শুক্রবার-২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি-১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়াকফ : এক হারানো ঐতহ্যিরে সন্ধানে (২)

ইসামুদ্দীন মাহমুদ


 

ইসলামে ওয়াকফ একটি গুরুত্বর্পূণ র্আথসামাজকি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ব্যক্তি নজিরে সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় স্থায়ীভাবে দান করে দনে। এটি দুনযি়া ও আখরিাত উভয় কল্যাণ র্অজনরে একটি উত্তম উপায়। ওয়াকফ শুধু ইবাদতরে মাধ্যম নয়, বরং সমাজরে দরদ্রি, অসহায় ও শক্ষর্িাথীদরে সহায়তায়ও এর ভূমকিা অনস্বীর্কায। প্রাচীনকাল থকেইে মুসলমি সমাজে ওয়াকফ ছলি শক্ষিা, চকিৎিসা, র্ধমীয় প্রতষ্ঠিান ও জনকল্যাণমূলক র্কমকাণ্ডরে এক শক্তশিালী ভত্তি।ি এই প্রবন্ধে ওয়াকফরে ধারণা, এর শরঈ বধিান, ইতহিাস, র্কাযকারতিা এবং র্বতমান সময়ে এর প্রয়োগ ও চ্যালঞ্জেসমূহ ধারাবাহকিভাবে আলোচতি হব।ে এ সংখ্যায় প্রকাশতি হলো ২য় কস্তি।

(৬) প্রাচীন মিশরীয় ইতিহাসে ওয়াকফের ধারণা:
প্রাচীন মিশরীয় ইতিহাসেও ওয়াকফের ধারণা পাওয়া যায়। মানুষ ধর্মীয় উপাসনালয়, দেবতা এবং সমাধির জন্য জমি নির্ধারণ করত, যাতে ওই জমির আয় সেগুলোর নির্মাণ ও মেরামত কাজের জন্য খরচ করা যেতে পারে, এবং সেগুলোর সেবক-শ্রমিকদের বেতন দেওয়া যেতে পারে। তারা এটি একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দেবতার কাছে নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে করত। ড. মোহাম্মদ অবিদ কাবিসি লিখেছেন:
“আজও মিশরীয় মিউজিয়ামে কিছু সেরকম সাইনবোর্ড পাওয়া যায়, যা থেকে জানা যায় যে, চতুর্থ রাজবংশের সময় কিছু জমি কতেক পুরোহিতের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছিল।” শায়খ কাবিসি ড. শফিকের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন:
“রামসেস দ্বিতীয় ‘অবিডোস’ মন্দিরকে ব্যাপক সম্পত্তি উপহার দিয়েছিলেন, এবং এই সম্পত্তির মালিকানা মন্দিরের দিকে স্থানান্তরিত করার জন্য একটি বড় অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছিল।”
এছাড়া প্রাচীন মিশরীয় ইতিহাসে পরিবারের সদস্য এবং সন্তানদের জন্য ওয়াকফের প্রমাণও পাওয়া যায়। যে জমি ওয়াকফ করা হত, তার মালিকানার অধিকার কাউকে দেওয়া হত না এবং তার আয় পরিবারের সদস্যদের কাছে চলে যেত। কর্তৃপক্ষের অধিকার সন্তান-সন্ততির মধ্য থেকে সবচেয়ে বড় ছেলের ভাগ্যে জুটতো।
(৭) রোমানদের মধ্যে ওয়াকফের ধারণা:
রোমানদের মধ্যে মন্দির এবং সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের একটি ব্যবস্থা ছিল। রোমানরা মনে করত যে, পবিত্র জিনিসগুলো যেমন উপাসনালয় এবং চড়াওয়ের (উপহার) মতো জিনিসগুলো বিক্রি করা জায়েজ নয় এবং কোনো ব্যক্তির জন্য সেগুলোর মালিক হওয়া সম্ভব নয়, কারণ এগুলো আল্লাহর অধিকারভুক্ত। শায়খ কাবিসি “জাস্টিনিয়ানের সংকলন” এর উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন:
“জাস্টিনিয়ানের সংকলন -এ বলা হয়েছে যে, পবিত্র বস্তু, ধর্মীয় বস্তু এবং হারাম বস্তু কোনো ব্যক্তির মালিকানা হতে পারে না, কারণ যেটি আল্লাহর জন্য, সেটি কোনো মানুষের মালিকানা হতে পারে না।”
রোমান দার্শনিক বাবিনিয়ান মনে করতেন যে, যদি কোনো পবিত্র স্থান ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তার জমি সর্বদা পবিত্র হয়ে বাকি থাকে। এই ধারণা আমাদের মসজিদ ব্যবস্থার সাথেও মিল রয়েছে।
(৮) জার্মান আইনে ওয়াকফের ধারণা:
বর্তমান যুগেও জার্মান আইনে এমন কিছু ব্যবস্থা রয়েছে যা ওয়াকফের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, জার্মান আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তি একটি নির্দিষ্ট পরিবারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারণ করতে পারে। এতে পরিবারটির সকল সদস্যের অধিকার থাকে, এবং এই সম্পত্তি বিক্রি করা যায় না, দান করা যায় না, এবং এর মধ্যে মিরাস চলতে পারে না। শুধু উপকারিতা লাভের অধিকার থাকে।
উপরোক্ত উদাহরণগুলো এই বিষয়টি প্রমাণ করে যে, ওয়াকফের ধারণা ইসলাম থেকে পূর্বেও বিদ্যমান ছিল এবং আজও অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতিতে বিভিন্ন আকারে বিদ্যমান রয়েছে। তবে ইসলাম এসে এর উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়াগুলো নির্ধারণ করেছে। এতে সংস্কার এবং সংশোধন এনেছে এবং এটিকে একটি সংগঠিত ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

ইসলামী আওকাফের ইতিহাস
রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং সাহাবীদের সময়কার ওয়াকফ
ইসলামী ওয়াকফের সূচনা প্রিয় নবী ﷺ এর হিজরতের সময় থেকে শুরু হয়। এর কিছু উদাহরণ আমরা তুলে ধরছি:
মসজিদে কুবা: এটি প্রথম নিয়মিত মসজিদ যা সাধারণ মুসলিমদের জন্য জামাতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়। এর আগে যদিও বিভিন্ন সাহাবায়ে কিরাম (রজিয়াল্লাহু আনহুম) এককভাবে নামাজ পড়ার জন্য স্থান নির্ধারণ করেছিলেন, তবে সেগুলো নিয়মিত মসজিদ ছিল না, বরং সেগুলোকে “মসজিদুল বায়ত” বলায় যথাযথ। এই মসজিদগুলোকেই কিছু মুআদ্দিসগণ মসজিদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল্লামা কাস্তাল্লানি ‘المواهب اللدنية’ তে লিখেছেন:
নবী ﷺ মসজিদে কুবা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি প্রথম মসজিদ যা ইসলাম আগমনের পর নির্মিত হয়েছিল, এবং এটি প্রথম মসজিদ যেখানে রাসূল ﷺ সাহাবীদের সাথে প্রকাশ্যে জামাত সহকারে নামাজ আদায় করেছিলেন, এবং এটি প্রথম মসজিদ যা সাধারণ মুসলিমদের জন্য নির্মিত হয়েছিল, যদিও এর আগে আরও কিছু মসজিদ নির্মিত হয়েছিল, তবে সেগুলো নির্মাতাদের সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত ছিল।
মসজিদে কুবা যেই জায়গায় নির্মিত হয়েছিল, সেটি ছিল কুলসুম ইবনুল হাদাম এর। তিনি এখানে খেজুর চাষ করতেন। প্রিয় নবী ﷺ তাঁর কাছ থেকে এই জায়গাটি মসজিদ নির্মাণের জন্য ক্রয় করে নিজ হাতেই এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লামা সামহুদী ‘وفاء الوفاء’ তে তাবরানী থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, যেখানে হযরত শামুস বিনতে নোমান (রা.) থেকে বর্ণিত :
তিনি বলেন: আমি নবী ﷺ কে দেখেছিলাম যখন তিনি মসজিদে কুবা প্রতিষ্ঠা করতে এসেছিলেন, তিনি তিনি পাথর তুলছিলেন। আমার মনে হয়، আমি এখনো তাঁর পেট বা নাভিতে মাটির সাদা ভাব অবলোকন করছি। তাঁর সাহাবীগণের কেউ কেউ এসে বলতেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা-বাবা আপনার উপরে উৎসর্গিত হোক, এই পাথর আমাকে দিন”, তখন তিনি বলতেন: “না, তুমি অন্য পাথর নাও”, এভাবে মসজিদ প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন করেছিলেন। এটাই সেই মসজিদ যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন যে এর ভিত্তি ছিল তাকওয়ার ওপর।
“لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَىٰ مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَنْ تَقُومَ فِيهِ۔”
“এমন মসজিদ যা প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, আপনার সালাত আদায়ের জন্য এটিই বেশি উপযুক্ত।”
মসজিদে নববী: মসজিদে কুবার প্রতিষ্ঠার পরে, যখন প্রিয় নবী ﷺ মদীনা মুনাওয়ারায় পৌঁছালেন, তিনি সেখানে মসজিদে নববীর ভিত্তি স্থাপন করেন। মসজিদে নববী যে জায়গায় নির্মিত হয়েছিল, তা ছিল সেই স্থান যেখানে প্রিয় নবী ﷺ এর উট বসেছিল। এটি ছিল বনি নাজ্জারের দুই অসহায় শিশু, সাহল এবং সুহায়লের মালিকানাধীন এবং এখানে খেজুর চাষ করা হতো। প্রিয় নবী ﷺ যখন উক্ত স্থানে মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তিনি বনি নাজ্জারকে ডাকেন এবং বুখারী শরীফে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রয়েছে যে, তিনি তাঁদের বলেন:
“يا بني النجار! ثامنوني بحائطكم هذا۔”
(হে বনি নাজ্জার! তোমরা তোমাদের এই বাগান আমাদের বিক্রি করো এবং এর মূল্য নির্ধারণ করো।)
প্রতিউত্তরে তারা বলেছিল:
“لا والله! لا نطلب ثمنه إلا إلى الله۔”
(না, আল্লাহর কসম! আমরা এর মূল্য শুধু আল্লাহর কাছেই চাই।)
বুখারী শরীফের এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, বনি নাজ্জার এই জমি প্রিয় নবী ﷺ কে বিক্রি করেননি, বরং এটি মসজিদে নববীর জন্য নিজেরাই ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। তবে নির্ভরযোগ্য মতানুসারে বনি নাজ্জার এই জায়গাটি ওয়াকফ করে দেয়নি বরং রাসূল ﷺ নিজেই তা ক্রয় করে মসজিদে নববীর জন্য ওয়াকফ করেছিলেন। এটি দ্বিতীয় মসজিদ ছিল যা সাধারণ মুসলিমদের জন্য জামাতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল। এর পর নবী ﷺ এর যুগে আরও অনেক মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।
রুমা কুপ: যখন মহানবী ﷺ হিজরত করে মদীনায় পৌঁছলেন, তখন সেখানে পানির অভাব ছিল। সেখানে মাত্র একটি কুয়া ছিল, যার নাম ছিল ‘বিরে রুমা’। এর পানি ছিল অত্যন্ত সুস্বাদু এবং মিষ্টি। এটি একটি প্রাচীন কুয়া ছিল। আল্লামা সামহুদী তাঁর “وفاء الوفاء” গ্রন্থে লিখেছেন:
“যখন ইয়েমেনের রাজা তুব্বা মদিনায় এসেছিলেন, তখন তিনি এই কুয়া খনন করেছিলেন, এবং এটি ‘বিরূল মালিক’ নামে পরিচিত হয়েছিল।”
ইবনু আবদিল বার’র বর্ণনা অনুযায়ী হিজরতের সময় এটি এক ইহুদী ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল, মুসলমানরা তার কাছ থেকে পানি ক্রয় করে নিজেদের প্রয়োজন পূরণ করতেন। মহানবী ﷺ এ অবস্থা দেখে বললেন: “কে সেই ব্যক্তি, যে বিরে রুমাকে কিনে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করবে এবং তার জন্য জান্নাতে পানির উৎস থাকবে?” হযরত ওসমান গনি (রা.) যখন এটি শুনলেন, তখন তিনি অবিলম্বে ওই ইহুদীর কাছে গিয়ে কুয়া কেনার জন্য আলোচনা শুরু করলেন। ইহুদী পুরো কুয়া বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে, হযরত ওসমান (রা.) কুয়ার অর্ধেকটি ১২,০০০ দিনারে কিনে মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ করলেন। হযরত ওসমান (রা.) ইহুদীকে একটি প্রস্তাব দেন যে, একদিন তুমি কুয়া ব্যবহার করো, একদিন আমি ব্যবহার করবো। ইহুদী এতে সম্মত হন। যখন হযরত ওসমান (রা.) এর পালা এলে মুসলমানরা সেদিন এত পানি উত্তোলন করতেন যা দুই দিনের জন্য যথেষ্ট হত। আর যখন ইহুদীর পালা আসত, কেউ পানি কিনতে আসত না। ইহুদী যখন এটি দেখে, তখন তিনি হযরত ওসমান (রা.)এর কাছে বলেন, “আপনি আমার কুয়া নষ্ট করে দিয়েছেন, তাই দ্বিতীয় অংশটিও আপনি কিনে নিন।” অতঃপর হযরত ওসমান (রা.) তার দ্বিতীয় অংশ ৮,০০০ দিরহামে কিনে পুরো কুয়াটি মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ করে দেন।
যদিও বহু অনুসন্ধানের পরও এই ওয়াকফের সঠিক তারিখ খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে আগের বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে অনুমান করা যায় যে এটি হিজরতের প্রথম সময়কার ছিল, তাই বলা যেতে পারে যে, বিরে রুমা ইসলামের ইতিহাসে কূপ ইত্যাদি প্রকারের প্রথম ওয়াকফ ছিল, যদিও এর আগে মসজিদে কুবা এবং মসজিদে নববী ওয়াকফ করা হয়েছিল।
নবীজি ﷺ এর ওয়াকফ:
নবীজি ﷺ স্বয়ং সাতটি বাগান আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করেছিলেন, যা নবীজির জন্য মুখাইরিক নামক একজন ইহুদী ব্যক্তি ওসিয়ত করেছিলেন। মুখাইরিক একজন বড় আলিম ছিলেন এবং তিনি ধনী ও অনেক বাগানের মালিক ছিলেন। তিনি নবী ﷺ এর গুণাবলী ভালোভাবে জানতেন এবং ইসলাম ধর্মের সাথে বেশ পরিচিত ছিলেন। উহুদের দিন তিনি ইহুদীদের বলেছিলেন, “আল্লাহর কসম, তোমরা জানো যে মুহাম্মদ ﷺ এর সাহায্য করা তোমাদের ওপর আবশ্যক।” তারা উত্তরে বলেছিল, “আজ শনিবার, আমাদের ধর্মে এই দিনে যুদ্ধ করা নিষিদ্ধ।” মুখাইরিক বললেন, “আল্লাহ তোমাদের কোনো শনিবার দিবস না দিন!” তিনি তার অস্ত্র নিয়ে নবী ﷺ এর সাহায্যে উহুদের মাঠে পৌঁছালেন এবং তাঁর জাতির সঙ্গে এ কথা বলেছিলেন যে, যদি আজ আমাকে হত্যা করা হয়, তবে আমার সম্পত্তি সব নবী ﷺ এর হবে, তিনি যা চাইবেন তা করতে পারবেন। যুদ্ধ শুরু হলে, তিনি চমৎকারভাবে লড়াই করলেন এবং শেষ পর্যন্ত নিহত হলেন। নবী ﷺ বলতেন, “মুখাইরিক ছিল ইহুদীদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো,” এবং নবী ﷺ তার সম্পত্তি গ্রহণ করলেন, এবং তার নির্দেশে সেই সম্পত্তির আয় মুসলিমদের জন্য খরচ করা হতো।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ