সাহাবাযুগের রাজনীতিপ্রবাহ
ইতিহাসের পুনর্পাঠ: খালিচোখে খোলাচোখে
মূল: মুবাশ্শির নাযির
ভাষান্তর: খন্দকার মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ
পূর্বপ্রকাশিতের পর
সূত্রের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি মাঠে মারা গেলো! হিজরি তৃতীয় শতকে লিখিত ইতিহাসগ্রন্থাবলির দূরবস্থা
হিজরি তৃতীয় শতকে লেখা ইতিহাস-গ্রন্থসমূহ প্রশ্নবিদ্ধ কি না? এর উত্তর হ্যাঁ-বোধ না-বোধ দুটোই! কারণ এই শতকে লিখিত ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে প্রামাণ্য (Authentic) গ্রন্থ যেমন আছে আবার সমান্তরালে রয়েছে বানোয়াট আর জালিয়াতিপূর্ণ গ্রন্থও। সাধারণভাবে ব্যাপকহারে উপাত্ত আর সূত্র সংকলনই এ সময়পর্বে প্রাধান্য পেয়েছে। ব্যস! তথ্যটি তার সূত্রসহ বর্ণনা করা হলো; পরবর্তী প্রজন্মের ইতিহাসবিদরা সূত্রের সাহায্যে উপাত্তের যাচাই-বাছাইকর্মটি সম্পন্ন করতে পারবেন। অনুসন্ধানের পর তথ্যগুলোর প্রমাণসিদ্ধতা ও যথাযথ সূত্রসমৃদ্ধ হওয়ার বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিবে এবং সূত্র পাওয়া গেলে তার মান বিচার করে স্তর বিন্যাস করবে। যদিও এই অনুসন্ধান কর্মের সূচনা হিজরি তৃতীয় শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে তবুও স্বীকার করতে হবে যে, ইতিহাসের তথ্য-উপাত্ত যথাযথভাবে যাচাই-অনুসন্ধান করা হয় নি। এই কাজে সংশ্লিষ্ট মহল একটি প্রক্রিয়ানীতি অনুসরণ করেছেন, তা হলো, যেসব তথ্য ধর্মীয় বিধানসম্পর্কিত অনুসন্ধানের বেলায় সেগুলোর যাচাই-প্রক্রিয়া প্রথমে সম্পন্ন হবে। কাজেই বাস্তবতা হলো, ইতিহাসের তথ্য-উপাত্তের যাচাই, বিচার, অনুসন্ধানের কাজটি বেশ দেরিতেই শুরু হয়েছে।
এবার প্রশ্ন উঠছে ইতিহাসবিদরা বানোয়াট বা জালিয়াতিপূর্ণ তথ্যগুলো কেন তাদের গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করলেন? এর জবাব হলো, লেখকরা যখন গ্রন্থ লিখেন-তখন সমকালীন পাঠকদের চিন্তা, রুচি, মানসিকতা, মনন ও জ্ঞানের পরিধিকে বিবেচনায় নিয়েই লিখে থাকেন। আমরা যখন লিখছি, স্বকালের পাঠকসমাজ বড় জোর পঞ্চাশ বছর থেকে সামনের একশ’বছর পর্যন্ত সময়কালের প্রজন্মকে বিবেচনায় নিয়ে লিখতে পারি। ২৫০০ বা ৩০০০ ঈসায়ী সালের পাঠকদের অভিরুচি ও জ্ঞানের স্তর বিবেচনা করে লেখা সম্ভব নয়। হিজরি তৃতীয় শতকের ইতিহাস লেখকরা যখন লিখেছেন তখন আমরা অর্থাৎ একালের পাঠকরা নই বরং তাদের সমকালীন মানুষের জ্ঞানগত স্তর ও চিন্তাধারা বিবেচ্য ছিলো। তারা হিজরি প্রথম ও দ্বিতীয় শতকের নিদেনপক্ষে প্রসিদ্ধ ইতিহাসবিদদের ব্যাপারে সম্যক অবগত ছিলেন। ফলে যখন তাদের সামনে উদাহরণ হিসেবে বলি, ওয়াকিদী বা আবু মুহনিফ ইবন্ হিশাম কালবীর সূত্রে প্রাপ্ত কোনো তথ্য বা বর্ণনা উপস্থাপন করা হতো তখন তারা সহজেই বুঝে নিতেন এর গ্রহণযোগ্যতা কোন পর্যায়ের। একইভাবে তারা অনায়াসেই সিদ্ধান্ত নিতে পারতো কোন্ বর্ণনা বিশ্বাসযোগ্য আর কোনটি নয়।
ইতিহাসের গ্রন্থাবলিতে বানোয়াট ও অবাস্তব কথার উল্লেখ আছে এমন দাবি আমাদের নিজস্ব নয়; বরং খোদ ইতিহাসবিদদের বয়ান এমনটাই। ইবন্ জারীর তাবারী তার গ্রন্থ (তা’রিখে তাবারী) তা‘রিখের ভূমিকায় উল্লেখ করেন,
‘গ্রন্থের পাঠকদের এটা বুঝতে হবে, আমি যেসব বর্ণনা ও উপাত্ত এখানে সংকলন করেছি তার মধ্যে কেবল সেসব তথ্যই আমার নিজের কাছে বিশ্বাসযোগ্য যা আমি স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেছি “এটা আমি গ্রহণযোগ্য মনে করি” এবং সেসব বর্ণনা সূত্রসহ সন্নিবেশিত হয়েছে। তার মধ্যে এমন বর্ণনা খুবই স্বল্প যা আমি যৌক্তিক প্রমাণ ও অনুসন্ধানী বিশ্লেষণের পর উল্লেখ করেছি। কারণ অতীতকালের ঘটনাবলির আমরা প্রত্যক্ষদর্শী নই; সে যুগের প্রজন্মও নই আমরা। এসব বর্ণনা ¯্রফে বর্ণনাকারী ও আর বার্তাবাহকদের সূত্রে পাওয়া খবর; যা যুক্তিসিদ্ধ প্রমাণ ও নিজস্ব অনুসন্ধানী উদ্ঘাটনে প্রতিষ্ঠিত কিছু নয়। কাজেই আমার গ্রন্থে বর্ণিত কোনো তথ্য সম্পর্কে যদি পাঠকের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তার অনুসন্ধানমতে এর সত্যতা, বাস্তবতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা (Authenticity) নেই। তাহলে তার বুঝে নিতে হবে এটা আমার নিজের পক্ষ থেকে লেখা হয় নি; বর্ণনা তথ্যগুলোর বর্ণনাকারী রয়েছেন, তারা আমাকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন ব্যস আমি সেভাবে উল্লেখ করেছি। এর বেশি কিছু নয়।
এ- থেকে বোঝা গেলো যে, স্বয়ং তাবারীর দৃষ্টিভঙ্গি এমন নয় যে, ‘আমার দেওয়া তথ্য ও বর্ণনা প্রামাণ্য’। যেসব বর্ণনা তিনি পর্যন্ত পৌঁছেছে তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তিনি ¯্রফে বর্ণনা করে দিয়েছেন। এবার পাঠকদের কাঁধেই দায়িত্ব বর্তায় কোন বর্ণনাটি সত্য আর কোনটি সত্য নয় নিজ দায়িত্বে তা অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই করে নেওয়া।
বর্তমান সময়ের আরবের তিনজন শীর্ষ ইতিহাস-গবেষক যথাক্রমে মুহাম্মদ ইবন্ তাহির আল বাযরাঞ্জি, মুহাম্মদ সাবহী হাসান হাল্লাক ও শাইখ ইয়াহইয়া ইবরাহিম ইয়াহইয়া তারিখে সম্পূর্ণ তাবারী রিভিউ বা পর্যালোচনার পর বস্তুনিষ্ঠ, প্রমাণিত ও গ্রহণযোগ্য বর্ণনা আর অনির্ভরযোগ্য বর্ণনাগুলো আলাদা করেছেন। তাদের গ্রন্থের নাম: ‘সহীহ ওয়া দায়ীফ তারিখু তাবারী’ বা সবল ভিত্তি আর দুর্বল ভিত্তির আলোকে তারিখে তাবারীর বর্ণনাচিত্র। গ্রন্থটি ২০০৭ সালে দারু ইবন্ কাসীর বৈরুত কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে। এটি www.waqfeya.com ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
মুসলিম উম্মাহর শীর্ষ গবেষকদের দৃষ্টিতে ইতিহাসবিদদের ‘বিশ্বস্ততা’
মুসলিম উম্মাহর শীর্ষ গবেষকগণ ইতিহাসবিদদের কি ‘ধোয়া তুলসী পাতা’ ভাবতেন কিংবা অন্ধবিশ্বাস করেছেন? এ প্রশ্নটি এ পর্যায়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে। কেউ কেউ বলতে চেয়েছেন, তাবারী ও অন্যান্য ইতিহাসবিদগণ াবু মুহনিফ, হিশাম কালবী, ওয়াকিদী, সাইফ ইবন্ ওমর প্রমুখের বর্ণনা সংকলন করার মানেই হলো তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন; কাজেই আমরা তাদেরকে গ্রহণযোগ্য মানতে বাধা কোথায়? এটা ঠিক নয় যে, মুসলিম উম্মাহর শীর্ষ গবেষকেরা হিজরি দ্বিতীয় শতকের ইতিহাসবিদ যথা আবু মুহনিফ, ওয়াকিদী, হিশাম কালবী, সাইফ ইবন্ ওমর প্রমুখের ব্যাপারে অন্ধবিশ্বাস পোষণ করেছেন। যেমনটি আমরা তাবীর উদ্ধৃতিতে দেখলাম। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তিনি ¯্রফে তথ্য সংগ্রহকারী ও সংকলকের ভূমিকায় ছিলেন। প্রত্যেক বর্ণনার সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সূত্র উল্লেখ করে দিয়েছেন যাতে পাঠক নিজেই বর্ণনাটির মান ও স্তর বিচার করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-অনুসন্ধানও করতে পারেন।
এটা বর্তমান কম্পিউটার যুগের তথ্যকোষ বা এনসাইক্লোপেডিয়ার মতো। যেখানে সংকলনকারী প্রতিষ্ঠানের কাজই হলো স্রেফ তথ্যগুলো একত্র করে দেওয়া। কোনো তথ্যের সত্যাসত্য যাচাই ও মান বিচার তাদের কাজ নয়। তারা যা যেভাবে পেয়েছেন সেভাবেই পাঠকের সামনে পেশ করে দিবেন পরবর্তী কাজ পাঠক ও গবেষকদের। এভাবে তথ্য সরবাহের অর্থ কখনও এমন নয় যে, সমুদয় তথ্য উক্ত সংকলক প্রতিষ্ঠানের কাছে পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য।
মধ্য ও আধুনিক যুগে ইতিহাস
মধ্যযুগে আরবি ভাষায় লেখা বিখ্যাত ইতিহাসগ্রন্থ: হিজরি তৃতীয় শতকের ইতিহাসগ্রন্থে একটি নতুন প্রবণতা লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে; আর তা হলো সূত্র উল্লেখ না করার রীতি। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, গল্পের ধারাভাষ্যের মতো করে বর্ণিত ইতিহাসের কাহিনী পরম্পরার গতি ও সাবলীলতা অক্ষুণœ রাখা। আপনি উদাহরণ হিসেবে হযরত ওসমান (রা.) এর শাহাদাতের ঘটনা নিতে পারেন। লক্ষ করবেন, একজন বর্ণনাকারী ঘটনার বয়ান শুরু করেছেন বিদ্রোহীদের প্রসঙ্গ দিয়ে আলোচনার ধারাক্রমে তা শেষ করেছেন তাঁর শাহাদাতের ঘটনায় এসে। আবার অন্যজনের বর্ণনা শুরু হয়েছে বিদ্রোহীদের মদিনা প্রবেশ থেকে। এরপর হয়তো আরেকজন বর্ণনাকারীর বয়ান শুরু হলো আরও পরের কোনো প্রসঙ্গ দিয়ে। পাঠকদের জন্য এ রীতির বর্ণনাধারা বেশ বিরক্তি উৎপাদক। কারণ এতে একই প্রসঙ্গের কথা ঘুরেফিরে একাধিকবার আসে। অনেক সময় তথ্যগুলো পরস্পরে বৈপরিত্যপূর্ণও হয়।
হিজরি চতুর্থ শতকে উপরিউক্ত ধারার একেবারে ব্যতিক্রম নতুন যে ধারাটির প্রচলন ঘটে তাতে ঘটনা বহমান ধারা (Stream) অক্ষুণ্য রেখে গল্পের মতো ভাষ্যে ইতিহাসের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এ আঙ্গিকটা সাহিত্যে গল্প-উপন্যাসের রীতি হিসেবে পরিচিত। যা পাঠকের জন্য ক্লান্তিকর নয়। তখন ইতিহাস সুখপাঠ্য হয়ে উঠলে এবার সূত্রের প্রমাণসিদ্ধতার ভিত্তি বা তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা (Authenticitiy) নড়বড়ে হয়ে যায়। এরপরও কিছু লেখক তাদের বর্ণিত তথ্যের সূত্র হিসেবে পূর্বেকার সময়ের ইতিহাসগ্রন্থাবলির বরাত দিয়েছেন। তুলনামূলক তাদের গ্রন্থসমূহ প্রামাণ্য বলে স্বীকৃত হয়েছে। এই যুগের যে নেতিবাচক প্রবণতাটি লক্ষণীয় হয়ে উঠে তা হলো, ইতিহাসবিদরা উপাত্তের সূত্র পর্যালোচনা (Source Criticism) হয়তো একেবারেই এড়িয়ে যাচ্ছিলেন নয় তো করলেও তা একেবারে অনুল্লেখ্য মাত্রায়। একইভাবে মূলপাঠের যাচাই-বাছাইয়ের (Internal External Criticism and Historical Reasoning) ক্ষেত্রেও গাছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছিলো। ফলে যা হবার তাই হলো; ওয়াকিদী, আবু মুহনিফ, সাইফ ইবন্ ওমর ও হিশাম কালবীদের সত্যাসত্য বর্ণনা ঢালাওভাবে ‘বস্তুনিষ্ঠ’ ও সত্য বলেই জনমনে ধারণা তৈরি হচ্ছিলো আর নির্বিচারে বর্ণনা হতে থাকলো। পরবর্তী যুগে এসে আরও একধাপ অবনতি। পরের যুগের ইতিহাসবিদগণ ‘অপ্রয়োজনীয়’ বিবেচনা করে গ্রন্থ থেকে সূত্রকে পুরোপুরি বাদ দিতে থাকে। এভাবে সূত্রের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি মাঠে মারা গেলো।
কাজেই পরবর্তী শতকের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও তাদের ইতিহাসগ্রন্থসমূহের পরিচিতি উল্লেখ করা আমাদের জন্য খুবই সমীচিন হবে; যাতে পাঠক এসব গ্রন্থের বিশুদ্ধতা (Authenticitiy) সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে পারেন।
১. আলী ইবন্ হোসাইন মাসউদী (মৃ. ৩৪৬/৯৫৭) : তিনি শিয়া মতবাদে বিশ্বাসী একজন বড় ধর্মতত্ত্ববিদ ও পর্যটক। তিনি বেশ দীর্ঘ একটি ইতিহাসগ্রন্থ লিখেছেন। কমর বুখারী লিখেন : গ্রন্থটি মাসউদী লেখা। সম্ভবত তিনি শিয়া ‘ইসনাআশরিয়া’ মতাদর্শে বিশ্বাসী। তবে ‘মুরাওওয়াজু যাহাব’ গ্রন্থের লেখাঝোখা থেকে এটা প্রতীয়মান হয় না বরং সেখানে কেবল তিনি শিয়া ভাবাপন্ন হবার ইঙ্গিত মেলে। গ্রন্থটি ঐতিহাসিক স্থানসমূহ পরিদর্শনের পর অত্যন্ত অনুসন্ধানী আঙ্গিকে রচনা করা হয়েছে। এখানে তিনি ব্যাপকহারে আবু মুহনিফের উল্লেখ করেছেন।
যেহেতু শিয়া মতবাদে বিশ্বাসীরা সাহাবাদের ব্যাপারে ‘বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি’ পোষণ করেন কাজেই (পক্ষপাতদুষ্টতার কারণে) সাহাবাদের সম্পর্কে তাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।
২. ইবনু আবদিল বার (৩৬৮-৪৬৩/৯৭৯-১০৭১) : তিনি হিজরি পঞ্চম শতকের ধর্মতত্ত্ববিদ। ‘আল ইসতিয়া ফি মা‘রিফাতিল আসহাব’ নামে সীরাতে সাহাবা বিষয়ে একটি বৃহৎ কলেবরের গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি তার গ্রন্থে বর্ণিত ঘটনাবলির সূত্র উল্লেখ করেন নি। কাজেই আমরা জানি না সাহাবাযুগ ও ইবনু আবদিল বার-এর মধ্যবর্তী চার শত বছরের ব্যবধানে তাদের সম্পর্কে বর্ণিত কথাগুলোর মধ্যে কী কী সংযোজন করে দেওয়া হয়েছে তা। এ কারণে তার গ্রন্থটিকে প্রামাণ্য বলা যাবে না। ইবনু আবদিল বার-এর গ্রন্থে বর্ণিত ঘটনাবলি তার পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহ থেকে সূত্র ও সূত্রের মান যাচাই করে ওসবের গ্রহণযোগ্যতা পরিমাপ করতে হবে। কিন্তু যেসব তথ্য পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে পাওয়া যায় না; তা তো গোড়াতেই অপ্রমাণিত ও অনির্ভরযোগ্য। হাদিসবিশারদগণ গ্রন্থটি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন,
ইবনু আবদিল বার-এর গ্রন্থটি খুবই মূল্যবান এবং উপকারী গ্রন্থ হতে পারতো যদি সাহাবাদের মতভেদ সম্পর্কিত তথ্যগুলো ইতিহাসের সংবাদদাতা (তথ্য সরবরাহকারী)দের কাছ থেকে নয় মুহাদ্দিসগণের কাছ থেকে নেওয়া হতো। কারণ সংবাদদাতারা সাধারণত নিজের প্রাপ্ত তথ্য সংযোজন, বিয়োজন করে মনের মাধুরী মিশিয়ে বর্ণনা করে থাকে।
[চলবে]
তাবারী, ভূমিকা, ১/১৭
কমর বুখারী প্রাগুক্ত
ইবন্ সালাহ, মুকাদ্দামা, অধ্যায়-৩৯, মারিফাতুস সাহাবা, ৪৮৫, দারুল মাআরিফ, কায়রো; দারুল মাআরিফ