এহতেশাম আনাস
আলো যেমন জাগতিক নিয়মে অন্ধকার দূর করে দৃশ্যমান করে তোলে জগতকে, তেমনি বই মানুষের অন্তর্দৃষ্টি জাগিয়ে তুলে জ্ঞানের দীপ্তিতে সমস্ত অজ্ঞতার আঁধার সরিয়ে দেয়। আলো ছড়ায় ভৌগোলিক সীমায়; আর বই পেরিয়ে যায় কালের সীমানা। বহন করে জ্ঞানের আলো। যুগ থেকে যুগান্তরে। হৃদয় থেকে হৃদয়ে।
শ্রেষ্ঠ শিক্ষা আত্মশিখন। আর বই তার অনুপম সহায়ক। বিনোদন হোক কিংবা অবসর, নিঃসঙ্গতা হোক কিংবা শিক্ষার পিপাসা—সবক্ষেত্রেই বই শ্রেষ্ঠ বন্ধু।
বই-কিতাব প্রকৃত মনীষীদের হৃদয়নিঃসৃত সৌন্দর্যের নির্মল উপহার। ইতিহাসের মহান ব্যক্তিরা বইয়ের সাগরে ডুব দিয়েই আহরণ করেছেন ইলমের মুক্তা। গ্রন্থাগার ছিল তাঁদের তীর্থস্থান। পাঠ ছিল তাঁদের জীবনের মূল স্রোতধারা। বই ছিল তাঁদের পথের প্রদীপ। জীবন যাত্রার দীপ্তি।
একটি বই পড়া মানে হৃদয়ে একটি নতুন জানালা খোলা। যত বই পড়বো, তত প্রসারিত হবে জ্ঞানের পৃথিবী। জীবন হয়ে উঠবে আলোয় ভরা এক বিশাল প্রাসাদ। প্রতিটি দুঃসময়ে বই হয়ে উঠবে নির্ভরতার নীরব সঙ্গী।
বই মানুষের একান্ত প্রেম। যে প্রেম কখনো অবহেলা করে না। বইয়ের পাতায় মিশে থাকে সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনার গল্প। কখনো হাসায়, কখনো নিঃশব্দে কাঁদায়। বইয়ের সাথে চুপিচুপি হয় আলাপ। গোপনে গড়ে ওঠে অমোঘ বন্ধন।
যখন বিষাদ এসে ঘিরে ধরে, সাধারণ মানুষ প্রকৃতির আশ্রয় খোঁজে; বইপ্রেমী তখন ডুবে যায় বইয়ের বুকে। বই তাদের কাছে শান্তির বাতিঘর, আনন্দের অফুরন্ত ঝরনা।
তাই আমাদের উচিত জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু বইয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা। জীবনের চলার পথে বই হোক অটুট সঙ্গী। পাঠনিমগ্নতা ও প্রভুর কৃপায় আমরা হতে পারি যুগের শ্রেষ্ঠ প্রাজ্ঞ ব্যক্তি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সে তাওফীক দান করুন। আমীন।
লেখক : শিক্ষার্থী, তাকমিল জামাত
আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া।