম—কে নিযুক্ত করেছেন।

অতএব, হযরতের নির্দেশক্রমে জানতে চাওয়া হচ্ছে যে, নিচে উল্লেখিত সম্পর্কের ধরণগুলোর মধ্যে আপনি আমাদের মাদরাসার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক রাখতে চান, নাকি কোনো নির্দিষ্ট ধরনের সম্পর্ক?

প্রথম অবস্থায় (সব সম্পর্ক চাইলে) প্রতিটি ঘরে শুধু “হ্যাঁ” লিখবেন।

দ্বিতীয় অবস্থায় (নির্দিষ্ট সম্পর্ক চাইলে) যেগুলো রাখতে চান সেগুলোতে “হ্যাঁ” এবং যেগুলো রাখতে চান না সেগুলোতে “না” লিখবেন।

এছাড়া আপনার মাদরাসার নাম, পূর্ণ ঠিকানা এবং কোন জামাত (শ্রেণি) পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হয়, এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে লিখে যতটা সম্ভব দ্রুত উত্তর দিলে কৃতজ্ঞ থাকব। আর যদি হযরতের অভিভাবকত্ব সম্পর্কে আমাদের এই ধারণা ভুল হয়ে থাকে, তবে উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

“সম্পর্কসমূহের প্রকার”

১. আপনার মাদরাসার শূরা সদস্য নির্বাচন এবং শিক্ষক নিয়োগ ও অপসারণ পটিয়া মাদরাসার নির্দেশনার অধীনে থাকা।

২. প্রয়োজনের সময় (মাদরাসার পক্ষ থেকে চাওয়া হলে) পরামর্শ প্রদান করা।

৩. মাদরাসার পক্ষ থেকে চাওয়া না হলেও নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেশ করা।

৪. আপনার মাদরাসার অনুষ্ঠান ও মাহফিলসমূহের কার্যক্রম পটিয়া মাদরাসার নির্দেশনায় পরিচালিত হওয়া এবং সেগুলোতে হযরত মুফতী সাহেব (দা. বা.) বা তাঁর প্রতিনিধির বিশেষভাবে অংশগ্রহণ করা।

৫. আপনার মাদরাসা ও পটিয়া মাদরাসার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সম্পর্ক থাকা এবং একের বিপদে অন্যের অংশীদার হওয়া।

৬. আপনার মাদরাসার সিলেবাস পটিয়া মাদরাসার সিলেবাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া।

৭. আপনার মাদরাসার পরীক্ষা, বিশেষ করে বার্ষিক পরীক্ষা পটিয়া মাদরাসার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হওয়া।

৮. পটিয়া মাদরাসার পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে আপনার মাদরাসার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের তদারকি করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষকদের খেদমতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পেশ করা।

৯. ৬, ৭ ও ৮ নম্বর সম্পর্ক গ্রহণের শর্তে, পটিয়া মাদরাসায় ভর্তির ক্ষেত্রে আপনার মাদরাসার বার্ষিক পরীক্ষার মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দেওয়া।

১০. আপনার মাদরাসার আর্থিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করা, অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় ছাড়াই কখনো কখনো সম্পূর্ণ বা আংশিক হিসাব পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া।

১১. পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক গ্রহণের শর্তে, শিক্ষার্থীদের পটিয়া মাদরাসায় ভর্তির সময় বিশেষ সুবিধা ও ছাড় প্রদান করা।

উপরোক্ত চিঠির জবাবে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও আকিয়াব অঞ্চলের প্রায়

৪৩টি মাদরাসা থেকে ইতিবাচক সাড়া আসে। প্রতিটি মাদরাসাই হযরতের অভিভাবকত্ব এবং এই সুন্দর শৃঙ্খলার সাথে যুক্ত হতে সানন্দ সম্মতি প্রকাশ করে। এই বিপুল সাড়া দেখে বিচ্ছিন্ন মাদরাসাগুলোকে একটি অভিন্ন প্লাটফর্মে নিয়ে আসার সুতীব্র ফিকির শুরু হয়।

পরবর্তীতে ১৩৭৯ হিজরী সনের জিলকদ মাসের শেষ শুক্রবারে এই ৪৩টি মাদরাসার মহতামিম ও প্রতিনিধিদের এক বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়। বিকেল চারটায় পটিয়া মাদরাসায় এক ঐতিহাসিক শূরা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ওলামায়ে কেরামের দীর্ঘ আলোচনা ও গভীর পর্যালোচনার পর সকলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জন্ম নেয় কওমি মাদরাসাগুলোর পারস্পরিক কল্যাণ, ঐক্য ও শিক্ষা কাঠামোর এক অনন্য সংগঠন: “আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস” (যা বর্তমানে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ নামে পরিচিত)।

মাদরাসাগুলোর মাঝে পারস্পরিক

বিচ্ছিন্নতা দূর করে একই সুতোয় গেঁথে রাখার যে দূরদর্শিত্ব ও ঐক্যের স্বপ্ন আল্লামা মুফতী আজিজুল হক (রহ.) দেখেছিলেন, ‘ইত্তেহাদুল মাদারিস’ তারই এক জীবন্ত ফসল। সেদিন পটিয়ার এক কক্ষের শূরা মজলিস থেকে যে মুখলেস বীজ রোপণ করা হয়েছিল, তা আজ এক বিশাল মহীরুহ।

কিন্তু অত্যন্ত বেদনার সাথে আজ লক্ষ্য করতে হয় যে, বড়দের রক্তে-ঘামে গড়া সেই সুদৃঢ় ঐক্যের দেওয়ালে আজ ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো মহল পটিয়া মাদরাসা থেকে আলাদা হয়ে নতুন ইত্তেহাদ গঠন করছেন। আকাবিরের ইখলাসের এই পুণ্যভূমিতে এমন বিভক্তি সত্যিই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সহীহ বুঝ দান করুন, সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে অতীতের সেই সোনালী ঐক্যের সুতোয় সবাইকে আবারো একত্রিত করে দিন এবং আমাদের দ্বীনি মারকাজগুলোকে শয়তানের চক্রান্ত থেকে হেফাজত করুন। আমিন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ