মুহাম্মাদ মোশাররফ হুসাইন
এই জগত সংসারে জীবনযুদ্ধে লড়তে লড়তে অনেক সময় আমাদের হৃদয়টা একেবারে অস্থির হয়ে উঠে। নিজের চারপাশটাকে কেমন যেন শূন্য শূন্য লাগে। নিজেকে বড় একা মনে হয়। মনে হয় এই অস্থির হৃদয়টা যেন কীসের খোঁজে ধূসর সাহারায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। গভীর সমুদ্রের মাঝে কূলে ভেড়ার আশায় হাত-পা ছুঁড়ছে। আমরা অনেকে আছি, এই অস্থিরতা থেকে মুক্তি লাভের জন্য বিনোদনের রাস্তা বেছে নিই। ভোগের সমুদ্রে গা ভাসিয়ে দিয়ে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করার ব্যর্থ চেষ্টা করি। কিন্তু সাময়িক এই বিনোদন কি আমাদের অন্তর থেকে অস্থিরতা দূর করতে সক্ষম হয়? না, কক্ষনো না; বরং অনেক সময় অস্থিরতা আরো বেড়ে যায়। আর আমরা মহান প্রভুর নাফরমানির সাগরে আরো নিমজ্জিত হতে থাকি। পৌঁছে যাই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
আসলে আমরা শান্তির খোঁজে ভুল পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি। তাই দিন দিন আমাদের অস্থিরতা আরো বেড়ে যাচ্ছে। প্রকৃত অর্থে আমাদের অস্থিরতার মূল কারণ হলো, আমাদের এই হৃদয় অনেক ক্ষুধার্ত। কারণ, দিনের পর দিন আমরা এই হৃদয়কে তার কাঙ্ক্ষিত খোরাক থেকে বঞ্চিত রেখেছি। অন্তরের খোরাক হলো, মহান মহিয়ান রবের স্মরণে সর্বদা তাকে প্রফুল্ল রাখা। কুরআন আমাদেরকে এটিই ইংগিত করে : أَلا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
তাই তো আধ্যাত্মিক জগতের ওই মহান সাধকগণ—যাঁরা নিজেদের হৃদয়কে সঠিক খোরাক সরবরাহ করে থাকেন এবং সর্বদা মহান প্রভুর প্রেমের সাগরে ডুবে থাকেন, পৃথিবীর বুকে তাঁরা প্রফুল্লচিত্তে বসবাস করেন। কালের শত দুঃখ-দুর্দশা, ব্যথা-বেদনা তাঁদের অন্তরকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারে না। কেড়ে নিতে পারে না তাঁদের অন্তরের প্রফুল্লতাকে।
অতএব, শান্তির খোঁজে আর ব্যর্থ দৌড়ঝাঁপ নয়, সকলেই ফিরে আসি কুরআন নির্দেশিত শান্তির চির সবুজ বাগানে।
লেখক : ছাত্র, জামাতে দুয়াম, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।