বিচারপতির ফয়সলা: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কার্যকর হওয়া
মূল: শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী (রহ.)
তাসহীল ও তারতীব
শায়খুল হাদীস মুফতি সাইদ আহমদ পালনপুরী (রহ.)
মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আমীন পালনপুরী
অনুবাদ: মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী
অনুবাদক: লেখক, গবেষক ও পীর সাহেব বায়তুশ শরফ, চট্টগ্রাম
(পূর্বপ্রকাশিতের পর)
তিন. বিয়ের প্রকৃতি হচ্ছে বিক্রয়
যদি কেউ একথা জিজ্ঞাসা করে যে, বিয়ের আকদের প্রকৃতি কী? অর্থাৎ স্বামী স্ত্রীকে উপভোগের যে অনুমিত রয়েছে তার ধরন কী? বিক্রয়ের ভিত্তিতে নাকি ভাড়ার ভিত্তিতে? কেননা এখানে মোটামুটি দুটি সম্ভাবনাই হতে পারে। হযরত (শায়খুল হিন্দ) u বলেন, বিয়ের আকদের প্রকৃতি হচ্ছে বিক্রয়, ভাড়া নয়। কেননা ভাড়ার জন্য হয় মেয়াদ নির্দিষ্ট হওয়া চায় অথবা কাজ সুনির্ধারিত হওয়া চায়। নতুবা ভাড়া ভঙ্গ হবে। ফিকহের গ্রন্থসমূহে আছে যে,
‘ভাড়ার যথার্থতার জন্য মুনাফা সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া জরুরি। আর মুনাফা কখনো মেয়াদ নির্দিষ্ট করার দ্বারা জানা যায়। যেমন থাকার জন্য ঘর ভাড়ায় নেওয়া, চাষাবাদের জন্য জমি ভাড়ায় নেওয়া; সেই সময় ন্যায্য হবে যখন এর মেয়াদ নির্ধারণকৃত হবে। আর কখনো মুনাফা সম্পর্কে অবগতি কাজ সুনির্দিষ্ট হওয়ার মাধ্যমে হয়। উদারণত কাপড় রং করার জন্য কিংবা সেলাইয়ের জন্য কাউকে শ্রমিক হিসেবে রেখেছে অথবা আসবাবপত্র খোঁজার জন্য বা ভ্রমণের জন্য বাহন ভাড়ায় নিয়েছে; এসব অবস্থায় সেকাজের পরিপূর্ণ বিবরণ জানা জরুরি যার জন্য ভাড়ার কারবার করা হয়েছে।’
আর বিয়ের না তো কোনো মেয়াদ নির্দিষ্ট হয়, না কাজের কোনো সীমা নির্ধারিত হয়। এজন্য বিয়ে ভাড়ার কারবার হতে পারে না।
দ্বিতীয় দলিল হচ্ছে যে, যদি বিয়ে ভাড়ার (কারবার) হতো তাহলে উচিত ছিল যে, মুতা (নির্দিষ্ট মেয়াদের বিয়ে) ন্যায্য হতো, প্রচলিত বিয়ে যা স্থায়ীভাবে হয়ে থাকে এবং যেখানে কোনো মেয়াদ নির্ধারিত হয় না যথাযথ হতো না।
তৃতীয় দলিল হচ্ছে যে, খোলা ও তালাক হচ্ছে একতরফা পদক্ষেপ। তালাকের পরিপূর্ণ এখতেয়ার হল স্বামীর আর খোলার প্রস্তাব স্ত্রীর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। কাজেই তালাক ই’তাক (গোলাম আজাদ করা)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা মনিবের পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে এবং খোলা[1] আকদে কিতাবতে[2]র সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা মালিকাধীনের ইচ্ছায় হয়ে থাকে। আর এটি সেসময়ই হতে পারে যখন বিয়ের প্রকৃতি হবে বিক্রয়, ভাড়া হবে না।
[متن ادلۂ کاملہ]
تیسری بات یہ ہے کہ عقدِ نکاح کو بیع نہ کہیے تو اجارہ کہنا پڑے گا، مگر اجارہ کہیے تو اُس کے بُطلان کے لئے یہی کافی ہے کہ نہ اَجَل معلوم، نہ کار محدود، پھر جائز ہو تو کیونکر ہو؟ اگر اجارہ ہوتا تو نکاح بطور معروف جائز نہ ہوتا، ہوتا تو متعہ جائز ہوتا، اُدھر طلاق یک طرفی اُس اِعْتاق کے مُشابہ ہے، جو مالک ہی کی طرف سے ہوتا ہے، اِدھر خُلع کا مُشابہ کتابت ہونا اس بات پر شاہد ہے کہ یہاں بھی ملک ہی ہوگی، جو یہ لَیْن دِین ہے۔
‘তৃতীয় কথা হচ্ছে যে, বিয়ের আকদকে বিক্রয় না বললে তো ভাড়া বলতে হবে। কিন্তু ভাড়া বললে তো এর অসারতার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, না মেয়াদ জানা আছে, না কাজ নির্দিষ্ট। সুতরাং জায়েয হলে কীভাবে হবে? যদি ভাড়া হত তাহলে প্রচলিত বিয়ে জায়েয হত না, হলে তো মুতাও জায়েয হত। অন্য দিকে একতরফা তালাক গোলাম আজাদ করার সাথে সাদৃশ্য রাখে, যা মনিবের পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে। এ দিকে খোলার সাদৃশ্য কিতাবতের সাথে হওয়া একথার সাক্ষ্য দেয় যে, এখানেও মালিকানা হবে, এটি যাকে লেনদেন (বলা হয়)।’
চার. বিয়েতে কোন জিনিসের বিক্রয় হয়?
যখন একথা সাব্যস্ত হয় যে, বিয়ের প্রকৃতি হচ্ছে বিক্রয়। তো এখন এ প্রশ্নের জন্ম হবে যে, বিয়ের আকদের মাধ্যমে নারীরা কোন জিনিসটি স্বামীকে বিক্রি করে? (সে) কি নিজের পুঁজি (সারাশরীর) বিক্রি করে? নাকি শুধু নিজের স্ত্রীজননেন্দ্রিয় (জন্মদান ও প্রজননের যোগ্যতা) বিক্রি করে? তবে জেনে নেওয়া চায় যে, বিয়েতে নারীরা সারাশরীর বেচাকেনা করে না, নারীরা নিজের সারাশরীর বিক্রয়ের অনুমতিপ্রাপ্তও নয়। বরং লেনদন স্রেফ স্ত্রীজননেন্দ্রিয়েরই হয়ে থাকে, অবশিষ্ট শরীর নারীদেরই মালিকানায় থাকে।
আত্মা শরীরের ওপর দখলদার
আর এর কারণ হচ্ছে যে, আত্মা শরীরের ওপর দখল রাখে এবং শরীরের ওপর আত্মার দখল নামমাত্র নয়, বরং অত্যন্ত উচ্চস্তরের দখল। এই দখলের মাধ্যমে মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে উপকার লাভ করে। যদি শরীরের ওপর আত্মার দখল না হবে তাহলে অন্যান্য প্রাণীতে উপকাল লাভ করাও অসম্ভব ও অসাধ্য হবে।
জীব-জন্তু থেকে উপকার লাভের বৈধতার কারণ
বাকি থাকল একথা যে, যদি শরীরের ওপর আত্মার দখল না হবে তাহলে অন্যান্য প্রাণী থেকে উপলাভও অসাধ্য হবে। তো এর কারণ হচ্ছে যে, মানুষসহ সকল প্রাণীর শরীরের মালিক হচ্ছে তাদের আত্মা। আর সকল আত্মার মালিক হচ্ছেন আল্লাহ তাআলা এবং আল্লাহ তাআলার মালিকানাই পূর্ণাঙ্গ। এজন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষে তাঁর সকল সৃষ্টির মধ্যে সর্বপ্রকার নিষ্পত্তির অধিকার রয়েছে। এ দিকে মানুষকে আল্লাহ তাআলা আশরফুল মাখলুকাত (সৃষ্টির সেরা জীব) বানিয়েছেন এবং সেরা জীবের জন্য নগণ্য জীবকে কাজে লাগানো এক সাধারণ নিয়ম। এজন্য মহান প্রজ্ঞাবান (আল্লাহ) তাঁর শ্রেষ্ঠতম জীবকে অনুমতি দিয়েছেন যে, সে অন্যান্য প্রাণী থেকে উপকার লাভ করবে এবং খোদায়ী অনুমতিতে তাদেরকে জবাই করে খাবে। আর অনুমতিপত্র হিসেবে তাসমিয়া (আল্লাহর নাম নেওয়া) নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজেই যে ব্যক্তি আত্মাসমূহের মালিকের অনুমতিক্রমে অন্যান্য প্রাণী থেকে উপকার লাভ করে সে কোনোভাবেই জালিম হতে পারে না। জালিম হচ্ছে শুধু কাফেররা (অবাধ্য লোক), যাদেরকে আত্মাসমূহের মালিক অনুমতি দেননি, তারপরও তারা প্রাণীদের জবাই করে এবং খেয়ে থাকে।
মোদ্দা কথা হচ্ছে, ভালোভাবে স্মরণ রাখা উচিত যে, প্রাণীসমূহ হালাল হওয়ার প্রকৃত কারণ জবাই নয়, বরং হালাল হওয়ার সাধারণ কারণ হচ্ছে আত্মাসমূহের মালিকের অনুমতি এবং জবাই ও তাসমিয়া নিছক হালাল হওয়ার অনুমতিপত্র। এ কারণে হারাম শরীফে তাসমিয়া-সহকারে জবাই করা সত্ত্বেও শিকার করা হারাম হয়ে থাকে। কেননা আত্মাসমূহের মালিক হারামে শিকার করে মানুষকে উপকার লাভের অনুমতি দেননি। সঙ্গে সঙ্গে ইহরামকারী যদি তাসমিয়া-সহকারে কোনো শিকারকে জবাই করে তাহলে সেটাও হারাম হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে মুমিন (ব্যক্তি) খাবার অনুপযোগী প্রাণীদেরকে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবর বলে জবাই করে, তা হলেও সেটা খাওয়া হারাম। কেননা আত্মাসমূহের মালিক এসব প্রাণী থেকে উপকার লাভের অনুমতি দেননি।
মানুষের শরীর সম্পদ
অন্য দিকে প্রত্যেক প্রাণীর শরীর বিশেষ করে মানুষের শরীর সম্পদ। কেননা সম্পদ প্রত্যেক সেই উপকারী জিনিসকে বলা হয় যার প্রতি হৃদয় আকর্ষিত হয়, যা সংরক্ষিত ও মালিকাধীন হতে পারে এবং এর লেনদেন হওয়া সম্ভব। আর প্রাণীর শরীর উপকারী হওয়া এবং তাদের প্রতি হৃদয় আকর্ষিত হওয়া এটি স্পষ্ট বিষয়। মানুষের শরীরের ক্ষেত্রে একই অবস্থা। কেননা এর প্রতি হৃদয় আকর্ষিত হয়। অন্যান্য জিনিস মানুষের শরীরের সংরক্ষণ ও সুরক্ষারই কারণে উপকারী হয়ে থাকে এবং সম্পদ আখ্যায়িত হয়। সুতরাং খোদ মানুষের শরীর উপকারী ও সম্পদ কেন হবে না?
মানুষ নিজের শরীরের মালিক
বস্তুত যখন শরীরের ওপর আত্মার দখল পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ এবং এ কারণে আত্মা শরীরের পরিপূর্ণ মালিক, কাজেই শরীরও আত্মার পুরোপুরি মালিকানাধীন হবে। কেননা মালিক হওয়ার জন্য দখল জরুরি, যে পরিমাণ দখল পরিপূর্ণ হবে সেই পরিমাণ মালিকানা পুরোপুরি হবে। আর মালিকানাধীন হওয়ার জন্য সম্পদ হওয়া জরুরি, সম্পদ হওয়া যে পরিমাণ বৃদ্ধি হবে সেই পরিমাণ মালিকানাধীন হওয়া শক্তিশালী ও মজবুত হবে। সারাংশ হচ্ছে, মানুষ নিজের শরীরের মালিক এবং শরীর আত্মার মালিকানাধীন।
নারীরা তার শরীর বিক্রি করতে পারে না
বিস্তারিত এ বিবরণ থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, নারীরা যদিও নিজের শরীরের পরিপূর্ণ মালিক, কিন্তু সে তা বিক্রি করতে পারবে না। কেননা প্রজননের উপকারিতা (সন্তান জন্মদানের উপকারিতা) ছাড়া শরীরের অন্যান্য উপকারিতা থেকে নিজে উপকার লাভ করতে পারবে; চোখ দিয়ে দেখতে পারবে, কান দিয়ে শুনতে পারবে, মুখ দিয়ে বলতে পারবে, وَقِسْ عَلَىٰ هَذَا (এর ওপর সবকিছু অনুমান করুন)। অতএব নারীরা প্রজননের উপকারিতা ছাড়া নিজের অবশিষ্ট শরীর বিক্রি করতে পারবে না আর এর দলিল নিম্নে প্রদত্ত হল:
- প্রথম দলিল: হচ্ছে যে, অন্য কারও পক্ষে নারীর শরীরের মালিক হওয়ার অধিকারই নেই। কেননা শরীর বিশেষত তারই আত্মার জন্য সৃষ্ট হয়েছে। আর বিক্রয় শুধু সেসব জিনিসে বৈধ হয়ে থাকে যা সকলের জন্য তৈরি হয়েছে। যেমন مَا فِي الْاَرْضِۗ۰۰۲۹ (পৃথিবীর সকল জিনিস)[3] সকলের জন্য সৃষ্টি হয়েছ। যুক্তি ব্যতিরেকে خَلَقَ لَكُمْ مَّا فِي الْاَرْضِۗ۰۰۲۹ (তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সকল জিনিস সৃষ্টি করেছেন।)[4] পবিত্র আয়াতও এর প্রমাণ। এজন্য পৃথিবীর সকল জিনিসের বিক্রয় হতে পারে, কিন্তু নারীর শরীর যেহেতু তার জন্যই সৃষ্ট হয়েছে সেহেতু না সে বিক্রয়ের অনুমতিপ্রাপ্ত, না অন্য কেউ মালিক হওয়ার অধিকার রাখে।
- দ্বিতীয় দলিল: হচ্ছে যে, বিক্রয়ে অসম্মানবোধ রয়েছে। কেননা মানুষ সেই জিনিসই বিক্রি করে যা থেকে তার হৃদয় ওঠে যায়। তাছাড়া ফুকাহায়ে কেরাম বায়য়ে ফাসিদ (বেআইনি বিক্রয়) প্রাসঙ্গিক আলোচনায় নারীদের দুধ ও মানুষের চুল ইত্যাদির বিক্রয় বেআইনি হওয়ার কারণ হিসেবে সম্মানহানি ও অপমানকে উল্লেখ করেছেন। মানুষ আশরফুল মাখলুকাত (সৃষ্টির সেরা জীব), কাজেই তার সম্মান এবং তাকে অসম্মানের অধিকার একমাত্র আল্লাহ তাআলারই। এজন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে চাওয়াও নিষিদ্ধ। কেননা চাওয়াও একপ্রকারের অপমানজনক। নবীজি (D)-এর ইরশাদ হচ্ছে, «الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِّنَ الْيَدِ السُّفْلَىٰ» (উপরের হাত অর্থাৎ খরচকারী হাত নীচের হাত অর্থাৎ যাচ্ঞাকারীর চেয়ে উত্তম)।[5]
এখান থেকে একথাও স্পষ্ট হয়ে গেল যে, যখন আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে চাওয়াও বৈধ নয়, তো আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদতের প্রশ্নই কোথা থেকে উঠতে পারে? কোনো মানুষের জন্যই নিজের মালিক ও মনিবের দরবার ছাড়া অন্য কারো চৌকাঠে কপাল বিচড়ানো শুভা দেয় না। মানুষ নিজে নিজেকে স্বীয় স্রষ্টা ও মালিকের সামনে তো সর্বনিম্ন স্তরের অপমানিত (হিসেবে উপস্থাপিত) করতে পারে, বরং এটা তার জন্য গর্বের কারণ। কিন্তু অন্য কারও সামনে অপমানজনক কপাল ঠেকা সম্ভব নয়। না নিজের আত্মসম্মানের সওদা করতে করতে পারে। সুতরাং নারী নিজের শরীর বিক্রি করে অহেতুক নিজেকে নিজে কেন অপমানিত করবে?!
- তৃতীয় দলিল: হচ্ছে যে, বিক্রয়ে শর্ত আরোপ করার ক্ষেত্রে হাদীস শরীফে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর ফুকাহায়ে কেরাম এমন বিক্রয় যেখানে চুক্তির দাবির বিপরীতে কোনো শর্ত আরোপ করা হয়েছে (সেটা) বেআইনি বলে বিবেচতি হয়েছে। এর ভিত্তিতে যদি নারী তার শরীর বিক্রি করে দেয়, তাহলে বিক্রীত জিনিসের হস্তান্তর এবং বিক্রীত জিনিস থেকে উপকার লাভ বিক্রেতার সাহায্য ছাড়া অর্থাৎ নারীর আত্মার সহযোগিতা ব্যতিরেকে সম্ভব নয়। এই অতিরিক্ত শর্ত ছাড়া নারী তার শরীর বিক্রিই করতে পারে না। আর এমন অতিরিক্তি শর্তের সাথে বিক্রয় বিক্রয়কে বেআইনি করে দেয়। কাজেই নারী কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি খোদ নিজের শরীর বিক্রি করতে চাইলে বিক্রি করতে পারে না।
ফায়েদা: হ্যাঁ, যদি কোনো ব্যক্তি কারও গোলাম বা মালিকানাধীন হয় এবং সে তার মনিবের সাথে কিতাবতের চুক্তি করে নিজের শরীরকে ক্রয় করে নেয় অর্থাৎ স্বাধীনতা লাভ করে তাহলে এটি জায়েয। কেননা এ ধরনের বিক্রয়ে কোনো অতিরিক্ত শর্ত নেই।
নারীরা শুধু তার প্রজননের
উপকারিতা বিক্রি করতে পারবে
অবশ্য নারীরা নিজের প্রজননের উপকারিতা বিক্রি করতে পারবে। কেননা নারীরা নিজেরা নিজেদের এসব উপকারিতা থেকে উপকৃত হতে পারে না। এজন্য এ বিশেষ লেনদেনে নারীদের অবস্থা জড়বস্তু যেমন; যেভাবে জড়বস্তু নিজে নিজ থেকে উপকৃত হতে পারে না, নারীরও নিজেদের যোনি ও গর্ভাশয় থেকে উপকৃত হতে পারে না। এ কারণে তারা এটি স্বামীর কাছে বিক্রি করতে পারে।
নারীরা তার প্রজননের উপকারিতা
কেন বিক্রি করতে পারে?
যদি কেউ একথা জিজ্ঞাসা করে যে, আল্লাহ পাক যোনি ও গর্ভাশয় নারীদের জন্য বানিয়েছেন, তাহলে তা অন্যদেরকে কীভাবে বিক্রি করতে পারে? এর এক জবাব তো তা-ই যা ইতঃপূর্বে উল্লেখিত হয়েছে, নারী যেহেতু নিজের সাধারণ শরীরের মতো নিজের যোনি ও গর্ভাশয় দ্বারা নিজে উপকৃত হতে পারে না, এজন্য তা বিক্রি করা জায়েয। আর দ্বিতীয় জবাব হচ্ছে যে, خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوَاجًاؕ۠۰۰۲۱ (তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন।)[6] থেকে একথা সাব্যস্ত হয় যে, নারীদের গর্ভাশয় ও প্রজননের উপকারিতা তার জন্যই নয়, বরং পুরুষদের জন্য। এজন্য নারীরা যদি নিজেদের প্রজননের উপকারিতা পুরুষদেরকে বিক্রি করে দেয় তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
প্রজননের উপকারিতা বিক্রয়ে কোনো সম্মানহানি নেই
যদি কেউ এ আপত্তি করে যে, বিক্রয় তো অপমানজনক কথা, তবুও নারীরা নিজেদের যোনি ও গর্ভাশয় বিক্রয়ের এখতিয়ার কীভাবে পেল? এর জবাব হচ্ছে যে, অপমান হচ্ছে প্রকৃত মর্যাদায় হ্রাস পাওয়ার নাম, সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে কাজে লাগানো কোনোভাবেই অপমানের কথা নয়। উদারণত মানুষ সৃষ্টির মৌলিক উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর বন্দেগি। এজন্য আল্লাহ পাকের বন্দেগি করা অর্থাৎ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিজেকে নিজে বিনয়াবনত করা কোনোভাবেই অপমানের কথা নয়। কেননা আল্লাহর বন্দেগি করা নিজের সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে পূরণ করা। হ্যাঁ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সামনে নিজেকে অপমানিত করা প্রকৃত মর্যাদায় হ্রাস করার নামান্তর। এজন্য এটা জায়েয নেই। অনুরূপভাবে বোঝা উচিত যে, প্রজননের উপকারিতা নারীদের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, বরং পুরুষদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। অতএব নারী যদি সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে কাজে লাগায় তাহলে এতে প্রকৃত মর্যাদায় কোনো হ্রাস হয় না এবং এ বিক্রয়ে নিজেকে অপমানিত করাও আরোপিত হয় না।
প্রজননের উপকারিতা বিক্রয়ে
কোনো সমস্যা আরোপিত হয় না
যদি কারও মনে এমন সংশয়ের সৃষ্টি হয় যে, যেভাবে অবশিষ্ট শরীর বিক্রয়ের অবস্থায় অতিরিক্ত শর্তের কারণে বিক্রয় বেআইনি হয়ে যায়, অনুরূপভাবে প্রজননের উপকারিতা বিক্রয়ের অবস্থায়ও পুরুষ নারীর আত্মিক সহযোগিতা ছাড়া উপকারিতা লাভ করতে পারে না। কাজেই এ বিক্রয়ও অতিরিক্ত শর্তের কারণে বেআইন হওয়া উচিত?
এর জবাব হচ্ছে যে, এ অবস্থায় অতিরিক্ত এ শর্ত চুক্তির দাবির সাথে সাংঘর্ষিক নয়, বরং চুক্তির দাবি। আর এ ধরনের শর্ত যাকে স্বয়ং চুক্তিই দাবি করে বিক্রয়ে নিষিদ্ধ নয়। সেই শর্তই শুধু নিষিদ্ধ হয় যা বিক্রয়ের দাবি নয় এবং এতে চুক্তি সম্পাদনকারী একপক্ষের উপকার হয়। কেননা এ ধরনের শর্ত হচ্ছে রিবা (সুদ[7])। এজন্য বিক্রীত পণ্য ও মূল হচ্ছে একটি অপরটির বিনিময় এবং অতিরিক্ত শর্তের বিপরীতে কোনো বিনিময় থাকবে না। কাজেই অতিরিক্ত শর্ত সুদ হিসেবে গণ্য হওয়ার কারণে নিষিদ্ধ। কিন্তু যে শর্ত চুক্তির দাবিসম্মত, যেমন বিক্রয়ে দখলের শর্ত দেওয়া। এটি তো প্রকৃতপক্ষে কোনো শর্ত নয়, বরং অস্পষ্ট বিষয়ের বিবরণ, এজন্য এমন শর্ত আরোপ করা বৈধ।
আলোচনার সারসংক্ষেপ
এ দীর্ঘ আলোচনার সারসংক্ষেপ হচ্ছে, যেহেতু আত্মা তার শরীরের ওপর দখল বজায় রেখেছে এবং শরীর হচ্ছে সম্পদ, সেহেতু আত্মা মালিক ও শরীর মালিকানাধীন। যখন নারী তার শরীরের মালিক, তো সে নিজের প্রজননের উপকারিতা স্বামীর হাতে বিক্রি করতে পারবে। কেননা তাকে স্বামীর উপকারের জন্য সৃষ্ট হযেছে। আর অবশিষ্ট শরীর বিক্রি করতে পারবে না, কেননা তা নারীর নিজের উপকারের জন্য সৃষ্ট হয়েছে।
[متن ادلۂ کاملہ]
چوتھی بات یہ ہے کہ جس قدر روح اپنے بدن پر قابض ہے، اُس قدر اور کوئی کسی چیز پر قابض نہیں، اُسی کے قبضے کے بھروسے[8])) اور بھی جانداروں سے منتفع ہوتے ہیں، روح کا قبضہ نہ ہو تو پھر حیوان سے انتفاع محال ہے۔
ادھر اَبْدانِ حیوانات میں سے خاص کر بدنِ انسان کا نافع ہونا اور —بمعنی لائقِ میلانِ خاطر—مال ہونا، ایسا ظاہر ہے کہ اور کسی کا نافع ہونا اور مال ہونا ایسا ظاہر نہیں، کیونکہ اور چیزیں اسی کی حفظ وترمیم کے باعث نافع اور مال کہلاتی ہیں—اس صورت میں جیسے اَرْواح کا مالکِ ابدان ہونا بوجہ اَکْمَل ہوگا ایسے ہی اَبْدان کا مملوکِ اَرْواح ہونا بھی—مثل اَرْوَاح کے مالکِ ابدان ہونے کے—بدرجۂ اَتمّ ہوگا، کیونکہ مالک ہونے کے لئے قبضہ، اور مملوک ہونے کے لئے مالیت چاہئے، جتنے وہ دونوں[9])) زیادہ اُتنے ہی یہ دونوں زیادہ۔
مگر چونکہ سوائے توالد، اور[10])) منافع کے حساب سے تو خود روح اپنے بدن سے منتفع ہوتی ہے، تو اُس کو اپنے بدن کی بیع (کچھ تو) اس وجہ سے بھی ممنوع ہوگی کہ اس میں غیر کو استحقاقِ تَمَلُّکْ ہی نہیں، کیونکہ وہ خاص اُسی کے لئے بنا ہے، ہاں مَا فِي الْاَرْضِۗ۰۰۲۹ {البقرة: 29}[11])) بدلالتِ عقل، واشارہ خَلَقَ لَكُمْ مَّا فِي الْاَرْضِۗ۰۰۲۹ {البقرة: 29} سب کے لئے ہے، اس کی بیع ہو تو کچھ حرج نہیں—اور اس وجہ سے بھی ممنوع ہوگی کہ تَذَلُّلِ بنی آدم اصل میں خدا کے لئے ہے، اور عزتِ بنی آدم خاص اُسی کا حق ہے، یہی وجہ ہے کہ سوال تک غیر سے ممنوع ہوا، چہ جائیکہ اس کی عبادت، پھر اس صورت میں بے وجہ اپنے آپ کو کیوں ذلیل کیا ہوا؟!—اور اس وجہ سے بھی ممنوع ہوگی کہ تسلیمِ مَبِیْع، اور پھر مَبِیْع سے انتفاع بے اعانتِ بائع یعنی روح مُتَصَوَّر نہیں، اور آپ خود جانتے ہیں کہ بَیع اور شرطِ زائد حدیثوں میں ممنوع ہے—ہاں اپنے بدن کے خرید لینے میں البتہ کچھ خرابی نہیں، اس لئے بدلِ کتابت دے کر خرید لینا ممنوع نہ ہوا۔
مگر عورت بحسابِ نفعِ توالد جو اُس کی پیدائش سے خاص غرض ہے، اور موافقِ ارشاد نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ۪۰۰۲۲۳ {البقرة: 223}[12])) مردوں کے حق میں اسی لئے[13])) مطلوب ہے۔ اپنے آپ اپنے بدن سے منتفع نہیں ہوسکتی، یعنی مثلًا آنکھ، ناک سے اپنا کام نکال سکتی ہے، پَرْ اپنے رحم سے خود کامیاب نہیں ہوسکتی، یہ ممکن نہیں کہ مثلِ مرد خود اپنے آپ سے جماع کرے، اور بچے جَنْوائے، اس حساب سے عورت مثلِ جمادات ہے، جیسے اُن کے منافع سے خود اُن کو کچھ نفع نہیں، ایساہی یہاں بھی سمجھ لیجئے، اور ظاہر ہے کہ جَمادات میں مملوکیت بدرجۂ اتم ہے، کیونکہ مالکیت کا شائبہ بھی نہیں، اس لئے اگر عورت اپنے رحم کو بیچ دے تو نہ اس وجہ سے کچھ دَقَّتْ پیش آتی ہے کہ بنایا تھا خاص اُس کے لئے مثل مَا فِي الْاَرْضِۗ۰۰۲۹ {البقرة: 29}—جس کے عمومِ مطلوبیت پر بے تخصیص لَكُمْۗ۰۰۲۹ فرما دینا دلالت کرتا ہے[14]))—عام[15])) نہ تھا، پھر بیع کیوں کر دیا؟ کیونکہ رحم اس کے لئے ہوتا، تو خود منتفع ہوسکتی، بلکہ بدلالتِ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوَاجًاؕ۠۰۰۲۱ {الروم: 21} اُلٹا مردوں کے لئے اُس کا ہونا نکلتا—اور نہ اس وجہ سے کچھ دشواری پیش آتی ہے کہ بیع میں اپنی توہین لازم آتی ہے، کیونکہ مرتبۂ اصلی میں کمی آئے، تو توہین لازم آئے، جب عورتیں خود مردوں ہی کے لئے مخلوق ہوئیں تو پھر کیا توہیں ہے؟! اور نہ اس وجہ سے کوئی دشواری ہے کہ بیع میں اپنی اعانت شرط ہوگی، جس سے بیع اور شرط کا اجتماع لازم آئے گا، جو بالیقین ممنوع ہے، کیونکہ عورتیں جب مرد ہی کے لئے مخلوق ہوئیں، تو پھر اس حساب سے جیسے جانوروں کی اَرْواح سے کام لینا ممنوع نہیں، عورتوں کی اَرْواح سے بھی اُن کاموں کا لینا ممنوع نہ ہوگا، جس کے لئے وہ بنائی گیئں (ہیں)، الغرض شرط اُس امر کی ممنوع ہوتی ہے، جس کا پہلے سے استحقاق نہیں ہوتا، کیونکہ اس صورت میں رِبوا لازم آتا ہے، اور جس کا استحقاق ہوتا ہے، اس کا شرط کرنا ہی فضول ہوتا ہے، جیسے بیع میں قبضہ کی شرط کرلی جاوے تو ایضاحِ مُبْہَم ہوتا ہے، کوئی نئی بات نہیں ہوئی۔
‘চতুর্থ কথা হচ্ছে, আত্মা যে পরিমাণ নিজের শরীরের দখল বজায় রেখেছে, সেই পরিমাণ আর কেউ কোনো জিনিসের ওপর দখল বজায় রাখে না এবং সেই দখলের ভিত্তিতে অন্যান্য প্রাণী থেকেও সে উপকৃতি হয়ে থাকে। যদি আত্মার দখল না হত, তবে প্রাণী থেকে উপকার লাভ অসম্ভব।
এ দিকে প্রাণীজগতের সমগ্র শরীরের মধ্যে বিশেষ করে মানুষের শরীর উপকারী হওয়া এবং হৃদয়াকর্ষণের উপযুক্ত হওয়ার অর্থে সম্পদ হওয়া এতটা স্পষ্ট যে, অন্য কিছু উপকারী হওয়া এবং সম্পদ হওয়া সেভাবে স্পষ্ট নয়। কেননা অন্যান্য জিনিস তারই (মানুষেরই) সুরক্ষা ও সেবার ভিত্তিতেই উপকারী সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত। এ অবস্থায় যেভাবে শরীরের মালিক আত্মা হওয়া পরিপূর্ণর্তার দিকে দিয়ে হবে, একইভাবে শরীর আত্মার মালিকানাধীন হওয়াও শরীরের মালিক আত্মা হওয়া যেমন পরিপূর্ণতার স্তরে হবে। কেননা মালিক হওয়ার জন্য দখল এবং মালিকানাধীন হওয়ার জন্য সম্পদ হওয়া চায়। ওই দুটি যত বেশি হবে এ দুটি ততই বেশি হবে।
কিন্তু যেহেতু প্রজনন ব্যতিরেকে অন্যান্য উপকারিতার হিসেবে তো আত্মা স্বয়ং নিজের শরীর থেকে উপকৃত হয়ে থাকে, তা হলে তার পক্ষে নিজের শরীরের (কিছু অংশ) বিক্রয় এ কারণেও নিষিদ্ধ হবে যে, এতে অন্যদের মালিকানার অধিকারই নেই। কেননা তা নির্দিষ্ট করে তার জন্যই তৈরি। হ্যাঁ, مَا فِي الْاَرْضِۗ۰۰۲۹ (পৃথিবীর সকল জিনিস)[16]-এর যৌক্তিক দাবি অনুযায়ী ও خَلَقَ لَكُمْ مَّا فِي الْاَرْضِۗ۰۰۲۹ (তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীর সকল জিনিস)[17]-এর ইঙ্গিত অনুসারে সবার জন্য প্রযোজ্য। এর বিক্রয় হয় তাহলে কোনো সমস্যা নেই। আর এ কারণেও নিষিদ্ধ হবে যে, আদমসন্তানের অপমান প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর জন্য এবং আদমসন্তানের সম্মান নির্দিষ্ট আল্লাহরই অধিকার। এটিই কারণ যে, অন্যের কাছে চাওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ, অন্য কারও ইবাদত তো দূরে থাক। অতএব এ অবস্থায় অহেতুক নিজেকে নিজে কেন অপমানিত করে?! আর এ কারণেও নিষিদ্ধ হবে যে, বিক্রীত জিনিস হস্তান্তর, অতঃপর বিক্রীত জিনিস থেকে উপকার লাভ বিক্রেতা অর্থাৎ আত্মার সহযোগিতা ছাড়া অকল্পনীয়। আর আপনি নিজেই জানেন যে, বিক্রয় ও অতিরিক্ত শর্ত হাদীসসমূহে নিষিদ্ধ। হ্যাঁ, নিজের শরীর ক্রয় করে নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য কোনো ক্ষতি নেই। এজন্য কিতাবতের বিনিময় দিয়ে ক্রয় করে নেওয়া নিষিদ্ধ হয়নি। কিন্তু নারী প্রজননের উপকারিতা যা তার সৃষ্টির বিশেষ উদ্দেশ্য এবং نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ۪۰۰۲۲۳ (তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্রের অনুরূপ।)[18] ইরশাদ আনুসারে পুরুষদের অধিকারও এই উদ্দেশ্যেই। নিজে নিজে স্বীয় শরীর থেকে উপকৃত হতে পারে না। অর্থাৎ উদারণত চোখ-কান থেকে নিজের কাজ করতে পারে, কিন্তু স্বীয় যোনি থেকে নিজে সফল হতে পারে না। এটা সম্ভব নয় যে, পুরুষদের মতো নিজের নিজের সাথে সহবাস করবে এবং সন্তান জন্ম দেবে। এ হিসেবে নারী জড়পদার্থের অনুরূপ। তাদের উপকারিতা থেকে যেমন তাদের কোনো লাভ নেই, অনুরূপভাবে এখানেও বুঝে নিন। আর স্পষ্ট যে, জড়পদার্থে মালিকানা পূর্ণস্তরের হয়। কেননা মালিক হওয়ার ক্ষেত্রে কোনোও সন্দেহ নেই। এজন্য যদি নারী নিজের যৌনি বিক্রি করে দেয়, তবে এ কারণে কিছু সমস্যার উদ্ভব হবে যে, তার জন্য বিশেষ করে বানানো হয়েছিল, যেমন مَا فِي الْاَرْضِۗ۰۰۲۹ (পৃথিবীর সকল জিনিস)[19]। এর উদ্দেশ্যের সার্বজনীনতার ওপর নির্দিষ্ট করে لَكُمْ বলে দেওয়া একথা নির্দেশ করে যে, এটি উন্মুক্ত ছিল না। অতএব বিক্রি কিভাবে করবে? কেননা যোনি তার জন্য হলে তো নিজেই উপকৃত হতে পারতো। বরং خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوَاجًاؕ۠۰۰۲۱ (তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন।)[20]-এর দাবি অনুসারে উলটো পুরুষের জন্য তাদের প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায়। আর এজন্য কোনো জটিলতা তৈরি হয় না যে, বিক্রয়ে নিজের অপমান আবশ্যক হয়। কেননা প্রকৃত মর্যাদায় হানি হয় তবে অপমানবোধ হবে। যখন নারীরা নিজেই পুরুষদের জন্য সৃষ্ট হয়েছে, তা হলে অপমানবোধ কীসের?! আর এজন্যও কোনো সমস্যা তৈরি হচ্ছে না যে, বিক্রয়ে নিজের সহযোগিতা শর্ত। যার কারণে বিক্রয় ও শর্ত একীভূত হওয়া আবশ্যক হয়, যা নিশ্চিতভাবে নিষিদ্ধ। কেননা নারীরা যখন পুরুষর জন্যেই সৃষ্ট, তা হলে সেই হিসাবে যেভাবে জীবজন্তুর আত্মাকে কাজে লাগানো নিষিদ্ধ নয়, নারীদের আত্মা দ্বারাও সেসব কাজ নেওয়া নিষিদ্ধ হবে না, যার জন্য তারা সৃষ্ট হয়েছে। বস্তুত সেই জিনিসের শর্ত নিষিদ্ধ হয়ে থাকে যার অধিকার শুরু থেকেই থাকে না। কেননা ওই অবস্থায় সুদ আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর যে বিষয়ের অধিকার রয়েছে তার শর্তারোপই তো অনর্থক। যেমন বিক্রয়ে দখলের শর্তারোপ তো অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করা, কোনো নতুন কথা নয়।’ (চলবে)
[1] খোলা: এটি স্ত্রী স্বামী থেকে কিছু মোহর বা পুরো মোহর মাফ করার ভিত্তিতে বা সেই সঙ্গে অন্য কোনো সম্পদের ভিত্তিতে পরিত্রাণ লাভ করে।
[2] আকদে কিতাবত: এটি কোনো গোলাম-বাঁদি তার মনিব থেকে নির্দিষ্ট অঙ্ক আদায়ের শর্তে আজাদি লাভের কারবার।
[3] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আল-বাকারা, ২:২৯
[4] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আল-বাকারা, ২:২৯
[5] (ক) আল-বুখারী, আস-সহীহ, খ. ২, পৃ. ১১২, হাদীস: ১৪২৯; (খ) মুসলিম, আস-সহীহ, খ. ২, পৃ. ৭১৭, হাদীস: ১০৩৩, হাদীসটি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর k থেকে বর্ণিত
[6] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আর-রূম, ৩০:২১
[7] সুদ: সেই বর্ধিত অংশ যার বিপরীতে কোনো বিমিনয় নেই।
[8] بھروسہ: আশ্রয়, আরও অর্থাৎ অন্যান্য জীবজন্তু থেকেও মানুষ উপকার লাভ করে।
[9] وہ دونوں অর্থাৎ দখল ও সম্পদ হওয়া, اور یہ دونوں অর্থাৎ মালিক হওয়া এবং মালিকানাধীন হওয়া।
[10] اور: অন্যান্য।
[11] مَا فِي الْاَرْضِۗ۰۰۲۹: ভূমণ্ডলের সকল জিনিস।
[12] তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্রের (অনুরূপ)। (আল-বাকারা, আয়াত: ২২৩)
[13] اسی لئے অর্থাৎ এই উদ্দেশ্যেই।
[14] অর্থাৎ আয়াতে لَكُمْ (তোমাদের জন্য) হল সার্বজনীন বক্তব্য, এতে কোনো নির্দিষ্টতা নেই। এজন্য এর হুকুমও সার্বজনীন হবে।
[15] অর্থাৎ যেভাবে পৃথিবীর সকল জিনিস প্রত্যেক মানুষের জন্য, নারীর যৌনি সেভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল না, বরং তারই জন্য।
[16] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আল-বাকারা, ২:২৯
[17] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আল-বাকারা, ২:২৯
[18] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আল-বাকারা, ২:২২৩
[19] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আল-বাকারা, ২:২৯
[20] আল-কুরআনুল করীম, সূরা আর-রূম, ৩০:২১