হযরতুল উসতায শায়খ মুফতী হাফীজুদ্দীন সাহেব দা. বলেন, “মহিলা মাদরাসাগুলো সিলেবাসমুখী না হয়ে সিফাতমুখী হওয়া উচিত”।
নারী শিক্ষা নিয়ে বাস্তবভিত্তিক, সুন্দর একটি ভাবনা। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদেরকে কর্মমুখী শিক্ষা বেশি দেওয়া উচিত, যা তাদের দৈনন্দিন বাস্তব জীবনে প্রয়োজন হবে। বিশেষত তাদের দাম্পত্য, পারিবারিক ও সংসারিক জীবনে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের তাত্ত্বিক জ্ঞান-শিক্ষার প্রয়োজন কম। তাই নিছক তাত্ত্বিক বিষয়গুলো মেয়েদের সিলেবাস সীমিত হওয়া ভালো। হ্যাঁ, ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবার জ্ঞান এবং শিক্ষাই কর্মমুখী হওয়া প্রয়োজন।
‘সিফাত’ মানে কী?
উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, সিফাত মানে এমন কিছু যেটা জ্ঞান বা শিক্ষার গণ্ডিতে থাকবে না; বরং বাস্তবজীনবেও তা ধারণ করা হবে। যে জ্ঞানের ছাপ থাকবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। এসব সিফাতকে মোটাদাগে কয়েকটি শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা যেতে পারে—
এক. الصفات الأخلاقية বা চারিত্রিক গুণাবলি : মানবীয় নৈতিক গুণাবলি। ভালো গুণগুলো অর্জন করা এবং মন্দ গুণ থেকে বেচে থাকা। যেমন: সবর, কানাআত, শোকর ইত্যাদি চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন করা। পক্ষান্তরে, হিংসা-বিদ্বেষ, অযথা ক্রোধ, অধৈর্য হওয়া, অকৃতজ্ঞতা ইত্যাদি চারিত্রিক দোষগুলো থেকে বেচে থাকা।
দুই. الصفات الأدبية বা শিষ্টাচারমূলক গুণাবলি : জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইসলামের হিদায়াত রয়েছে। যেগুলোকে আমরা ‘আলআদাবুল ইসলামিয়্যাহ’ শিরোনামে জানি। যেমন: সালামের আদব, কথা বলার আদব, মেহমানের আদব ইত্যাদি।
তিন. الصفات المهارية বা দক্ষতামূলক গুণাবলি : বর্তমান যুগটা হল বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বা স্কিলের যুগ। দিনদিন নানান স্কিল সামনে আসছে। এসব স্কিল দৈনন্দিন জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সহায়ক।
স্কিল আবার দু ধরনের। যথা: ১. সফট স্কিল এবং ২. হার্ড স্কিল।
অবশ্য বর্তমান সময়ের আধুনিক সফট স্কিলের ধারণা ইসলামের আখলাকের ধারণার সাথে এবং হার্ড স্কিল কনসেপ্ট ইসলামের আদাব কনসেপ্টের সাথে অনেক সাযুজ্যপূর্ণ।
নিচে মহিলাদের জন্য উপযোগী কিছু স্কিল বা দক্ষতা নিচে তালিকাভুক্ত করা হল, এসব দক্ষতা জীবনের নানা ক্ষেত্রে যেমন পারিবারিক, পেশাগত বা আত্মনির্ভরতায় সহায়ক হতে পারে। তালিকাটি প্রাকৃতিক গুণাবলি, সামাজিক ভূমিকা এবং আধুনিক বাস্তবতাকে মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে :
প্রথমত—ইসলামী জ্ঞান ও দাওয়াহ ও তালীম স্কিল:
১. কুরআন তিলাওয়াত ও তাজবীদ
২. আরবী ভাষা শিক্ষা
৩. ইসলামী জ্ঞান শিক্ষা (ফিকহ, আকীদাহ, হাদীস)
৪. বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও বিশুদ্ধ পঠন দক্ষতা
৫. বাচ্চাদের ইসলামী শিক্ষা দেওয়ার দক্ষতা
৬. নারীদের মাঝে তালীম ও দাওয়াহ কৌশল ইত্যাদি।
দ্বিতীয়ত—পারিবারিক ও দৈনন্দিন জীবনের স্কিল:
১. রান্নাবান্না
২. খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান
৩. গার্হস্থ্যবিদ্যা বা ঘর পরিচালনা ও বাজেট ম্যানেজমেন্ট
৪. শিশু পরিচর্যা
৫. মনোবিজ্ঞান
৬. পরিচ্ছন্নতা
৭. স্বাস্থ্য সচেতনতা
৮. জরুরি ও প্রাথমিক চিকিৎসা জ্ঞান (First Aid) ইত্যাদি।
তৃতীয়ত—ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতামূলক স্কিল:
১. যোগাযোগ দক্ষতা
২. টাইম ম্যানেজমেন্ট ও পরিকল্পনা দক্ষতা
৩. ইংরেজি ভাষা বা অন্যান্য ভাষা শেখা
৪. আত্মরক্ষা কৌশল
৫. মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও আত্মউন্নয়ন।
চতুর্থত—হস্তশিল্প ও সৃজনশীলতামূলক স্কিল:
১. সেলাই / টেইলারিং
২. কাছারী / এমব্রয়ডারি
৩. জুয়েলারি বা হস্তশিল্প তৈরি
৪. বেকিং ও হোম-কুকিং ব্যবসা
৫. ডায়রি ও কার্ড ডিজাইন ইত্যাদি।
নাঈম আহমাদ
ঢাকা