শুক্রবার-২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি-১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আল-ইসরাইলিয়্যাত ওয়াল মারজূহাত ফি তাফসীরিল জালালাইন


আল-ইসরাইলিয়্যাত ওয়াল মারজূহাত ফি তাফসীরিল জালালাইন

  • রচনা : মাওলানা আব্দুল কাদির মাসুম
  • প্রকাশক : দারুল লুবাব
  • বাংলাবাজার, ঢাকা।
  • ফোন : 01728-722221
  • পৃষ্ঠা : 352
  • মুদ্রিত মূল্য : 500 টাকা

তাফসীরে জালালাইন কিতাবটির মূল রচয়িতা নবম শতকের ক্ষণজন্মা ইমাম আল্লামা জালালুদ্দীন মহল্লী রহ.। তিনি ফাতিহাসহ সূরা কাহ্ফ থেকে শেষাবধি সম্পন্ন করেছেন। কাজটি অপূর্ণ থাকায় তাকমিলা করেছেন তাঁরই শিষ্য ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ.। বিস্ময়ের বিষয় হলো, তিনি এই তাকমিলা মাত্র চল্লিশ দিনে সমাপ্ত করেছেন।
যুগ-যুগান্তরে এই তাফসীরগ্রন্থ থেকে সবাই উপকৃত হয়ে আসছেন এবং বহুকাল ধরে এই তাফসীরগ্রন্থটি সরকারি ও কওমী মাদরাসাসমূহে পাঠ্যভূক্ত। জটিল ও দুর্বোধ্য শব্দের চুলচেরা বিশ্লেষণ, আয়াতের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা, বিবিধ কিরআতের বর্ণনা, বিচিত্র তারবীবের সমাহারসহ নানাবিধ বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত এই গ্রন্থটি। তথাপি এই তাফসীরগ্রন্থে বেশ কিছু ইসরায়ালিয়্যাত ও মারজূহাত (অগ্রাহ্য তাফসীর) চলে এসেছে—যা সচেতন তালিবুলইলম ছাড়া সবার বোধগম্য হয় না । ইসরাইলিয়্যাত চিহ্নিতকরণ এবং রাজেহ-মারজূহের মধ্যে ইমতিয়ায (পার্থক্যনির্ণয়) করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিষয় আলোচনার দাবি রাখছিল—তাফসীরে জালালাইন গ্রন্থে উল্লিখিত ইসরাইলিয়্যাত (ইহুদি-খ্রিষ্টীয় সূত্র থেকে আগত বর্ণনা) এবং কিছু মারজূহ (দুর্বল বা অগ্রহণযোগ্য) মতামতসমূহের সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা প্রয়োজন। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন পূরণ করেছেন সমকালীন প্রাজ্ঞ মুহাক্কিক আলিম মাওলানা আব্দুল কাদির মাসুম হাফিযাহুল্লাহ। তাঁর গ্রন্থ الإسرائيليات و المرجوحات في تفسير الجلالين এই শূন্যতা পূরণে একটি ঐতিহাসিক অবদান রেখেছে।

কিতাবটির বৈশিষ্ট্যসমূহ:
কিতাবের সূচনায় ‘উলূমুল কুরআন’ (কুরআনের জ্ঞান-বিজ্ঞান) সংক্রান্ত একটি সুবিন্যস্ত ও নাতিদীর্ঘ ভূমিকা সংযোজিত হয়েছে। এখানে কুরআন তাফসীরের নীতিমালা, ব্যাখ্যার মূল সূত্র, এবং ইসরাইলিয়্যাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে, যা তাফসীর অধ্যয়নকারীর জন্য এক অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।
ইসরাইলি বর্ণনার প্রকৃতি, তা গ্রহণ বা বর্জনের নীতিমালা, এবং উম্মাহর বিজ্ঞ আলিমদের মধ্যপন্থী অবস্থান অত্যন্ত সুচারুভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে পাঠক ইসরাইলিয় বর্ণনাসমূহের বিষয়ে পরিপূর্ণ উপলব্ধি লাভ করবেন।
জালালাইনের দুই রচয়িতা—ইমাম জালালুদ্দীন মাহাল্লী ও ইমাম জালালুদ্দীন স্যুয়ূতী রহিমাহুমাল্লাহ—এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত এবং তাঁদের তাফসীর-রচনার পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কিতাবটির পাঠকগণ তাফসীরে জালালাইনের পটভূমি ও মূলনীতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাবেন।
সবশেষে তাফসীরে জালালাইনে অন্তর্ভুক্ত ইসরাইলিয়াত বর্ণনাগুলো এবং দুর্বল বা অগ্রহণযোগ্য মতামতসমূহ সূক্ষ্ম পর্যালোচনার মাধ্যমে আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমামগণের নির্ভরযোগ্য বক্তব্যের আলোকে সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহের বিশুদ্ধ ও সঠিক তাফসীর উপস্থাপন করা হয়েছে, যা পাঠককে তাফসীরের বিশুদ্ধ উপলব্ধির দিকে পরিচালিত করবে।
—উসামা লাবীব

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ