শনিবার-২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি-৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহান রবের ডাকে সাড়া দিলেন মুফতী আবু তাহের নদভী রহ.

মহান রবের ডাকে সাড়া দিলেন মুফতী আবু তাহের নদভী রহ.

মাসিক আত তাওহীদের পরিবার গভীরভাবে শোকাহত

দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ সারাদেশের দীনি অঙ্গন আজ শোকে স্তব্ধ। হৃদয় আজ ভারাক্রান্ত। কলম আজ কাঁপছে। কারণ গত ৩০ মার্চ ২০২৬ খ্রি. আমরা হারালাম আমাদের প্রিয় রাহবার। আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। মাসিক আত তাওহীদ-এর প্রধান সম্পাদক, হযরত মুফতী আবু তাহের কাসেমী (রহিমাহুল্লাহ)-কে। তাঁর ইন্তেকাল যেন এক আলোকিত যুগের অবসান। এক জীবন্ত ইতিহাসের পরিসমাপ্তি।
তিনি ছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব, যার পরিচয় কোনো পদ বা উপাধিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন এক চলমান মাদরাসা। এক জীবন্ত দরস। এক প্রেরণার মশাল। তাঁর কলম ছিল ইলমের বাহন। তাঁর চিন্তা ছিল উম্মাহর কল্যাণে নিবেদিত। আর তাঁর প্রতিটি শব্দ ছিল হৃদয়কে জাগ্রত করার এক অনুপম আহ্বান।
মাসিক আত তাওহীদ-এর পাতায় পাতায় আজও তাঁর ছাপ অম্লান। এই পত্রিকা তাঁর কাছে শুধু একটি প্রকাশনা ছিল না; এটি ছিল একটি দাওয়াতি মিশন, একটি চিন্তার বিপ্লব, একটি আত্মিক জাগরণের মাধ্যম। তিনি কলম ধরতেন দায়িত্ববোধ নিয়ে। লিখতেন ইখলাসের অশ্রু মিশিয়ে। আর প্রতিটি লেখায় ফুটে উঠত এক আলেমের দরদ, এক মুরব্বির মমতা, এক দায়ীর আহ্বান।
তাঁর সান্নিধ্যে যারা এসেছেন, তারা জানেন—তাঁর সামনে বসলে হৃদয়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে আসত। তাঁর ব্যক্তিত্বে ছিল এক অনন্য সমন্বয়—হায়বত ও মমতা। কঠোরতা ও কোমলতা। শাসন ও স্নেহ। তিনি যেমন সত্যের ক্ষেত্রে ছিলেন আপসহীন, তেমনি মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে ছিলেন সীমাহীন সহানুভূতিশীল।
তাঁর জীবন ছিল সরলতার প্রতীক। দুনিয়ার চাকচিক্য তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি; বরং তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন দীনের খেদমতে। উম্মাহর কল্যাণে। ছাত্রদের তারবিয়াতে। গভীর রাতে তাহাজ্জুদের কান্না, নীরব মুহূর্তে জিকির, আর দিনের বেলায় ইলমের পাঠদান—এই ছিল তাঁর জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।
আজ তাঁর ইন্তেকালে আমরা যেন হঠাৎ করেই এতিম হয়ে পড়েছি। মাসিক আত তাওহীদ আজ তার এক প্রজ্ঞাবান অভিভাবককে হারিয়েছে। এই পত্রিকার প্রতিটি অক্ষর যেন আজ শোকাহত। প্রতিটি পৃষ্ঠা যেন তাঁর অনুপস্থিতিতে নিঃশব্দে কাঁদছে। কিন্তু হযরত আমাদের শিখিয়ে গেছেন—মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার রেখে যাওয়া আদর্শ কখনো মরে না। তাঁর ছাত্ররা, তাঁর লেখা, তাঁর গড়ে দেওয়া চিন্তা—এসবই আজ তাঁর জীবন্ত উত্তরাধিকার।
আজ আমাদের দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। আমাদের দায়িত্ব—তাঁর ইলম ও হিলমের সেই সত্যনিষ্ঠ ধারা অব্যাহত রাখা। তাঁর চিন্তার সেই বিশুদ্ধতা অক্ষুণ্ণ রাখা। তাঁর ইখলাস ও তাকওয়াকে নিজেদের জীবনে ধারণ করা।
আমরা তাঁর জন্য দুআ করি—হে আল্লাহ! আপনার এই প্রিয় বান্দাকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন। নূরে ভরে দিন। তাঁর ইলমকে তাঁর জন্য সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করুন। তাঁকে নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সালেহীনদের সঙ্গ দান করুন।
আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আলো আমাদের পথ দেখাবে—ইনশা আল্লাহ। তাঁর স্মৃতি থাকবে আমাদের কলমে, আমাদের কাজে, আমাদের হৃদয়ের গভীরে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ