---

কালের আবর্তনে ও পবিত্র মাসসমূহের পয়গাম

কালের আবর্তনে ও পবিত্র মাসসমূহের পয়গাম

হাফেজ মুহাম্মদ জাফর সাদেক

মুহাদ্দিস, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া

عَنْ أَبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «الزَّمَانُ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا، مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ، ثَلَاثَةٌ مُتَوَالِيَاتٌ: ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمَحَرَّمُ، وَرَجَبُ مُضَرَ، الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ».

হযরত আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন:

“যেদিন আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, কাল (সময়) আপন নিয়মে ঘুরে আবার সেই আদি অবস্থায় ফিরে এসেছে। বারো মাসে এক বছর; এর মধ্যে চারটি মাস হলো সম্মানিত। তিনটি মাস ধারাবাহিক, জিলকদ, জিলহজ ও মহরম; আর চতুর্থটি হলো ‘মুদার’ গোত্রের রজব মাস, যা জুমাদাস সানি ও শাবান মাসের মাঝখানে অবস্থিত।”

(বুখারি: ৩১৯৭)

হাদিসের প্রেক্ষাপট

হিজরী দশম বছর। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) হজের ঘোষণা দিলেন। এই পুণ্যময় সংবাদ শুনে দিকদিগন্ত থেকে ছুটে এলো মুমিন জনতা। মদিনার চারপাশে তাঁবুর শহর গড়ে উঠল। লাখো সাহাবীর এক বিশাল জনসমুদ্র নিয়ে আল্লাহর রাসুল (ﷺ) হজের উদ্দেশ্যে বের হলেন। এই বিশাল সমাবেশে তিনি তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় হজের খুতবা প্রদান করেন। এই খুতবায় তিনি জাহেলি যুগের সমস্ত অন্ধবিশ্বাস ও কুপ্রথাকে পায়ের নিচে পিষ্ট করেন এবং সাম্য, মানবিক অধিকার ও তাকওয়ার ভিত্তি স্থাপন করেন। এই ঐতিহাসিক ভাষণেই তিনি সময়ের বা বছরের সঠিক আবর্তন এবং সম্মানিত মাসগুলোর বিধান নিয়ে উপরোক্ত হাদিসটি উম্মাহর সামনে তুলে ধরেন।

‘নাসি’: জাহেলিয্যের এক অন্ধকার প্রথা

‘নাসি’ (النَّسِيءُ) হলো ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগের এমন একটি মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর প্রথা, যার মাধ্যমে আরবরা হযরত ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)-এর রেখে যাওয়া পবিত্র মাসগুলোর সম্মান ও হজের বিধানকে বিকৃত করেছিল।

আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম প্রজ্ঞায় এই চারটি মাসকে আরবের জন্য একটি ‘শান্তিকাল’ (هُدْنَة) হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন; যাতে এই সময়ে তারা নিজেদের জান-মাল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও হজের সফরে পূর্ণ নিরাপত্তা লাভ করতে পারে। ইবরাহিমী দীনের প্রভাবে প্রথমদিকে আরবরা এই মাসগুলোকে এতটাই সম্মান করত যে, এই মাসগুলোতে কোনো ব্যক্তি তার পিতা বা ভাইয়ের হত্যাকারীকে হাতের নাগালে পেলেও তাকে সামান্যতম আঘাত করত না।

কিন্তু কালক্রমে যখন তাদের জীবনযাত্রা পুরোপুরি যুদ্ধবিগ্রহ, লুটতরাজ ও প্রতিশোধপরায়ণতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ল, তখন তাদের জন্য টানা তিনটি মাস (জিলকদ, জিলহজ ও মহরম) যুদ্ধ থেকে বিরত থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াল। শয়তান তখন তাদের সামনে ধর্মের এক বিকৃত রূপ চমৎকারভাবে উপস্থাপন করল। তারা নিজেদের প্রবৃত্তি ও স্বার্থসিদ্ধির জন্য মাসগুলোর পবিত্রতা নিয়ে অপব্যাখ্যা শুরু করল।

যেভাবে তারা পবিত্র মাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলত

তাদের গোমরাহির ধারণাটি ছিল অদ্ভুত। যখন মহরম মাস উপস্থিত হতো এবং তারা কোনো যুদ্ধে লিপ্ত থাকত, তখন তারা ঘোষণা করে দিত—”এ বছর মহরম মাস হালাল (যুদ্ধ করা জায়েজ), এর বদলে আমরা সফর মাসকে হারাম করে নিলাম!” পরবর্তী বছর যদি তাদের সফর মাসে যুদ্ধের প্রয়োজন হতো, তবে তারা সেটাকে হালাল করে রবিউল আউয়াল মাসকে হারাম ঘোষণা করা হতো। এভাবে তারা নিজেদের সুবিধামতো মাসের পর মাস পরিবর্তন করত।

শুধু তাই নয়, এই ‘নাসি’ প্রথার মাধ্যমে তারা চন্দ্রবছরের সাথে সৌরবছরের একটি কৃত্রিম সমন্বয় সাধনের অপচেষ্টা করত। তারা কখনো বছরের সাথে ১১ দিন, আবার কখনো পুরো এক মাস অতিরিক্ত যোগ করে দিত। এর পেছনে তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল— হজের মৌসুমটি যেন সবসময় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সফরের জন্য সবচেয়ে অনুকূল ঋতুতে গিয়ে পড়ে।

এভাবেই নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও প্রবৃত্তির তাড়নায় তারা বছরের পর বছর ধরে হজের প্রকৃত সময়কে পরিবর্তন করে ফেলেছিল।

তারা মাসের কেবল সংখ্যাটাই ঠিক রাখত, কিন্তু পবিত্র মাসগুলোর নির্দিষ্টতা বা পবিত্রতা নিয়ে তারা কোনো পরোয়ায়ী করত না। তাদের এই গোমরাহি ও ধৃষ্টতার ভয়াবহতা তুলে ধরে পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এরশাদ হয়েছে:

إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ ۖ يُضَلُّ بِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا لِيُوَاطِئُوا عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فَيُحِلُّوا مَا حَرَّمَ اللَّهُ ۚ زُيِّنَ لَهُمْ سُوءُ أَعْمَالِهِمْ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ [التوبة 37]

“নিশ্চয়ই ‘নাসি’ (মাস পিছিয়ে দেওয়া) কুফরির ক্ষেত্রে আরও একপন্থা বৃদ্ধি। এর মাধ্যমে কাফিরদেরকে গোমরাহ করা হয়। তারা কোনো বছর একে হালাল করে নেয়, আবার কোনো বছর হারাম করে। যাতে তারা আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোর গণনার সাথে মিল রাখতে পারে এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন, নিজেদের জন্য হালাল করে নিতে পারে। তাদের মন্দ আমলগুলো তাদের চোখে সুশোভন করে দেওয়া হয়েছে। আর আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়েত দান করেন না।” (সুরা আত-তাওবা: ৩৭)

আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেন না।” (সুরা তাওবা, আয়াত: ৩৭)

বিদায় হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাদের এই জঘন্য মানসিকতা ও প্রথাকে বাতিল করে পুনরায় আল্লাহর নির্ধারিত শাশ্বত নিয়মের ঘোষণা দিলেন—

اَزَّمَانُ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ

“কাল তার আদি অবস্থায় ফিরে এসেছে।”

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই ঘোষণা শুধু একটি সাধারণ বক্তব্য ছিল না, বরং তা ছিল নবুয়তের এক মহাসত্যের প্রমাণ। তাঁর এই সংবাদ জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিখুত হিসাব ও ইতিহাসের একটি প্রমাণের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। গায়েবের এই নিখুঁত জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাঁর কাছে এসেছিল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُطْلِعَكُمْ عَلَى الْغَيْبِ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَجْتَبِي مِنْ رُّسُلِهِ مَنْ يَشَاءُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ (آل عمران (۹۷۱)

“আর আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদেরকে গায়েবের সংবাদ জানাবেন; বরং আল্লাহ তাঁর রাসুলদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান আনো…” (সুরা আল ইমরান, আয়াত: ১৭৯)।

কালের সঠিক আবর্তন: কখন ঘটেছিল এই প্রত্যাবর্তন?

ইতিহাস ও সীরাতের গবেষকদের কাছে সবচেয়ে প্রবল ও বিশুদ্ধ মত হলো, হিজরতের প্রথম বছর থেকেই ইসলামের আগমনে ‘নাসি’ প্রথার সেই অন্ধকার দূরীভূত হতে শুরু করে। ইসলামী যুগে এমন কোনো হজ অনুষ্ঠিত হয়নি, যা কালের সেই আদি ও অকৃত্রিম আবর্তনের বাইরে ছিল—যে নিখুত নিয়মে মহান আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছিলেন। আর এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পবিত্র জীবনের শেষভাগে বিদায় হজের ময়দানে বিশ্বাসীকে জানিয়ে দেন যে, ইসলামের নূর ও সত্যের আলোতে মাস পরিবর্তনের এই বাতিল প্রথার চিরতরে অবসান ঘটেছে।

সম্মানিত মাসসমূহের ফযীলত ও তাকওয়ার দাবি:

অন্যান্য মাসের তুলনায় এই চারটি মাসকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার অর্থই হলো এগুলোর অনন্য ফযীলত ও মর্যাদা রয়েছে। এই মাসগুলোতে নেক আমলের সওয়াব যেমন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়, তেমনি পাপাচারের শাস্তিও অনেক ভয়াবহ।

বিখ্যাত মুফাসসির হজরত কাতাদা (রহ.) পবিত্র কুরআনের আয়াত:

(فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنْفُسَكُمْ)

-এর চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সম্মানিত মাসগুলোতে কোনো জুলুম বা পাপাচার করা অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বড় অপরাধ ও মারাত্মক গুনাহ। যদিও সব সময়ই জুলুম করা মহাপাপ, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর ইচ্ছামতো যেকোনো বিষয়কে বিশেষ মর্যাদা দিতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে কিছু কিছু সত্তাকে বিশেষভাবে মনোনীত করেছেন। ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে রাসুলদের বেছে নিয়েছেন। বাক্যের মধ্য থেকে তাঁর জিকিরকে, জমিনের বুক থেকে পবিত্র মসজিদগুলোকে, মাসগুলোর মধ্য থেকে রমজান ও সম্মানিত চার মাসকে, দিনগুলোর মধ্য থেকে জুমাবারকে এবং রাতগুলোর মধ্য থেকে লাইলাতুল কদরকে তিনি বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। সুতরাং, আল্লাহ যেগুলোকে সম্মানিত করেছেন, তোমরাও সেগুলোকে সম্মান করো। কেননা, জ্ঞানী ও চিন্তাশীল মুমিনদের কাছে মহান আল্লাহর সম্মানিত বিষয়গুলোকে সম্মান করাই হলো প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা ও তাকওয়ার লক্ষণ।” (তাফসির ইবনে কাসির: ৭/১৯৮)

সৃষ্টির মাঝে আল্লাহ তাআলার বিশেষ মনোনয়নের রহস্য

এই মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু, স্থান কিংবা কাল—সবই মহান আল্লাহর সৃষ্টি। কোনো বস্তুর নিজস্ব এমন কোনো গুণ বা ক্ষমতা নেই যার কারণে সে অন্য কিছুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করতে পারে। তাহলে কেন কিছু সময় বা স্থান অন্যান্যগুলোর চেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ হয়?

এর একমাত্র উত্তর হলো—মহান আল্লাহর প্রজ্ঞা ও তাঁর একক সিদ্ধান্ত। তিনি তাঁর অপার মহিমায় যাকে ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা এবং যে বিষয়ের ওপর ইচ্ছা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন। স্থান, কাল কিংবা কোনো সত্তার মাঝে এই যে তারতম্য বা বৈচিত্র্য, এটি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও মনোনয়নের ওপর নির্ভরশীল। যদি আল্লাহ তাআলা কোনো বিশেষ স্থান বা সময়কে আলাদা মর্যাদা না দিতেন, তবে পৃথিবীর সব স্থান ও সব সময় সমান গুরুত্ব বহন করত।

আল্লাহ ভালো করেই জানেন কোন সময়টি মানুষের ইবাদতের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী এবং কোন স্থানটি তাঁর রহমতের নাজিলের কেন্দ্রবিন্দু। মানুষ তার সীমিত বুদ্ধি দিয়ে এই বিশাল হিকমত বা রহস্য পুরোপুরি অনুধাবন করতে অক্ষম। আর তাই মুমিনের আসল দায়িত্ব হলো, আল্লাহর এই মনোনয়নের রহস্যের পেছনে না ছুটে প্রতিটি ফয়সালার সামনে মাথা নত করা।

একবার হজরত ওমর (রা.) কাবা শরিফ তাওয়াফ করার সময় হাজরে আসওয়াদের (কালো পাথর) সামনে এসে দাঁড়ালেন। পাথরটিকে সম্বোধন করে তিনি এমন একটি কথা বললেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত আগত পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। তিনি বললেন: “আল্লাহর কসম! আমি খুব ভালো করেই জানি যে তুমি কেবলই একটি পাথর। তুমি কারও কোনো উপকারও করতে পারো না, আবার কারও কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতাও তোমার নেই। যদি আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, তবে আমি কখনোই তোমাকে চুম্বন করতাম না।”

হজরত ওমর (রা.)-এর এই কালজয়ী বক্তব্যটি আমাদের শেখায় যে, ইসলামের প্রতিটি বিধানের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর রাসুলের নিঃশর্ত আনুগত্য। আমরা হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করি এই জন্য নয় যে পাথরটির কোনো অলৌকিক ক্ষমতা আছে, বরং এই জন্য করি যে আমাদের প্রিয় নবীজি এটিকে চুম্বন করেছেন। আল্লাহর দেওয়া সম্মানকে মনে-প্রাণে মেনে নেওয়ার নামই হলো প্রকৃত ঈমান।

আল্লাহ তাআলা এই চারটি পবিত্র মাসকে যেভাবে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিন্যাস করেছেন, তার পেছনে রয়েছে এক গভীর প্রজ্ঞা ও বান্দার প্রতি বিশেষ ইহসান।

তিনটি মাস একাধারে (জিলকদ, জিলহজ ও মহরম): এই দীর্ঘ শান্তিকাল মূলত হজের সফরকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করার জন্য রাখা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত আল্লাহর মেহমানরা যেন জিলকদ মাসে নিশ্চিন্তে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন, জিলহজ মাসে পরম শান্তিতে হজের যাবতীয় রীতিনীতি সম্পন্ন করতে পারেন এবং মহরম মাসে নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন।

রজব মাসটি এককভাবে বছরের মাঝে: এই মাসটি বছরের মাঝামাঝি সময়ে আলাদাভাবে আলাদা রাখার হলো, যেন আরবের দূর প্রান্তের মানুষ বছরের অন্য সময়েও কোনো প্রকার যুদ্ধবিগ্রহ বা জান-মালের ভয় ছাড়া ওমরাহ পালন এবং বাইতুল্লাহর জিয়ারত সম্পন্ন করতে পারে।

আসমহুরেহরুম নির্দিষ্ট ইবাদতের কেন্দ্রবিন্দু:

  • মহরম: বছরের প্রথম মাস মহরম অত্যন্ত বরকতময় এবং এর ১০ তারিখ (আশুরা) বিশেষ ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিবিজড়িত।

  • রজব: রজব মাস ইবাদতের মাধ্যমে সামনে আগত রমজান মাসের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি নেওয়ার উত্তম সময়।

  • জিলকদ: জিলকদ মাসটি হজের সফরের প্রাথমিক প্রস্ততির মাস হিসেবে বিবেচিত।

  • জিলহজ: এই সম্মানিত চার মাসের মধ্যে জিলহজ সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মাস। এই মাসে ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হজ ও কোরবানি আদায় করা হয় এবং প্রথম ১০ দিনের আমল আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।

উপল্লিখিত হাদিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সম্মানিত মাসগুলোর সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেক মুমিনের ইমানি দায়িত্ব এবং এই সময়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সহজ হলে তা সারা বছর গুনাহমুক্ত থাকতে সাহায্য করে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ