সমস্যা: (১) মানুষ মারা গেলে মৌলভীদেরকে টাকা দিয়ে কবর পাহারা দেওয়া এবং ইসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে ওয়াজ-মাহফিল করা শরীয়ত সম্মত কিনা? (২) কোন দাওয়াতের মধ্যে মৌলভীরা দর কষাকষি করে টাকা নেওয়া শরীয়ত সম্মত কিনা? (৩) যেকোন মানুষ মারা গেলে মৌলভী দ্বারা কুরআন শরীফ পড়ালে ওই কুরআন শরীফ পড়ার টাকা নেওয়াটা শরীয়তসম্মত কিনা?
আবদুল্লাহ
চকরিয়া, কক্সবাজার
শরয়ী সমাধান: (১) আমাদের দেশে প্রচলিত কবর পাহারা দেওয়া ও ইসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে ওয়ায-মাহফিলের আয়োজন করা কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয় এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তবয়ে তাবেয়ীন ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীন কেরামদের প্রথা ছিলনা। সুতরাং সেসব কাজ সাওয়াবের উদ্দেশ্যে করা বিদআ’ত ও নাজায়েয। কাজেই সেসব কাজে বিনিময় নেওয়া হারাম। (২) দুনিয়াবী খাইর-বরকতের জন্য দাওয়াত পড়ার বিনিময়ে টাকা নেওয়া জায়েয। সুতরাং ঐ দাওয়াতের বিনিময়ে দর কষাকষি করার সুযোগ রয়েছে। (৩) ইসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে খতমে কুরআন বা তাহলীল পড়ে টাকা নেওয়া নাজায়েয।
রদ্দুল মুহতার ৫/৩৫
সমস্যা: যিকরে জলীর (উচ্চঃস্বরে) ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী?
মিজান সিরাজ
ফেনী, চট্টগ্রাম
শরয়ী সমাধান: স্মরণ রাখতে হবে যে, যিকিরের উদ্দেশ্য হল অন্তরে আল্লাহর ভালবাসা সৃষ্টি করা, চাই তা উচ্চঃস্বরে হোক বা নিম্নস্বরে হোক। তবে উচ্চঃস্বরে যিকিরের সময় নিম্নে বর্ণিত শর্তসমূহের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। যথা- ১.উচ্চঃস্বরে যিকিরের দ্বারা কোন মুসল্লির ক্ষতি না হওয়া। ২.উচ্চঃস্বরে যিকিরের দ্বারা কোন ব্যক্তির ক্ষতি নাহওয়া ৩. কারো কোরান তিলাওয়াতে বিঘ্নতা সৃষ্টি না হওয়া। ৪.শরয়ীজ্ঞান অন্বেষণরত ব্যক্তির ডিস্টার্ব না হওয়া। ৫. লৌকিকতার জন্য না হওয়া। তবে উপরোক্ত শর্তসাপেক্ষে যিকিরে জলী বা উচ্চঃস্বরে যিকির যিকরে খফী বা নিম্নস্বরে যিকির থেকে উত্তম। কেননা স্বাস্থ্যের ক্ষতি না হয় মতো উচ্চঃস্বরে যিকির কলবে বেশি প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
সুরা আরাফ : ২০৫, বুখারী শরীফ: ১/১৭, ফাতহুল মুলহিম: ১ /১৬৭
সমস্যা: আমাদের দেশে প্রসিদ্ধ আছে যে, কোন ব্যক্তি অযু করার পর তার সতর খুলেগেলে অযু ভঙ্গ হয়েযায়। তদ্রুপ কোন মহিলা অযু করার পর কোন বেগানা পুরুষের সামনে পড়লে পুনরায় অযু করা জরুরি মনে করা হয়। এর হুকুম কী?
শরয়ী সমাধান: নিষ্প্রয়োজনে নিজের সতর দেখা বা অপরকে দেখানো হারাম। এবং নামাযে সতর খুলে যাওয়ার দ্বারা নামায নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু সতর খুলে যাওয়ার দ্বারা অযু ভঙ্গ হবে না। অনুরূপ ভাবে অযু করার পর কোন পুরুষের সামনে পড়লেও অযু ভঙ্গ হবে না। কেহ যদি পুনরায় অযু করা জরুরি মনে করে তখন তা বিদআত হবে।
বুখারী শরীফ: ১/৩২ জামেস সগীর: ১/৭১, ফাতওয়ায়ে দারুল উলূম: ১/১১৬
সমস্যা: আমার মেয়ের গত রমযান মাসের ২ তারিখে প্রথম হায়েয (ঋতুস্রাব) আসে, কিন্তু দ্বিতীয় দিন আবার হায়েয বন্ধ হয়ে যায়, অতঃপর রমযানের ৭ তারিখে আবার রক্ত আসে, ৯ তারিখে আবার বন্ধ হয়ে যায়, অতঃপর ২২-এ রমযান আবার রক্ত আসে, ঈদের দিন পর্যন্ত তা দেখা যায়। এমতাবস্থায় কোন কোন তারিখকে হায়েয হিসেবে গণ্য করা হবে? বিশেষ করে যে দিনগুলোতে রক্ত দেখা যায় সে দিনগুলোতে নামাযও পড়েনি এবং রোযাও রাখেনি। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তার কোন কোন দিনের নামায এবং রোযা কাযা করতে হবে? বিস্তারিতজানিয়ে বাধিত করবেন।
ফাহিম মাসরুর
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম
শরয়ী সমাধান: ঋতুস্রাবকালীন মহিলাদের ওপর নামায আদায় করা ও রোযা রাখা উভয়ই হারাম, এবং নামায পরে কাযা করতে হয় না, তবে রোযা কাযা করতে হয়। প্রশ্নের আলোকে রমযানের ২ তারিখ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত দিনগুলো হায়েয হিসেবে গণ্য হবে। বাকি দিনগুলো ইস্তেহাযা (অসুস্থতাবশত রক্তক্ষরণ) বলে গণ্য হবে। তাই ঋতুস্রাবকালীন নামাযের কাযা করতে হবে না, তবে রোযার কাযা করতে হবে। পক্ষান্তরে ১১ তারিখের পর অর্থাৎ ২২-এ রমযান থেকে ঈদ পর্যন্ত ইস্তেহাযাচলাকালীন নামায-রোযা উভয়টি আদায় করা আবশ্যক ছিল। তবে যেহেতু আদায় করা হয়নি তাই তা কাযা করতে হবে।
বুখারী শরীফ: ১/৪৬, মুসলিম শরীফ: ১/১৫১, মাবসুতে সারাখসী: ২/১৯৪, রদ্দুল মুহতার: ১/৪৮৩, বাদায়েউস সানায়ে: ১/১৬০
সমস্যা: আমাদের সমাজে বর্তমানে কিছু লোক বলে থাকেন, অযু ছাড়া যদি কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা বৈধ হয়, তাহলে কুরআন শরীফ স্পর্শ করাও বৈধ হবে। অথচ আমরা জানি, অযু ছাড়া কুরআন শরীফ স্পর্শ করা বৈধ নয়। এ ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী?
সালমান মাহমুদ
নোয়াখালী
শরয়ী সমাধান: হাদীস ও ফিকহের কিতাবাদী থেকে এ-কথা স্পষ্ট প্রমাণিত যে, কোন অপবিত্র ব্যক্তির জন্য কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা বৈধ হলেও তা স্পর্শ করা বৈধ নয়। কেননা তেলাওয়াতের বৈধতার ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট নিষেধ এসেছে যে, [لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْـمُطَهَّرُوْنَ] (কেবল পূত-পবিত্ররাই তা স্পর্শ করবে) তাই অযুবিহীন কখনো স্পর্শ করা যাবেনা। যারা স্পর্শ করার বৈধতার কথা বলে তাদের কথা সম্পূর্ণ ভুল।
আল-জাম’ লি আহকামিল কুরআন: ১৭/১৭১, মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক: ১/৩৪১, বাহরুর রায়েক: ১/৩৪৮, রদ্দুল মুহতার: ১/৪৮৮
সমস্যা: আমরা জানি, নিয়ত অন্তরের কাজ তাই মুখে নিয়ত না করলেও নামায শুদ্ধ হয়ে যাবে। আমাদের সমাজে মুখে আরবি নিয়ত করা সম্পর্কে মতানৈক্য দেখা যায়। কেউ বলেন জরুরি, কেউ বলেন জরুরি নয়। তাই এ-ব্যপারে শরীয়তের সঠিক বিধান কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
আরিফুল্লাহ
কুতুবদিয়া, কক্সবাজার
শরয়ী সমাধান: বিভিন্ন হাদীসও ফিকহী কিতাবাদী দ্বারা এ-কথা প্রতিয়মান হয় যে, নিয়ত করা ছাড়া নামায শুদ্ধ হবে না। কেননা নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়ত করা জরুরি। ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন নিয়ত অন্তরের কাজ। তাই মুখে আরবি বা বাংলা নিয়ত করা ব্যতীত অন্তরে নিয়ত করলেও নামায শুদ্ধ হয়ে যাবে। মুখে আরবি বা বাংলা নিয়ত করা জরুরি নয়। তবে অন্তরে নিয়ত করার সাথে সাথে মুখেও উচ্চারণ করা উত্তম। কেননা মুখে উচ্চারণ করলে অন্তরে নিয়ত করা সহজ হয়। বুখারী শরীফ: ১/২, ফয়জুল বারী: ১/৯৩, হিদায়া: ১/১৫৯, ফতহুল কদীর: ১/২৩২, মাজমাউল আনহুর: ১/৪৩
সমস্যা: আমরা জানি, জামায়াতে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে মাঝখানে দুই কাতার পরিমাণ ফাঁকা থাকলে বা মানুষ চলাচলের রাস্তা বা ছোট নৌকা চলতে পারে পরিমাণ জায়গা খালি থাকলে দু’কাতারের মাঝখানে ইত্তেসাল তথা সংযোগ বাকি থাকে না, যার ফলে নামায শুদ্ধ হয় না। অথচ বিশ্বইজতিমার ময়দানে দেখা যায় মাঝখানে যে রাস্তা আছে তা দুই কাতারের সমপরিমাণ থেকেও বেশি। তদ্রূপ জামায়াত চলাকালীন মানুষ ওইসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এমনকি মাঠের পিছনে রাস্তার পাশে ও বিভিন্ন স্থানে মানুষ জামায়াতে শরিক হয়, এবং বিভিন্ন বড়-বড় বিল্ডিংয়ের ছাদের ওপর থেকে-ও ইকতিদা করে থাকে, যার ফলে ইত্তেসাল বা সংযোগ থাকে না। উল্লিখিত ক্ষেত্রে নামায শুদ্ধ হবে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
শিহাব উদ্দিন
ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম
শরয়ী সমাধান: আল্লামা শামীর ভাষ্যমতে জামায়াতে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে ইকতিদা সহীহ হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত হল, ইমামের অবস্থা তথা রুকু-সিজদা ইত্যাদি ইমামকে দেখে হোক বা ইমামের আওয়াজ শুনে হোক মুকতাদী অবগত থাকতে হবে। পক্ষান্তরে ইমামের অবস্থা অস্পষ্ট হলে ইকতিদা সহীহ হবে না। প্রশ্নালোকে ইজতিমার ময়দানে মাইকে নামায পড়ানো হয় বিধায় যে সমস্ত মুকতাদী ইমামের রুকু-সিজদা ইত্যাদির অবস্থা স্পষ্ট ভাবে বুঝে তাদের নামায শুদ্ধ হয়ে যাবে। মাঝখানে রাস্তা থাকাতে কোন সমস্যা হবে না। এবং চলাচলের রাস্তা বা রাস্তার পাশে এমনকি পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদের ওপর থেকেও ইকতিদা করলে নামায শুদ্ধ হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে ইমামের অবস্থা মুকতাদী যেখানে হোক না কেন অস্পষ্ট হলে ইকতিদা শুদ্ধ হবে না। তবে সর্বাবস্তায় কাতারের সাথে সংযোগ রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষকে তার প্রতি যথেষ্ট যত্নবান হতেহবে।
বুখারী শরীফ: ১/১০১, ফয়জুল বারী: ২/৪৬১, ফতওয়ায়ে শামী: ২/৩৩৩, আল বাহরুর রায়েক: ১/৩৬৩।
সমস্যা: জানাযার নামাযে মসজিদ-সংলগ্ন মাঠ ছোট হওয়ার কারণে মুসল্লি বেশি হলে সাধরণত মাঠে সংকুলান হয় না এবং বর্ষাকালে মুষলধারে বৃষ্টি হলে সাধরণত বাইরে জানাযার নামায পড়ার পরিবেশ থাকে না। এমতাবস্থায় মসজিদের মেহরাবের বাহিরের দরজা দিয়ে জানাযা মেহরাবে রেখে মুসল্লিগণ মাসজিদে দাঁড়িয়ে জানাযার নামাযের নিয়ত করতে পারবে কিনা? শরয়ী সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
মাওলানা শহিদুল্লাহ
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম
শরয়ী সমাধান: আমাদের হানাফী মাযহাবে বিশেষ ঠেকা ব্যতীত (যথা- লাগাতার মুষলধারে বৃষ্টি ইত্যাদি) জানাযার নামায মসজিদে পড়া কোন অবস্থাতে জায়েয নাই। জানাযার নামায মসজিদে পড়া হলে নামাযের সাওয়াব পাওয়া যাবে না। মায়্যিত মসজিদের বাহিরে থাকুক, মুসল্লিরা ভিতরে থাকুক বা মায়্যিত এবং কিছু মুসল্লি বাহিরে আর বাকি মুসল্লি মসজিদের ভেতরে থাকুক, সর্বাবস্থায় জানাযার নামায মসজিদে পড়া মাকরুহে তাহরীমী ও নাজায়েয। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) সারা জীবনে মাত্র একবার প্রয়োজনবশত মসজিদের ভিতরে জানাযার নামায পড়েছেন আর কোন সময় জানাযার নামায মসজিদে পড়েননি। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) নাজ্জাশি বাদশাহের গায়েবানা নামাযে জানাযাহ পড়েছেন, মায়্যিত উপস্থিত ছিল না। তা সত্ত্বেও তার গায়েবানা নামায মসজিদে নববীতে পড়েননি। বরং মসজিদের বাহিরে জানাযার নামাযের জন্য যে একটা নির্দিষ্ট জায়গা ছিল সেখানে পড়েছিলেন। অথচ নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মসজিদে নববীতে এক রাকাআত নামায পড়লে পঞ্চাশ হাজার রাকাআত নামাযের সাওয়াব পাওয়া যায়।’ তা সত্ত্বেও তিনি জানাযার নামায কখনও মসজিদে নববীতে পড়েননি। নবী করীম (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি মসজিদের মধ্যে জানাযার নামায পড়বে সে নামাযের সাওয়াব পাবে না। সুতরাং প্রশ্নে উল্লিখিত ঘটনায় মসজিদের নিকট যদি জায়গা ছোট হয় তখন একটু দূরে যেতে হলেও মাঠে গিয়ে বা লম্বা রাস্তা প্রশস্ত থাকলে সেখানে জানাযার নামায পড়া দরকার, মসজিদে নয়।
বুখারী শরীফ: 1/167, আবু দাউদ: 2/454, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ১/২২২, আহসানুল ফাতাওয়া: ৪/১৮৩
সমস্যা: বর্তমানে আমাদের দেশে কিছু আলেম আছেন, যারা বলে থাকেন, সদকায়ে ফিতির টাকা দ্বারা আদায় করলে আদায় হবে না। কেননা হাদীসে টাকার কথা বলা হয়নি বরং খাদ্য-দ্রব্যের কথা বলা হয়েছে। এখন আমার জানার বিষয় হল, এভাবে টাকা দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করলে তা শরীয়তসম্মত কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।
আবদুল্লাহ
নোয়াখালী
শরয়ী সমাধান: স্মরণ রাখতে হবে যে, যাকাত যেমন স্বর্ণ-চাঁদি দ্বারা আদায় করা জরুরি নয় বরং বর্তমান রূপা, চাঁদির মূল্য হিসাবে নেসাব নির্ধারণ করে সেই মূল্যের টাকা বা সে পরিমান কাপড় ছোপড় বা অন্য জিনিসের দ্বারা আদায় করা জায়েয এবং তার দ্বারা যাকাত আদায় হয়ে যায়। এরকম সদকায়ে ফিতির ও এককেজি সাড়ে সাতশত গ্রাম অর্থাৎ, পৌনে দু’কেজি গম বা তার আটা অথবা তার মূল্য নির্ধারণ করে সে পরিমাণ যে কোন জিনিসের দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করলে সদকায়ে ফিতির আদায় হয়ে যাবে। আর যদি গম, আটা বা তার মূল্য দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করা না হয়, বরং জব, কিসমিস বা খেজুর ইত্যাদি দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করা হয়, তখন পৌনে চার কেজি অথবা তার মূল্য পরিমাণ যে কোন জিনিস দ্বারা সদকায়ে ফিতির আদায় করা জায়েয ও সহীহ হবে। আমাদের এ ফতওয়ার সাথে ইমাম বুখারী (রহ.)ও একমত। কেননা অবিকল গম, আটা, কিসমিস, জব ইত্যাদি দ্বারা যদি সদকায়ে ফিতির আদায় করা জরুরি ও ওয়াজিব বলা হয়, তখন মানুষের জন্য অনেক কষ্টকর হবে, এবং গরিব মিসকিন যারা যাকাত বা সদকায়ে ফিতির ইত্যাদি ভোগ করবে তাদেরও অনেক সময় উপকারে আসবে না। সুবিধাবাদী লা-মাযহাবীর দল যারা কুরআন হাদীসের শাব্দিক অর্থ ছাড়া তার আসল মর্ম ও সহীহ ব্যখ্যা বুঝে না এবং বুঝার জ্ঞানও রাখে না; এ সমস্ত জাহেল লা-মাযহাবীরা কুরআন-হাদীসের সহীহ মর্ম না বুঝে জনগণকে কষ্টে ফেলার জন্য এবং কুরআন-হাদীস মতে আমল না করার জন্য এ সমস্ত অহেতুক কথা বলে থাকে। যা ভুল ও অশুদ্ধ এবং কুরআন-হাদীসের অপব্যাখ্যা।
আবু দাউদ শরীফ: ১/২২৮, তিরমিযী শরীফ: ১/১৩৬, বুখারী শরীফ: ১/১৯৪, ফয়জুল বারী: ৩/৩৭৮, রদ্দুল মুহতার: ৩/৩২১
সমস্যা: আমি একজন মাদরাসার শিক্ষক। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ হতে নির্ধারিত সময়ে বেতন ঠিক মত না পাওয়ায় মাদরাসায় বেতন বাবত ত্রিশহাজার টাকা জমা হয়েছে। আমি এখন ওই মাদরাসায় চাকুরিরত অবস্থায় আছি এবং যখনই মাদরাসা হতে বেতনের টাকা চাই, আমাকে বলা হয়, যখন মাদরাসার ফান্ডে টাকা জমা হবে তখনই আপনার টাকা দেওয়া হবে। অর্থাৎ আমার টাকা পাওয়ার নির্দিষ্ট কোন সময় নাই। তাই আমার প্রশ্ন হলো, এ ধরণের বাকি বেতনের ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে কিনা?
আশরাফ আলী
কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা
শরয়ী সমাধান: চাকুরীর বেতন বাবত যে সমস্ত টাকা বাকি ও কর্জ হয়, সে ধরণের কর্জকে ফিকহশাস্ত্রের পরিভাষায় دين ضعيف বলা হয়। তার শরয়ী হুকুম হলো, উক্ত কর্জের টাকার মালিক যদি সাহেবে নেসাব হয়, তখন নেসাব পরিমাণ টাকা উসূল হওয়ার পর তার ওপর এক বৎসর অতিবাহিত হলেযাকাত ওয়াজিব হবে। নতুবা উক্ত টাকার ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে না।
রদ্দুল মুহতার: ২/৪৯
সমস্যা: বাংলাদেশিরা যখন হজ করতে যান, তখন উমরার কাজ সমাধান করে আবার ৮ তারিখে হজের জন্য ইহরাম ধারণ করেন। তারপর হজের কাজ শেষ করে কিছুদিন মক্কা শরীফে অবস্থান করেন। আমার জানার বিষয় হলো, সেই বাংলাদেশি ব্যাক্তি হজের পর মক্কায় অবস্থানকালে মসজিদে আয়েশাতে গিয়ে ওমরার নিয়তে ইহরাম বেঁধে বারবার উমরা করতে পারবে কিনা? আর ওই সময় উমরা করলে সাওয়াব বেশি না তাওয়াফ করলে সাওয়াব বেশি? জানালে উপকৃত হবো।
মুজাফফর আহমাদ
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
শরয়ী সমাধান: আপনি হজের যে পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন তাকে ইসলামের পরিভাষায় তামাত্তু বলা হয়। এছাড়া আরো দু’প্রকারের হজ রয়েছে। মোটকথা যেকোন প্রকারের হজ পালন শেষে মক্কা শরীফে অবস্থান কালে উমরা পালন করতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ হজের দিনগুলো ব্যতীত যে কোন সময় উমরা পালন করা যায়, এবং হাদীস শরীফে উমরা পালন করার অনেক সাওয়াব ও ফযীলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে হাদীস এবং ফিকহের কিতাবাদীতে মক্কা শরীফে অবস্থান কালে উমরা বেশি করার তুলনায় তাওয়াফ বেশি করার ফযীলত এবং তাওয়াফ উত্তম হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই বারবার উমরা করার চেয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা উত্তম হবে।
সূরা বাকরা: ১২৫, রদ্দুল মুহতার: ৩/৫১৭, ফাতওয়ায়ে কাসেমিয়া: ১২/২২৫
সমস্যা: জনাব! আমি দুবাইয়ে বসবাস করি। এবার আমার মাকে হজ্জ করানোর জন্য আমি জেদ্দা বিমান বন্দরে উপস্থিত হয়ে তাকে গ্রহণ করে হজের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। এখন আমার জানার বিষয় হলো, এমতাবস্থায় আমার মায়ের হজ করার জন্য বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা-বিমানবন্দর পর্যন্ত কোন মাহরাম ছাড়া একা পৌঁছা জায়েয বা বৈধ হবে কিনা?
মুসলেহ উদ্দিন
ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম
শরয়ী সমাধান: স্মরণ রাখতে হবে যে, মহিলাদের জন্য কোনো মাহরাম ব্যতীত হজের সফর করা জয়েয নেই। যদিওবা আপনি আপনার মাকে জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করবেন, কিন্তু বাড়ি থেকে বা বাংলাদেশ বিমানবন্দর থেকে জেদ্দা বিমানবন্দর পর্যন্ত এত দীর্ঘ পথ কোনো মাহরাম ব্যতীত সফর করা ইসলামী শরীয়ত মতে জায়েয বা বৈধ হবে না। যদি আপনি তাকে হজ করাতে চান, তাহলে বাংলাদেশে এসে তাঁকে সাথে নিয়ে হজ করাতে হবে বা কোনো মাহরাম আত্মীয় জেদ্দা বিমান বন্দর পর্যন্ত তার সাথে যেতে হবে।
সহীহ বুখারী: ১০৮৭; সহীহ মুসলিম: ১৩৩৮; রদ্দুল মুহতার: ২/৪৬৬
সমস্যা: সরকারি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সকল কর্মচারী, শ্রমিক প্রতিজন এক সাথে দুইলক্ষ থেকে পাঁচলক্ষ টাকা পেয়েছেন। এদের মধ্যে কিছু লোক এমন আছে যাদের এই টাকা ব্যতীত কোন জমি বা টাকা-পয়সা নেই এবং অন্য কোন আয়ের উৎসও নেই। এখন এই টাকা দ্বারা তাদের ওপর হজ ফরজ হবে কিনা?
হাবীবুর রহমান
রাউজান, চট্টগ্রাম
শরয়ী সমাধান: ইসলামী শরীয়তের মধ্যে হজের সময় হলো দুই মাস দশ দিন অর্থাৎ শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজের ১০/১২ দিন পর্যন্ত যে কোন ব্যক্তি যদি হজের এই সময়ের মধ্যে এই পরিমাণ নগদ টাকার মালিক হয়, যে টাকা দ্বারা সে সহজভাবে মক্কা শরীফে যাতায়াতের খরছ এবং মক্কা শরীফে যতদিন অবস্থান করবে তার খরছ এবং হজ পালন করত: বাড়িতে ফিরে আসা পর্যন্ত তার পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণ ইত্যাদি সুষ্ঠুভাবে কারো মুখাপেক্ষি হওয়া ছাড়া সহজভাবে চালাতে পারে তখন তার ওপর হজ ফরয হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে তার বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তার দিকে লক্ষ্য করা যাবে না। কেননা সেগুলোর দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা নিয়েছেন। বাকি বান্দার জন্য তার সাধ্য অনুযায়ী যোগ্যতা মতে চেষ্টা করতে হবে। আর যদি হজের সময় আসার পূর্বেই কোন ব্যক্তি কোন অঙ্কের টাকা বা অর্থের মালিক হওয়ার পর হজের সময় আসার পূর্বে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করার পর এবং হজের সময়ের মধ্যে তার নিকট এ পরিমান নগদ টাকা জমা না থাকে যা দ্বারা সে হজ পরিপূর্ণ ভাবে পালন করতে পারে। অর্থাৎ হজের যাতায়াত ও সেখানে অবস্থানকালের প্রয়োজনীয় খরচএবং হজ থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত তার পরিবারবর্গের খরচ ইত্যাদি আঞ্জাম দিতে পারে মতো তার নিকট নগদ টাকা না থাকে, তখন তার ওপর হজ ফরয হবে না।
আলমগীরী: ১/২১৭, ফাতওয়ায়ে দারুল উলূম: ৭/৩২৯
সমস্যা: যদি কারো মালিকানায় কুরবানীর দিনগুলো থেকে কোন একদিনে এ-পরিমাণ হারাম বা অবৈধ সম্পদ হস্তগত হয় যে, যার দ্বারা কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যায়। তখন এমন সম্পদ দ্বারা তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কিনা? জানালে উপকৃত হবো।
কবীর আহমদ
টেকনাফ, কক্সবাজার
শরয়ী সমাধান: যদি এমন পন্থায় কোন সম্পদ হস্তগত হয় যে, ইসলামী শরীয়ত মতে যে মালের সে মালিক হয় না। (যেমন: চুরিকৃত টাকা) এমন সম্পদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে না। তবে যদি এমন পন্থায় হস্তগত হয়, ইসলামী শরীয়ত মতে যে সম্পদের ওপর তার মালিকানা সাব্যস্ত হয় (যেমন অবৈধ ব্যবসা)। এমন মালের ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। রদ্দুল মুহতার: ৫/৪৯, তাবয়ীনুল হাকায়েক: ৪/৬১
সমস্যা: গরু, মহিষ, উট কুরবানির উদ্দেশ্যে ক্রয় করার পূর্বে সাতজন শরীক করা এবং তাদের কাছ থেকে নিজ-নিজ অংশের মূল্য নিয়ে নেওয়া আবশ্যক? নাকি ক্রয় করার পর অংশীদার তালাশ করতে পারবে?অথবা চার পাঁচজন মিলে ক্রয় করার পর অন্য দুই-তিনজনকে শরীক করতে পারবে কিনা? জানিয়ে বাধিত করবেন।
হাবিব মিসবাহ
চকরিয়া, চট্টগ্রাম
শরয়ী সমাধান: প্রশ্নে উল্লিখিত সকল পদ্ধতি শরীয়তসম্মত ও বৈধ। তবে সাতজন শরিক হওয়ার পূর্বে ক্রয় করলে ক্রেতা যদি দরিদ্র হয়, তখন সাতজন শরিক হওয়ার পর কুরবানির নিয়ত করবে। কেননা দরিদ্র ব্যক্তির জন্য কুরবানির নিয়তে জন্তু ক্রয় করার পর অন্য কাউকে শরিক করা জায়েয নেই।
ফতওয়া মাহমুদিয়া: ২৬/৩১৬; রদ্দুল মুহতার: ৫/২০১
সমস্যা: দু’জন স্ত্রী থাকলে কোন-কোন খাতে সমতা রক্ষা করা একান্ত জরুরি? শরয়ী সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
ডা. ফরিদুল আলম
আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম
শরয়ী সমাধান: কোন ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের ভরণ-পোষণ এবং তাদের সাথে সহবাস ইত্যাদির মধ্যে সমতা রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন, নতুবা আল্লাহ তায়ালার নিকট কঠিন শাস্তির সম্মূখীন হতে হবে। অবশ্যকোন স্ত্রীর প্রতি যদি আন্তরিক মায়া-মমতা বেশি থাকে তাতে অসুবিধা নাই। তার পরও আচার-ব্যবহার, ভরণ-পোষণ এবং সহবাস ইত্যাদির মধ্যে সমতা বজায় রাখতে হবে।
সূরা নিসা: ৩, তিরমিযী শরীফ: ১/২১৬, হেদায়া: ২/৩৪৯, ফতওয়ায়ে শামী: ৪/৩৭৭
সমস্যা: একজন স্বামী ও তার স্ত্রীর মাঝে প্রায় সময় কথা কাটাকাটি হয়ে থাকে, একদিন স্বামী তাঁর স্ত্রীকে খুব বেশি বকাবকি করে। ঘটনার পর স্ত্রীর ভাই (শালা) তার স্বামী (দুলা ভাইকে) গালমন্দ করে এবং ধমক দেয়, তাতে স্বামী রাগান্বিত হয়ে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলে, যদি তুমি তোমার (ওই) ভাইয়ের সাথে কথা বলো তাহলে তুমি তিন তালাক। এখন আমার জানার বিষয় হলো, স্ত্রীর ওপর তালাক পতিত না হয়েও তার ভাইয়ের সাথে কথা বলার শরয়ী কোন হিলা বা পন্থা আছে কি না?
দীন মুহাম্মদ
জালিয়াপাড়া, টেকনাফ
শরয়ী সমাধান: প্রশ্নে উল্লিখিত ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীকে শর্তসাপেক্ষে যে তিন তালাক দিযেছে, উক্ত শর্তসাপেক্ষ বাক্যের শর্ত যদি লঙ্ঘন না হয়ে থাকে অর্থাৎ, স্ত্রী তার ভাইয়ের সাথে কথা না বলে থাকে, তখন তিন তালাকের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার পদ্ধতি হলো, স্বামী স্ত্রীকে শর্তবিহীন একটি বায়েন তালাক প্রদান করবে তার পর স্ত্রী থেকে পৃথক থাকবে। তালাকের ইদ্দত তিন হায়েয (মাসিক স্রাব) অতিবাহিত হওয়ার পর আর স্ত্রী যদি গর্ববতী হয় তখন গর্ব প্রসব করার পর স্ত্রী শর্ত লঙ্ঘন করবে। অর্থাৎ উক্ত ভাইয়ের সাথে কথা বলবে। তখন উক্ত তিন তালাক পতিত হয়ে বৃথা হয়ে যাবে। কেননা তালাকের ইদ্দতের সময় অতিবাহিত হওয়ার পর উক্ত স্ত্রী বেগানার মত হয়ে যাবে। অতঃপর স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মতিক্রমে কমপক্ষে দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে এবং কমপক্ষে সর্বনিম্ন মহর ২৫০০ (আড়াই হাজার) টাকা ধার্য করে শরীয়তসম্মত ভাবে আক্দে নেকাহের নবায়ন করবে। তারপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মেলামেশা ও ঘর-সংসার করতে কোন অসুবিধা হবে না।
আল মুহীতুল বুরহানী: ৩/৫৩৫, রদ্দুল মুহতার: ৪/৬০৯, তাতারখানিয়া: ৫/৫২, ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৪১৬
সমস্যা: একদিন আমার স্ত্রী আমাকে সন্দেহ করে ঝগড়া করতে লাগল। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি স্ত্রীকে বললাম, সবসময় আমার ঝগড়া ভালো লাগছে না। তুমি চলে যাও। তখন আমার স্ত্রী বলল, আমাকে দিয়ে দাও। আমি বললাম চলে যাও। আমার স্ত্রী আবার বলল, আমাকে দিয়ে দাও। আমি বললাম চলে যাও। আমার স্ত্রী আবার বলল, আমাকে দিয়ে দাও। আমি বললাম চলে যাও। আমি চলে যাও যে বাক্যটা বললাম, এটা মানে এমনি চলে যেতে বললাম। তালাক দেওয়ার কোন নিয়ত আমার ছিল না। আমার স্ত্রীর দিয়ে দাও বাক্যটার মানে হচ্ছে, আমি তাকে তালাক দিয়ে দেই, এটা আমি বুঝতে পেরেছি। আমি চলে যাও যে বাক্যটা বলেছিলাম, এটা এমনি চলে যেতে বলেছি, তালাক দিচ্ছি না, এটা আমার স্ত্রীও বুঝতে পেরেছে। যার কারণে আমার স্ত্রীর চলে যাও বাক্যটা মেনে না নিয়ে বারবার বলেছে, দিয়ে দাও।
বি. দ্র. তালাক শব্দ কেউ উল্লেখ করিনি। এবং আমার তালাকের নিয়তও ছিল না।
মু. মিসবাহ
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
শরয়ী সমাধান: প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনায় স্বামীর নিকট স্ত্রীর বারবার তালাক তলব করার পরিপ্রেক্ষিতে স্বামী যে বলেছে, তুমি চলে যাও, কিন্তু তার দ্বারা স্বামী যে দাবী করতেছে, আমি তালাকের নিয়ত করি নাই বরং স্বাভাবিকভাবে এবং উপহাস করে বলেছি। তাই যদি স্বামী আল্লাহ তায়ালার নামে শপথ করে বলে থাকে যে, সে তালাকের নিয়ত করেনি। তখন উক্ত বাক্যের দ্বারা স্ত্রীর ওপর তালাক পতিত হবে না। কেননা, ঐ ধরণের শব্দগুলি আমাদের ফেকাহ শাস্ত্রে কেনায়া (ইঙ্গিত) শব্দ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়, যার দ্বারা রাগের সময় বা স্ত্রী কর্তৃক তালাক তলব করার সময়ও তালাক পতিত হওয়ার জন্য তালাকের নিয়ত করা প্রয়োজন। তালাকের নিয়ত না থাকলে তার দ্বারা তালাক পতিত হয় না। কিন্তু ভবিষ্যতে স্ত্রীর জন্য এরকম শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা একান্ত জরুরি।
আদ্দুররুল মুখতার: ৪/৫২৮, রদ্দুল মুহতার: ৪/৫৩৩ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৩৭৫, বাদায়েউস সানায়ে’: ৪/২৩৬, আল বাহরুর রায়েক: ৩/৫১৯