প্রবন্ধ : আশুরার তাৎপর্য
আল্লাহর নিয়ামত আর রহমতের মাস মহরম। এটি মাসের নাম হলেও মূলত আশুরা পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ। ইহুদিদের নিকট আশুরা সৌভাগ্য বা দিবস হিসেবে পরিচিত। আশুরার মর্যাদা ইসলামেও স্বীকৃত। মুসলমানগণ রোযা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর মাহাত্ম্য স্মরণ করে থাকে। আশুরার দিনে পৃথিবীর বহু চাঞ্চল্যকর ঘটনা সংঘটিত হয়। আসমান-জমিন, আরশ-কুরসী ও আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, করা হতে প্রথম আবহাওয়া, হযরত নূহ (আ.)-এর কিস্তি মহাপ্লাবন শেষে জুদী পাহাড়ে অবতরণ, ফেরাউনের নির্যাতন থেকে হযরত মূসা (আ.) ও তাঁর ইবনেস উদ্ধার, দরিয়ায় লোহিত হতে হযরত আইয়ুব (আ.)-এর রোগ লাভ, মাছের উদর হতে হযরত ইউনুস (আ.)-এর নির্গমণ, হযরত সোলায়মান (আ.)-কে পুনরায় সাম্রাজ্য প্রাপ্তি আনার, নান্দনিক অগ্নিতে হতে হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর নিষ্কৃতি, হযরত ইদ্রীস (আ.)-এর স্বর্গারোহণ প্রশংসিত, পক্ষ হতে হযরত ইউসুফ (আ.)-কে উদ্ধার, হযরত ঈসা (আ.) ও হযরত ঈসা (আ.)-কে আকাশে উত্তোলন, কারবালায় হযরত হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাতসহ বহু ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি বহনকারী আশুরা মহীটে আশুরার পবিত্র আশুরা পিয়াসী, ঐতিহাসিক মহরম, ৭. ৩৫-৩৬।
নবীজী হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লক্ষ্য করলেন যে, ইহুদিরা আশুরা দিনে রোযা রাখছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন এটা কোন দিন যাতে তোমরা রোযা রাখছো? তারা বলল, এটা এমন এক মহান দিবস, যদিনা আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা (আ.) ও তাঁর সম্প্রদায়কে মুক্তি প্রদান করেছিলেন, ফেরাউনকে তার সম্প্রদায়সহ ডুবিয়ে মেরেছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ.) কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এদিন রোযা রাখেন, এ জন্য আমরাও রোযা রাখি। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘তোমাদের চেয়ে আমরা মূসা (আ.)-এর অধিকতর ঘনিষ্ঠ ও নিকটবর্তী। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রোযা রাখেন এবং অন্যদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দেন [সহীহ মুসলিম, ১/৩৫৯]।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘রমযানের পর সব রোযার (নফল) মধ্যে আল্লাহর রোযা সর্বশ্রেষ্ঠ [মিশকাত ফরমায়ী ১/১৫৬]। ‘ পবিত্র আল্লাহর দিন রোযা রাখার ফজিলত সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি, যে ব্যক্তি আশুরা দিনে রোযা রাখবে তার এক বছরের গোনাহের কাফফারা (ক্ষমা) হয়ে যাবে [সহীহ মুসলিম, ১/৩৫৯]। ‘ আল্লাহর দিন রোযা রাখলে ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায় বিধায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর আগের দিন বা পরের দিন আরেকট রোযা রাখার পরামর্শ প্রদান করেছেন।
৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে ১০ মহররম (৬০ হিজরীর ১০ মহররম) কারবালা প্রান্তরে হযরত হুসাইন (রা.) অবিলম্বে শাহাদাত ঐতিহাসিক আশুরাকে তাৎপর্যমণ্ডিত করে।
১০ মহররম ইয়াযিদ বাহিনী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংঘটিত ও অসম যুদ্ধে একমত্র পুত্র ইমান ব্যাকুল আকাদীন জ্যৈষ্ঠ ৭০ জন পুরুষ শহীদ হন। ইমান হুসাইন (রা.) মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যান; অবশেষে শহীদও বরণ করেন। ইভোলিস সম্রাট ইমান হুসাইন (রা.)-কে কারবালা প্রান্তরে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল মাত্র ৫০ বছরের ব্যবধানে তাদের প্রত্যেকের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে করুণাময়। ইয়াযিদ বাহিনী কর্তৃক পবিত্র মানসীরা প্রান্তরে অবরুদ্ধকালীন ইয়াজিদদের মৃত্যু ঘটে আল্লাহর যপোর্ত মরিয়ন নষ্ট (রহ.)।
আশুরার শিক্ষা ও তাৎপর্য: ১. অন্যায় ও অসত্যের পিছে মাথা নত না করা; ২. আন্দোলন ও সংহাপের সংগ্রাম আসলে তা রক্ষা করা; ৩. জুলুম ও শোকের বিস্তার পৃথিবীতে রয়ে যায়, বাকি থাকে কেবল পরকাল বিস্তার; ৪. চোরেরা আত্মরক্ষার পতন অনিবার্য।
গৌরব যে, আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে এমন কিছু পাপিষ্ঠ সংঘটিত হয় যা শরীয়ত সম্মত নয়। আল্লাপঙ্জা, আওয়াজ, রায়া-পুষ্টি হওয়া, দুটি পূরণ গাইবার, ‘সাব নিদাতে’ পাকিণা, কালো কাপড় পরিধান, তাগিয়ান, ধূপে-পিঠে ধূপিকোরের সাথে আশুরা কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এসব বিদআতী পাঁপিণ্ড আশুরা ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে ম্লান করে দেয়।