বুধবার-১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি-৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আল জামিয়ার দিন-রাত

জামিয়ার সদ্যপ্রয়াত দুই বিদগ্ধ মনীষীর স্মরণে মরসিয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন

২৯ অক্টোবর’১৯ (মঙ্গলবার) বাদে মাগরিব হতে জামিয়ার দারুল হাদিস মিলনায়তনে শুবায়ে মুশাআরার উদ্যোগে জামিয়ার সদ্যপ্রয়াত সিনিয়র মুহাদ্দিস, মুআররিখে ইসলাম আল্লামা রহমতুল্লাহ কাউছার নেজামি (রহ.) ও জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি আজিজুল হক (রহ.)-এর কনিষ্ঠ সাহেবজাদা, প্রবীণ উস্তাদ আল্লামা ইসমাইল আজিজ (রহ.)-এর স্মরণে মরসিয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন মুশাআরা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক আল্লামা আবদুল জলিল কওকব (দা. বা.)। প্রধান অতিথি ছিলেন জামিয়ার প্রধান পরিচালক ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবদুল হালীম বুখারী (দা. বা.)। অনুষ্ঠানে জামিয়ার ছাত্র-শিক্ষক ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কবিগণ গীতিকাব্যের মাধ্যমে দুই মনীষীর কর্মমুখর জীবনের বিভিন্ন দিক অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেন। এসময় গীতিকাব্যের সুরে আবেগঘন এক পরিবেশ তৈরি হয়। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আমি হজের সফরে থাকাকালীন আমাদের দু’জন প্রবীণ উস্তাদ ইন্তেকাল করেন। তাই জানাযায় শরীক হতে পারিনি। সফর থেকে এসে তাদের কবর জিয়ারত করেছি। অসুস্থতা সত্ত্বেও তাদের মরসিয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করে, আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি। আল্লামা রহমতুল্লাহ কাউছার নেজামি (রহ.)-এর বৈচিত্রময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আল্লামা বুখারী (দা. বা.) বলেন, আল্লামা রহমতুল্লাহ কাউছার নেজামী (রহ.) ছিলেন স্পষ্টবাদী। যা হক মনে করতেন, নির্দ্বিধায় বলে দিতেন। তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল উস্তাদ। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে জামিয়ার ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক ও বাংলাদেশ তাহফীযুল কুরআন সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। বহুদিন ইত্তেহাদের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ছিলেন। এসময় কারো নিকট কোনো অনিয়ম চোখে পড়েনি। আল্লামা ইসমাইল আজিজ (রহ.)-এর স্মৃতিচারণ করে জামিয়া প্রধান বলেন, এ জামিয়াকে তিলে তিলে গড়ে তুলতে আল্লামা ইসমাইল আজিজ (রহ.)-এর অবদান অনস্বীকার্য| তার সুদক্ষ পরিচালনার ফলে অল্প দিনে দোহাজারি মাদরাসায় বৈপ্লবিক পরিবতর্ন ঘটে। পরিশেষে হুযুর সকলকে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে জীবনের উন্নতি সাধন করতে বিশেষভাবে আহ্বান করেন।


 

আনজুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিসের যৌথ অধিবেশন অনুষ্ঠিত

জামিয়ার দারুল হাদিস মিলনায়তনে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস (বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড)-এর সাধারণ পরিষদ, শুরা পরিষদ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির যৌথ অধিবেশন ৪ নভেম্বর ১৯ সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বোর্ড সভাপতি আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা. বা.) দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জামিয়ার প্রধান মুফতি ও মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ আহমদুল্লাহ সাহেব (দা. বা.)। অধিবেশনে সেক্রেটারি জেনারেল আল্লামা মুফতি আবদুল হালীম বুখারী (দা. বা.) আগত প্রতিনিধিগণের সর্বসম্মতিক্রমে আল্লামা হাফেজ আহমদুল্লাহ সাহেব (দা. বা.)-কে সহসভাপতি, আল্লামা জসীম উদ্দিন কাসেমী (দা. বা.)-কে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আল্লামা ছাবের মাছুম (দা. বা.)-কে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মনোনীত করেন। ইত্তেহাদ সভাপতির বার্ধক্যজনিত কারণে এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আল্লামা রহমতুল্লাহ কাউছার নেজামী (রহ.) ইন্তেকাল করায়, বোর্ডের কাজকে আরো বেগবান করতে এ নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে ১৪৪০ হিজরি শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মারকায তথা সবোর্চ্চ নাম্বারপ্রাপ্ত কৃতী শির্ক্ষাথীদের নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।এছাড়া ১৪৪১ হিজরি শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার তারিখ আগামি ১৩ শাবান থেকে ১৯ শাবান নির্ধারণ করা হয় এবং জামাতে দুয়ামের পরিবর্তে জামাতে উলাকে কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়। পরিশেষে আল্লামা বুখারী (দা. বা.) সকলের উদ্দ্যেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ নসীহত পেশ ও মুনাজাত পরিচালনা করেন। মুনাজাতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আল্লামা রহমতুল্লাহ কাউছর নেজামী (রহ.)-এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।


 

আল্লামা মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ হুযুর (দা. বা.)-এর ইসলাহী জোড় সমপন্ন

২৩ অক্টোবর’১৯ (বৃহসপতিবার) বাদে মাগরিব জামিয়ার দারুল হাদিস মিলনায়তনে কুতুবে যামান মুহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জি হুজুর (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলিফা, জামিয়ার প্রধান মুফতি ও মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ আহমদুল্লাহ (দা. বা.)-এর ইসলাহী জোড় সম্পন্ন হয়েছে। এতে হুযুরের খলিফাগণ, রুহানি সন্তান ও ভক্তগণ উপস্থিত ছিলেন। সকলের উদ্দেশ্যে হুযুর বলেন, আত্মার ব্যাধির চিকিৎসা করা আমাদের জন্য আবশ্যক। এর জন্য একজন হক্কানি রব্বানি উস্তাদ প্রয়োজন। আত্মার রোগমুক্তির জন্য নিজের মেধার ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে তার পদস্খলন অবশ্যম্ভাবী। হুযুর আরও বলেন, সময়কে সর্বাধিক আল্লাহর দীনের কাজে লাগাতে বায়আত আবশ্যক। বায়আতের বিশেষ ফায়দা চারটি। (ক) অতীতের সকল কবিরা গোনাহ থেকে তওবা করা, (খ) ভবিষ্যতে কোনো গোনাহ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা। (গ) নিজ সমস্যাবলি শায়খের কাছে তুলে ধরা। (ঘ) তিনি যে কাজ দেবেন তা সঠিকভাবে পালন করা। এসব কাজ করলে উভয় জগতে কামিয়াবি আসবে, ইনশাআল্লাহ। অবশেষে হুযুরের দুআ-মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


 

জামিয়ার অসুস্থ মুরব্বিগণের দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ দুআ-মুনাজাত

৭ নভেম্বর’১৯ (বৃহসপতিবার) দারুল হাদিস মিলনায়তনে জামিয়ার অসুস্থ মুরব্বিগণের দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ দুআ-মুনাজাতের ব্যবস্থা করা হয়। উক্ত দুআ-মুনাজাত পরিচালনা করেন জামিয়ার সিনিয়র মুফতি ও মুহাদ্দিস আল্লামা শামসুদ্দিন জিয়া (দা. বা.) । দুআ মাহফিলে দেশ ও জাতীর সার্বিক কল্যাণ ও মজলুম মুসলমানের মুক্তি কামনা করা হয়।


 

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ (শর্টকোর্স)-এর সীরাত সেমিনার অনুষ্ঠিত

নভেম্বর’১৯ (রবিবার) জামিয়ার ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ দারুল হাদিস মিলনায়তনে সিরাতুন্নবী (সা.) প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামিয়ার প্রধান পরিচালক ও শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতি আবদুল হালীম বুখারী (দা. বা.)। বিচারক ছিলেন মাওলানা আবদুল জলিল কওকব (দা. বা.), আল্লামা মুহসিন (দা. বা.), অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সাহেব (দা. বা.) ও অধ্যাপক আবুল হোসেন (দা. বা.)। প্রধান অতিথি শর্টকোর্সের ত্রি-ভাষার বার্ষিক সীরাত প্রতিযোগিতা স্মারক নবোদয় ৪র্থ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করত সংশ্লিষ্ট সকলের এ সৃজনশীল কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আলোচক ছিলেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামযা (দা. বা.), মাওলানা কাজী আখতার হুসাইন আনোয়ারী ও মাওলানা জাফর ছাদেক (দা. বা.)। সেমিনারে প্রতিযোগী ছাত্ররা আরবি, বাংলা ও ইংরেজি বক্তব্য, আরবি কথোপকথন, হামদ-নাত, হিফজুল হাদিস ও উন্মুক্ত কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ইংরেজি, আরবি ও বাংলা বক্তব্য শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

তথ্যসূত্র: আবদুর রহমান বিন ইউনুছ

জামিয়া প্রতিবেদক, মাসিক আত-তাওহীদ

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ