ইসলাম ও মুসলিম শব্দে যতসব আপত্তি! কিন্তু কেন?
প্রত্যেক জাতি তার নিজস্বতায় ও স্বকীয়তাবোধে গর্ব করে। নিজস্ব কালচার, প্রকৃতি ও ঐতিহ্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। বিশেষত ধর্মীয়বোধ তো সর্বাগ্রেই স্বযতেœ মূল্যায়িত হয়। কিন্তু আফসোস এবং আক্ষেপের বিষয় মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়ে, মুসলিম ঐতিহ্যে রক্ত-মাংস গড়ে আজকের আল্ট্রা মডার্ন মুসলিমরা নিজ পরিচয়ে মুসলিম পর্যন্ত ব্যবহার করতে সংকোচবোধ করে, যেটি নিতান্ত বিচলিত বিমূঢ় করে চলছে আমাদেরকে! আমরা যথেষ্ট আশঙ্কাবোধ করছি আজ ও আগামী নিয়ে!
আমরা এতটা আধুনিক হতে চাই না, যতটুকু হলে পরে ইতিহাস-ঐতিহ্য, জাত-পরিচয়, স্বজাত-স্বকীয়তা চুকে দিতে হয়? ইসলাম আমার ধর্ম, মুসলিম আমার পরিচয়! আমার কিসের ভয়? স্বকীয়তাবোধ সর্বোচ্চ সম্পদ ও পথচলার শ্রেষ্ঠ পাথেয়।
আমরা একান্ত গর্ব করে বলতে পারি, পৃথিবীতে অনেক জাত, গোষ্ঠী ও মতবাদের লোক বাস করছে কিন্তু দৃশ্যমান পৃথিবীর বর্তমান, অতীত মন্থন করেও কেউ বলতে পারবে না, পারেনি, পারছে না যে, ইসলামের চেয়েও সর্বাধুনিক, হৃদয়গ্রাহী, যৌক্তিক, উদার, অকাট্য, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্যপূর্ণ কোনো জীবনব্যবস্থা পৃথিবী দেখেনি ইনশাআল্লাহ দেখবেও না। ইসলাম সর্বযুগে সর্বাধুনিক!!
এ কথা শুধু আমি ও আমরা মুসলিমরাই বলতে পারব আর কোনো গোষ্ঠী কিংবা জাতি নয়! এ জন্যেই যুগে যুগে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় সমবেত হয়েছে অগুণতি অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বীগণ! যার স্রোতধারা বা ধারাবাহিকতা পৃথিবী ধ্বংসের আগ পর্যন্ত চলবে ইনশাআল্লাহ। আজ পর্যন্ত ইসলামের ওপেন চ্যালেঞ্জে পৃথিবীর কোন পরাশক্তি টিকতে পারেনি, পারছে না, ইনশাআল্লাহ পারবেও না।
পৃথিবী বলুক দেখি? কোন জাতি বা গোষ্ঠীর আল-কুরআনের মত একটি অকাট্য, অদ্বিতীয়, মহা প্রামাণ্য গ্রন্থ আছে?
পৃথিবী বলুক দেখি? কোন জাতি বা গোষ্ঠীর বিশ্বনবীর মত একজন কালজয়ী মহান ব্যক্তিত্ব আছে?
পৃথিবী বলুক দেখি? কোন জাতি বা গোষ্ঠীর কোটি মানুষকে সমবেত করার মত একটি কা’বা আছে?
জানি এ প্রশ্নের উত্তর পৃথিবী কস্মিনকালেও দিতে পারবে না। এ ইতিহাস-ঐতিহ্য একান্ত আমার এবং আমাদের। মুসলিম মিল্লাতের! কিন্তু অপার দুঃখ পাই সেই মুসলিমরা যখন নিজের ইতিহাস-ঐতিহ্য ভুলে নিজ পরিচয়টুকু মুসলিম পর্যন্ত দিতে সংকোচবোধ করে।
পাঠক জেনে আশ্চর্যবোধ করবেন! এক সময় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুহসিনিয়া মাদরাসায় কত উঁচু মাপের আলিম গড়ে ওঠেছে। এ-তালিকায় ইসলামী তালিমের সূতিকাগার হাটহাজারী মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুলল্লাহ (রহ.), চট্টগ্রামের গারাংগিয়ার পীর সাহেব মাওলানা শাহ আবদুল মজিদ (রহ.), চুনতি হাকিমিয়া আলিয়া মাদরাসার নাযিমে আলা মাওলানা ফযলুল্লাহ (রহ.)-এর মতো রতœতুল্য মানুষরাও এই মাদরাসায় পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু কী দুর্ভাগ্য যে আমাদের, কালক্রমে এ মাদরাসা মুহসিন কলেজে রূপান্তরিত হয়ে গেল! কেন? কেন এমনটি হল? কারা এমনটি করতে গেলেন? বাংলাদেশে কী আর কোনো জায়গা ছিল না, যেখানে একটি কলেজ করা যেত? মুহসিনিয়া মাদরাসা কেন মুহসিন কলেজ হতে গেল? অথচ হাজি মুহাম্মদ মুহসিন এ জায়গা শুধু কেবল মুহসিনিয়া মাদরাসার জন্যেই একান্ত ওয়াকফ করেছিলেন। ওয়াকফকৃত জায়গায় যারা মুহসিনিয়া মাদরাসার জায়গায় মুহসিন কলেজ করল অবশ্যই তাদের মহান রবের দরবারে জিজ্ঞাসিত হতে হবেই!
কেন? কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো থেকে রাব্বি যিদনি ইলমার অনুপমতা কেড়ে নেয়া হল? কেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বমুসলিম ঐতিহ্যের মহাকবি ইকবালের নাম মুছে দিয়ে করা হল সূর্য সেন হল। সূর্য সেনের নামে আরেকটি হল করা যেতে পারতো।
কেন? কেন? জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম কলেজের নাম থেকে ইসলাম মুছে দেয়া হল? কেন মুসলিম হলের নাম মুছে আয়ুব বাচ্চু নাম করণ করা হবে বলে ঘোষণা আসল?
একটি মুসলিমপ্রধান দেশে ইসলামকেই বারবার আঘাত হানা হচ্ছে কেন? অথচ ইন্ডিয়ার মত হিন্দুপ্রধান দেশে আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি স্বমহিমায় আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কোলকাতায় আছে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ মেডিক্যাল কলেজ, বেনারসে আছে হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লীতে আছে হযরত নিজামুদ্দিন রেল স্টেশন। পশ্চিবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় হুগলিতে অবস্থিত মুহসিনিয়া মাদরাসা যাতে তার ঐতিহ্যধারা মতে শিক্ষাকার্যক্রম চালতে পারে সেজন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন। আমাদের দেশে এগুলো কী হচ্ছে?
আল্লাহকে ভয় করুন, তাঁর সামনে দাঁড়াতে হবে এবং পৃথিবী যার ইসলাম তার একথাকে বুঝবার চেষ্ট করুন।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন