دَارُ الافتاء جامعہ اسلاميہ پٹیہ، چاٹگام
ফতওয়া বিভাগ
আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম
ইমেইল: daruliftapatiya@gmail.com
পেইজলিংক: Facebook.com/Darul-ifta-Jamia-Patiya
তাহারত-পবিত্রতা
সমস্যা: হযরত আমরা গ্রামের বাসিন্দা অনেক সময় বাড়িতে যে মুরগি পালা হয়, তা তরকারি-পানি ইত্যাদিতে মুখ দেয়। জানার বিষয় হলো, এ রকম তরল জাতীয় কোনো জিনিসে মুরগি মুখ দিলে তার হুকুম কী?
মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল
শেরপুর।
সমাধান: যে মুরগি এমন জায়গায় ঘোরাফেরা করে যেখানে নাপাকিতে মুখ দেওয়ার সুযোগ নেই। যেমন আবদ্ধ বাসা-বাড়িতে সেটি কোনো খাবারের মুখ দিলে ওই খাবার খাওয়া যাবে। তবে যে মুরগি বাইরে ঘোরাফেরা করে এবং নাপাকিতে মুখ দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তার ঠোঁটে বা মুখে বাহ্যত কোনো নাপাকি না থাকলেও সতর্কতামূলক বিধান হল, তার মুখ দেওয়া খাবার খাওয়া মকরুহ। আর যদি ঠোঁটে নাপাকি লেগে থাকতে দেখা যায় তাহলে যাতে মুখ দেবে তা নাপাক হয়ে যাবে। রদ্দুল মুহতার: ১/৪২৭; মালাকার ফালাহ ৩১; কাযীখান: ১/১৪; ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৭৬; বাহরুর রায়েক: ১/২২৯; আল-মুহীতুল বুরহানী: ১/১৩৬
সমস্যা: আমার হাতে আঘাত পাওয়ার কারণে ডাক্তার ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিয়েছে। অজু করার সময় আমি ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করেছি নামাজের পূর্বে নতুন ব্যান্ডেজ লাগিয়েছি, এরপর দ্বিতীয়বার মাসেহ না করে নামাজ আদায় করেছি। পরে বিষয়টি এক ভাই জানতে পারলে বলল, তোমার নামাজ সঠিক হয়নি। মুফতি সাহেবের নিকট জানতে চাই, আমার ওই নামাজ সহীহ হয়েছে কিনা?
সাহাল
চকরিয়া, চট্টগ্রাম।
সমাধান: প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার সেই নামাজ সহীহ হয়ে গেছে। ওই ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। কারণ ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করার পর তা খুলে নতুন ব্যান্ডেজ লাগানোর কারণে অজু বা মাসেহ নষ্ট হয় না। অবশ্য ওই নতুন ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করে নেওয়া উত্তম। তবে যদি ব্যান্ডেজ পরিবর্তন করার সময় ক্ষতস্থান থেকে গড়িয়ে পড়া পরিমাণ রক্ত বা পুঁজ বের হয়, তাহলে অজু ভেঙে যাবে। আর ক্ষত ভালো হয়ে যাওয়ার পর ব্যান্ডেজ খুললে, মাসেহ বাতিল হয়ে যায়, কিন্তু অজু নষ্ট হয় না। এক্ষেত্রে মাসেহের স্থান ধুয়ে নিলেই পূর্বের অজু বহাল থাকবে। মুহিতুল বুরহানী: ১/২০৬, আল-কাফী: ১/২১, ফাতহুল কদীর: ১/১৬২, বাদায়েউস সানায়ে: ১/৬১
সমস্যা: বিমানে অজু করার সুযোগ থাকে না। পানি থাকলেও কর্তৃপক্ষ বিমানে খরচ করতে দেয় না। তখন আমার জন্য বিমানে তায়াম্মুম করা বৈধ হবে কি না?
মোহাম্মদ আবদুল বারী
পটিয়া, চট্টগ্রাম।
সমাধান: সাধারণত বিমানের বাথরুমে অজু করা যায় এবং সতর্কতার সাথে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি লক্ষ রেখে অজু করলে বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অজু করার ব্যাপারে বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় না। তাই অজু করার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি থাকলে তায়াম্মুম করা সহীহ হবে না। অজু করে নামাজ পড়তে হবে। আর যদি বিমান কর্তৃপক্ষ অজু করতে না দেয়, তাহলে মাটি জাতীয় দ্রব্য দ্বারা তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ে নেবে, পরবর্তীতে অজু করে ওই নামাজ পুনরায় পড়ে নেবে। তেমনিভাবে অজু করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না থাকলে সে ক্ষেত্রে নামাজের সময় শেষ হওয়ার আগে যদি বিমান অবতরণ করার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে তায়াম্মুম করে বিমানে নামাজ পড়ে নেবে এবং এক্ষেত্রে নামায় পরে পুনরায় পড়তে হবে না। আদ-দুররুল মুখতার: ১/১৪০-১৪৪, রদ্দুল মুহতার: ১/১৪৪, ফতওয়ায়ে কাযীখান: ১/৩৯
সালাত-নামাজ
সমস্যা: গতকাল এশার নামাজের ইমামতি করেছিলাম। প্রথম রকআতে ভুলে সূরা ফাতিহার দুয়েকটি আয়াত নিম্নস্বরে পড়ি। পরে মনে পড়লে পুনরায় শুরু থেকে উচ্চস্বরে পড়া আরম্ভ করি। জানার বিষয় হলো, এ কারণে কি আমার ওপর সাহু সেজদা ওয়াজিব হয়েছে?
আবদুল্লাহ
পটিয়া, চট্টগ্রাম।
সমাধান: কোনো ব্যক্তি ভুলে নিম্নম্বর বিশিষ্ট নামাজে সূরা ফাতিহা বা পরবর্তী কিরাআতের কমপক্ষে তিন আয়াত উচ্চস্বরে পড়ে তেমনিভাবে ইমাম সাহেব উচ্চস্বর বিশিষ্ট নামাজে সূরা ফাতিহা বা পরবর্তী কিরাআতের কমপক্ষে তিন আয়াত নিম্নস্বরে পড়ে তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যদি তিন আয়াত থেকে কম নিম্নস্তরে পড়ে থাকেন তাহলে সাহু সেজদা ওয়াজিব হয়নি। মুসান্নাফ ইবনে আবু শায়বা: ১/৩৯৯; ফতহুল কদীর: ১/৫৬১; আদ-দুররুল মুখতার: ২/৬৫৭; ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৮৮; হালবিল কবীর: ২/২৮৩; বাহরুর রায়েক: ২/১৭০
সমস্যা: সম্মানিত মুফতি সাহেবের নিকট একটি মাসআলা জানতে চাই, আমি গতকাল যোহরের নামাজ পড়া অবস্থায় পকেটে মোবাইলে কল আমার কারণে রিংটোন বেজে উঠে, তখন আমি এক হাতে রিংটোন বন্ধ করে দিই। এ অবস্থায় পাশের এক ভাই নামাজ শেষে বলল, আপনার নামাজ হয়নি, এখন আমার জানার বিষয় হলো আমার আদায় কৃত নামাজ সহীহ হয়েছে কি না?
মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম
মহেশখালী, চট্টগ্রাম।
সমাধান: নামাজে মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠলে মোবাইলের দিকে না তাকিয়ে এক হাত দ্বারা দ্রুত বন্ধ করে দিলে নামাজ ফাসেদ হয় না, কিন্তু মোবাইলের দিকে দেখে দেখে এক হাত দ্বারা বন্ধ করলেও যেহেতু অন্য ব্যক্তি তাকে নামাজে আছে মনে করবে না। তাই এক্ষেত্রে নামাজ ফাসেদ হয়ে যায়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি আপনি মোবাইলের দিকে না তাকিয়ে এক হাত দ্বারা রিং টোন বন্ধ করে থাকেন তাহলে আপনার উক্ত নামাজ নষ্ট হয়নি। সুনানে আবু দাউদ: ১/১৩৩, ফতওয়ায়ে কাযীখান: ১/৮১, আদ-দুররুল মুখতার: ২/ ৪৬৫
সমস্যা: অনেক সময় যোহরের পূর্বের চার রকআত সুন্নাত পড়তে পারি না, জানার বিষয় হলো, এক্ষেত্রে ফরজের পর সেই চার রকআত সুন্নাত পড়তে হবে কিনা? যদি পড়তে হয় তাহলে কখন পড়বে, পরের দুই রকআতের আগে না পরে?
মোহাম্মদ ফোরকান
বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
সমাধান: যোহরের পূর্বের চার রকআত সুন্নাত যদি ফরজ পড়ার আগে পড়তে না পারে, তাহলে তা ফরজ পড়ার পর পড়ে নেবে। তবে তা পরের দুই রকআত সুন্নাত আদায় করার পর পড়বে, এটিই নিয়ম। সুনানে তিরমিযী: ৪৩৬; রদ্দুল মুহতার: ২/৬২০; ফতহুল কদীর: ১/৪৯৩
সওম-ইতিকাফ
সমস্যা: রোজা অবস্থায় কাঁচা গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা যাবে কিনা? এতে রোজার কোনো সমস্যা হবে কিনা?
মোহাম্মদ জাহিদ হাসান
বাংলা হিলি, দিনাজপুর।
সমাধান: রোজা অবস্থায় গাছের কাঁচা শুকনা সব রকম ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা যাবে। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে কাঁচা ডাল দিয়ে মেসওয়াক করলে সতর্ক থাকতে হবে যেন এর রস গলায় চলে না যায়। সুনানে তিরমিযী: ৭২৫, কিতাবুল আসল: ২/১৭২, মাবসুত সারাখসী: ৩/১০৯
সমস্যা: অনেক সময় রুমে আগরবাতি বা কয়েল জ্বালানোর প্রয়োজন হয় জানার বিষয় হল রোজা অবস্থায় আগরবাতি বা কয়েল ইত্যাদি চালানো যাবে কিনা আর ধোঁয়া নাকে চলে গেলে রোজা ভেঙে যাবে কিনা?
মোহাম্মদ হাসান আলী
পীরগঞ্জ, দিনাজপুর।
সমাধান: রোজা অবস্থায় মশার কয়েল আগরবাতি ইত্যাদি জালানো জায়েয। রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ আগরবাতি ইত্যাদি জ্বালানোর পর আশেপাশে সাধারণত এর ঘ্রাণে ছড়ায় এর ধোঁয়া নাক পর্যন্ত পৌঁছে না এরপরও অনিচ্ছাকৃত তা নাকে মুখে চলে গেলে রোজা নষ্ট হবে না। তবে রোজা অবস্থায় কেউ যদি নাক বা মুখ দিয়ে এগুলোর ধোঁয়া টেনে নেয় সে ক্ষেত্রে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। রদ্দুল মুহতার: ৩/৩৬৬, মাজমাউল আনহুর: ১/৩১৮, ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২৬৬
সমস্যা: জানাজার নামাজ পড়ার জন্য রমজান মাসে ইতিকাফকারী ব্যক্তি মসজিদের বাহিরে যেতে পারবে কিনা?
আহমদুল্লাহ
আনোয়ারা, চট্টগ্রাম।
সমাধান: সুন্নাত এতেকাফকারী জানাজার নামাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হলে তার এতেকাফ ভেঙে যাবে। এক্ষেত্রে তাকে পরবর্তীতে রোজা সহ ওই দিনের এতেকাফ কাজা করে নিতে হবে। হযরত আয়েশা (রযি.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন এতেকাফকারীর জন্য নিয়ম হলো সে রোগীর সেবার জন্য বের হবে না এবং জানাজায় শরিক হবে না। সুনানে আবু দাউদ: ১/৩৩৫, মুসান্নাফে ইবনে আবু শায়বা: ২/৫১, ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২৭৬
যাকাত
সমস্যা: আমার স্বামী সৌদি প্রবাসী। বিয়ের পর থেকে প্রতি মাসে আমাকে পকেট খরচ হিসেবে ১০ হাজার টাকা দিতেন। সেখান থেকে আমি প্রয়োজনমতো খরচ করে বাকি টাকা রেখে দিতাম। মাঝে মাঝে জমাকৃত টাকার পরিমাণ ৮০ থেকে ৯০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছে যেতো। আবার সময় সময় সব খরচ হয়ে যেতো। আবার আগের পরিমাণে ফিরে আসতো। তবে টাকার পরিমাণ ও তা আমার কাছে কতদিন জমা থাকতো এবং সেই টাকার ওপর কত বছর অতিক্রম হতো কিছুই জানা নেই। এমন টাকার যাকাত কিভাবে আদায় করব?
সাদিয়া ইয়াসমিন
চকরিয়া, চট্টগ্রাম।
সমাধান: প্রশ্নে উল্লেখিত জমাকৃত আপনার টাকার পরিমাণ যেহেতু বর্তমান রৌপ্যমূল্যের হিসেবে নেসাব সমপরিমাণ। তাই বুঝাই যাচ্ছে তার ওপর বছর অতিক্রম হলে তার যাকাত আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে পূর্ণ বছর নেসাব বাকি থাকা জরুরি নয়। বছরের মাঝে কমে গেলেও কিছু টাকা বাকি থাকলে যাকাত বর্ষ বাকি থাকবে। সেই হিসেবে আপনি প্রবল ধারণার ভিত্তিতে যাকাতবর্ষ হিসাব করে যাকাত আদায় করবেন। আর কয়েক বছরের যাকাত একসাথে আদায় করার ক্ষেত্রে নিয়ম হল দ্বিতীয় বছরে যাকাত আদায় করার সময় প্রথম বছর যে পরিমাণ যাকাত ওয়াজিব হয়েছে তা বাদ দিয়ে হিসেব করবেন। এভাবে প্রত্যেক বছরের যাকাতের হিসাব করার ক্ষেত্রে পূর্বের বছরের যাকাতের পরিমাণ বাদ দিয়ে হিসাব করবে এক্ষেত্রে যে কয়েক বছর নেসাবের পরিমাণ বাকি থাকবে ওই বছরগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে। উল্লেখ্য যে, যাকাত বর্ষ হিসাব রাখার ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া অপরিহার্য। যেন এরকম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত সন্দেহাতীতভাবে আদায় করা যায়। আন-নাহরুল ফায়েক: ১/৪১৯; আদ-দুররুল মুখতার ৩/২০৮; রদ্দুল মুহতার: ২/২৬৪
সমস্যা: আমাদের চার ভাইয়ের যৌথ একটি মাছের প্রজেক্ট আছে। আমরা পালাক্রমে এক এক বছর এক একজন পুকুরে মাছ চাষ করি থাকি। জানার বিষয় জানার বিষয় হল- পুকুরে আমরা যে মাছ চাষ করি এ মাছগুলোর যাকাত দিতে হবে কিনা?
আবদুর রহীম
সিলেট
সমাধান: বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রজেক্টে যে মাছ চাষ করা হয়, তার ব্যবসায়িক সম্পদ হিসেবে যাকাত যুক্ত সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। অতএব বছর শেষে পুকুরে কি পরিমাণ মাছ আছে তা অনুমান করে নেসাবের সমমূল্যের হলে যাকাত দিতে হবে। মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৭০১৪, আদ-দুররুল মুখতার: ৩/২৭০-২৭২, কিতাবুল আসল: ২/৯৭
নিকাহ-তালাক
সমস্যা: আমাদের এলাকায় বিয়ের আকদের মজলিসে বর-কনেকে কালেমা পড়ানো হয়। এটা পড়ানো জরুরি কিনা? না পড়ালে কি বিয়ে হবে না? জানালে উপকৃত হব।
মোহাম্মদ খালিদ হাসান
বরিশাল।
সমাধান: বিয়ের আকদের মজলিশে বর-কনেকে কালিমা পড়ানোর রেওয়াজটি নতুন। কুরআন-হাদীসে এর কোনো দলীল নেই। সাহাবা-তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ী কারো থেকে এ আমলের প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং এসময় কালিমা পড়ানোর রেওয়াজ বর্জনীয়। ইমদাদুল মুফতীন: ৫৮৭
সমস্যা: আমি একটি মেয়েকে ভালোবাসি। আমাদের মাঝে সম্পর্ক ছিল খুব গভীর। একপর্যায়ে মেয়েটি আমার কাছ থেকে এই বলে শপথ নিল যে, আমি যদি তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করি তাহলে আমার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে। আমিও তার কথামতো কুরআন হাতে নিয়ে শপথ করি। এখন আমার প্রশ্ন হল, আমি যদি তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করি তাহলে আমার স্ত্রী কি তালাক হয়ে যাবে? যদি তালাক হয়ে যায় তাহলে আমার করণীয় কী অনুগ্রহ করে জানাবেন।
গিয়াসুদ্দীন
মহেশখালী, চট্টগ্রাম।
সমাধান: এ অবস্থায় ওই মেয়ে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করলেই স্ত্রীর ওপর এক তালাকে বায়েন পতিত হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে দুজন সাক্ষীর সামনে নতুন মোহর ধার্য করে বিয়ে করে নিলেই পরস্পরে সুষ্ঠুভাবে দাম্পত্য জীবন চালাতে পারবেন। উক্ত কসমের কারণে আর তালাক পতিত হবে না।
উল্লেখ্য, কোনো গায়রে মাহরাম মেয়ের সাথে দেখা দেওয়া, সম্পর্ক স্থাপন করা বা প্রেম করা এসব কিছুই শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম এবং মারাত্মক গুনাহের কাজ। সুতরাং এ ধরনের গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকা সকলের জন্যই জরুরি। হিদায়া: ২/৩৮৫; বাদায়েউস সানায়ে: ৩/১৭৪; আদ-দুররুল মুখতার: ৩/৩৪৪
ব্যবসা-বাণিজ্য
সমস্যা: আজকাল অনেক কোম্পানি ইলেকট্রনিক্স পণ্য-সামগ্রীর গুণগত মানের নিশ্চয়তা প্রদানের লক্ষ্যে ওয়ারেন্টি মেয়াদ দিয়ে থাকে। আবার কেউ ফ্রি সার্ভিস মেয়াদের সুবিধা দিয়ে থাকে। আমার জানার বিষয় হল, এধরনের চুক্তি সাপেক্ষে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয কিনা? ক্রয় করার পর এসুযোগ গ্রহণ করা যাবে কিনা?
মোহাম্মদ আবদুল খালেক
নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা।
সমাধান: হ্যাঁ, উপর্যুক্ত শর্তে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয এবং পরবর্তী সময়ে উক্ত সুযোগ গ্রহণ করার অধিকার ক্রেতার রয়েছে। আল–ফিকহুল ইসলামী ওয়াআদিল্লাতুহু: ৪/৪৮০
সমস্যা: আমাদের একটি জুয়েলারি দোকান আছে। গ্রাহকদের অনেকেই বাকিতে বা কিস্তিতে টাকা দিতে চায়। কিন্তু আমি শুনেছি সোনা-রূপা বাকিতে বিক্রি করা নাজায়েয। এতে আমাদের ব্যবসার উন্নতি হচ্ছে না। তাই কিস্তিতে সোনা-রূপার বিক্রির বৈধ কোনো পন্থা থাকলে তা জানাবেন।
মুহাম্মদ ইবরাহীম
সোনামসজিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
সমাধান: আপনার শোনা কথাটি ঠিক নয়। টাকা-পয়সা, বৈদেশিক মুদ্রা বা অন্য কোনো পণ্যের বিনিময়ে সোনা-রূপা বাকিতে বিক্রি করা জায়েয। তবে সোনাকে সোনার বিনিময়ে কম-বেশি করে বিক্রি করা কিংবা বাকি বিক্রি করা নাজায়েয। তেমনি রূপাকে রূপার বিনিময়ে কম-বেশি করে লেনদেন করা কিংবা বাকিতে লেনদেন করা নাজায়েয। রদ্দুল মুহতার: ৫/২৫৯