আবদুল হান্নান
বিষণ্ণ হৃদয় নিয়ে দারসে বসেছিলাম। কিতাবের পাতায় মন আবদ্ধ করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু মন যেন বারবার হারিয়ে যাচ্ছিল দূর অজানায়। পড়ন্ত বিকেলের ম্লান রোদ্দুরের সাথে মিশে মনটা আমাকেই একা ফেলে চলে যাচ্ছিল কোথায় যেন। বহু চেষ্টা করেও মনকে পড়ায় ফিরিয়ে আনতে পারি নি। ঠিক তখনই কান পাড়িয়ে এলো মর্মান্তিক এক সংবাদ—হযরতুল উস্তাদ আমিনুল হক সাহেব রহ. না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। বোবা দৃষ্টিতে এদিক-সেদিক তাকিয়ে রইলাম নিথর। হৃদয় কেঁপে উঠলো এক অজানা আতঙ্কে, মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো অসংখ্য দুশ্চিন্তা। অশ্রুতে টলমল করছিল চোখ। বুকের ভেতর দাউদাউ করে জ্বলছিল শোকের আগুন। কোনো কিছুই আর সামলে রাখতে পারিনি। নিঃশব্দ কান্নায় ভেঙে পড়লাম। গাল বেয়ে ঝরে পড়তে লাগল অশ্রুধারা।
জামিয়ার আঙিনায় নেমে এলো গভীর শোকের ছায়া। বিশ্বাসই হতে চাইছিল না—প্রিয় শিক্ষক, অভিভাবক, পথপ্রদর্শক আর আমাদের মাঝে নেই। মুকুটবিহীন সেই রাজা আজ রাজকীয় বিদায় নিয়ে চলে গেলেন অনন্তের পথে।
আমরাও একদিন বিদায় নেবো এই দুনিয়া থেকে। তাই তাঁর জীবনাদর্শ ধারণ করে নিজেকে গড়ে তোলার জন্যই হওয়া চাই আমাদের প্রচেষ্টা।
আসুন, তাঁর রূহের মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর দরবারে দুআ করি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন।