সমস্যা ও সমাধান
ফতওয়া বিভাগ
আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম
মোবাইল: ০১৮৫৬-৬১৮৩৬৭
ইমেইল: daruliftapatiya@gmail. com
পেইজলিংক: Facebook.com/Darul-ifta-Jamia-Patiya
তাহারাত-পবিত্রতা
সমস্যা: যে সকল বৃদ্ধদের পায়ের নখ বড় হয়ে বাঁকা হয়ে আঙ্গুলের সামনের অংশকে ঢেকে ফেলে, তাদের জন্য অজু করার সময় সেই ঢাকা অংশে পানি পৌঁছানো ফরজ হবে কি? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
মো. ইসমাঈল
পিএম খালী, কক্সবাজার
সমাধান: উল্লিখিত ক্ষেত্রে সেই ঢাকা অংশেও পানি পৌঁছানো ফরজ হবে। শরীয়তে এধরনের লম্বা নখ রাখা নিষেধ তাই তাড়াতাড়ি তা কেঁটে ফেলতে হবে। আর যদি নখ বেঁটে হয় এবং সেখানে পানি পৌঁছাতে কোনো প্রতিবন্ধক না থাকে তাহলে তার নিচে পানি পৌঁছানো ফরজ হবে না। তবে যদি পানি পৌঁছাতে প্রতিবন্ধক থাকে তাহলে প্রতিবন্ধককে দূর করে তার নিচে পানি পৌঁছানো ফরজ হবে। সূরা আল-মায়িদা: ৬, শরহুন নববী: ১/১২৫, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানীয়া: ১/২০০, ফাতহুল কাদীর: ১/১৩. ফাতাওয়ায়ে শামী: ১/২৮৮
সমস্যা: অযু করা অবস্থায় কয়েকটি অঙ্গ ধৌত করার পর যদি অযু ভেঙে যায় তাহলে তাকে পুণরায় শুরু থেকে অযু করতে হবে কি? এ অবস্থায় সুন্নাত আদায়ের জন্য প্রতি অঙ্গকে পুণরায় তিনবার করে ধোয়ার প্রয়োজন আছে কি? নাকি একবার করে ধোয়ে নিলেই চলবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
মো. আবদুল্লাহ
রামু, কক্সবাজার
সমাধান: যদি অযুর মাঝখানে কয়েকটি অঙ্গ ধোয়র পর অযূ ভেঙে যায়, তাহলে শুরু থেকে পুণরায় অযু করতে হবে। আর দ্বিতীয় অযুটি যেহেতু সম্পূর্ণই একটি নতুন অযু তাই তার ফরজ ও সুন্নাত গুলোকেও নতুন ভাবে আদায় করতে হবে। সুতরাং দ্বিতীয় অযুতে সুন্নাত আদায়ের জন্য প্রতি অঙ্গকে আবার তিনবার তিনবার করে ধুয়ে নিতে হবে। পূর্বে যা করা হয়েছে তার ওপর নির্ভর করা যাবে না। কারণ প্রথম অযুটি সম্পূর্ণরুপে বাতিল হয়ে গেছে। সূরা আল-মায়েদা: ৬, আদ-দুররুল মুখতার: ১/১৭, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া: ১/২২৩, ফাতাওয়ায়ে শামী: ১/১৯৬
সমাস্যা: রং করা পাকা দেওয়ালের ওপর তায়াম্মুম করলে তায়াম্মুম শুদ্ধ হবে কি?।
মাহমুদ হাসান
ঈদগাঁও, কক্সবাজার
সমাধান: পাকা দেওয়ালের উপরের রং যদি প্লাস্টিক প্রিন্ট হয়, তাহলে তার ওপর তায়াম্মুম শুদ্ধ হবে না। তবে তা যদি মাটিজাতীয় হয়, (যেমন- গিরিমাটি ইত্যাদি) তাহলে তার ওপর তায়াম্মুম শুদ্ধ হবে। আর যদি তা চুনাজাতীয় হয়, তাহলেও তার ওপর তায়ম্মুম শুদ্ধ হবে। তদ্রূপ দেওয়ালের ওপর যে ধুলোবালি থাকে তার ওপরও তায়াম্মুম করা (সর্বাবস্থায়) জায়েয। সূরা আল-মায়িদা: ১০৯, ই’লাউস সুনান: ১/৩১৭, কিতাবুল আসল: ১/১০৪, আল-বাহরুর রায়িক: ১/১৪৭
সমস্যা: আমার জানার বিষয় হলো যদি কোন মহিলার রমযানের দিনগুলোতে রোযা রাখা অবস্থায় অর্ধদিবসে জীবনের প্রথম বারের মত মাসিক রক্ত প্রবাহিত হয়ে যায়, তাহলে তার জন্য ওই দিনের রোযা কাযা করা লাগবে কি? আর যদি নামাযের মাঝখানে মাসিকের রক্ত প্রবাহিত হয়, তখন তা (সেই নামায) কাযা করতে হবে কি? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
মাওলানা আবদুর রহমান
পিএম খালী, কক্সবাজার
সমাধান: উল্লিখিত ক্ষেত্রে যদি একথা প্রমাণিত হয় যে সেসব মাসিকের রক্ত ছিল, তাহলে তার ওই দিনের রোযা শুদ্ধ হবে না। মাসিক বন্ধ হওয়ার পর তাকে ওই টির কাযা দিতে হবে। আর উক্ত নামাযটি যদি ফরয নামায হয়ে থাকে, তাহলে তাকে তার কাযা দিতে হবে না। আর যদি রোযা ও নামায নফল হয়, তাহলে উভয়টিই কাযা করতে হবে। সূরা আল–বাকারা:, বুখারী শরীফ: ১/৪৪, বাদায়িউস সানায়ি’: ১/৪৪, হিদায়া: ১/৬৩, আল-মুহীতুল বুরহানী: ১/২৪৩
সালাত-নামায
সমস্যা: আমরা জানি, কোনো ব্যক্তির একাধিক স্থায়ী নিবাস থাকলে প্রত্যেকটাতেই সে মুকিম। যেমন- সে একটা বাড়ি চট্টগ্রামে করেছে, আরেকটা করেছে ঢাকায়; তাহলে উভবাড়িই তার জন্য স্থায়ী নিবাস হবে। জানার বিষয় হলো, সে যদি স্বপরিবারে চট্টগ্রামের বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আর মাঝে মধ্যে ঢাকার বাড়িতে এসে (সেখানে) পনের দিনের কম অবস্থান করে তখন সেখানে (ঢাকায়) মুসাফিরের নামায (কসর) আদায় করবে, নাকি মুকিম হিসেবে পূর্ণনামায আদায় করবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
রেজাউল করীম
ছাবরাং, টেকনাফ
সমাধান: স্থায়ী নিবাস বলা হয় নিজের জন্মস্থান অথবা যেখানে বিয়ে-শাদি করে বসবাস করে অথবা যেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। স্থায়ী নিবাস একের চেয়ে অধিক হতে পারে। সুতরাং প্রশ্নোলিখিত ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের বাড়িতে বিবি বাচ্চার সাথে বসবাস করার কারণে সেটি স্থায়ী নিবাস হয়ে যাবে। আর ঢাকার বাড়িতে যদি স্বপরিবারে স্থায়ীভাবে বসবাস করার নিয়্যত করে, তাহলে সেটিও স্থায়ী নিবাস হয়ে যাবে। সুতরাং সে ঢাকায় আসলে মুকিমের নামায আদায় করবে। আর যদি কিছু দিনের জন্য শুধু বেড়াতে আসে (স্থায়ীভাবে থাকার জন্য না) তখন পনের দিনের কমে আসলে মুসাফিরের নামায আদায় করবে। কাবীরী: ৫০৫, আল-বাহরুর রায়িক: ২/১২৬, বাদায়িউস সানায়ি’: ১/২৮০, ফাতহুল কাদীর: ২/১৬০
সমস্যা: আমারা জানি, জুমার নামায সহীহ হওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় অনুমতির প্রয়োজন হয়। আমাদের গ্রামে একটি জামে’ মসজিদ আছে মসজিদটি আকারে অনেক বড়। কমিটির মাঝে ঝগড়া হওয়ার কারণে কয়েকজন মিলে এই মসজিদটির একেবারে নিকটে আরেকটি মসজিদ করেছে। অথচ এলকার মেম্বার চেয়ারম্যান কেউ তা মেনে নেয়নি। তারা দশ-বার জন ব্যতিত অন্য কেউ ওই মসজিদে যায় না। এ অবস্থায় তারা দশ-বারজন ওই মসজিদে জুমা আদায় করলে তা সহীহ হবে কি? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
আমজাদ হুসাইন
পেকুয়া, চকরিয়া
সমাধান: জুমার নামায সহীহ হওয়ার জন্য একটি শর্ত হল রাষ্ট্রীয় অনুমতি। কিন্তু বর্তমান ফুকাহায়ে কেরাম বলেন যেকোন রাষ্ট্র চাই মুসলমানদের হোক বা কাফেরদের যদি রাষ্ট্রের পক্ষ হতে নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তাহলে তাতে জুমা নামায সহীহ হবে। সে হিসেবে বলা যায় আপনার গ্রামের দশ-বার জন লোক কমিটির সাথে ঝগড়া করে যে মসজিদটি নির্মাণ করেছে সেখানে তারা জুমা আদায় করলে তাদের জন্য জুমা শুদ্ধ হয়ে যাবে। যদিও বড় মসজিদের মত তাদের সাওয়াব বেশি হবে না, তথাপিও তাদের নামায শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে শরয়ী কোন কারণ ব্যতিত ঝগড়া করে এভাবে মসজিদ নির্মাণ করা উচিত নয়। ফাতাওয়ায়ে শামী: ৩/১৬, ফাতাওয়ায়ে কাযীখান: ১/৮৬, আল-বাহরুর রায়েক: ২/১৪৬, বাদায়িউস সানায়ি’: ২/১৯৬, ফাতহুল কাদীর: ২/২৫
নিকাহ-তালাক
সমস্যা: আমাদের দেশে বর্তমানে বাল্য বিয়েকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়; এমনকি এ বিয়েতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকেও দণ্ডিত হতে হয়। আমি জানতে চাই, আমাদের শরীয়তে বাল্য বিয়ের হুকুম কী? কেউ যদি বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধ মনে করে বা তাকে ঘৃণার চোখে দেখে তাহলে তার হুকুম কী হবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
আবদুল আলীম
করইল্যা মোরা, ঈদগড়
সমাধান: ইসলামে বাল্যবিয়ে জায়েয এমনকি নাবালেগ হলেও। তাই ১৮ বছরের কমে সাবালক-সাবালিকা হওয়া সত্বেও বিয়ে নিষিদ্ধ আইন পরিপূর্ণ ইসলাম বিরোধী। কুরআন-হাদীসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক হওয়ার কারনে আইন প্রণেতাদের কর্তব্য হলো উক্ত আইন বাতিল করা। উক্ত আইন মানা নাগরিকদের জন্য ওয়াজিব নয়। কেননা, বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন বয়সের শর্ত ইসলাম আরোপ করেনি। আর এটি যৌক্তিকও নয়। কারণ ব্যক্তি হিসেবে (শারীরিক গঠনভেদে) শক্তি সামর্থ ভিন্ন হয়ে থাকে। কখনো কম বয়সী ব্যক্তিও এ পরিমাণ সামর্থ রাখে যা অনেক বয়স্ক ব্যক্তিও রাখে না। তাই ইসলামে ছেলে মেয়ে কারো জন্যই বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের শর্তারোপ করা হয়নি। বরং রাসূল (সা.) সাবালক হওয়ার পর বিয়ে দিতে দেরি করতে নিষেধ করেছেন। এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আয়েশা রা, এর মাত্র ছয় বছর বয়সে তাকে বিয়ে করেছেন। তাই কেউ যদি বাল্যবিয়েকে নিষিদ্ধ মনে করে বা তাকে ঘৃণার ও অবজ্ঞার চোখে দেখে তাহলে এ জাতীয় লোকদের ব্যাপারে শরহে আকায়েদ ও অন্যান্য কিতাবে বলা হয়েছে যে, যারা নুসূসে ক্বত্বয়িয়্যা ও খবরে মুতাওয়াতিরের অস্বীকার করবে তারা ঈমানহারা হয়ে যাবে। আর যারা আল্লাহর নবীর সাধারণ থেকে সাধারণ কোন সুন্নাতকে খারাপ মনে করলে বা ঘৃণা ও অবজ্ঞার চোখে দেখে, তাদের কাফের হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। সূরা আন-নিসা: ৬, সুনানে বায়হাকী: ৮৬৬৯, ফাতাওয়ায়ে কাযীখান: ১/১৫২, ফাতাওয়ায়ে তাতারখািনয়া: ৪/২০৪
সমস্যা: রাসূল (সা.) তার মেয়ে ফাতেমা (রাযি.)-এর বিয়েতে যৌতুক (কনে বিদায়ের কালে প্রদত্ত উপহার সামগ্রী) হিসেবে কী কী দিয়েছেন? সে হিসেবে বর্তমানে কেউ যৌতুক দিতে চাইলে কী কী দেওয়া যাবে?
নূরুল করীম
উত্তরা, ঢাকা
সমাধান: নাসায়ী শরীফ ও ইবনে মাজাহে রেওয়াত বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসূল সা. নিজের মেয়ে ফাতেমা রা. এর বিয়েতে যৌতুক হিসেবে একটি সাদা পশমী চাদর, ইযখীর ঘাস ভর্তি একটি বালিশ ও একটি পানির পাত্র (মশক) দিয়েছেন। যৌতুকের ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মতানৈক্য রয়েছে। তাই উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাদীস বিশারদগণ বলেন, সমস্ত হাদীসের দিকে তাকালে একথা বুঝা যায় যে, হুযুর সা. নিজের পক্ষ থেকে কোন কিছুই যৌতুক হিসেবে দেননি। বরং হযরত আলী (রাযি.)-এর মোহরের দেওয়া যুদ্ধে ব্যবহৃত বর্ম বিক্রি করে ওই টাকা দিয়ে জিনিস গুলো দিয়েছেন। সে হিসেবে যৌতুককে কেন্দ্র করে কোন ধরণের রসম রেওয়ায অনুসরন করা যাবে না। যৌতুক দেওয়ার ব্যপারে নির্দিষ্ট জিনিস বা নির্দিষ্ট কোন পরিমান নেই বরং স্ত্রীর মা-বাবার সামর্থানুযায়ী তারা স্বেচ্ছায় মুহাব্বত করে নিজের মেয়েকে যা কিছু দিতে চায় দিতে পারবে। কিন্তু শর্ত হলো লোকদেখানো বা স্বামী কর্তৃক কোন চাপে পড়ে না দিতে হবে। ইবনে মাজাহ: ৪১৫২, হায়াতুস সাহাবা: ৩/৪২৭, ফাতাওয়ায়ে শামী: ৪/৩০৬, ইমদাদুল আহকাম: ৩৩/৩৭১
সমস্যা: বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় কিরাআত মাহফিলের যে আয়োজন করা হয়, সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে বড় বড় কারী সাহেবদেরকে দাওয়াত দেয়া হয় এবং শুধুমাত্র কুরআন তিলাওয়াতের জন্য তাদেরকে দশ/বিশ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। আমি জানতে চাই, এভাবে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য বিনিময় দেয়া-নেয়া জায়েয আছে কি? এবং এ ধরনের ক্বেরাত মাহফিল করা শরীয়ত সম্মত হবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।
মুফতী হিফযুর রহমান
হাজির হাট মাদ্রাসা, নোয়াখালী
সমাধান: আমাদের তাহকীক মতে শুধুমাত্র বিভিন্ন লাহানে/কণ্ঠে তিলাওয়াতে কুরআন করে তার বিনিময় নেওয়া জায়েয ও বৈধ নয়। এ জন্য কিরাআত মাহফিল করাও জায়েয ও বৈধ হবে না। ফতওয়ার পরিভাষায় যাকে কিরাআতে মুজার্রাদা বলা হয়। যাতে বিনিময় গ্রহণ কোন প্রকারে’ই জায়েয নয়। সুরা আল-বাকারা: ৪১, সুনানে বায়হাকী: ৭৮২৫, ফাতাওয়ায়ে শামী: ৬/৩৩৯, ইমদাদুল আহকাম: ১/২৪৪
সমস্যা: সবিনয় নিবেদন এই যে, দুইজন স্ত্রী থাকলে কোন কোন ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা একান্ত জরুরি? শরয়ী সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
ফরিদুল আলম
আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম
সমাধান: কোন ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের ভরণপোষণ ও তাদের নিকট রাত্রিযাপন, ইত্যাদিতে সমতা রক্ষা করা জরুরি। অন্যথায় আল্লাহ তা’লার নিকট কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। অবশ্য কোন স্ত্রীর প্রতি যদি আন্তরিক মায়া-মমতা বেশি থাকে তাহলে তাতে কোন অসুবিধে নেই। সূরা আন-নিসা: ৩, তিরমিযী :১/২১৬ ফাতাওয়ায়ে শামী: ৪/৩৭৭
সমস্যা: আমার স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হাওয়ায় তাকে নোটিশের মাধ্যমে তালাক প্রদান করে আমি বিদেশ চলে যাই। উল্লেখ্য যে, আমি তিন তালাক মুখে উচ্চারণ করেই তালাকের নোটিশটি পূরণ করেছি। শরীয়তে উক্ত তালাকের মাধ্যমে আমাদের বিয়েবন্ধন ছিন্ন হয়েছে কিনা? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
মু. আবু বকর
খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম
সমাধান: উল্লিখিত ঘটনায় আপনি যেহেতু মৌখিকভাবে তিন তালাক উচ্চারণ করার কথা স্বীকার করেছেন, তাই উক্ত স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আপনার স্ত্রীর ওপর তিন তালাক পতিত হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্নরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। তালাক দেওয়ার পর থেকে আপনাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মেলামেশা ও ঘর-সংসার করা পরিস্কার হারাম ও নাজায়েয। উক্ত স্ত্রীলোকটি অন্য কোন স্বামীর সংসার করার পূর্বে আপনারা পুনরায় বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। উল্লেখ্য যে এক সাথে তিন তালাক দিলে শরীয়তে তা তিন তালাক হিসেবেই গণ্য হয়, এক তালাক হিসেবে নয়। এ বিষয়ে আমাদের চার ইমামের ইজমা ও ইমাম বুখারীর ঐক্যমত রয়েছে। তাই এ ব্যব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই। সূরা আল-বাকারা: ২৩০, বুখারী শরীফ: ২/৭৯১, হিদায়া: ২/৩৭৯
সমস্যা: চার বছর পূর্বে আমার সাথে তাসলিমা আক্তারের বিয়ে হয়েছে। তার সাথে ৩-৪ বছর ভালো সম্পর্ক ছিল। এরপর থেকে সে বিভিন্ন কারণে অকারণে আমার সাথে ঝগড়া-ঝাটি ও দুর্ব্যবহার করতে শুরু করে। এ বিষয়ে আমি তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। তাই আমি সরকারিভাবে হলফনামার মাধ্যমে বলেছি যে, আমি হলফনামার মাধ্যমে তাকে তালাক প্রদান করে আমাদের মধ্যকার স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চিরতরে ছিন্ন করলাম। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমি (মৌখিকভাবে কোন তালাক প্রদান করিনি এবং আমার তালাক দেওয়ার ইচ্ছাও ছিল না।) হলফনামার মধ্যমে যে তালাক প্রদান করেছি তা পতিত হয়েছে কিনা? যদি পতিত হয়ে থাকে তাহলে আমরা পুনরায় ঘর-সংসার করাতে চাইলে করণীয় কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।
বি. দ্র. তালাক দেওয়ার পর থেকে আমার স্ত্রীর সাথে আর সহবাস হয়নি।
নাছির উদ্দীন
কচুয়া, চাঁদপুর
সমাধান: উল্লিখিত ঘটনায় স্বামী স্ত্রীকে লক্ষ্য করে লিখিতভাবে যে কঠোর শব্দ ব্যবহার করেছে অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চিরতরে ছিন্ন করলাম। তা দ্বারা যদি স্বামী তিন তালাকের নিয়্যত করে থাকে, তাহলে তার স্ত্রীর ওপর তিন তালাকই পতিত হবে। আর যদি তিন তালাকের নিয়ত না করে এবং তা শপথ করে বলে, তখন স্ত্রীর ওপর এক তালাকে বায়েন পতিত হবে। তারপর তাদেরকে কমপক্ষে দু’জন স্বাক্ষীর উপস্থিতীতে কমপক্ষে মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ (যা বর্তমান বাজারদর হিসেবে আড়াই হাজার টাকা) ধার্য করে আকদে নিকাহ নবায়ন করতে হবে। বাদায়িউস সানায়ি’: ৩/১০, আল-বাহরুর রায়িক: ২/৯৯, আন-নাহরুল ফায়িক: ২/৩৯৮
বিবিধ
সমস্যা: কোন ব্যক্তি যদি রবি অফিস থেকে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিয়ে ইন্তেকালের পর অন্য কেউ সিমটা ব্যবহার না করে উক্ত ব্যালেন্সটি রবি কোম্পানির হক হিসেবে গণ্য হবে কি? আর ওই ব্যালেন্সটি গ্রহীতার (মৃতের) ওপর রবি কোম্পানির হক হিসেবে গণ্য করা যাবে কি? যদি রবি কোম্পানীর হক্ব হিসেবে গণ্য করা হয়, তাহলে পরিশোধের পদ্ধতি কী? সবিস্তারে জানিয়ে উপকৃত করবেন।
এফএসডি ইকরামুল হক
চট্টগ্রাম, সরকারি স্কুল
সমাধান: কোন ব্যক্তি রবি অফিস থেকে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার ফলে ওই টাকা তার ওপর ঋণ হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে যায়। যা পরিশোধ করা তার জন্য বাধ্যতামূলক, চাই সে ওই টাকা (ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স) ব্যবহার করুক বা না করুক। কারণ, আমরা রবি অফিস কর্তৃক জানতে পারি যে, ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেয়ার পর গ্রাহক তা ব্যবহার না করলেও তা কেটে (ফেরত) নেয়ার কোন সিস্টেম নেই। ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের ঋণের টাকা পরিশোধের পদ্ধতি হলো; ওই টাকা যদি ব্যবহার না হয়ে থাকে, তাহলে তা ব্যবহারের পর; আর যদি ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে পুনরায় টাকা লোড করার পর অফিস নিজ দায়িত্বে তা কেটে রেখে দেবে। ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেয়ার পর ওই ব্যক্তি মারা গেলে তা মৃত ব্যক্তির ঋণ হিসেবে গণ্য হবে। তাই কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার পর যেমনিভাবে তার সম্পদ হতে তার ঋণ পরিশোধ করতে হয়, তেমনিভাবে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের টাকাও তার সম্পদ হতে পরিশোধ করতে হবে। অতপর সিম কার্ড ও তার ব্যালেন্স মিরাস তথা তরকা সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। বুখারী শরীফ :১/৩০৫, তিরমীযী: ১/২০৬, আদ-দুররুল মুখতার: ৬/৪
সমস্যা: আমি কারো কাছ থেকে এই মর্মে টাকা ধার নিয়ে ঘর তৈরি করেছি যে, যতদিন পর্যন্ত আমি তার কর্জ পরিশোধ করতে না পারব ততদিন লাখে ৫ হাজার টাকা হারে প্রতি মাসে সুদ প্রদান করবো। উল্লেখ্য যে ওই টাকাগুলো আমি ব্যাংক থেকে নেইনি বরং সাধারণ এক ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়েছি এবং সে আমাকে অন্য কোন শর্তও দেয়নি। এখন আমার জানার বিষয় হলো, উক্ত ঘরে আমার বসবাস করা বৈধ হবে কি?
মু. ইরফান এনায়াত
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
সমাধান: যে ব্যক্তি লাখে পাঁচ হাজার টাকা মুনাফা দাবি করেছে এবং তা ভোগ করেছে তার জন্য ওই টাকাগুলো সুদ ও হারাম হিসেবে গণ্য হয়েছে। আর আপনার জন্য এরকম মুনাফার ওপর কর্জ নেয়া জায়েয হয়নি। তবে ওই টাকা দিয়ে যে ঘর করেছেন তা ব্যবহার ও সেখানে বসবাস করা আপনার জন্য জায়েয ও বৈধ হবে। হ্যাঁ, লাভের ওপর কর্জ নেয়ার গোনাহ থেকে আপনাকে আল্লাহ তাআলার দরবারে লজ্জিত হয়ে খাঁটি তাওবা করতে হবে। সূরা আল-বাকারা: ২৭৬, মুসলিম শরীফ: ২/৭২, ই’লাউস সুনান: ১৪/৫১২
বিভাগীয় নোটিশ
দৈনন্দিন জীবনের যেকোনো সমস্যার শরয়ী সমাধান জানতে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার ফতওয়া বিভাগে প্রশ্ন পাঠাতে পারেন। এজন্য সরাসরি যোগাযোগ বা বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট ফোনে যোগাযোগ করুন। প্রশ্ন পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইল বা ফেসবুক ফ্যান-পেইজেও।