বুধবার-৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি-২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমস্যা ও সমাধান-ফতওয়া বিভাগ-আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম

সমস্যা-সমাধান ফতওয়া বিভাগ- আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া,চট্টগ্রাম

সমস্যা সমাধান

ফতওয়া বিভাগ

আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম

মোবাইল: ০১৮৫৬-৬১৮৩৬৭

ইমেইল: daruliftapatiya@gmail.com, পেইজলিংক: fb.com/islamiclaw.patiya

 

 

আকীদা-বিশ্বাস

সমস্যা: একটি মজলিসে আমি এই কথা বলেছি যে, আলেমদের ভুল হতে পারে, এমনকি রাসুল (সা.)-এরও ভুল হতে পারে এবং হয়েছেও। উদাহারণ হিসেবে আমি বলেছি, একদিন রাসুল (সা.)-এর নামাযে ভুল হলে জনৈক সাহাবী প্রশ্ন করলেন, أقصرت الصلوة أم نسيت؟ (হে আল্লাহর রাসুল! চার রাকাআত বিশিষ্ট নামায সংক্ষিপ্ত করে তিন রাকাআত পড়ার হুকুম হয়েছে? না আপনার ভুল হয়েছে?) একথা বলার দ্বারা ঈমানের কোন ক্ষতি হবে? এবং আমার স্ত্রীর ওপর কি তালাক পতিত হয়ে যাবে?

মাওলানা আমিনুল ইসলাম

পুটিবিলা, লোহাগাড়া

শরয়ী সমাধান: প্রশ্নপত্রে আপনি যা বলেছেন, তাই সঠিক। কেননা যেকোনো নবী ও রাসুল মানুষ হিসেবে তাঁর নিসয়ান বা ভুল হতে পারে এবং হওয়ার সহীহ প্রমাণও আছে। কিন্তু তা কোন অপরাধ বা গুনাহ নয়। তাই এটা আম্বিয়া কেরামের মা’সুমিয়তের (নিষ্পাপ হওয়ার) পরিপন্থী নয়। সুতরাং এটা নবীর শানে বেআদবী বা কুফরী কাজ হওয়ার কোন কারণ নেই। তাই তার দ্বারা আপনার ঈমানের ওপর কোন আঘাত আসেনি। আর এই কথার কারণে আপনাকে কোন তাওবা করতে হবে না। কুরআন এবং হাদীসের মধ্যেও তার অনেক দলীল রয়েছে। আর এই রকম বাস্তব এবং সহীহ কথার দ্বারা স্ত্রী তালাক হওয়ার কোন কারণ হতে পারে না; বরং নিকাহ বহাল রয়েছে। তবে নবী, রাসুলদের (সা.)-কে তুচ্ছ করার উদ্দেশ্যে যদি তা বলে থাকেন তাহলে ঈমান চলে যাবে। সূরা কাহাফ: ৭৩, বোখারী শরীফ: ১/ ১৬৩, মুসলিম শরীফ: ২/২৬৩

সমস্যা: নবী কারীম (সা.) বা কোন আউলিয়া কেরামের উসিলা দিয়ে দু’আ করার শরয়ী বিধান কী? আমাদের গ্রামে তথাকথিত আহলে হাদীসের জনৈক অনুসারী এ ক্ষেত্রে বলেন যে, দুআর মধ্যে কোন নবী বা আউলিয়া কেরামের উসিলা নিয়ে দুআ করা শির্‌ক। তার কথা কতটুকু সঠিক? জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

কাউসার হামীদ

মৌলভীবাজার, সিলেট

শরয়ী সমাধান: রাসুল (সা.) এবং আউলিয়া কেরামের উসিলা নিয়ে আস্থার সহিত দুআ করা সঠিক ও শরীয়তসম্মত। কারণ তাদের উসিলায় আমাদের দুআ আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হওয়ার অধিক সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা সাহাবাযুগে কোন সময় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) নবী কারীম (সা.) ও হযরত আব্বাস (রাযি.)-এর উসিলা নিয়ে বৃষ্টি বর্ষণের দুআ করার কথা বুখারী শরীফে বর্ণিত রয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, কারো উসিলা দিয়ে দুআ করকে শিরক বলা সঠিক নয়। বুখারী শরীফ: ১/১৩৭, রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৯৭, বাদায়েউস সনায়ে: ৪/৩০২

সমস্যা: আমাদের দেশে মুহাররম মাসের ১০ তারিখে খিচুড়ি ইত্যাদি রান্না করে খাওয়ার যে রমরমা আয়োজন পরিলক্ষিত হয়, এবং তাকে সাওয়াবের কাজ বলে মনে করা হয়। তা কতটুকু শরীয়তসম্মত? জানালে উপকৃত হবো।

আবদুর রশীদ

আনোয়ারা, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: মুহাররম মাসে খিচুড়ি ইত্যাদি রান্না করে খাওয়ার যে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়, তা আবশ্যক মনে করে পালন করা হলে নাজায়েয ও অবৈধ হবে। কারণ আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, মুহাররম মাসের ১০ তারিখে এ রকম বিভিন্ন ধরণের আয়োজন রাসুল (সা.) এর পরিবার পরিজনের সাথে বিদ্বেষ পোষণকারী শিয়া সম্প্রদায়ের গৃহীত রেওয়াজ ছিল। তাই এ রকম গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকা মুসলিম সমাজের একান্ত কর্তব্য। আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: ৮/৫৯৯

তাহারাত-পবিত্রতা

সমস্যা: পেশাব-পায়খানা থেকে ঢিলা-কুলুখ ও পানি উভয়টি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করা উত্তম। তবে কেউ যদি যে কোন একটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে চায়, তখন তার জন্য ঢিলা ও পানির মধ্য থেকে কোনটি দিয়ে করা উত্তম হবে?

মারগুব হাসান

বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

শরয়ী সমাধান: কুরআন-হাদীস ও ফিকহের বর্ণনা মতে ঢিলা ও পানি উভয়টি একত্রে ব্যবহার করে পবিত্রতা অর্জন করা উত্তম। তবে কেউ যদি কোন একটি ব্যবহারে ক্ষান্ত হতে চায়, তখন তার জন্য পেশাব-পায়খানা উভয় ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার করে পবিত্রতা অর্জন করা উত্তম। বুখারী শরীফ: ১/২৭, তাতারখানিয়া: ১/২১১, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৪৯, আহসানুল ফাতাওয়া: ২/১০৭

সমস্যা: আমি বিভিন্ন সময় ইচ্ছায় অনিচ্ছায় অযুতে পায়ের আঙ্গুল হাত দিয়ে খিলাল করি না। বরং পুকুরের পানিতে পা নাড়াচাড়া করে অযু শেষ করি। এর কারণে অযুতে কোন সমস্যা হবে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

মুহাম্মদুল্লাহ

বাঁশখালী, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: আঙ্গুল খিলাল করা ব্যতীত আঙ্গুলের ফাঁকে সম্পূর্ণরূপে পানি পৌঁছে গেলেও আঙ্গুল খিলাল করা সুন্নাত। আর যদি আঙ্গুল চেপে থাকার কারণে বা অন্য কোন কারণে পানি পৌঁছতে না পারে তখন আঙ্গুল খিলাল করা ওয়াজিব। তবে পুকুরে অযু করার সময় পুরো পা টাখনু পর্যন্ত পানিতে ডুবিয়ে নাড়াচাড়া করলেও অযু শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে শর্ত হলো, আঙ্গুলের ফাঁকে পানি পৌঁছতে হবে। বুখারী শরীফ: ১/২৮, ফাতহুল কদীর: ১/২৭, আলমগীরী: ১/৭

সমস্যা: আমি সাধারণত স্ত্রী সহবাসের পর গোসল করে ঘুমিয়ে পড়ি। কখনো ঘুম থেকে ওঠে গোসল করি। কিন্তু গোসলের কিছুক্ষণ পর লজ্জাস্থান বা তার আশ-পাশে ভিজা দেখতে পাই। এমতাবস্থায় কি আমি পুনরায় গোসল করব? না লজ্জাস্থান বা তার আশ-পাশ ধুয়ে নিলেই যথেষ্ট হবে? শরয়ী সমাধান দিয়ে বাধিত করবেন।

আবদুল্লাহ সাদী

দেবীদ্বার, কুমিল্লা

শরয়ী সমাধান: কুরআন-হাদীস ও ফিকহে হানাফীর কিতাবসমুহ থেকে আমরা একথা বুঝতে পারি যে, অপবিত্র ব্যক্তি যদি তার অপবিত্রতার পর পেশাব করে বা দীর্ঘ হাঁটা-হাঁটি করে অথবা এমন কোন কাজ করে যার দ্বারা নির্গত নাপাকি সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে যায়, তখন তাকে পুনরায় গোসল করতে হবে না। আর যদি এমন কোন কাজ করার পূর্বেই গোসল করে ফেলে এবং পুনরায় তার লজ্জাস্থান বা তার আশ-পাশে নাপাক দেখতে পায়, তখন তার জন্য পুনরায় গোসল করা ওয়াজিব। সুতরাং প্রশ্নোল্লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী আপনাকে পুনরায় গোসল করতে হবে। তাতারখানিয়া: ১/২৮২, আল-আজনাছ:৪০৮, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৪

সালাত-নামায

সমস্যা: আমাদের দেশের স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিগুলোতে সহশিক্ষার প্রচলন রয়েছে তথা নারী-পুরুষ একসাথে বসে শরয়ী পর্দাবিহীন পাঠদান করা হয়। এ ক্ষেত্রে আমার জানার বিষয় হলো, উল্লিখিত স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির কোন শিক্ষক যদি মসজিদে ইমামতি করেন, তার পিছনে নামায আদায় করলে নামায মাকরূহ হবে কি না? বিশেষ করে এ ধরণের ব্যক্তিকে জুমার খতীব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া কর্তৃপক্ষের জন্য জায়েয হবে কি? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

নাসিম সিদ্দীক

কবির হাট, নোয়াখালী

শরয়ী সমাধান: একজন ইমাম একটি সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে। সমাজের সর্বোত্তম ব্যক্তি ইমাম হওয়ার সবচেয়ে বেশি দাবিদার। তাই একজন ইমাম উৎকৃষ্ট গুণের অধিকারী এবং শরীয়ত বহির্ভূত সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া চাই। অপরদিকে পর্দা ইসলামের একটি ফরয বিধান। শরয়ী পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা ফিসকের অন্তর্ভূক্ত। লঙ্ঘনকারীকে ফেকহী কিতাবাদীতে স্পষ্ট ফাসেক বলা হয়েছে। আর ফাসেকের ইমামতি মাকরূহে তাহরীমী। অতএব প্রশ্নোল্লিখিত ক্ষেত্রে আমাদের দেশের স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিগুলোতে শরয়ী পর্দাবিহীন সহশিক্ষার যে পদ্ধতি চালু রয়েছে, এটা ফিসকের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে পাঠদানকারী শিক্ষককে ফাসেক বলা হবে। এমন শিক্ষকের ইমামতি মাকরূহে তাহরীমী এবং এ ধরণের ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেয়াও জায়েয নেই। একান্ত কোন ফিতনার সম্ভাবনা না থাকলে এমন ইমাম ও খতীব কে অপসারণ করা অবশ্য কর্তব্য। তবে তাদের পিছনে নামায মাকরূহের সাথে জায়েয। আদায়কৃত নামায পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই। সূরা নূর: ৩০, তিরমিযী শরীফ: ১১৭১, লাউস সুনান: ১৭/৩৮১, ৪/২২৬, আল-বাহরুর রায়েক: ১/৩৪৮, রদ্দুল মুহতার: ২/২৮২, ইমদাদুল ফাতাওয়া: ১/২৮৯, ফাতওয়ায়ে কাসিমিয়া: ৬/৫০৫

সমস্যা: কিছুদিন পূর্বে আমাদের মসজিদে একজন গুরুত্বপূর্ণ মেহমান আগমন করেন। ইমাম সাহেব যোহরের নামায নির্দিষ্ট সময়ে না পড়িয়ে তাঁর জন্য কিছু সময় বিলম্ব করে পড়ালেন। এতে স্থানীয় জনৈক আলেম বলেন, উক্ত মেহমানের জন্য নামায বিলম্ব করার কারণে নামায মাকরূহ হয়েছে। তার কথায় এলাকায় বেশ গণ্ডগোল সৃষ্টি হয়। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তার কথা কতটুকু শরীয়তসম্মত? জানালে উপকৃত হবো।

আবদুশ শাকুর

টেকনাফ, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: আমাদের দেশে প্রত্যেক নামাযের জন্য নির্ধারিত যে সময় রয়েছে, তা কেবল মুসল্লিদের সুবিধার প্রতি লক্ষ রেখে করা হয়। যেন নিয়মিত মুসল্লিরা নির্দিষ্ট সময়ে জামাতের সহিত নামায আদায় করতে পারে। তবে বিশেষ কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা ব্যতিক্রম হলে নামায মাকরূহ হবে না। তবে সর্বাবস্থায় লক্ষ রাখতে হবে নামায যেন মুস্তাহাব ওয়াক্ত থেকে বিলম্ব না হয়। তবে পার্থিব উদ্দেশ্যে কারো জন্য অপেক্ষা করা ঠিক নয়। কেননা এতে অন্য মুসল্লিদের কষ্ট হয়। আল-বাহরুর রায়েক: ১/৪৫৫, তাতারখানিয়া: ২/১৪৫, মাহমুদিয়া: ৯/৭৬

সমস্যা: আমরা ছোটবেলা থেকেই পাগড়ি পরে নামায আদায় করার ফযীলত সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মুখ থেকে শুনে আসছি। সম্প্রতি জনৈক আলেম পাগড়ি পরে নামায পড়ার ফযীলত সম্পর্কিত হাদীসকে দুর্বল আখ্যা দিয়ে পাগড়ির ফযীলতকে অস্বীকার করতে লাগলেন। উক্ত আলেমের কথা কতটুকু সঠিক?

জাহিদুল ইসলাম

পটিয়া, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: বিভিন্ন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসুল (সা.) সর্বদা পাগড়ি পরিধান করতেন এবং পাগড়ি পরে নামায আদায় করার কথাও কিছু হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাই পাগড়ি পরে নামায আদায় করা অবশ্যই ফযীলতের দাবি রাখে। ফিকহগ্রন্থসমূহে পাগড়ি পরে নামায আদায় করাকে মুস্তাহাব বলা হয়েছে। যদিও পাগড়ি পরিধান সম্পর্কীয় ফযীলতের হাদীসটিকে মুহাদ্দিসীনে কেরাম দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তাই বলে পাগড়ির ফযীলতকে অস্বীকার করা যাবে না। কারণ পাগড়ি রাসুল (সা.) এর নিত্যদিনের সুন্নাতসমূহের অন্যতম। সুতরাং নামাযে হোক বা নামাযের বাহিরে হোক সর্বাবস্থায় পাগড়ি পরিধান করার ফযীলত রয়েছে। আবু দাউদ শরীফ: ২/৫৬৩, মুসান্নাফে আব্দুর রায্‌যাক: ১/৪০০, বাদায়েউস সনায়ে: ২/৮৮, আফ কে মাসায়েল: ৩/৬৭

যাকাত-সদাকা

সমস্যা: জনাব আতিক সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি বৈদেশিক পণ্য আমদানী করেন এবং দেশের ব্যবসায়ীরা তার থেকে পণ্য ক্রয় করেন। অধিকাংশ সময় তারা বাকিতে পণ্য নিয়ে যান। তবে মূল্য পরিশোধের সময়টা এতো দীর্ঘ হয় যে, এ সময়ের মধ্যে তিনি আবার পণ্য আমদানী করে ফেলেন। এভাবে তারা প্রথম আমদানিকৃত পণ্যের টাকা পরিশোাধ করতেই দ্বিতীয়বার আমদানীকৃত পণ্য নিয়ে যান। এভাবে প্রায় সময় জনাব আতিক সাহেবের ৭০-৮০ লক্ষ টাকা ব্যবসায়ীদের কাছেই রয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হলো উক্ত ৭০-৮০ লক্ষ টাকার ওপর যাকাত আসবে কি? আসলে কেন আসবে? কুরআন-হাদীসের আলোকে জানালে উপকৃত হবো।

মাহফুজুল হক

ফুলগাজী, ফেনী

শরয়ী সমাধান: আতিক সাহেবের বিক্রিত পণ্যের যে মূল্য ক্রেতাগণের নিকট বাকি রয়ে গেছে এবং উসুল হয়নি, সেসব বাকি পণ্যমূল্যের টাকা যেহেতু নেসাব থেকে অধিক তাই তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে এবং ওই বাকি টাকাগুলোর যাকাত হিসাব করে আদায় করে দিতে হবে। কেননা ওই বাকি টাকাগুলো বিক্রেতা আতিক সাহেবের সম্পদ হিসেবে গন্য হয়েছে। সুতরাং তার যাকাত তাকে আদায় করতে হবে। কেননা ইহা ফিকাহ শাস্ত্রের পরিভাষায় (الدين القوي) হিসেবে গণ্য হয়েছে, যার ওপর যাকাত ওয়াজিব হয়। অবশ্য, যে কর্জের টাকাগুলো উসুল হওয়ার সম্ভাবনা কম, টাকাগুলো উসুল হওয়ার পর হিসেব করে তার যাকাত আদায় করতে হবে। উসুল করার আগে আদায় করতে হবে না। মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৩/৫২, বাদায়েউস সানায়ে: ২/৯০, ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৭৫

সমস্যা: গত কিছুদিন পূর্বে আমার দোকানের মালের জন্য একটা কোম্পানিকে অগ্রিম পাঁচলক্ষ টাকা প্রদান করি। কিন্তু প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে, এখনো দোকানের মাল এসে পৌঁছেনি। এমতাবস্থায় যাকাতের আদায়ের ক্ষেত্রে দোকানের অন্যান্য মালের সাথে সেই মালগুলোকেও হিসাব করে যাকাত আদায় করতে হবে কি না? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

এনামুল হাসান

চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: টাকা, স্বর্ণ, রুপার ওপর যেমন যাকাত ওয়াজিব, তেমনি বাণিজ্যিক পণ্যের ওপরও যাকাত ওয়াজিব হয়। বাণিজ্যিক সম্পদের ক্ষেত্রে টাকা ও পণ্য উভয়ই বরাবর। আপনি আপনার দোকানের জন্য পণ্য খরিদ করতে কোম্পানিকে যে পাঁচলক্ষ টাকা অগ্রিম দিয়েছেন, যেহেতু আপনার কথা মতে ওই টাকাগুলো উসুল হয়ে যাওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে, তাই তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে। সুতরাং ওই পণ্যগুলো হস্তগত হওয়ার পর দেখতে হবে, অগ্রিম টাকা আদায়ের কতদিন পর ওই পণ্য হস্তগত হয়েছে, যদি অগ্রিম টাকা আদায়ের এক বছর পর ওই পণ্য হস্তগত হয়, তাহলে বিগত বছরের যাকাত হিসাব করে আদায় করতে হবে। তবে একবছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে হস্তগত হলে হস্তগত হওয়ার পূর্বাপর সময়ের সমন্বয়ে এক বছর হওয়ার পর তার যাকাত আদায় করতে হবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ: ৩/৫২, আল-বাহরুর রায়েক: ২/৩৫৭, ফাতাওয়ায়ে ক্বাযীখান: ২/২২৭

 

নিকাহ-তালাক

সমস্যা: রেজায়ী বোনের (দুধ-বোন) সাথে যদি ভুলে বিয়ে হয়ে সন্তান হয়ে যায়, তখন উক্ত সন্তানদের নসব সাব্যস্ত হবে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

মু. রহমতুল্লাহ

লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: ইসলামী শরীয়ত মতে রেজায়ী বোনের সাথে বিবাহ করা নাজায়েয ও হারাম। অবশ্য ভুলবশত বিবাহ হয়ে গেলে এবং বিবাহের পর সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে তার নসব ও বংশ পিতা থেকে সাব্যস্ত হবে। কিন্তু তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়কে অবৈধ সম্পর্ক করার কারণে আল্লাহ তায়ালার নিকট লজ্জিত হয়ে খাঁটি তাওবা করতে হবে এবং তাদেরকে শরয়ী হুকুম জানার সাথে সাথে পৃথক হয়ে যেতে হবে। তিরমিযী শরীফ: (১১৭৮), রদ্দুল মখতার: ৫/১৯৭, বাদায়েউস সানায়ে: ১/৬১৫, ফতওয়ায়ে আলমগীরী: ১/৫৪০

সমস্যা: বিনীত নিবেদন এই যে, গত ১২ জুলাই ২০১৭ তারিখে স্ত্রী তাহমিনা বেগমের সাথে আমার বনাবনি না হাওয়াতে সংযুক্ত তালাকের নোটিশের মাধ্যমে তালাক প্রধান করে আমি বিদেশ চলে যাই। উল্লেখ্য যে, আমি তিন তালাক মুখে উচ্চারণ করেই তালাক দিয়ে নোটিশটি পূরণ করেছি। ইসলামি শরীয়তে উক্ত তালাক প্রধানের মাধ্যমে আমাদের বিয়ে বন্ধন ছিন্ন হয়েছে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

আবু তাহের

পটিয়া, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: উল্লিখিত ঘটনায় প্রশ্নের সাথে সংযুক্ত ডিভোর্স নামায় যদিও বায়েন তালাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু যেহেতু স্বামী প্রশ্নের মধ্যে মৌখিকভাবে তিন তালাক উচ্চারণ করার কথা স্বীকার করেছেন। তাই স্বামীর স্বীকারোক্তি  মতে স্ত্রীর ওপর তিন তালাক পতিত হয়ে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। তালাক দেওয়ার পর থেকে তাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মেলামেশা ও ঘর-সংসার পরিস্কার হারাম ও নাজায়েয এবং অন্য স্বামীর সংসার করা ব্যতীত তাদের পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। ১. উল্লেখ্য যে, বর্তমান সরকারি ডিভোর্সনামায় তিন তালাককে বায়েন তালাক বলে আখ্যায়িত করা হয়। ২. এক সাথে তিন তালাক দিলে ইসলামী শরীয়তের মধ্যে এটা তিন তালাকই গণ্য হয়। এক তালাক নয় এবং তার মধ্যে আমাদের চার ইমামের ইজমা এবং ইমাম বোখারীর ঐক্যমত রয়েছে। সুতারাং তার মধ্যে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। সুরা বাকারা: ২৩০, বুখারী শরীফ: /৭৯১, হেদায়া: ২/৩৭৯, শরহুন নববী: ১/৪৭৯

সমস্যা: আমার স্বামী একজন প্রবাসী। একদিন আমার স্বামী আর আমার মাঝে টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে সে ইমুর (এক প্রকার যোগাযোগ মাধ্যম) মাধ্যমে আমাকে বলে, এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক। এবার তুমি মুক্ত। বাড়ি থেকে চলে যাও। তালাকের কথা আমি আমার কান দিয়ে শুনেছি। বর্তমান আমি তিন মাসের গর্ভবতী। কিন্তু আমার স্বামী তিন তালাকের কথা অস্বীকার করে এবং বলে আমি তোমাকে দুই তালাক দিয়েছি। এখন সে আমাকে আকদে নেকাহে রাখতে চায়। এখন আমার জানার বিষয় হলো, উপর্যুক্ত বর্ণনার আলোকে আমার ওপর তিন তালাক পতিত হয়েছে কি না? শরীয়তের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।

মোসা. মুক্তা

দোহাজারী, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: প্রশ্নের বর্ণনানুযায়ী স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার কথা যখন স্ত্রী দাবি করছে, আর স্বামী দুই তালাক দেওয়ার কথা দাবি করছে, এ মুহূর্তে যেহেতু স্ত্রীর দাবির স্বপক্ষে শরয়ী দুইজন সাক্ষী অনুপস্থিত। তাই উল্লিখিত বিষয়ে কযাআন (বিচারিকভাবে) স্বামীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে। ফলে তিন তালাক পতিত হওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না। তবে স্ত্রী যদি নিজ কানে তিন তালাক দিয়েছে যে এটা শুনেছে এবং এর ওপর পূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস রাখে, তখন স্ত্রীর ওপর দিয়ানাতান (বিধানগতভাবে) তিন তালাক পতিত হয়ে গেছে। তাই স্ত্রীর জন্য ওই স্বামীর ঘর-সংসার করা নাজায়েয। এখন স্ত্রীর ওপর আবশ্যক হল যে, প্রয়োজনে খুলা’ করে অথবা পালিয়ে তার থেকে দূরে থাকা এবং ওই বিয়ের যদি কাবিননামা থাকে তবে কাবিননামার শর্ত লঙ্ঘন হলে কাবিননামা মোতাবেক নিজেকে তিন তালাক দেওয়া। তাও যদি পারা না যায়, স্বামী যদি যুলুম করে তার সাথে ঘর-সংসার করে, তার গুনাহ স্বামীর ওপর বর্তাবে। আদ্দুরুরুল মুখতার: ৩/৪২০, আদ্দুরুরুল মুখতার ৫/৪৬৫, কেফায়াতুল মুফতি: ৬/৮৯

মুআমালা-লেনদেন

সমস্যা: জনৈক ব্যক্তির মালিকানায় কয়েকটি দোকান রয়েছে। তিনি প্রত্যেকটি দোকান ভাড়া দিয়েছেন এই কন্ডিশনে যে, ভাড়াটিয়া তাকে দশলক্ষ টাকা অগ্রিম জমা দিবে। যা তিনি নিজের মত করে খরচ করার অনুমতি নিয়েছেন। দোকানগুলোর মাসিক ভাড়া ত্রিশহাজার টাকা। পনেরহাজার টাকা প্রতি মাসে নগদ পরিশোধ করবেন, বাকি পনেরহাজার অগ্রিম জমা টাকা থেকে কাটা হবে, এবং এই চুক্তির মেয়াদ তিনবছর। তবে যদি ভাড়াটিয়া কোন কারণে দোকান ছেড়ে দিতে চান, তখন মালিককে কয়েক মাস আগে জানাবেন। মালিক কিছু দিন সময় নিয়ে মাসপ্রতি নির্ধারিত ভাড়ার অর্ধেক কেটে রেখে ভাড়াটিয়ার বাকি টাকা তাকে বুঝিয়ে দিবেন। জানার বিষয় হলো, উল্লিখিত পদ্ধতি কতটুকু শরীয়তসিদ্ধ?

আবদুল্লাহ মামুন

চকরিয়া, কক্সবাজার

শরয়ী সমাধান: উল্লিখিত ঘটনায় দোকানের মালিক অগ্রিম ভাড়া হিসেবে প্রত্যেক দোকানের ভাড়াটিয়া থেকে যে দশলক্ষ টাকা অগ্রিম ভাড়া বাবদ উসুল করে নিয়েছে তা ইসলামী শরীয়ত মতে জায়েয ও বৈধ হয়েছে, এবং প্রতি মাসে অগ্রিম ভাড়া থেকে পনেরহাজার টাকা অর্থাৎ অর্ধেক ভাড়া কর্তন করে দেওয়া হয়, সেটাও শরীয়তসম্মত ও জায়েয। কেননা দোকান ইত্যাদির অগ্রিম ভাড়া নিয়ে তা থেকে প্রতি মাসে কিছু কিছু কর্তন করা দোকানের মালিক ও ভাড়াটিয়ার সম্মতিক্রমে জায়েয ও বৈধ এবং তা শরীয়ত-বহির্ভূত কোন কাজ নয়। সূরা নিসা: ২৯, আলমগীরী: ৪/৪১৩, আল-মুহিতুল বুরহানী: ৯/৯০

শরয়ী সমস্যা: আমার একজন আঙ্কেল বেসরকারী ব্যাংকে চাকুরি করেন। তিনি একজন ধার্মিক ব্যক্তি। তিনি তার মাসিক বেতন ছাড়া কোন প্রকার অবৈধ টাকা গ্রহণ করেন না। যেমন, কোন ব্যক্তি চাকুরি নেওয়ার জন্য বললে তখন তিনি কোন প্রকার দুর্নীতি বা ঘুষ নেন না এবং তিনি তার কাজ একনিষ্ঠভাবে করেন। তিনি ২৫ বছর যাবৎ এই চাকুরি করছেন। এমতাবস্থায় আমার প্রশ্নগুলো হলো: (১) তার উপার্জিত মাসিক বেতন হালাল নাকি হারাম? (২) যদি হারাম হয়ে থাকে, তাহলে কী করা উচিত? ইসলামের দৃষ্টিতে এর বিধান কী? (৩) তিনি একজন ধার্মিক ব্যক্তি হওয়ার পরও আল্লাহ তাকে কেন বিগত ২৫ বছর যাবৎ এই হারাম কাজের ওপর রেখেছেন? (৪) তার অধীনস্ত ব্যক্তিগণ (শিক্ষক, ড্রাইভার, কাজের লোক, পরিবারের সদস্য) যে টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তা কি হালাল না হারাম?

মুহা. আবুল কাসেম

নয়াবাজার এজেন্সি, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: স্মরণ রাখতে হবে যে, আমাদের জানামতে বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচলিত ব্যাংকসমূহ যে পদ্ধতিতে লেন-দেন করে এবং তাদের বিনিয়োগের লভ্যাংশসমূহ টাকা জমাদানকারীদের মধ্যে বিতরণ করে থাকে তা ইসলামী শরীয়াহ’র নীতি মোতাবেক না হওয়ার কারণে ঐ মুনাফাসমূহ সুদে পরিণত হয়ে যায়। যা ইসলামী শরীয়তের মধ্যে নাজায়েয ও হারাম। আর প্রচলিত ব্যাংকসমূহে আয়ের সিংহভাগের উৎস সুদভিত্তিক হওয়ার কারণে ঐ সমস্ত ব্যাংকসমূহে যারা চাকুরি করে তাদেরকে যে বেতন-ভাতা দেওয় হয়, ঐ সুদি আয় থেকে দেওয়া হয়। তাই আমাদের তাহকীক মতে তাদের বেতন-ভাতাও নাজায়েয ও হারাম হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তারা তাদের শ্রমের বিনিময় হিসেবে নিয়ে থাকে। তাই প্রচলিত ব্যাংকসমূহ সুদভিত্তিক হওয়ার কারণে সেখানে চাকুরি করা এবং চাকুরির বেতন-ভাতা গ্রহণ করা নাজায়েয ও হারাম।

উক্ত আলোচনার পর আপনার প্রশ্নের ক্রমিক নাম্বার হিসাবে ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে তার উত্তর ও ইসলামী সমাধান নিম্নে দেওয়া হলো: (১) তার মাসিক বেতন ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয ও হারাম। কেননা তা সুদি আয় থেকে দেওয়া হয়। (২) হীলা হিসাবে তার একটি তদবীর হলো, আপনি কারো কাছ থেকে যার প্রায় উপার্জন আপনার জানামতে হালাল হিসাবে হয়ে থাকে, তার থেকে আপনি কর্জ নিয়ে আপনার পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত খরচ নির্বাহ করবেন এবং বেতনের টাকা দিয়ে সেই কর্জ পরিশোধ করবেন। তারপরও আল্লাহ তায়ালার নিকট লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে খাঁটি তাওবা করবেন। আর কোন হালাল রোজগারের কোন চাকুরি বা কোন বিনিয়োগ পদ্ধতি খুঁজতে থাকবেন। যদিও তার মধ্যে সুযোগ-সুবিধা এবং আয়ের পরিমাণ ব্যাংক থেকে কম হয়। (৩) আল্লাহ তায়ালার নামে অভিযোগ দেওয়া কোন প্রকারের বৈধ ও ন্যায়সঙ্গত হবে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার থেকে হেফাজত করুন। কেননা, আল্লাহ তায়ালা ভালো-মন্দ, হালাল-হারাম বিবেচনা করার জন্য মানুষকে একটি বিবেকশক্তি দিয়েছেন এবং হারাম পদ্ধতির পাশাপাশি হালাল আয়-রোজগারেরও অনেক পদ্ধতি রেখেছেন। যদিও তা কষ্টকর ও কম আয়ের পদ্ধতি হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি সুযোগ-সুবিধা এবং বেশি আয়ের মোহে পড়ে সেই হারাম পদ্ধতি কেন গ্রহণ করেছেন? আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আপনাকে প্রশ্ন করা হলে আপনি কী উত্তর দিবেন? (৪) আপনার অধীনস্ত লোকজন ও আপনার পারিবারিক সদস্য বা শ্রমিকগণ যদি ইসলামী শরীয়ত মতে অবৈধ পদ্ধতি পরিহার করে হালাল পদ্ধতির আয়-রোজগার করে থাকে, তখন তাদের পারিশ্রমিক জায়েয ও বৈধ হবে, নতুবা তাহা নাজায়েয ও অবৈধ। সূরা বাকারা, আয়াত: ২৭৫, মুসলিম শরীফ: ২/২৭, রদ্দুল মুহতার: ৮/৪৩৩, আল-বাহরুর রায়েক: ৬/১২৪, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ২/৩০২, ফতওয়ায়ে কাসিমিয়্যা: ২১/১০৪

সমস্যা: আমি কিছুদিন পূর্বে চোরাই মার্কেট থেকে একটি মোবাইল ক্রয় করি। ক্রয় করার পর থেকে আমার মনে এই বেচাকেনা শরীয়তসম্মত কি না তা নিয়ে বিভিন্ন সংশয় সৃষ্টি হয় এবং একধরণের উৎকণ্ঠা বোধ করি। এ ব্যপারে শরয়ী সমাধান জানিয়ে আমার সংশয় দূরীভূত করার একান্ত অনুরোধ রইল।

ইরফান এনায়েতুল্লাহ

সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: চোরাই মার্কেটের মধ্যে যখন প্রায় জিনিস চুরিকৃত হয়ে থাকে, তাই উক্ত মার্কেট থেকে কোন জিনিস ক্রয় করা ইসলামী শরীয়ত মতে জায়েয ও বৈধ নয়। তাই সম্ভব হলে খোঁজ নিয়ে আসল মালিকের নিকট তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তা সম্ভব না হলে কমপক্ষে যে দোকানদার থেকে ক্রয় করেছেন তার নিকট ফেরত দিবেন। নিজে তা ব্যবহার করা বা অন্যের কাছে বিক্রি করা বৈধ হবে না। মুসতাদরাকে হাকিম: ৩/৮৫২, ফাতওয়ায়ে শামী: ৭/৩০১, আলমগীরী: ৩/১১১, কিতাবুন নাওয়াযেল: ১০/৪২২

বিবিধ প্রসঙ্গ

শরয়ী সমস্যা: আমাদের দেশে বহু মানুষ বিভিন্ন দেশে টুরিস্ট ভিসা বা অন্য কোন ভিসা নিয়ে অথবা উমরার ভিসা নিয়ে মক্কায় গমণ করে থাকেন। বিভিন্ন সময় দেখা যায়, ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তারা সেখানে অবৈধভাবে অবস্থান করে টাকা উপার্জন করেন। এ ক্ষেত্রে আমার জানার বিষয় হলো, সেই মানুষগুলো সেখানে অবস্থান করা এবং তাদের উপার্জিত টাকা বৈধ হবে কি না?

শফিউল আলম

ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম

শরয়ী সমাধান: কোন দেশে টুরিস্ট ভিসা বা অন্য কোন ভিসা নিয়ে অথবা সৌদী আরবে উমরার ভিসা নিয়ে যাওয়ার পর ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে ওখানে অবস্থান করা জায়েয ও বৈধ হবে না। কেননা এটা নিজেকে সরকারী শাস্তির সম্মুখীন করা এবং নিজেকে অপমান করার মত। যা ইসলামী শরীয়ত মতে জায়েয ও বৈধ নয়। অবশ্য কোন দেশে অবৈধভাবে থাকলেও নিজ শ্রম, ঘাম ও মেহনতের দ্বারা যে টাকা আয়-রোজগার করবে তা জায়েয ও হালাল হবে। কেননা সেসব তার শ্রম ও মেহনতের বিনিময় হিসেবে গণ্য হবে। যা জায়েয ও বৈধ। যদিও অবস্থান করা অবৈধ হয়। সূরা বাকারা: ১৯৫, তিরমিযী শরীফ, আল-বাহরুর রায়েক: ৮/৩৩, রদ্দুল মুহতার: ৯/৬২

বিভাগীয় নোটিশ

দৈনন্দিন জীবনের যেকোনো সমস্যার শরয়ী সমাধান জানতে আল-জামিয়া আল- ইসলামিয়া পটিয়ার ফতওয়া বিভাগে প্রশ্ন পাঠাতে পারেন। এজন্য সরাসরি যোগাযোগ বা বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট ফোনে যোগাযোগ করুন। প্রশ্ন পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইল বা ফেসবুক ফ্যান-পেইজেও।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ