শনিবার-২৫শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি-১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমস্যা-সমাধান/প্রশ্নোত্তর

সমস্যা-সমাধান ফতওয়া বিভাগ- আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া,চট্টগ্রাম

সমস্যা-সমাধান/প্রশ্নোত্তর

আকীদা-বিশ্বাস

সমস্যা: শরীয়তের দৃষ্টিতে আমাদের দেশে প্রচলিত মিলাদ বৈধ কি না? যদি অবৈধ হয়ে থাকে, তাহলে কবে, কোথায় তার সুত্রপাত ঘটে এবং এর আবিষ্কারক কে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

আবু হায়দার

পটিয়া, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: রাসূল (সা.)-এর জন্ম থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁর জীবনের যে কোন দিক নিয়ে আলোচনা করা অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ। তবে প্রচলিত মিলাদ রাসূল সা., সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও তবয়ে তাবেয়ীনের যুগে ছিল না। বরং ৬০০ হিজরীর পরে আরবল নামক জনৈক বাদশাহ হাজারো হক্কানী ওলামায়ে কেরামের কঠোর বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে এই নতুন কাজ প্রবর্তন করেন। উপরন্তু প্রচলিত মিলাদে শরীয়ত বিরোধী বহু আকীদা ও আমলের সমাবেশ ঘটে বিধায় তা পরিত্যাজ্য। বুখারী শরীফ: ১/৩৭১, আবু দাউদ ২/৭১০, ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ১/১৯৭

সমস্যা: আব্বা-আম্মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, উস্তাদ এবং গুরুজনদের পদচুম্বন করা শরীয়তসম্মত কি না? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

নুরুল ইসলাম

টেকনাফ, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: সাক্ষাতের সময় সালাম ও মুসাফাহা করা ইসলামের অনন্য বৈশিষ্ট্য। অসংখ্য হাদীসে সালাম ও মুসাফাহার ফযীলত ও মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। পক্ষান্তরে শরীয়তে পদচুম্বনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়নি। ইসলামের প্রথম যুগে এর তেমন রেওয়াজ ছিল না। উপরন্তু হাত দ্বারা গুরুজনের পা স্পর্শ করে হাতকে চুমু খাওয়ার যে প্রথা আমাদের সমাজে চালু আছে নির্ভরযোগ্য কিতাবে তার কোন উল্লেখ নেই। তা সত্ত্বেও কেউ যদি কদমবুচি করতে চায় তার সঠিক নিয়ম হচ্ছে, গুরুজনের পায়ে নিজের মুখ রেখে পাকে সরাসরি চুম্বন করা। ইলাউস সুনান: ১৪/৪২২, কিফায়াতুল মুফতী: ৯/১০০

সমস্যা: আমাদের দেশে কিছু মানুষকে আজানের সময় أشهد أن محمدا رسول الله বাক্যটি শোনার পর হাতের শাহাদাত আঙ্গুলে চুম্বন করে চোখে মালিশ করতে দেখা যায়। এই প্রথাকে শরীয়ত কতটুকু সমর্থন করে? জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

মুহিউদ্দীন

ফুলগাজী, ফেনী

শরয়ী সমাধান: মুয়াজ্জিন ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ শব্দ উচ্চারণকালে মুসল্লিগণ হাত চুম্বন করে তা চোখে মালিশ করে দেওয়ার কথা নির্ভরযোগ্য কোন হাদীসে নেই। তার কোন উপকারিতা, ফযীলত ও সাওয়াবের কথাও কোন নির্ভরযোগ্য হাদীসে আসেনি। সুতরাং তা শরীয়তের কোন ইবাদাত বা ইবাদাতের অংশবিশেষ হতে পারে না। বরং ভিত্তিহীন নিছক একটি প্রথা মাত্র। তাই ইবাদাত ও সাওয়াবের কাজ মনে করে তা করার অনুমতি নেই। বস্তুত, জনসাধারণ তাকে সাওয়াবের কাজ মনে করেই করে থাকে। তার প্রমাণ, যারা করে না তাদের সম্পর্কে অশুভ মন্তব্য করে এবং তা নিয়ে দলাদলী করে থাকে। সুতরাং তা বর্জনীয়। বুখারী শরীফ: ২৬৯৭, শরহুল ফিকহিল আকবার: ১৮৫, ইমদাদুল আহকাম: ১/৯৬

তাহারাত-পবিত্রতা

সমস্যা: আমি দীর্ঘদিন যাবত দাঁতের রোগে আক্রান্ত। অযুর সময় প্রায়ই দাঁত থেকে রক্ত বের হয়। বারবার কুলি করলেও রক্ত বন্ধ হয় না। অনেক সময় এমন হয় যে, কুলি করতে করতে জামাত শেষ হয়ে যায়, এরপরেও কুলির সাথে রক্ত দেখা যায়, তখন পুনরায় অযু করি; এমনকি অনেক সময় চার-পাঁচ বার পর্যন্ত অযু করে থাকি। এখন আমার জানার বিষয় হলো, কুলির পানির সাথে কতটুক রক্ত দেখা গেলে অযু বা কুলি পুনরায় করতে হবে? সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

আলী আকবর

আনোয়ারা, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: আমাদের হানাফী মাযহাব অনুসারে শরীরের কোন জায়গা হতে রক্ত বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে অযু ভেঙ্গে যায়। তবে দাঁতের ক্ষেত্রে প্রবাহিত রক্ত অনুমান করা কঠিন; বরং অসম্ভব। তাই ফকীহগণ থুথুর সাথে রক্তের পরিমাণ সমান বা বেশি হওয়াকে অযু ভঙ্গ হওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন। তাই প্রশ্নোক্ত বিষয়কে দাঁতের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যাক্তির প্রবল ধারণার ওপর ন্যস্ত করা হবে। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত থুথুর সাথে রক্তের পরিমাণ সমান বা বেশি অনুভব হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে জামাত শেষ হয়ে গেলেও থুথু থেকে রক্তের পরিমাণ কম হওয়ার ব্যপারে নিশ্চিত হয়ে পুনরায় অযু করে নামায আদায় করতে হবে। বাদায়েউস সানায়ে’ ১/৫৭৮, মাবসুতে সারাখসী: ১/১৯৮, তাবয়ীনুল হাকায়েক: ১/৮, আন-নাহরুল ফায়েক: ১/৫৪

সমস্যা: একদিন আমার প্রচ- মাথা ব্যাথা ছিল। ফলে কয়েকবার বমি হয়। কিন্তু একবারও মুখ ভরে বমি হয়নি। এমতাবস্থায় আমার অযু ভঙ্গ হয়েছে কি? জানালে উপকৃত হবো।

আবদুল মজিদ

গহিরা, রাউজান

শরয়ী সমাধান: আমাদের ফুকাহায়ে আহনাফের মতে বমির কারণে অযু ভঙ্গ হয়ে যায়। তবে তা মুখভর্তি হওয়া শর্ত। আর যদি অল্প অল্প করে কয়েকবার বমি হয়, একবারও মুখ ভর্তি না হয়, তা দ্বারা অযু কখন ভঙ্গ হবে তা ফুকাহায়ে আহনাফের মাঝে বিরোধপূর্ণ হলেও এর মধ্যে ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতটি গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ উল্লিখিত বমি যদি একই রোগের কারণে হয়, চাই স্থান এক হোক বা একাধিক, তার কারণে অযু ভঙ্গ হয়ে যাবে। অন্যথায় অযু ভঙ্গ হবে না। অতএব প্রশ্নোক্ত বর্ণনানুযায়ী আপনি অল্প অল্প করে যতবার বমি করেছেন তার সমন্বয় মুখভর্তি বমির সমপরিমাণ হলে আপনার অযু ভঙ্গ হয়ে গেছে। আর যদি মুখভর্র্তি বমির সমপরিমাণ না হয়, তাহলে অযু ভঙ্গ হয়নি। হিদায়া: ১/২৩-২৪, আল-বাহারুর রায়েক: ১/৩৬, তাবয়ীনুল হাকায়েক: ১/৯, আল-মুহিতুল বুরহানী: ১/৬৩

সালাত-নামায

সমস্যা: আমরা জানি, মাগরিবের আযানের পর জামাতের পূর্বে যে কোন নফল নামায আদায় করা মাকরুহ। কিন্তু অনেকে বলে থাকে, এই সময় মসজিদে প্রবেশ করার পর তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা সুন্নাত। এমনকি হারামাইন শরীফাইনেও এই সময় অনেক মানুষকে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করতে দেখেছি। তাই এ ব্যাপারে সঠিক সমাধান জানাতে আপনার মর্জি হয়।

নজরুল ইসলাম

সেনবাগ, নোয়াখালী

শরয়ী সমাধান: মাগরিবের আযানের পর জামাতের পূর্বে নফল নামায আদায়ের ব্যপারে চার মাযহাবের ফুকাহায়ে কেরামের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। পক্ষান্তরে হাদীসের বর্ণনানুসারে উল্লিখিত সময়ে নফল নামায আদায় করা সুন্নাত-মুস্তাহাব প্রমাণিত না হলেও জায়েয প্রতিয়মান হয়। তবে ওই সময় নফল নামায আদায় না করাই উত্তম। কেননা হাদীস শরীফে মাগরিবের নামায সূর্যাস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদায় করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ ও ফযীলত বর্ণিত হয়েছে এবং অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরামের আমলও এমন ছিল। অতএব উল্লিখিত সময়ে তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা অন্য কোন নফল নামায আদায় না করা উত্তম। তবে কেউ যদি আদায় করে তার সমালোচনা করা যাবে না। আর হারামাইন শরীফাইনে যেহেতু তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করার জন্য সময় ও সুযোগ থাকে, তাই সেখানে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করলে কোন সমস্যা হবে না। বুখারী শরীফ: ১/১৫৭, উমদাতুল কারী: ৫/৫৫৩, আল-বাহরুর রায়েক: ১/২৫৩, হেদায়া: ১/৮৬

সমস্যা: আমার বাড়ি নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত বেগমগঞ্জ থানার নাজিরপুর উপজেলার আমানতপুর গ্রামে অবস্থিত। আমি চট্টগ্রামে পড়ালেখা করি। চট্টগ্রাম থেকে গাড়ি যোগে সোনাইমুড়ি যেতে বেগমগঞ্জ থানা হয়ে যেতে হয়। বেগমগঞ্জ থানা থেকে আমার বাড়ি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এমতাবস্থায় চট্টগ্রাম থেকে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা হয়ে সোনাইমুড়ি গেলে আমি মুসাফির থাকব? নাকি মুকীম হয়ে যাব? এবং সেখানে পৌঁছার পর আমি নামায কসর তথা চার রাকাতবিশিষ্ট নামাযকে দুই রাকাত আদায় করতে পারবো কি না? বিস্তারিত জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

মাসুম নাজির

বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

শরয়ী সমাধান: কোন মহল্লার সীমানা নির্ধারণে ওরফ তথা প্রচলিত নিয়মকেই মূলনীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ কোন এলাকার সীমানা মানুষের মাঝে যা প্রসিদ্ধ হয় এবং সরকারী নিয়মনীতি মাফিক যা নির্ধারিত হয় তাই গ্রহণযোগ্য। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চৌমুহনী চৌরাস্তা যদি আপনার মহল্লা বা গ্রামের অন্তর্ভুক্ত না হয়, তাহলে চৌরাস্তা অতিক্রম করলে আপনি মুকিম হবেন না। সে হিসেবে চট্টগ্রাম থেকে সফরকালে চৌরাস্তা শহর অতিক্রম করলেও আপনি মুসাফির থাকবেন এবং গন্তব্যস্থলে পৌঁছে নামায কসর করে আদায় করবেন। ফতহুল কদীর: ২/৩২, বেনায়া: ৩/১৪, আহসানুল ফাতাওয়া: ৪/৭২, কিতাবুন নাওয়াযেল: ৫/৪০৭

সমস্যা: আমরা জানি, সিজদার মধ্যে উভয় পা জমিনে রাখা শর্ত। সে হিসেবে কোন ব্যক্তি যদি সিজদায় যাওয়ার সময় উভয় পা জমিনে রেখে সিজদা করে, কিন্তু কিছুক্ষন পর উভয় পা জমিন থেকে পৃথক করে ফেলে এবং পুরো সিজদায় উভয় পা জমিন থেকে পৃথক রাখে। অতঃপর সিজদা থেকে উঠার সময় পা জমিনে রেখে উঠে। এ অবস্থায় তার নামায শুদ্ধ হয়েছে কি না?

আয়াতুল্লাহ

উখিয়া, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: সিজদায় কোন এক পা বা পায়ের এক আঙ্গুলও জমিনে রাখলে সিজদা ও নামায শুদ্ধ হযে যাবে। আর যদি উভয় পা কোন ওযর ব্যতীত তিন তাসবীহ পরিমাণ জমিন থেকে পৃথক রাখে, তখন সিজদা ও নামায শুদ্ধ হবে না। অতএব, প্রশ্নোক্ত বর্ণনানুযায়ী সিজদার শুরু ও শেষাংশে উভয় পা জমিনে রেখে মধ্যবর্তী সময়ে কোন ওযর ব্যতীত তিন তাসবীহ পরিমাণ উভয় পা জমিন থেকে পৃথক রাখলে সিজদা ও নামায শুদ্ধ হবে না। পরবর্তীতে উক্ত নামায পুনরায় আদায় করতে হবে। বুখারী শরীফ: ১/১১২, আল-বাহরুর রায়েক: ১/৩১৮, ফাতহুল কদীর: ১/২৬৫, মাজমাউল আনহুর: ১/১৩৫

জানাযা-দাফন

সমস্যা: সম্মানিত মুফতিয়ানে কেরামের নিকট বিনীত নিবেদন এই যে, জানাযার নামাযের ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব মৃত ব্যক্তিকে সামনে রেখে তার কোন অঙ্গের বরাবর হয়ে দাঁড়াবে? বিশেষ করে নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য আছে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

আবদুল কাদের

হ্নীলা, টেকনাফ

শরয়ী সমাধান: জানাযার নামাযের ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব মৃত ব্যক্তির সীনা (বক্ষ) বরাবর দাঁড়ানো সুন্নাত। নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী নারী পুরুষের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। বরং উভয় ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব মৃত ব্যক্তির সীনা বরাবর দাঁড়াবে। তবে কোন কোন বর্ণনা মতে পুরুষের মাথা বরাবর এবং মহিলার মাঝ বরাবর দাঁড়ানোর কথাও উল্লেখ আছে। তাই যে কোনটির ওপর আমল করা যেতে পারে। মুসলিম শরীফ: ১/৩১১, তিরমিযী শরীফ: ১/২০০, কানযুদ দাকায়েক: ৫২, বাদায়েউস সনায়ে’: ২/৩৪১

সমস্যা: আমাদের সমাজে জানাযার নামাজের ব্যাপারে একথা প্রসিদ্ধ আছে যে, জানাযার নামাযের কাতার বেজোড় হতে হবে এবং কেউ কেউ বলে থাকে, তা সাত কাতার হতে হবে। এ-ব্যপারে সঠিক সমাধান কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাবরুর হাসান

মৌলভিবাজার, সিলেট

শরয়ী সমাধান: হাদীস শরীফে জানাযার নামাযকে তিন কাতার করার ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির জন্য জান্নাতের সুসংবাদের কথা বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং জানাযার নামাযের কাতারকে বেজোড় করা মুস্তাহাব। তবে কাতার বেজোড় করার ক্ষেত্রে সাত কাতার হতে হবে এমন কোন বর্ণনার স্পষ্ট উল্লেখ নেই। বরং কাতারকে বেজোড় করাই মুস্তাহাব। তবে লোকজন কম হলেও তাদেরকে নিয়ে তিন কাতার করে নামায আদায় করবে। যাতে হাদীসে বর্ণিত সুসংবাদ লাভ করা যায়। গুনয়াতুল মুসতামলী: ৫৮৮, মুনয়াতুল মুসল্লি: ৬১২, রদ্দুল মুহতার: ৩/১১২, কিতাবুন নাওয়াযেল: ৬/১৪৫

যাকাত-সদাকা

সমস্যা: আমার স্ত্রীর তিনভরি স্বর্ণ রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য একলক্ষ টাকার অধিক এবং তার নিকট কিছু না কিছু টাকাও থাকে। এ অবস্থায় তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে কি? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

নাঈম হাসান

বরগুনা, বরিশাল

শরয়ী সমাধান: আপনার স্ত্রীর নিকট যে তিনভরি স্বর্ণ আছে যার বর্তমান বাজারমূল্য একলক্ষ টাকার অধিক এবং তার কাছে কিছু না কিছু টাকাও আছে। এ অবস্থায় সেই তিনভরির বাজারমূল্য এবং তার নিকট জমা টাকার সমন্বয় যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হয় তখন আপনার স্ত্রীর ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে। অন্যথায় হবে না। হিদায়া: ১/১৯৬, মাজমাউল আনহুর: ১/১০৫, আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৩০, ফাতওয়ায়ে শামী: ২/৩২৯

সমস্যা: বাণিজ্যিক পণ্যের যাকাত আদায় করার সময় পণ্যের কোন মূল্য হিসাব করা হবে? কেননা একটা পণ্যের বিভিন্ন ধরণের মূল্য হয়ে থাকে, ক্রয় মূল্য, বিক্রয় মূল্য, পাইকারী মূল্য, খুচরা মূল্য। উদাহারণসরূপ, আমার দোকানের পণ্যগুলোর ক্রয়মূল্য একলক্ষ টাকা। পাইকারী বিক্রয়মূল্য একলক্ষ দশ হাজার টাকা। খুচরা বিক্রয়মূল্য একলক্ষ বিশ হাজার টাকা। এমতাবস্থায় যাকাত আদায়ের জন্য আমি কোন মূল্যটি নির্ধারণ করবো? শরয়ী সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

তাফাজ্জুল হুসাইন

কিশোরগঞ্জ

শরয়ী সমাধান: ফিকহ-ফতওয়ার কিতাবাদী থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, বাণিজ্যিক পণ্যের মুল্য নির্ধারণ করে যাকাত আদায় করার ক্ষেত্রে বাজারে স্বাভাবিকভাবে যে মূল্যে পণ্য বেচাকেনা হয়, সেই মূল্য হিসাব করে যাকাত আদায় করতে হবে। উল্লিখিত প্রশ্নে পণ্যের যে সব মুল্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এর মধ্যে খুচরা মূল্যে স্বাভাবিকভাবে পণ্য বেচাকেনা হয় এবং তা বাজারে বহুল পচলিত বিধায় বাণিজ্যিক পণ্যের যাকাত আদায় করার ক্ষেত্রে খুচরা মূল্য হিসাব করে যাকাত আদায় করতে হবে। তবে পাইকারী বিক্রেতাগণ পাইকারীমূল্য হিসাব করে যাকাত আদায় করবে। আল-মুহিতুল বুরহানী: ২/৩৯০, মাবসুতে সারাখসী: ২/২৫৬, মাজমাউল আনহুর: ১/১০৫, আন-নাহরুল ফায়েক: ১/৪৪১

সমস্যা: ব্যবহৃত স্বর্ণ-রূপার যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে কোন মূল্য হিসাব করা হবে? কারণ বাজারে নতুন পুরাতন স্বর্ণ-রুপার মাঝে অনেক ব্যবধান দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী?

মুহাম্মদুল্লাহ

মিরপুর, ঢাকা

শরয়ী সমাধান: স্বর্ণ-রুপাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক পণ্যের যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়তের মূলনীতি হলো, সেই পণ্যের বিক্রয়মূল্য হিসাব করে তা যদি নেসাব পরিমাণ হয়, তখন তার চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত আদায় করা। সুতরাং স্বর্ণ-রুপার যাকাত টাকা দিয়ে আদায় করতে চাইলে তার বাজারমূল্যের ৪০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত আদায় করতে হবে। আর যদি স্বর্ণ-রুপা দ্বারা আদায় করতে চায়, তখন স্বর্ণ-রুপার ৪০ ভাগের এক ভাগ যাকাত আদায় করতে হবে। বাদায়েউস সানায়ে: ২/৪২৫, তাবয়ীনুল হাকায়েক: ১/২৭৮, রদ্দুল মুহতার: ৩/২২৭, ইমদাদুল ফাতাওয়া: ২/৪৯, কিতাবুন্ নাওয়াযেল: ৬/৫৫৭

নিকাহ-তালাক

সমস্যা: যায়েদ এবং খালেদার মাঝে এ শর্তে বিয়ে হয় যে, যায়েদ খালেদাকে তিন ভরি স্বর্ণ মহর হিসেবে দিবে এবং খালেদার পিতা আমরের পক্ষ থেকে যায়েদকে ছয় লক্ষ টাকা দিতে হবে। অথবা বিবাহের সময় কোন শর্ত ছাড়া সমাজের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী খালেদার পিতা যায়েদকে ছয়লক্ষ টাকা দেয়। যায়েদ খালেদাকে বিবাহের তিন মাস পর তালাক প্রদান করে। এখন আমার জানার বিষয় হলো: (ক) খালেদার পিতা যায়েদকে যে ছয়লক্ষ টাকা দিয়েছিল, তা যায়েদের জন্য হালাল হবে কি না? (খ) তালাকের পর যায়েদকে খালেদার পিতার নিকট উক্ত টাকা ফেরত দিতে হবে কি না? জানালে উপকৃত হবো।

আইয়ুব নজীর

চকরিয়া, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: ইসলামী শরীয়া মোতাবেক যায়েদ খালেদাকে নেকাহের মহর হিসেবে যে তিন ভরি স্বর্ণ দেওয়ার কথা বলেছে, আকদে নেকাহের পর তাদের যখন মিলন ও সহবাস হয়েছে তখন উক্ত মহর যায়েদের ওপর ওয়াজিব হয়ে গেছে। বাকি খালেদার পিতার পক্ষ থেকে যায়েদকে যে ছয় লক্ষ টাকা চুক্তি হিসেবে বা দেশীয় রেওয়াজ হিসেবে দেওয়া হয়েছে তা ইসলামী শরীয়া মোতাবেক (رشوة) তথা ঘুষ হিসেবে গণ্য এবং তা প্রচলিত যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত। যা গ্রহণ করা বেআইনি এবং শরীয়াবিরোধী কাজ। তাই যায়েদের জন্য তা গ্রহণ করা জায়েয হয়নি। ওই টাকা যায়েদ কর্তৃক খালেদার পিতাকে ফেরত দিতে হবে। আবু দাউদ শরীফ: ২/৫০৪, আল-বাহরুর রায়েক: ৩/৩২৫, ফাতাওয়ায়ে শামী: ৫/২৯৯, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১৭/৩৭৭

সমস্যা: আমি আমার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছি এবং বলেছি, তোমাকে বা অন্য কোন মেয়েকে বিয়ে করলে কুল্লামা তালাক। এ অবস্থায় তাকে বা অন্য কোন মেয়েকে বিয়ে করে সংসার করার শরীয়তসম্মত কোন পদ্ধতি আছে কি না? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

আহমদ আলী

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: প্রশ্নপত্রে যেভাবে তালাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে হিসেবে সে যে কোন মহিলাকে সরাসরি বিয়ে করলে বিয়ে করার সাথে সাথে তার ওপর তিন তালাক পতিত হয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে যাবে। সে যদি পুনরায় আগের স্ত্রীকে বিয়ে করতে চায় তখন সরাসরি বিয়ে করতে পারবে না, বরং শরয়ী হালালা ও নেকাহে ফুজুলীর পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। তখন তার ওপর উক্ত তালাক পতিত হবে না। আর যদি অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করতে চায়, তখন শুধু নেকাহে ফুজুলী করলে বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে। শরয়ী হালালা পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে না। উল্লেখ্য যে, হালালা ও নেকাহে ফুজুলী খুব জটিল বিষয়। তাই কোন অভিজ্ঞ মুফতির নির্দেশনা অনুসারে তা সম্পন্ন করতে হবে। মাজমাউল আনহুর: ১/২০৬, আল-বাহরুর রায়েক: ৪/৭, রদ্দুল মুহতার: ২/৩৪৫, আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা: ২৯/৫৩

সমস্যা: জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেন। তালাক দেওয়ার সময় তার এক বছর বয়সী একজন ছেলে ছিল। অতঃপর ওই ব্যক্তি দ্বিতীয় আরেকটি বিয়ে করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী ওই ছেলেটিকে লালন-পালন করে আসছে। দ্বিতীয় বিবাহের এক বছর পর ওই ব্যক্তি ইন্তেকাল করেন। তারপর ওই স্ত্রীকে স্বামীর আপন ছোট ভাই বিয়ে করেন। ৪০/৪৫ বছর পর সম্পত্তি বণ্টনের সময় ওই ছেলে বলছে, তার সৎ মা দেন-মহর ও সম্পত্তির কোন অংশ পাবে না। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তার সৎ মা তার পিতা তথা প্রথম স্বামী থেকে দেন-মহর ও সম্পত্তি পাবে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

শাহ জামাল

বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: সেই ছেলের পিতা যেহেতু তার সৎ মায়ের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাই তার সৎ মা তার পিতা থেকে বকেয়া দেন মহর এবং স্ত্রী হিসেবে স্বামীর পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে মিরাস পাবে। সুতরাং সেই ছেলের কথা ইসলামী শরীয়ত মতে ভুল ও অশুদ্ধ এবং তা গ্রহনযোগ্য নয়। বায়হাকী শরীফ: ১৪৪২৫, রদ্দুল মুহতার: ১০/৪৮৫, মাবসুতে সারাখসী: ২৯/১৪৪, ফতওয়ায়ে বাযযাযিয়া: ২/৩৯৭

সমস্যা: আমি আমার প্রথম স্ত্রী থাকার পরও দ্বিতীয় আরেকটি বিয়ে করি এবং আমি উভয়ের আর্থিক ও দৈহিক হক আদায়ে সক্ষম। তা সত্ত্বেও আমার প্রথম শ^শুর বাড়ির আত্মীয়গণ শুধু সামাজিক রীতির বশবর্তী হয়ে আমার দ্বিতীয় বিয়ে মানতে রাজি নয়। ফলশ্রুতিতে তারা আমার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করে আমাকে নিয়ে বৈঠক বসে। উক্ত বৈঠকে আমাকে তালাক প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হলে, তাদের আলোচনা ও গোলযোগের এক পর্যায়ে আমি বলি, আমি আমার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তিন তালাক দিব ইনশাআল্লাহ। উল্লেখ্য যে, প্রথম শব্দগুলো উচ্চ্যৈঃস্বরে ও “দিব ইনশাআল্লাহ” শব্দটি নিচুস্বরে বলি। ফলে আমার শ^শুর বাড়ির লোকজন ও উপস্থিত আলেমগণ বুঝে নেন যে, আমি আমার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছি এবং তারা এখনো এমনটিই জানে। অতএব আমার জানার বিয়য় হলো, উল্লিখিত অবস্থায় আমার স্ত্রীর ওপর তালাক পতিত হয়েছে কি না? এবং আমার করণীয় কী? ইসলামি শরিয়ার আলোকে সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

রফিকুল ইসলাম

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

শরয়ী সমাধান: স্মরণ রাখতে হবে যে, ইসলামী শরিয়তের মধ্যে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে ভবিষ্যতসূচক তালাক বাক্য ব্যবহার করলে এবং তালাক বাক্যের সাথে ‘ইন শা আল্লাহ’ উচ্চারণ করলে; যদিও নিম্নস্বরে হয়, তার দ্বারা স্ত্রীর ওপর তালাক পতিত হয় না। তাই আপনি ভবিষ্যতসূচক যে তালাক শব্দ উচ্চারণ করেছেন তা যদি আপনি শুনে থাকেন এবং উচ্চারণ করে থাকেন তার দ্বারা আপনার দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর কোন তালাক পতিত হয়নি। দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে আপনার সাবেক নেকাহ বহাল রয়েছে। সুতরাং তার সাথে আপনার মেলামেশা ও ঘর-সংসার করা ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক জায়েয ও বৈধ। রদ্দুল মুহতার: ৪/৬২৪, ফতওয়ায়ে তাতারখানিয়া: ৪/৫৪০, হিদায়া: ২/৩৮৭, ফতওয়ায়ে আলমগিরী: ৪/২৩, কামুসুল ফিকাহ: ৪/৩৪৪

মুআমালা-লেনদেন

সমস্যা: আমি জনৈক ব্যক্তিকে তার কাছ থেকে বিশ হাজার টাকা কর্জ নেওয়ার কথা বলি। তখন তিনি সরাসরি আমাকে টাকা না দিয়ে এক দোকানে গিয়ে বিভিন্ন মালামালের বিশ হাজার টাকার একটা ক্যাশমেমো করলেন। তিনি আমার হাতে ক্যাশমেমো দিয়ে বলেন, তোমার নিকট এ পণ্যসমূহ চব্বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করলাম এবং তুমি প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে আমাকে টাকাগুলো পরিশোধ করবে। যার ফলে বার মাসে চব্বিশ হাজার টাকা জমা হবে। আসল টাকা বিশ হাজার, চার হাজার টাকা মুনাফা। অতঃপর যে দোকান থেকে ক্যাশমেমো করা হয়েছে আমি ওই দোকানের মালিকের নিকট পুণরায় ওই মেমেটি বিক্রি করে বিশ হাজার টাকা বুঝে নিলাম। অতএব আমার জানার বিষয় হল, এ পদ্ধতিটা শরীয়তসম্মত কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন। উল্লিখিত ক্ষেত্রে যদি শুধু মেমো আদান প্রদান না করে সরাসরি পণ্য আদান প্রদান করা হয় তখন তা শরীয়তসম্মত হবে কি না? জানতে চাই।

আবদুল হামীদ

দেবিদ্বার, কুমিল্লা

শরয়ী সমাধান: স্মরণ রাখতে হবে যে, ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বেচাকেনা শুদ্ধ হওয়ার জন্য বিক্রিত পণ্য নিজ আয়ত্ত্বে আনতে হবে। নিজ আয়ত্তে আনার পূর্বে উক্ত পণ্যের বিক্রয় ইসলামী শীরয়াহ মোতাবেক জায়েয ও শুদ্ধ নয়। সুতরাং উল্লিখিত ঘটনায় বিক্রিত পণ্য নিজ আয়ত্তে না এনে তার কেশমেমো গ্রহণ করে তা পুনরায় বিক্রি করা ইসলামী শরীয়া মোতাবেক জায়েয ও সহীহ হবে না। উক্ত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে বিক্রিত পণ্য নিজ আয়ত্ত্বে আনার পর তা পুনরায় বিক্রেতার নিকট বিক্রি করা শরিয়তসম্মত। তাতে কোন অসুবিধা নেই। বুখারী শরীফ: ১/২৮৬, ফাতাওয়ায়ে আলমগিরী : ৩/১৩, ফতওয়ায়ে কাযিখান: ২/৩৯৫

সমস্যা: আমি আনসার ব্যাটালিয়নের একজন সদস্য। সরকারী নিয়মানুযায়ী আমাদের মাসিক প্রদত্ত বেতনের সর্বোচ্চ ২০% (বিশ ভাগ হারে) প্রভিডেন্ট ফান্ডে কেটে রাখা হয়। যা চাকুরি শেষে সরকার ১৩% (তের ভাগ হারে) লাভ সহ মূলটাকা এককালীন প্রদান করবেন। বলে রাখা ভাল, এই ২০% যা সরকার কতৃক নির্ধারিত সর্বোচ্চ হার; তার কমও রাখার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে প্রত্যেক চাকুরিজীবীর বেতন থেকে ফান্ড কর্তৃক প্রতি মাসে ব্যক্তির ইচ্ছাধীন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কর্তন করা বাধ্যতামূলক। জানার বিষয় হল, উক্ত পদ্ধতিতে টাকা জমা করা এবং তার লভ্যাংশ ভোগ করা আমাদের জন্য শরীয়তসম্মত কি না? উল্লেখ্য যে, একই প্রশ্ন আমি মাসিক আত-তাওহীদের সম্পাদক ড. আ ফ ম খলিদ হোসেনকে করলে তিনি জায়েয আছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তবুও আমি বিস্তারিত তথ্যের জন্য মুফতি সাহেবের শরণাপন্য হই। অতএব উল্লিখিত বিষয়ের প্রমাণভিত্তিক শরয়ী সমাধান জানালে মুফতি সাহেবের নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

মু. আতাউর রহমান

আনসার ব্যাটালিয়ন, মাদারিপুর

শরয়ী সমাধান: আমাদেরর জানা মতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন থেকে কিছু অংশ কেটে প্রভিডেন্ট বা পেনশন হিসেবে রেখে দেয়া হয়। যা সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণার্থে করা হয়। তাই ইসলামী শরীয়া মোতাবেক তা জায়েয ও বৈধ। ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ৪/৪১৩, আদ্দুররুল মুখতার: ৩/২৩৬, ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়া: ৬/২১১

            বড়ঘোনা,বাঁশখালী,চট্টগ্রাম

ওয়াকফ-হেবা

সমস্যা: মেরংলোয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মসজিদ ও সমাজ পরিচালনা কমিটির অনুমতিতে বিগত দুই বছর যাবত অস্থায়ীভাবে মসজিদের মক্তবে নুরানী শিক্ষা পরিচালিত হয়ে আসছে। এমতাবস্থায় শ্রেণী বেড়ে যাওয়ার কারণে স্থান সংকুলান না হওয়ায় নূরানী পরিচালনা কমিটি মসজিদ কমিটি বরাবর মসজিদের জমিতে নূরানী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে নির্মাণের জন্য আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের আলোকে মসজিদের ওয়াকফকৃত জমিতে নূরানী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে নির্মাণের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া যায় কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

নূর হোসাইন

রামু, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: ওয়াকফকৃত জায়গাকে যে কাজের জন্য ওয়াকফ করা হয়, সে কাজেই ব্যবহার করতে হবে; অন্য কাজে ব্যবহার করা জায়েয নেই। তাই মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জমিতে মাদরাসা নির্মাণ করা জায়েয হবে না। সুতরাং উল্লিখিত বর্ণনায় নূরানী পরিচালনা কমিটি মসজিদ কমিটি বরাবর যে আবেদন করেন, উক্ত আবেদনের আলোকে মসজিদের ওয়াকফকৃত জমিতে নূরানী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া জায়েয হবে না। জায়েয পদ্ধতি: মসজিদ কমিটি মসজিদের টাকা দিয়ে নূরানী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটা ঘর নির্মাণ করবে। এরপর মসজিদ কমিটি ও নূরানী পরিচালনা কমিটির পরামর্শক্রমে ন্যায়সঙ্গতভাবে ভাড়া ধার্য করে নূরানী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ভাড়া দিবে। উক্ত ভাড়ার টাকা মসজিদ কমিটি মসজিদের কাজে ব্যবহার করবে। এই পদ্ধতিতে নূরানী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মসজিদের জমি ব্যবহার করা জায়েয অথবা মাদরাসার পক্ষ থেকে মসজিদের জমি ভাড়া নিয়ে তাতে নূরানী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে একটি ঘর নির্মাণ করবে। জমি মসজিদেরই মালিকানায় থাকবে এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষ থেকে প্রদত্ত ভাড়া মসজিদের কাজে ব্যায় করতে হবে। আল-লাজনাতুদ দায়িমা: ফতওয়া: ১৮০৫০, রদ্দুল মুহতার: ৬/৬৪৯, হেদায়া: ২/৬৪০, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২২/৩৪

সমস্যা: ১৯৫০ সালে নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ সরকারী খাস জমিতে স্থাপিত হয়। অতঃপর ১৯৫৬ খ্রি. মসজিদ সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে সরকারী খাস জমিতে মদীনাতুল উলুম কওমী মাদরাসা ও এতিমখানা স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে মসজিদ কমিটি উক্ত ভূমি বিগত ৯ এপ্রিল ১৯৮০ খ্রি. সরকার বাহাদুর হতে খরিদসূত্রে মালিক হয়ে এখনো পর্যন্ত খাজনাদী পরিশোধ করে আসছে। উল্লেখ্য যে, মসজিদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মসজিদের অঙ্গসংগঠন হিসাবে মসজিদ কমিটি মাদরাসা পরিচালনা করে আসছে। মসজিদ কমিটির মধ্যে আলেম-উলামা থাকাতে তাদের কারো করো মত হলো, উক্ত ভূমি বর্তমানে মসজিদের মালিকানায় হওয়ায় মাদরাসার পক্ষ থেকে মসজিদকে ভাড়া প্রদান করতে হবে। এমতাবস্থায় মসজিদের জমিতে মাদরাসা পরিচালনার শরয়ী বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ

সদর, নোয়াখালী

শরয়ী সমাধান: উল্লিখিত ঘটনায় মসজিদখানা সরকারী খাস জমিতে অবস্থিত হওয়ার পর যখন মসজিদ কর্তৃপক্ষ সরকার কর্তৃক মসজিদের জন্য বন্দোবস্তি নিয়ে তার নির্ধারিত সরকারী টেক্স ও খাজানা আদায় করে আসছে, তার দ্বারা তা শরয়ী মসজিদ হিসেবে গণ্য হয়ে গেছে এবং তার মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ও জুমার নামাজ ইত্যাদি সব সহীহ হয়ে যাবে। শরয়ী মসজিদের সাওয়াবও পাওয়া যাবে এবং মসজিদের অতিরিক্ত জমিতে যে একটা মদিনাতুল উলূম নামে কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেটা যেহেতু মসজিদের অন্তর্ভূক্ত নয়, তাই মসজিদ কমিটির সাথে পরামর্শ করে ন্যায়সঙ্গতভাবে যা ভাড়া ধার্য করা হয় তা মসজিদ কমিটির নিকট আদায় করতে হবে। কেননা, মাদরাসা মসজিদের আওতাধীন কাজ হিসাবে গণ্য হয় না। তাই মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে মসজিদ কমিটির নিকট ভাড়া দিতে হবে। আল-লাজনাতুদ দায়িমাহ: ফতওয়া: ১৮০৫০, রদ্দুল মুহতার: ৬/৬৪৯, হেদায়া: ২/৬৪০, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২২/৩৪, জাওহারাতুন-নায়্যিরাহ: ২/২২৫, আল-ফিকহুল ইসলামী: ৫/৫৪৫, মাজমাউল আনহুর: ১/৩৫০

বিভাগীয় নোটিশ

দৈনন্দিন জীবনের যেকোনো সমস্যার শরয়ী সমাধান জানতে আল-জামিয়া আল- ইসলামিয়া পটিয়ার ফতওয়া বিভাগে প্রশ্ন পাঠাতে পারেন। এজন্য সরাসরি যোগাযোগ বা বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট ফোনে যোগাযোগ করুন। প্রশ্ন পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইল বা ফেসবুক ফ্যান-পেইজেও।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ