কিশোর তুমি আমার প্রাণে
গোফরান উদ্দীন টিটু
তোমার জন্য ভোরের আলো ফোটে
তোমার জন্য গান যে পাখির ঠোটে
তোমার জন্য সকল নদী বইছে
তোমার কথা রাতের তারা কইছে।
তোমার জন্য সাগর ডাকে আয় রে
পাখপাখালি তোমায় ডাকে, ভাই রে।
তোমাকে খুব ভয় যে ওরা পায় রে
তোমার চেয়ে দুরন্ত কেউ নাই রে।
তোমার জন্য পথচেয়ে রয় পথ
তোমার জন্য ঘোরে উল্টোরথ
তোমার জন্য ছুটছে ঘোড়া দ্রুত
তোমার জীবন সবার প্রতিশ্রুত।
কিশোর তুমি ওড়াও ঘুড়ি প্রাণে
তোমায় ডাকি অমর গানে গানে
তোমারই যে পথচেয়ে রই আজো
কিশোর তুমি আমার প্রাণে বাজো।
মুশকিল
হ. ম. সাইফুল ইসলাম মনজু
মুশকিল! মুশকিল!!
পৃথিবীর সেরাজীব আজ সব বুজদিল।
দেখে ঝড় ভয়-ডর, মনে-প্রাণে শঙ্কা,
কালা যেন শুনে নারে নকীবের ডঙ্কা।
সুদূরে সে রেখে দিল টঙ্কা!
কোন্ বড়ি গিলেছে সে জাগে নারে হুঁশতিল!
মুশকিল! মুশকিল!!
দেখে নারে জান-মান কেড়ে নেয় নিত্য,
চেতনাও হারিয়েছে জ্বলে নারে পিত্ত!
নড়ে নারে নড়ে না ও’চিত্ত!
দুনিয়ার মোহে বুঝি ধরে গেছে খুশ-খিল!
মুশকিল! মুশকিল!!
লুটে নেয় টাকা-কড়ি বসে থাকে চুপচাপ,
জালিমেরা উৎসবে হেঁটে যায় দুপদাপ।
ঝুলি হতে খুনঝরে টুপটাপ!
ঘাড়ে-পিঠে দিয়ে যায় আরো ক’টা ঘুষ-কিল!
মুশকিল! মুশকিল!!
এরা কি রে সেরাজীব! নাই বুঝি লজ্জা!
ঘরকোণো কোণাব্যাঙ! বোঝে শুধু সজ্জা!
কোথা তার অস্তিও মজ্জা!
ঝরে যাক পড়ে যাক এইসব দোষ-দিল।
সরে যাক মুশকিল!!
সড়ক মানেই মরণ
আজহার মাহমুদ
সড়ক মানে মহা আতংক
সড়ক মানে ভয়
সড়কের এই অনিয়মে
চালকদেরই জয়।
সড়ক মানে আমার তোমার
প্রাণ হারানোর ঝুঁকি
সড়কের এই অনিয়মে
আমরা সবাই অসুখী।
সড়কের এই নির্মমতা
করছি সবাই বরণ
সড়ক মানে সকলের কাছে
এখন শুধু মরণ।
আপনদর্পণ
হুসামুদ্দীন
হৃদয় যখন শূন্য-সনে
কথার বানে মাতে,
শুধাই তাকে, কেউ কেনো নেই,
এই ছেলেটির সাথে?
দিচ্ছে জবাব হৃদয় তখন
নানান রকম বাতে।
বললো হৃদয়,তার পরিচয়,
আজ নিয়ে নাও হাতে।
এই ছেলেটি বক্র অতি
এই ছেলেটি খর,
তাই ছেলেটির বন্ধুরাও
চায় হতে তার পর।
এই ছেলেটি অহঙ্কারী
বিনয়ে তার ভয়,
তাই ছেলেটির জীবন এখন
পুরোই হলো লয়।
এই ছেলেটি অজ্ঞ কবি
ছন্দ জানে না সে,
ছন্দবিনে দুখের বীণে
জীবনটি তার নাশে।
এই ছেলেটি অভিমানী
এই ছেলেটি রাগী,
মিত্ররা তার হয় না কভু
দুঃখ-ক্লেষের ভাগী।
এই ছেলেটি অনুরাগী
প্রণয় পেতে চায়,
প্রণয়শূন্য জীবন নিয়ে
ছেলে মৃতপ্রায়।
আব্বু আমার
জাবের আজিজ
আব্বু আমার নয়নমণি
আব্বু আমার জান,
আব্বু তোমায় ভালবাসি
খোলে মন ও প্রাণ।
দিবারাতে আব্বু তোমায়
নিয়ে ভাবি আমি,
এই ধরাতে আব্বু তুমি
সত্যি অনেক দামি।
তোমায় যদি দেখতে না পাই
আনন্দ উল্লাসে
হৃদয় আমার ব্যাকুল থাকে
দুঃখ-ক্লেশের চাষে
তোমায় যদি পাইগো কাছে
আমি অহোরাতে,
আমোদ-বানে কাটবে জীবন
আব্বু তোমার সাথে।
তোমায় নিয়ে ভাববো শুধু
আমি দিবারাতে,
শান্তি কোথায় খোঁজে নিবো
আব্বু তোমার বাতে।
তুমি আমার পূরণ করো
মনের সকল আশা
তোমার তরে আমার মনের
সকল ভালোবাসা।
সাম্যবীণা
রিমঝিম মুস্তারি
হিংসা বিদ্বেষ রেষারেষি
আছে যত ঘৃণা
সব ভেদাভেদ বন্ধ করে
গাইবো সাম্য বীণা।
আচরণে সমপ্রীতি আর
হাতে রাখি হাত
আসবে তবে ধরার বুকে
উদ্ভাসিত প্রাত।
হাসি মুখে সবাই মোরা
আপন করে নিই
আপন স্বার্থ পরের জন্যে
উদার মনে দিই।
শ্রদ্ধা কিবা স্নেহ সুরে
মিলি পরস্পরে
সংসারেতে আসবে শান্তি
সাম্য ধরার পরে।
একটা বন্ধু চাই
আরিফুল ইসলাম সাকিব
মনের সাথে মন মিলিয়ে
একটা বন্ধু চাই,
সৎ হৃদয়ের মানুষ হবে
যার তুলনা নাই।
হাত ধরে তার হাজারো পথ
পাড়ি দিতে চাই,
ভালোবাসা থাকবে অটল
কোনো কমতি নাই।
সুখে-দুখে থাকবে পাশে
এমন বন্ধু চাই,
স্বার্থ ছাড়া এমন বন্ধু
বলো কোথায় পাই?
ভিন্নতা
সাইহান শাহরুমী
ঘুমটা গেলো ঘোমটা খুলে
উমটা গেলো তোমার বুকে
তখন তোমার মন হারালো
স্বপ্ন কারো তোমার চোখে।
আমার এপাশ ছন্নছাড়া
খরার নদী, বন-বনানী
তোমার সেথায় বিলাস জীবন
সুখের বাজে ঝনঝনানি
আলোর ভোর
আমজাদ ইউনুস
মিষ্টি ভোরে
মধুর সুরে
যিকির করে
পাখির দল।
টলমলিয়ে
কলকলিয়ে
বয়ে চলে
নদীর জল।
রবির আভা
ভোরের প্রভা
যায় ছড়িয়ে
দূর সুদূর।
মিষ্টি হাওয়ায়
রঙিন চাওয়ায়
হাসুক আলোর
মিষ্টি ভোর।
শাহাদাত
রোকন এনাম লোবান
শাহাদাত, কোন চাট্টিখানি কথা নয়,
মৃত্যুকে গ্রহণ করা সাগ্রহে, নয় অভিনয়।
বুকের জমিতে রক্তের গোলাপ ফোটানো,
ফিনকি দিয়ে সত্যের ঝর্ণা ছোটানো।
সত্যের পথে সোনালী শাহিনের জান নজরানাথ
এসব কবিতা নয়, নয় গদ্য বা সুমিষ্ট তারানা।
সন্ত্রাসের সাথে শাহাদাত মেলানো অপরাধ,
শাহাদাতের পথে নুয়ে আসে এক হাজার চাঁদ।
শাহাদাতের রাহে জ্বলতে জ্বলতে মৃত্যুর মৃত্যু হয়,
শাহাদাতের কাফেলা অবিনশ্বর, অজর ও অক্ষয়।
মৃত্যু বিরক্তিকর, আমৃত্যু হয়ে জান্নাতে যেতে চাই,
মৃত্যু এড়িয়ে যেন মহান রবের সাক্ষাৎ পাই!
শহীদের সৌভাগ্য বেয়ে পৃথিবীকে বলব বিদায়,
এই জান কুরবান করে মিটাতে চাই জন্মের দায়।
ঘাসফড়িঙ হয়ে করব কাশের জান্নাতে উড়াউড়িথ
শাহাদাতের স্বর্ণ হব লড়াইয়ের ময়দানে পুড়ি।
রহমতের বারীশ
আবদুল হাই ইদ্রিছী
বৃষ্টি এলো বৃষ্টি এলো
আল-হামদুলিল্লাহ,
নত শিরে শুকুর জানাই
তোমার-ই আল্লাহ।
বৃষ্টি পড়ে বাতাস বেয়ে
কুদরতে তোমার,
টাপুর টুপুর মিষ্টি সুরে
মন ভরে আমার।
বৃষ্টি শুধু বৃষ্টি তো নয়
রহমতের বারীশ,
গায়ে যখন পড়ে তখন
ঝরে মনের বিষ।
বৃষ্টি ভেজা শীতল হাওয়া
লাগে যখন গায়,
পোড়া মনে তখন আমার
সুখ যে কত পায়।
বৃষ্টি এলে তাই তো আমি
মনটাকে উড়াই,
গা ভিজিয়ে উদাস হয়ে
বৃষ্টিতে ঘুরাই।
বৃষ্টি এলো বৃষ্টি এলো
আল হামদুলিল্লাহ,
নত শিরে শুকুর জানাই
তোমার-ই আল্লাহ।
শিখর চৌধুরীর কবিতা
আশুরা আলেখ্য
ইসলামিক চন্দ্র মাসের প্রথম প্রহর’
মনে করিয়ে দেই ইতিহাসের ১০ই মহরম।
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র
হুসেনের মৃত্যুতে;
ঘটেছিল হৃদয় বিদারক ঘটনা।
যা আজও মনে করিয়ে দেয়’
কারবালার ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের রটনা।
মুসলমানদের জন্য সত্যিই বড়ো’
শোকাহত এই দিনটি।
মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে
প্রার্থনা করি;
শহীদানের পূর্ণ দোয়া-মাহফিলের।
আশ্বিনের ঝড়
কবিদের মতো তন্ময় হয়ে,
আমিও থাকি দেখতে চেয়ে;
কীভাবে বাতাস বয়ে তোমাদের আখিঁর-ঝড়ে।
যে ঝড়েতে পাতার শঙ্খে,
লেগেছে তাজা পল্লব।
তাইতো বলি আশ্বিনের ঝড়ে
সবকিছু নড়ে থর থর।