আসআদ শাহীন
বিশ্ব এখন এক বিস্ময়কর বৈচিত্র্যের দ্বীপপুঞ্জ— যেখানে প্রতিটি জাতি, রাষ্ট্র ও সম্প্রদায় একে অপরের সঙ্গে জড়াজড়ি করে টিকে আছে, আবার বিপরীতমুখী স্বার্থে একে অপরের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। আজকের পৃথিবী আর কেবল একটি ভৌগোলিক মানচিত্র নয়; এটি হয়ে উঠেছে দ্বন্দ্ব, সংকট, সম্ভাবনা ও প্রত্যয়ের এক অন্তহীন নাট্যমঞ্চ।
একদিকে মানবজাতি প্রযুক্তির শিখরে পৌঁছে দিয়েছে সভ্যতার কপাল; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ অভিযান কিংবা বৈশ্বিক যোগাযোগ আমাদের এনে দিয়েছে এক অভূতপূর্ব যুগ। কিন্তু সেই একই পৃথিবীর বুকে, অন্যদিকে, রক্তের রঙে রাঙানো হচ্ছে গাযা উপত্যকা, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে ইউক্রেন, নিপীড়নের কান্না বয়ে আনছে রোহিঙ্গা শিবির, আর জলবায়ুর ক্রোধে কাঁপছে সাগরপারের ছোট ছোট দ্বীপগুলো।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি আজ এক অস্থির ও অনিশ্চিত আবহে ঘূর্ণায়মান। প্রতিটি সংকট যেন কেবল একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়—বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে বৈশ্বিক বিবেকের দরজায়। যুদ্ধ, শরণার্থী, বৈষম্য, জলবায়ু বিপর্যয়, নারীর অধিকার কিংবা সাইবার যুদ্ধ—প্রতিটি ইস্যুই আজকাল পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত, জটিল এবং বহুমাত্রিক।
এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য শুধু সংকটের বিবরণ নয়, বরং তার গভীরে প্রবেশ করে বুঝতে চাওয়া— কে দায়ী? কোথায় দাঁড়িয়ে মানবতা? আর কোথায় দাঁড়িয়ে আমরা, প্রত্যেকে? এই বিশ্লেষণে আমরা খুলে দেখতে চাই আধুনিক পৃথিবীর সেইসব ইস্যুর পরত পরত— যা কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং নৈতিক, মানবিক, আর অস্তিত্বের প্রশ্ন।
এক. গাযা সংকট ও ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধ: একটি বিশ্লেষণ
পৃথিবীর বুকের ওপর কখনো কখনো এমন কিছু ভূখণ্ড থাকে, যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায়—প্রতিটি নিঃশ্বাস হয় প্রার্থনা, আর প্রতিটি শিশুর কান্না হয়ে ওঠে ইতিহাসের অনুচ্চারিত করুণ কাব্য। গাযা সেই ভূখণ্ড। এখানে বুলেটের ভাষা রাষ্ট্রনীতির পরিভাষায় রূপ নেয়, আর মৃত্যু হয়ে ওঠে প্রতিদিনকার বাস্তবতা। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব তাই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নয়, বরং এক সুপরিকল্পিত উপনিবেশবাদী নির্মাণের বিপরীতে এক জাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।
ফিলিস্তিনের ইতিহাস শুরু হয় পবিত্রতার আলোয়, কিন্তু ১৯৪৮ সালের “নাকবা” (Nakba) সেই আলোকে ঢেকে দেয় শরণার্থীর অন্ধকারে। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নামে ব্রিটিশ ম্যান্ডেট-পূর্ব শাসনব্যবস্থার ভাঙনে প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়। তারা চলে যায় সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও গাযার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে, যেখান থেকে আর কখনো ফেরা হয়নি তাদের নিজেদের ভিটেমাটিতে।
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাযা, পূর্ব জেরুজালেম, গোলান হাইটস দখলে নেয়। এ ছিল এক উপনিবেশবাদী ভূখণ্ড দখলের সূক্ষ্ম কৌশল, যার পরিণতিতে গাযা হয়ে ওঠে এক “খোলা-আকাশের কারাগার” (Amnesty International, 2021), যেখানে মানুষ বেঁচে থাকে, কিন্তু স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারে না।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বর্তমান সংঘর্ষে ইসরায়েলের “সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের” নামে যে বিভীষিকাময় গণহত্যা চালানো হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির সরাসরি অবমাননা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষার্ধে গাযায় নিহতের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে—তন্মধ্যে ১৪ হাজারের বেশি শিশু এবং ৯ হাজারের অধিক নারী।
হাসপাতাল, স্কুল, সাংবাদিক ও জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে (UN OCHA, 2024)। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার মতে, গাযার ৯০ শতাংশ মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছে; হাজার হাজার মানুষ পুষ্টিহীনতায় মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। এই অবরোধ শুধু নিষ্ঠুর নয়, বরং এটি “ধ্বংসের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত মানবিক অপরাধ” (HRW, 2023)।
বিশ্ব রাজনীতির দ্বিমুখিতা ও ভণ্ডামি
এখানে আসে বিশ্ব রাজনীতির বিবেকের প্রশ্ন। জাতিসংঘ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভেটো প্রয়োগ করে সেই প্রস্তাব বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান দাবি করেছেন,
U.S. National Security Adviser Jake Sullivan has stated that Israel is exercising its right to self-defense. In a press conference held in Tel Aviv on December 12, 2024, following a meeting with Israeli Prime Minister Benjamin Netanyahu, Sullivan addressed Israel’s military actions in Syria after the collapse of President Bashar al-Assad’s government. He emphasized that Israel is acting to identify and neutralize potential threats, including conventional weapons and weapons of mass destruction, which could pose risks not only to Israel but also to other nations. Sullivan acknowledged international concerns regarding Israel’s operations but expressed the U.S. expectation that these measures would be temporary, aimed solely at ensuring security until a stable arrangement is established. (Reuters. (December 12, 2024). U.S. security adviser Sullivan says Israel is acting in Syria for its own defence)
“ইসরায়েল আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।”
২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর তেলআবিবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তাদের আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা, যা সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত ও নিরসনের জন্য নেওয়া হয়েছে—বিশেষত প্রচলিত অস্ত্র ও গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মতো বিষয়গুলো, যা শুধু ইসরায়েলের জন্যই নয়, অন্যান্য দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
জ্যাক সুলিভান আরও স্বীকার করেন, আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এসব অভিযান হবে অস্থায়ী এবং কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে, যতক্ষণ না একটি স্থায়ী ও নিরাপদ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। (Reuters. 12 December 2024: U.S. security adviser Sullivan says Israel is acting in Syria for its own defence)
অথচ এই আত্মরক্ষার নামে লক্ষ শিশুর প্রাণহানি কোনো বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারে না।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেছেন,
French President Emmanuel Macron has emphasized that Israel must adhere to international law in its military operations. In a telephone conversation with Israeli Prime Minister Benjamin Netanyahu on March 24, 2024, Macron reiterated his call for an immediate and lasting ceasefire in Gaza and expressed deep concern over Israeli military actions, particularly in Rafah. He warned that the forced displacement of people from Rafah would constitute a “war crime” under international law.
“ইসরায়েলকে অবশ্যই তার সামরিক অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে।” ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে মাক্রোঁ গাযায় অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিশেষ করে রাফাহ-এ ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, রাফাহ শহর থেকে মানুষের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে গণ্য হবে। (French Ministry for Europe and Foreign Affairs. (March 24, 2024). Telephone conversation between President Emmanuel Macron and Benjamin Netanyahu)
তবে নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশের পরও ইউরোপ-আমেরিকার রাষ্ট্রগুলো অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। এ যেন দুঃখের শীতল প্রহর—যেখানে মানবতা হেরে যাচ্ছে অস্ত্র ব্যবসা ও কূটনৈতিক স্বার্থের কাছে।
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ ও উম্মাহর নিরবতা
ফিলিস্তিন শুধু একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয়—এটি একটি ঈমানি ইস্যু। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“وَإِنِ اسْتَنْصَرُوكُمْ فِي الدِّينِ فَعَلَيْكُمُ النَّصْرُ”
“তারা যদি দীনের ব্যাপারে তোমাদের সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে তোমাদের কর্তব্য তাদের সাহায্য করা।” (সূরা আনফাল, ৮:৭২)
হজরত আবু সাঈদ আল খুদরী (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ رَأَى مِنكُم مُّنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِن لَّمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِن لَّمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَٰلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ.
“তোমরা যদি কোনো জুলুম দেখো, তবে তা হাত দিয়ে প্রতিহত করো। যদি না পারো, তবে মুখে বলো। আর তাও না পারলে অন্তত অন্তরে ঘৃণা করো—এটাই ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৪৯)
কিন্তু ওআইসি বা আরব লীগ আজ নীরব দর্শক। তারা কেবল বিবৃতি দিতে জানে, কার্যকর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগে ব্যর্থ। মুসলিম উম্মাহর এই নিরবতা ইতিহাসে এক নির্মম আত্মসমর্পণের দলিল হয়ে থাকবে।
বিশ্লেষণ: ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক দ্বিমুখিতা
গাযা সংকট এক বহুমাত্রিক ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিফলন:
যুক্তরাষ্ট্র: তাদের মধ্যপ্রাচ্য নীতির কেন্দ্রবিন্দু হলো ইসরায়েলকে নিরাপত্তা ও আধিপত্য দেওয়া, যার বিনিময়ে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।
রাশিয়া ও চীন: গোপনে ফিলিস্তিনি পক্ষকে সমর্থন জানালেও তারা নিজেরা বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত।
ভারত: ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক, সামরিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক দৃঢ়তর করছে এবং একে “সন্ত্রাস বিরোধী সহযোগিতা” বলে অভিহিত করছে (The Hindu, 2024)।
বিশ্বের বিভিন্ন ন্যায়পন্থী রাজনীতিবিদদের অবস্থান এর বিপরীত। চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বরিচ বলেছেন:
Chilean President Gabriel Boric has stated:
“What is happening in Gaza is genocide—Chile cannot silently accept this.”
This statement reflects President Boric’s strong condemnation of the situation in Gaza. In November 2023, Chile recalled its ambassador to Israel, citing “unacceptable violations of international humanitarian law” in Gaza. Furthermore, in January 2024, Chile, alongside Mexico, referred the situation to the International Criminal Court, urging an investigation into potential war crimes committed by Israel. (International reactions to the Gaza war)
“গাযায় যা ঘটছে, তা গণহত্যা—এটিকে নীরবে মেনে নেওয়া চিলির বিবেক হতে পারে না।”
এই বক্তব্যে গাযা পরিস্থিতির প্রতি প্রেসিডেন্ট বরিচের কঠোর নিন্দা প্রকাশ পেয়েছে।
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে, গাযায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের “অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘনের” অভিযোগে চিলি তার রাষ্ট্রদূতকে ইসরায়েল থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, চিলি মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ICC) উপস্থাপন করে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তের আহ্বান জানায়। (Reuters, 2024)
এছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি সিরিল রামাফোসা সরাসরি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্ভাব্য সমাধান ও পথরেখা
এই সংকটের নিরসনে দরকার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও কার্যকর পদক্ষেপ:
গাযার অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত ও বিচার
জাতিসংঘের কার্যকর শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন
স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও চাপ
মুসলিম বিশ্ব ও সাধারণ নাগরিক সমাজের সম্মিলিত মানবিক আন্দোলন
গাযার আকাশে বোমা ফাটে, কিন্তু নিভে না প্রতিরোধের আলো। শহীদ শিশুর চোখে যে প্রশ্ন জমে থাকে, তা কেবল আরব বিশ্ব নয়— সমগ্র মানবজাতির আত্মাকে বিব্রত করে। এই সংঘাত যেন একটি আয়না, যেখানে আমরা নিজেদের মূল্যবোধ ও বিবেকের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।
হয়তো এই লেখার প্রতিটি অক্ষর একদিন সাক্ষী থাকবে সেই দিনের, যেদিন বুলেট নয়, কলম জয় করবে; এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনের ভোর সূর্যকে সম্ভাষণ জানাবে।
দুই. নারী অধিকার ও এলজিবিটিকিউ+: পাশ্চাত্য দর্শনের মুখোমুখি ইসলাম
বিশ্ব সভ্যতা আজ এক গভীর নৈতিক সঙ্কটে উপনীত হয়েছে। সমাজ ও সংস্কৃতির নামে এমন এক স্রোত বইছে, যা মানুষকে তার প্রকৃতি, যৌনতা, সম্পর্ক ও দায়িত্ববোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করে এক আত্মকেন্দ্রিক ভোগবাদী জীবনযাপনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নারীর অধিকার ও এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) আন্দোলন এই স্রোতের অন্যতম শক্তিশালী ঢেউ, যা ব্যক্তিস্বাধীনতার মোড়কে পরিবার, মূল্যবোধ এবং মানবিক ভারসাম্যকে বিপন্ন করে তুলছে।
একদিকে পশ্চিমা দর্শনে নারীকে পুরুষের প্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলা হয়েছে; অন্যদিকে যৌন পরিচয়কে এক প্রকার সামাজিক পরীক্ষার বিষয় বানিয়ে ফেলা হয়েছে, যার ফলে মানুষ তার প্রাকৃতিক লিঙ্গ পরিচয় নিয়েও সংশয়ে ভুগছে। এই পটভূমিতে ইসলাম এক পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে নারী ও লিঙ্গ পরিচয়ের বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও নৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছে। এ প্রবন্ধে উদ্দেশ্য ইসলামের আলোকে নারী অধিকার ও এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) ইস্যুকে বিশ্লেষণ করা এবং পাশ্চাত্য দর্শনের অসারতা খণ্ডন করা।
পাশ্চাত্য নারী-অধিকার আন্দোলনের বিবর্তন
নারী অধিকারের নামে যে আন্দোলন পশ্চিমা বিশ্বে গড়ে উঠেছে, তা মূলত তিনটি পর্যায়ে বিকাশ লাভ করেছে।
প্রথম ধাপ: ১৯ শতক – প্রারম্ভিক ২০ শতক
এই পর্যায়ে নারী আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল ভোটাধিকার, সম্পত্তির মালিকানা ও প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার। এটি ছিল প্রকৃত অর্থেই নারীর স্বতন্ত্র মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
দ্বিতীয় ধাপ: ১৯৬০-৮০
এই পর্যায়ে নারীরা ব্যক্তিগত জীবনে সমতা, কর্মজগতে প্রবেশাধিকার, গর্ভপাত ও জন্মনিয়ন্ত্রণের স্বাধীনতা দাবি করে। এখান থেকেই নারীবাদ এক ধরণের পুরুষবিরোধী রূপ নেয় এবং নারীর সামাজিক ভূমিকার বিপরীতে গিয়ে দাঁড়ায়।
তৃতীয় ধাপ ও এর পরবর্তী রূপ : ১৯৯০–বর্তমান
এই পর্যায়ে নারীবাদী তত্ত্বগুলো যৌন স্বাধীনতা, যৌন পরিচয়ের স্বতন্ত্রতা এবং “gender fluidity”-র মতো ধারণা তুলে ধরে। এর ফলে ‘নারী’ পরিচয় নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য হারিয়ে এক অজ্ঞাত নির্ধারিত পরিচয়ে রূপ নেয়।
পশ্চিমা নারীবাদ এক পর্যায়ে এসে নারীকে এমন এক স্বাধীনতার কথা বলে, যা তাকে একাকীত্বে, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতায় ও মানসিক অবসাদে ঠেলে দেয়।
ইসলামে নারী: মর্যাদা ও দায়িত্বের প্রতিরূপ
ইসলাম নারীকে দিয়েছে সম্মান, মর্যাদা এবং তার প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অধিকার। ইসলাম নারীর অধিকারকে মানুষের অধিকার হিসেবেই বিবেচনা করে, তবে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার্থে কিছু ভূমিকার পার্থক্য করে।
কুরআনের ভাষায় নারী
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ.
হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন। (সূরা হুজুরাত, ৪৯:১৩)
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ.
আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের ওপর অধিকার রয়েছে, তেমনিভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের ওপর নিয়ম অনুযায়ী। আর নারীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর আল্লাহ হচ্ছে পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ। (সূরা বাকারা, ২:২২৮)
হাদীসে নারীর মর্যাদা
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত রাসূল (ﷺ) বলেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا وَخِيَارُكُمْ خِيَارُكُمْ لِنِسَائِهِمْ خُلُقًا.
“তোমাদের মধ্যে ঈমানে পরিপূর্ণ মুসলমান হচ্ছে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি। যেসব লোক নিজেদের স্ত্রীদের নিকট উত্তম তারাই তোমাদের মধ্যে অতি উত্তম।” (জামে আত-তিরমিজি, হাদীস নং: ১১৬২)
তিনি আরও বলেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَحَقُّ بِحُسْنِ صَحَابَتِي قَالَ ” أُمُّكَ ”. قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ” أُمُّكَ ”. قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ” أُمُّكَ ”. قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ” ثُمَّ أَبُوكَ ”.
“এক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিক হকদার? তিনি বললেন: তোমার মা। লোকটি বললো: অতপর কে? নবী (ﷺ) বললেন: তোমার মা। সে বললো: অতপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বললো: অতপর কে? তিনি বললেন: অতপর তোমার বাবা।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৯৭১, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৫৪৮)—এটি নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও মমত্বের দৃষ্টান্ত।
ইসলাম নারীকে কী দিয়েছে?
নিজস্ব সম্পত্তির মালিকানা
উত্তরাধিকারে অংশ
শিক্ষার অধিকার
বিবাহে সম্মতির অধিকার
ভরণপোষণের নিশ্চয়তা
ইসলামে নারী উপার্জন করলে তার আয় তার নিজের, কিন্তু তার ভরণপোষণের দায়িত্ব পুরুষের। এই ভারসাম্য তাকে বোঝা নয়, মর্যাদা দেয়।
এলজিবিটিকিউ+ আন্দোলন: একটি সাংস্কৃতিক বিপর্যয়
পশ্চিমা সমাজে প্রবাহ
LGBTQ (Lesbian, Gay, Bisexual, Transgender, Queer) আন্দোলন পশ্চিমা সমাজে প্রথম শুরু হয় ১৯৬৯ সালের “Stonewall Riots”-এর মাধ্যমে। এরপর ধীরে ধীরে এটি আইনি স্বীকৃতি পেতে শুরু করে। আজ বহু দেশে সমলিঙ্গ বিবাহ বৈধ, লিঙ্গ পরিবর্তন বৈধ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় শিশুদের লিঙ্গনির্ধারণ ‘পছন্দ’ হিসেবে শেখানো হচ্ছে।
এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি হলো— “নিজের শরীরের মালিক আমি”, “নিজের যৌনতা নিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নেব”, “লিঙ্গ একটি সামাজিক নির্মাণ”।
ইসলাম কি বলে?
ইসলামে লিঙ্গ পরিচয় ও যৌনতা আল্লাহ-নির্ধারিত ও সীমার মধ্যে বদ্ধ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
أَتَأْتُونَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعَالَمِينَ. وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُم مِّنْ أَزْوَاجِكُم ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ.
“তোমরা কি পুরুষদের সঙ্গে কামলিপ্সায় লিপ্ত হও নারীদের ছেড়ে, যাদের সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য?” (সূরা আশ-শুআরা, ২৬:১৬৫-১৬৬)
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ.
“তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ওইসব পুরুষকে লানত করেছেন যারা নারীর বেশ ধরে এবং ওইসব নারীকে যারা পুরুষের বেশ ধরে।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৮৮৫)
সমলিঙ্গ সম্পর্ককে ইসলাম কেবল নিষিদ্ধই বলেনি, বরং এটিকে জাতি ধ্বংসের কারণ বলেছে। হজরত লূত (আ.)-এর জাতির ওপর ধ্বংস নেমে এসেছিল এই পাপাচারের কারণেই।
আধুনিক জেন্ডার থিওরি বনাম ইসলাম
১. লিঙ্গ পরিচয়
পাশ্চাত্য দর্শন : সামাজিক নির্মাণ, পরিবর্তনযোগ্য
ইসলাম : জন্মগত, আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত
২. যৌন সম্পর্ক
পাশ্চাত্য দর্শন : যে কারও সঙ্গে ইচ্ছাধীন
ইসলাম : বৈবাহিক সম্পর্ক, নারীর সঙ্গে
৩. বিবাহ
পাশ্চাত্য দর্শন : সমলিঙ্গ বিবাহ বৈধ
ইসলাম : পুরুষ-নারী বৈবাহিক সম্পর্ক
৪. সন্তান গ্রহণ
পাশ্চাত্য দর্শন : দত্তক বা সারোগেসি
ইসলাম : স্বাভাবিকভাবে, বৈধ দম্পতির মাধ্যমে
পাশ্চাত্য দর্শনের অন্তঃসারহীনতা
১. ব্যক্তি স্বাধীনতার অতিরঞ্জন
পশ্চিমে স্বাধীনতা মানে প্রায়শই সীমাহীন অধিকার। অথচ স্বাধীনতা মানে দায়িত্বশীলতা। যে স্বাধীনতা পরিবার, সমাজ ও মানবিক ভারসাম্য ভেঙে ফেলে—তা আসলে আত্মবিধ্বংসী।
২. পারিবারিক কাঠামোর ভাঙন
নারীবাদ ও এলজিবিটিকিউ আন্দোলনের ফলে পারিবারিক কাঠামো ধসে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৫০ শতাংশের বেশি শিশু বড় হচ্ছে একক পিতামাতার অধীনে।
৩. মানসিক স্বাস্থ্য সংকট
যৌনতা ও লিঙ্গ পরিচয়ের বিকৃত ধারণা তরুণদের মধ্যে মানসিক বিভ্রান্তি ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়াচ্ছে। The Trevor Project (2022) রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি সাধারণ তরুণদের তুলনায় তিনগুণ বেশি।
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ: নৈতিকতার পুনর্নির্মাণ
ইসলাম মানুষের সমস্ত প্রবৃত্তি ও চাহিদার স্বাভাবিক রূপরেখা দেয়, তার সীমারেখাও নির্ধারণ করে। ইসলামের দৃষ্টিতে:
নারী পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক
লিঙ্গ পরিচয় জন্মগত, পরিবর্তনযোগ্য নয়
যৌনতা বিবাহভিত্তিক ও দায়িত্বপূর্ণ
আল্লাহ তাআলা বলেন:
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً ۖ وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ.
“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করে, সে পুরুষ হোক কিংবা নারী, আমি তাদেরকে একটি পবিত্র (উত্তম) জীবন দান করব।” (সূরা নাহল, ১৬:৯৭)
মুসলিম সমাজের করণীয়
১. ইসলামী শিক্ষার প্রসার: স্কুল ও মাদরাসায় আধুনিক বিভ্রান্তির খণ্ডনসহ দীনভিত্তিক লিঙ্গ পরিচয়ের শিক্ষা।
২. মিডিয়ায় সচেতনতা বৃদ্ধি: শরীয়াহভিত্তিক নারী মর্যাদা ও পারিবারিক কাঠামো তুলে ধরা।
৩. চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা: LGBTQ প্রবণতা থেকে মুক্তি চাওয়া মুসলিমদের জন্য সমর্থনমূলক কাউন্সেলিং।
৪. রাষ্ট্রীয়ভাবে অশ্লীলতা ও বিকৃতির প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা।
পাশ্চাত্য যখন নারীর হাতে ‘মুক্তি’র পতাকা তোলে, ইসলাম তখন নারীর হাতে দেয় মর্যাদার চাবিকাঠি। পশ্চিম যখন ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে সম্পর্ককে পণ্য করে, ইসলাম তখন সেই সম্পর্ককে করে মোবারক, পূর্ণ ও দায়িত্বপূর্ণ।
আজকের বিভ্রান্তিময় সময়ে দরকার, মুসলিম বিশ্ব যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইসলামের সুমহান আদর্শ তুলে ধরে— যা কেবল ধর্ম নয়, বরং একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।
তিন. নারীর যৌন স্বাধীনতার দাবি বনাম বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
“আমার শরীর, আমার অধিকার”—এই শ্লোগানটি এখন নারীবাদী আন্দোলনের অন্যতম চেতনাবাক্য হয়ে উঠেছে। নারীর স্বাধীনতার নামে এখন তারা দাবি করছে যৌন স্বাধীনতা—যেখানে নারী নিজের ইচ্ছেমতো সম্পর্ক করতে পারবে, বৈবাহিক বন্ধনের প্রয়োজন হবে না এবং শরীর হবে একক সিদ্ধান্তের এলাকা।
তবে প্রশ্ন উঠছে—এই ‘স্বাধীনতা’ আসলে নারীর মুক্তির পথ, না কি এক গভীর আত্মবিধ্বংসী গহ্বরে পতনের আহ্বান?
যৌন স্বাধীনতা: নারীর বিকাশ না বঞ্চনা?
আধুনিক নারীবাদ যৌন স্বাধীনতার নামে নারীকে উপস্থাপন করছে ভোগ্য পণ্যের মতো। তারা বলছে—“নারী নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে, কার সঙ্গে কখন, কীভাবে সে যৌন সম্পর্ক করবে।” আবার তারা এটাও বলছে—”আমরা সবাই বেশ্যা, বুঝে নেব হিস্যা।”
এই দর্শন যে কতটা সামাজিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে তা পশ্চিমা সমাজের দিকে তাকালেই বোঝা যায়:
১. বিবাহের প্রতি অনাগ্রহ: Pew Research (2023) অনুযায়ী, পশ্চিমা যুবতীদের ৪৭% বলেছে, তারা বিয়ে ছাড়াই সন্তান নিতে চায়।
২. একক মাতৃত্ব ও পিতৃপরিচয়হীন সন্তান: মার্কিন CDC (2022) এর তথ্য অনুযায়ী, ৪০% শিশু জন্ম নিচ্ছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে।
৩. যৌন অপরাধের উল্লম্ফন: যৌন স্বাধীনতার আড়ালে বেড়েছে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, পর্নোগ্রাফির আসক্তি ও যৌন দাসত্ব।
[আগামী সংখ্যায় সমাপ্য]