বুধবার-৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি-২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কবিতা

আমায় ভালোবেসে

জিশান মাহমুদ

সহজ-সরল পথটি ছেড়ে

আছি অনেক দূরে

মনের ভিতর কালো রেখা

খাচ্ছে কুঁড়ে কুঁড়ে।

মহান তুমি দয়ার সাগর

দাও সত্যের দিশা

পাপী আমি ক্ষমা কর

মনে বড়ই আশা।

আযান শুনে মসজিদেতে

যাচ্ছি এখন রোজ

কুরআন পাঠে সময় কাটে

আমার রেখো খোঁজ।

নামাজ পড়ি রোজা রাখি

দীনের পথে এসে

গোনাহখাতা ক্ষমা কর

আমায় ভালোবেসে।

 

বাঁচুক বাংলাদেশ

আলাউদ্দীন কবির

হাওয়া বইছে হাওয়া

দিন-বদলের হাওয়া

হাওয়ার তোড়ে হয়তো হবে

নতুন আসা-যাওয়া।

সময় শুধু জানে

হাওয়া কী যে আনে

কার পরাজয়, কার বা বিজয়

কার ভাগে কী পাওয়া?

কঠিন এমন কাল

হাওয়ার তালেই পাল

সুশীলসমাজ ভুললো কবেই

সমকালের চাওয়া !

কালের কথা শুনে

কবির আপন মনে

হাওয়ার সনে আলাপনে

ভোলে নাওয়া-খাওয়া।

আকাঙ্ক্ষা অশেষ

বাঁচুক বাংলাদেশ…

বাঁচুক আমার মাতৃভূমির

বিশুদ্ধ আবহাওয়া!

 

উচ্চকিত বাক হোসেইন

ওবায়দুল্লাহ মনসুর

ভয় ভিড় করে হেকমত নামে? ফোরাত কিনারে দেখ হোসেইন

অন্ধ না হলে এখনো দেখতে পেতে মরু সাইমুমে লাখ হোসেইন।

জীবনোদ্দেশ্যের পথে সত্যকে জানে বাধা কায়েমী স্বার্থবাদ

ঘুরে ফিরে মাথাব্যথা তাদের একটাই কর অ্যাটাক হোসেইন।

নিরভ্র আকাশ ছাওয়া এক পাহাড়, এক যুলফিকার অতন্দ্র

এক সিদ্ধান্ত, এক লক্ষ্যভেদী আন্দায, প্রলয়োল্লেখ, হোসেইন।

তখনো মজনু বেশে দুধ পান করেছে কয়েস নয় এমন জন

আজো কালবের বাইরে সম্পদ গড়ে বণিক, পীর, শেখ হোসেইন।

তাঁর ছিল না কারবালা দরকার, বরং কারবালা ছিল মোহতাজ

ইতিহাসের উন্নত শিরে স্বাধীন উচ্চকিত বাক হোসেইন।

সংঘটিত হলো কতো কারবালা, আজো প্রবহমান সেই ফোরাত

ইয়াযিদকে ব্যর্থ করতেই আসে হোসেইনের পথে এক হোসেইন।

তোমাকে দেখি বিরোধী শিবিরে, কখনো দেখা যায় নিরপেক্ষ

আবু তোরাবের সাথে কি সম্বন্ধ? অর্জিত কই আখলাক-হোসেইন?

হৃদয়ে রাখ আল্লাহ আর তাঁর রসুলের অগাধ বিশ্বাস

অভিযাত্রায় ঘোর সমরাঙ্গনে রক্তের দাম লেখ হোসেইন।

 

চুনোপুটির বদনাম

মাহমুদুল হাসান নিজামী

জগত সভায় বিশ্বসেরা অশেষ যিনি মহান

কি আসে যায় তাহার তাতে চুনোপুটির বদনাম,

শত্রুমিত্র সবার কাছে তিনি প্রিয় প্রাণ

ন্যায়পরায়ণ সততায় আল আমীন সম্মান।

যাহার কাছে দীনধনী সকলেই সমান

প্রিয়রাসুল নবীজি আসমানি জয়গান,

বাকবচনে নিন্দাতে করলে নবীর অপমান

কমবেনারে নবীর শান নিন্দুকের যাইবে মান।

 

আরব্য প্রান্তর

ওয়াসিম রহমান সানী

যে প্রান্তরে আদম হতে হযরত

বেহেস্তের সওগাত ফাতেমা আলী ইমামদ্বয়

রক্তে রক্তাক্ত আজো সেই কারবালার প্রান্তর।

অতঃপর তায়েফের বুকে সন্ধ্যা নেমে আসে

কালো পাথরের পাহাড় অকপটে ইতিহাস লিখে।

কালের সাক্ষী হয়ে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে

সগৌরবে পৃথিবীর আদি-অন্ত নিয়ে পাহাড়ে নূর ।

ঠোঁটে প্রস্তর নিয়ে যে পাখি নিক্ষেপ করেছিল

দীন বিরোধী জালিমদের মাথায় বক্ষে,

দিনমান প্রদক্ষিণ করছে কালো কাবার চারদিক

সে আবাবীলের সাক্ষাৎ পেয়ে ধন্য হিজরতে কাবা।

উন্মুখ হয়ে কার পায়ের চিহ্ন খোঁজে ধূলির মর্ত্যে?

উত্তপ্ত ধূসর ধূলোমাঠ চারদিক জনশূন্য সুনসান।

আজিজিয়া হতে মেষপাল, আর কতোদূর বাকি কাবা!

কাবার পাথরে মিশকাতের কী সুবাস…

যেনো ইবরাহীম, ইসমাইল, প্রিয় মোহাম্মদের গায়ের সুঘ্রাণ।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on pinterest
Pinterest
Share on telegram
Telegram
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on print
Print

সর্বশেষ