মেয়েলি পোশাকে বেঈমানি নীলনকশা
তানভীর সিরাজ
এক. অনেকদিন যাবৎ লিখবো লিখবো ভাবছিলাম, তবে বিভিন্ন ব্যস্ততার মহড়া যেন দিনের পর দিন বাড়তেই থাকে, থাকছে।
যিনি অন্তরে ভাবনার উদয়াস্ত ঘটান, তিনি আমাকে লেখার তাওফিক দিয়ে দেবেন। করে দেবেন সুযোগটিও। এই আমার বিশ্বাস।
আজ একটি আয়াতের কিঞ্চিত তাফসীর করতে গিয়ে বিষয়টি চলে আসাতে বেশ ঈমানী আবেগের সাথে নিচের কথামালা দিয়ে গেঁথেছিলাম আজকের দরদি মালির দরসে কুরআন, আল-হামদু লিল্লাহ।
জি, ইহুদি-খ্রিস্টানদের কথা বলছিলাম,
যারা আমাদের আজন্মকালের শত্রু, আর থাকবে তারা কিয়ামত অবধি …।
কেবল আমাদের কেন, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলেরও শত্রু ছিলো।
তাদের শত্রুতার একটা ফাঁদ হল মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে ইসলামি সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে মুসলিমজাতি আর তাঁর সভ্যতাকে নিধন করা।
আজকে আমরা যেদিকে তাকাই, সেদিকেই দেখি নারীসমাজ ইভটিজিং, কু-প্রস্তাব আর অপথের ইশারার শিকার!
স্বীকার করতে হই যে, তারা নিজের সম্ভ্রম নষ্ট করতে প্রস্তুত হয়ে যায় কখনো অর্থের অভাবে, কখনওবা টাকার প্রলোভনে, আবার কখনো নিজের যৌবনের কাছে পরাজিত হয়ে, কিংবা ক্যাডারনীতি, ভয়নীতি আর চাকুরীনীতির কাছে জীবনের তাকীদে হার মানিয়ে।
দুই. আমরা কি একটিবার চিন্তা করেছি, কেন আমার দেশের মেয়েসমাজের এতো সমস্যা?!
চিন্তা করেছি কি কখনো, আমার মেয়ে বিয়ে করতে চায় না কেন?!
আপনার স্ত্রী কেন আপনাকে না মেনে অবাধ্যতায় তার আনন্দ?!
আপনার টগবগে যুবক আদরের ছেলেটিও বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়; কেন জানায়, অথচ এ বয়সে বিয়ে করতে তার মাতুল হওয়ার কথা নয় কি?!
সারাদিন মাথারঘাম পায়ে ফেলে যাদের জন্য পরিশ্রম করে পিতা বাসায় আসেন, আসার পর ছেলেমেয়েরা কেন বাবার কাছে আসতে বিরক্তবোধ করে? ঘরেবাইরে কেন এতই অশান্তি আর অশান্তি?
তিন. সবকথার শেষকথা বলছি, আপনার অধিনস্থদের নিয়ে আর পেরেশানিতে পড়তে হবে না যদি গভীরভাবে চিন্তা করেন।
প্রথমকথা হলো মুসলিম সমাজকে ইহুদি-খ্রিস্টান আর অমুসলিমদের আবর্তিত অপসংস্কৃতি ও তাদের কর্মপন্থাকে না বলা, তাদের পরিকল্পনাকে নাকচ করা, তাদের পরামর্শকে চক্রান্ত মনে করা, তা হলেই নাতিশীতোষ্ণ এক বাগানে পরিণত হবে আমাদের পরিবার, আমাদের পারিবারিক সমাজ।
এবার চলুন, আমরা ইহুদি-খ্রিস্টানদের চক্রান্তের কিছু চিত্রাঙ্গন দেখি।
কুরআনী টেক্সটকে সামনে রেখে আজকের আবেদন-নিবেদন চলবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন,
اِنَّ الَّذِيْنَ يُحِبُّوْنَ اَنْ تَشِيْعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ١ۙ فِي الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ١ؕ وَاللّٰهُ يَعْلَمُ وَاَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ۰۰۱۹
‘নিশ্চয় মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়াকে যারা ভালো মনে করে, দুনিয়া- আখেরাতে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। অথচ আল্লাহ তাআলা যা জানেন তোমরা তা জানো না।’[1]
প্রশ্ন হল ইহুদি খ্রিস্টানরা কেন অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়াকে পছন্দ করে?
তার জবাব: ইহুদি-খ্রিস্টান আর বিজাতি সংস্কৃতির প্রথম হাতিয়ার হলো মুসলিম সভ্যতা নিধন করা। ইসলামি সংস্কৃতিকে যদি পৃথীবির বুক থেকে মুছে দিতে পারে তারা, তাতেই শান্তি তাদের। মুসলিমজাতি তাদের অনুসারী হয়ে যাক। তারা যেমন দলে দলে বেহায়াপনার সয়লাবে ভেসে যাচ্ছে, তেমনি মুসলিম জাতিকেও তারা এমন দেখতে চায়।
চার. ইহুদি-খ্রিস্টানদের চক্রান্তমূলক কাপড়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে স্বয়ং রাসুল (সা.) দীর্ঘ চৌদ্দশ বছর আগে হুঁশিয়ার করে সাবধানতার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এমন একটি সময় আসবে যখন মহিলারা কাপড় পরিধান করেও উলঙ্গ থাকবে। তারা পর পুরুষদের নিজেদের দিকে ডাকবে আর পুরুষরাও শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে অস্থায়ী স্বাদের জন্য স্থায়ী স্বাদকে হারাতে বসবে।
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ: «صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَـمْ أَرَهُمَا، قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُوْنَ بِهَا النَّاسَ، وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيْلَاتٌ مَائِلَاتٌ، رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْـمَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْـجَنَّةَ، وَلَا يَجِدْنَ رِيْحَهَا، وَإِنَّ رِيْحَهَا لَيُوْجَدُ مِنْ مَسِيْرَةِ كَذَا وَكَذَا».
‘হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জাহান্নামবাসী দু’ধরনের লোক এমন আছে যাদের আমি (এখনো) দেখতে পাইনি। একদল লোক, যাদের সাথে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে, তা দিয়ে তারা লোকজনকে পিটাবে। আর এক দল স্ত্রীলোক, যারা বস্ত্র পরিহিত হয়েও বিবস্ত্রা, (সুখ সম্পদ ভোগকারিনী হয়েও অকৃতজ্ঞা) যারা অন্যদের আকর্ষণকারিণী ও আকৃষ্টা, তাদের মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কূঁজের ন্যায়। ওরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তার খুশবুও পাবে না। অথচ এত এত দূর থেকে তার খুশবু পাওয়া যায়।’’[2]
পাঁচ. মেয়েলি পোশাক নিয়ে ইহুদি-খ্রিস্টানের নীল নকশা: পুরুষের চেয়ে মহিলার কাপড়ে নতুনত্ব কেন? কী-বা তার উদ্দেশ্য?
এমন প্রশ্নের জবাবে আমাদেরকে মনে করতে হয় ইহুদি খ্রিস্টানদের ইতিবৃত্ত। তারা ইসলামের গরীবি হালতে যেমন শত্রু ছিলো তেমনি তার এইদিনের গরীবি অবস্থাতেও একইরকমভাবে শত্রুতায় সচেষ্ট রয়েছে।
তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দুশমন, তাই দুশমনানে ইসলাম যারা, মুসলমানদের কী আর উপকারে করবে তারা। ভিনদেশি এনজিওগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করে আমরা তাদের গুরুত্ব দিয়ে থাকি, তবে তো তার মূল উদ্দেশ্য হল ঈমান করা আর এটি একটি তাদের সুপ্ত পন্থা। যার মাধ্যমে তারা ঈমানদার মাবোনদের ঈমান কেড়ে নিয়ে পুরা পরিবারকে ইহুদি ও খ্রিস্টান বানিয়েই ছাড়ছে ব্রিটিশ শাসিত সেই নীলকরদের মতন। যেমনটা নবী (আ.)-কেও এরা প্রলোভন দেখিয়েছিলো দুনিয়ার ক্ষমতাসহ নশ্বর আসবাবের।
চিন্তাচেতনা আর ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতি দিয়ে আমাদেরকে বারবার পথভ্রষ্ট করতে চায়।
ইহুদি-খ্রিস্টানরা সব দিকে আমাদের ঘায়েল করতে চায়, বাধ্য করতে চায় তাদের পরিকল্পনা মাফিক জীবন পরিচালনা করতে, যাতে আমরাও তাদের মত দুনিয়ার জীবনকে গ্রহণ করি আর জাহান্নামের রাস্তা পরিষ্কার করি।
তাই রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যেভাবে পারো ইহুদি-খ্রিস্টানদের বিরোধিতা করেই যাও।’
ছয়. তারা আজ মুসলিমজাতিকে নষ্টজাতিরূপে বিশ্বের সামনে পেশ করতে চোখের জেনার দিকে সহজে কাবু করার জন্য মহিলাদের পোশাককে বেঁচে নিয়েছে।
এমন এমন পোশাক তারা তৈরি করে, যা পরিধান করেও মেয়েরা উলঙ্গ। সমভাবেই অনুভব করা যায় পরিহিতাকে অপরিহিত অবস্থার অবস্থানকে!
চোখ বুজে থাকাটা কঠিন হয়ে যায়। সবশ্রেণির মুসলমান আজ বাধ্য হয়েই চোখের জেনায় পতিত হচ্ছে। ইচ্ছা না থাকলেও অনিচ্ছাকৃতভাবে চোখের জেনায় লিপ্ত হচ্ছে। লিপ্ত হচ্ছে প্রতি দুই হাত অন্তর অন্তর।
যদি ভুলে বেগানা মহিলার দিকে চোক পড়ে, তাহলে সেই ভুলকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন। এ সুসংবাদ পেয়েছি হাদীসে পাকে। আর যদি প্রথমদেখাটা ভালো লাগার কারণে বারবার তার দিকে ফিরে তাকাই তাহলে কিয়ামত দিবসে জেনাকারির চোখে শিশা ঢেলে দেওয়া হবে।
মেয়েলি পোশাকের কোন অংশ নিয়ে ইহুদি-খ্রিস্টানদের ভাবনা
আমার দীর্ঘদিনের পেরেশানিমুখর ভ্রুকুঞ্চন করা চিন্তা থেকেই ইহুদি-খ্রিস্টানদের দ্বারা তৈরিকৃত মেয়েলি পোশাক নিয়ে তাদের আসলরূপ পাঠকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
মুসলিম সভ্যতা আর ইসলামি সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার জন্য ইসলামের দোসররা আজ পাগলপারা হয়ে আছে।
যেদিকে যেভাবে পারছে ইসলামের ক্ষতিসাধন করে আসছে। আজ তারা ঈমানের যে একটি অংশ হায়া বা লজ্জা আছে সেই লজ্জাকে তারা বৈশ্বিকভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হামাগোড়ি দিয়ে হলেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য তারা বর্তমান সময়ে মেয়েদের পোশাককেই বেঁচে নিয়েছে। যার মাধ্যমে তারা মুসলমানদের সম্মানিত মা- বোনদের পথের কুকুর বানিয়ে রাখতে চায় পর্দার বিরুদ্ধে গোপন চক্রান্তের ভেতর দিয়ে মেয়েদের গোপনীয়তাকে প্রকাশ করে।
তারা মেয়েদের পর্দা করার যে মূল মাধ্যম, সেটি নিয়েই আজ তারা মুসলিম আবাল-বৃদ্ধকে চোখের জেনায় লিপ্ত করে ঈমান বিমুখ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অপ্রকাশ্য শয়তানের প্রকাশ্য সঙ্গী হয়ে।
আজকাল এমন কিছু বোরকা তারা মুসলিম বিশ্বকে উপহার দিচ্ছে, যা পরিধান করলে পর্দা আদায় হবে তো দূরের কথা, বরং নিজেরাও জাহান্নামে যাবে, অন্যদেরও নিয়ে যাবে।
সম্প্রতি একটা বোরকা বেশ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, নাম তার ‘আবায়া’। সেই বোরকাটা আজ মুসলিমসমাজের প্রায় মেয়েরা গায়ে দিয়ে থাকে। বিশেষকরে যুবতীরা। কেন তাহলে অহরহ মেয়েরা এই আবায়া’ বোরকা খুশি মনে পরিধান করছে?! অথচ প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য শয়তান তো তা মোটেই চায় না!
আবায়া, ফ্লাজু আর পাখী ড্রেস
আসলকথা হলো, এই আবায়া বোরকা, ফ্লাজু সেলুয়ার আর পাখী ড্রেস ইত্যাদি অভিশপ্ত পোশাক পরিধান করলে পরপুরুষের চোখ দ্রুত আকর্ষিত হয় এবং তারা নীরবে চোখের জেনা করে যায় আর সেই দিকে পরিহিতা মেয়েরাও বেশ খুশি মনে হেলেদুলে চলতে থাকে। কারণ তাদের দিকে না-কি পরপুরুষরা তাকাচ্ছে। তাদের ভাবনা।
সাত. এইসব মেয়েলি পোশাকের মাধ্যমে মেয়েদের সেই বিশেষ অঙ্গ ও অংশভাগ স্পষ্টভাবে ভেসে উঠে, যার প্রতি পরপুরুষ আকৃষ্ট থাকাটা খুবই স্বাভাবিক|
এ আবায়া বোরকা কোমর বরাবর ছিপছিপে সেলাই করা। পরিধান করলে মেয়েদের পেছনের দিক স্পষ্ট বোঝা যায়, আর সামনের দিকও অনুভব হয়, আবার বিপরীত দিকে ফ্লাজো পায়জামা এতো ঢিলেঢালা যে, মনে হয় যেন, এই বুঝি উপরে উঠে নলা, হাঁটু আর উরুস্তম্ভ দেখা যাবে। তাই বোরকা, ফ্লাজো আর পাখী ড্রেসের মতন বেহায়াপনা পোশাক পরিধান করা মুসলিম সভ্যতা বিরোধী বলে পরিধানটাও অবৈধ মনে ইসলামি স্কলারগণ।
তেমনি হিজাব নামক প্রচলিত নেকাব পরিধান করাও শরীয়ত সম্মত নয়। কারণ এই হিজাবের মাধ্যমে পরপুরুষেরা মেয়েটির প্রতি ঝুঁকে, তাই এমন হিজাব মুখে তুলতে হবে, যার দ্বারা চেহারা দেখা না যায়, বোঝা যায় না ভালোমন্দ। চেহারা কেবল নামাযে ঢেকে রাখতে হয় না, ঢেকে রাখতে হয় সেসব পুরুষের সামনে, যার সাথে বিয়ে বসা বৈধ। যাদেরকে শরীয়তের পরিভাষায় পরপুরুষ বা গাইরে মাহরাম বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
দৃষ্টি নন্দন, চিত্তাকর্ষক আর বাজে পোশাকাদিতে মুসলমান, অমুসলমান, আবাল-বৃদ্ধ কেনইবা জাহান্নামি আকর্ষণে বিকশিত হয়?
সব সুন্দরের সৃষ্টির শ্রেষ্ঠময় অধিকারী বিধাতা উক্ত প্রশ্নের জবাব দিয়ে ঘোষণা করেছেন, এ পোশাক হল শয়তানের আঁটানো ফাঁদ। তিনি বলেন,
وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطٰنُ اَعْمَالَهُمْ ۙ۰۰۲۴
‘শয়তান তাদের কাজকে (অশ্লীল পোশাককে) সৌন্দর্যমণ্ডিত করে পেশ করে।’[3]
অর্থাৎ অশ্লীল, অসামাজিক পোশাক গায়ে দিয়ে সমাজবিরোধী কাজ করাকে শয়তান পরিধানকারী মেয়ে-ছেলেদের অন্তরে একথা ঢেলে দেয় যে, আমাকে খুব ভালো দেখাচ্ছে, পথিকরা আমার দিকে তাকাচ্ছে।
কেউ মনে করে থাকেন; আমার পরিহিত সুন্দর জামা দেখে কোন পুরুষ প্রেমে পড়বে কিংবা অন্য মহিলারা ভেরি Handsome বলে প্রেমে পড়বে, অথবা প্রেমিককে খুশি করাসহ ইত্যাদি নিয়তে এইসব অসামাজিক পোশাক পরিধান করে থাকে। (আল্লাই ভালো জানেন।)
আট. তাদের এই মিনতির পেছনে যে কথাটি আল্লাহ তাআলা বলতে চান, তা হচ্ছে,
وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ اَكْبَرُؕ ۰۰۷۲
‘আল্লাহর সন্তুষ্টি সবচে‘ বড় সন্তুষ্টি।’
তাই বলছি, যেখানে আমার আপনার প্রেমিক প্রেমিকা থাকবে না, থাকবে না আপন-পর কেউ, আর অন্য কারো সন্তুষ্টিও যেখানে কাজে আসবে না, আসবে না কাজে যাদের খুশি করতে অসামাজিক পোশাক পরিধান করা তাদের সন্তুষ্টি, বরং তা আযাব-গযবের কারণ হয়ে পেশ হবে।
এ জন্য বলছি, কুরআন-হাদীসের সমর্থিত জামা-কাপড় পরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টায় সবসময় সতর্ক থাকি এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে ইহুদি-খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধবাদকে স্বাগত জানিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়ে ইলাহবাদকে স্বাগত জানিয়ে এমন পোশাকাদি পরিধান করতে হবে, যা গায়ে দিলে শরীরের কোনো অবস্থা বোঝা যায় না; পাওয়া যায় আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টি। যা ছাড়া কোনো উপায় নেই যেখানে থাকে না কারো তুষ্টি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জান্নাতি পোশাক পরিধান করার তওফিক দান করেন। আমীন।
[1] আল-কুরআন, সুরা আন-নুর, ২৪:১৯
[2] মুসলিম, আস-সহীহ, দারু ইয়াহইয়ায়িত তুরাস আল-আরবী, বয়রুত, লেবনান, খ. ৩, পৃ. ১৬৮০, হাদীস: ২১২৮
[3] আল-কুরআন, সুরা আন-নাহল, ২৭:২৪